ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

বিজ্ঞানীদের শঙ্কা মাটিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাকটেরিয়া

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৪, ১১:৪৩ এএম
মাটিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাকটেরিয়া
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার তারতম্যে ভুগছে বিশ্ববাসী। ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, বন্যার প্রকোপ, অকাল খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সাইক্লোনের মাত্রা ও তীব্রতা বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সিস্টেম সায়েন্সের গবেষকরা নতুন একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মাটির উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় সক্রিয় ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও বাড়ছে। এসব সক্রিয় ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে মারাত্মকভাবে বৈশ্বিক কার্বন চক্র ও জলবায়ুকে প্রভাবিত করছে।
 
সেন্টার ফর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সিস্টেম সায়েন্সের গবেষকরা ২০১৯ সাল থেকে এ গবেষণাটি চালিয়ে আসছেন। আইসল্যান্ডের তৃণভূমিতে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে মাটির তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হাড়ে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন সক্রিয় ব্যাকটেবিয়ার পরিমাণ। মাটিতে সক্রিয় ব্যাকটেরিয়া বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন এসব ব্যাকটেরিয়া আবাদি শস্যের কতটা ক্ষতি করবে, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
 
গবেষণাটির বিষয়ে বিজ্ঞানী আন্দ্রেয়াস রিখটার বলেন, মাটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জৈব কার্বনের আধার। বিভিন্ন অণুজীব নীরবে বিশ্বব্যাপী কার্বন চক্রকে প্রভাবিত করে চলছে। সক্রিয় ব্যাকটেরিয়া মাটির জৈব পদার্থ ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড মুক্ত করে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অণুজীবগুলো বেশি সক্রিয় হয়। এর ফলে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
 
সূত্র: ফিজিস ডট অর্গ
জাহ্নবী

সদয় হওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
সদয় হওয়ার আহ্বান
কার্লা সোফিয়া গ্যাসকন

দীর্ঘ দিনের চেপে রাখা কান্না কান সৈকতের পাড়ে গিয়ে কাঁদলেন কার্লা সোফিয়া গ্যাসকন। রূপান্তরকামী একজন নারী হিসেবে নিজের দেশেও অপমানিত হতে হয়েছে তাকে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়ে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। সেখান থেকেই রূপান্তরকামীদের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনয়শিল্পী। 

’ইমিলিয়া পেরেস’ সিনেমার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন চারজন। তাদের অন্যতম কার্লা। জ্যাক অদিয়াঁর নির্মিত ছবিটায় পুরস্কার পাওয়ার পর বক্তৃতায় তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। জানান, রূপান্তরকামী হওয়ায় পদে পদে কীভাবে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। বক্তৃতায় রূপান্তরকামিতা নিয়ে কুসংস্কার ও তার সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হয়, হত্যার হুমকির মধ্য দিয়ে যেতে হয় সেসব তিক্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কার্লা। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দেশ মেক্সিকোতে মানুষ আমাদের বিশ্রি ভাষায় সম্বোধন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা, আমাদের সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত। শরীর আমাদের, এটা বদলে ফেলার অধিকারও আমার আছে।’ তার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, ট্রান্সজেন্ডাররা স্বাভাবিক মানুষ, তাদের সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।

রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের সংগ্রাম শুধু সামাজিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও তাদের সংগ্রাম করতে হয় প্রতিনিয়ত। রূপান্তরকামিতা কোনো মানসিক রোগ নয়, এটি এখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত নয়। এ কারণে এই সম্প্রদায়ের মানুষকে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়। ‘এমিলিয়া পেরেস’ সিনেমায় শুরুতে কার্লার ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তিনি কি একজন পুরুষ মাদকমাফিয়া হবেন, নাকি নারী! যদিও ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয় অতিথিদের চোখে পড়েছিল। টানা ১১ মিনিটের অভিবাদনই সে কথা বলে দেয়।

কলি

মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কারে এআই
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি চীনা একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে বিরল মহাজাগতিক সংকেত আবিষ্কার করেছেন। দেশটির সাংহাই অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির অধ্যাপক জি জিয়ানের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল মহাবিশ্বের দুর্লভ সংকেতগুলো শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করেছে।

গবেষণা দলটি কোয়াসার বর্ণালী থেকে নির্গত বিভিন্ন দুর্বল আলোর সংকেত খুঁজতে নজর দিয়েছিল। এটি মূলত দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলোর উৎস। এ গবেষণায় ‘ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক’ নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গবেষকরা বিভিন্ন ‘নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার’ চিহ্নিত করেছেন, যা ছায়াপথের গঠন ও বিবর্তন গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধূলিকণাযুক্ত ঠাণ্ডা গ্যাসের সঙ্গে পাওয়া যায় নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার। তবে এই সংকেত দুর্বল ও শনাক্ত করা কঠিন। প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের ডেটাসেট থেকে সংকেত খুঁজে পেতে লড়াই করতে হয়েছে। অধ্যাপক জি জিয়ান এটিকে ‘খড়ের গাদায় সুই খোঁজার সঙ্গে তুলনা করেছেন।’ এর আগে ২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা জোতির্বিদ্যাবিষয়ক জরিপ ‘স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে (এসডিএসএস)’-এর ডেটা থেকে ৬৬টি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছিলেন।

তবে অধ্যাপক জি জিয়ানের গবেষক দলটি নিজস্ব এআই পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন আরও ১০৭টি বিরল অ্যাবজর্বার খুঁজে পেয়েছেন। এটি ২০১৫ সালে পাওয়া সংখ্যার দ্বিগুণ ও আরও ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করেছে। প্রকৃত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নমুনা দিয়ে ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দলটির এই সাফল্য পেয়েছে। এসডিএসএসের ডেটা এই নেটওয়ার্কগুলোয় প্রয়োগ করার পর, সেগুলো আরও বেশি নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার চিহ্নিত করেছে। তাদের এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বারযুক্ত প্রাথমিক ছায়াপথগুলো বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩০০ কোটি বছর পর দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হয়েছে।

‘লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড’ নামের ছোট গ্যালাক্সি মতো অবস্থা থেকে মিল্কিওয়ের মতো অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার সময়, এই ছায়াপথগুলো প্রচুর পরিমাণে ধাতব উপাদান তৈরি করেছে। এর কিছু অংশ ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ‘ডাস্ট রেডেনিং ইফেক্ট’ নামের ঘটনাটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কারে সঙ্গে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের মিল রয়েছে। যেটি প্রাচীনতম বিভিন্ন তারায় কার্বনের ধূলিকণা শনাক্ত করেছে। এই দুই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, আগের ধারণার চেয়ে কিছু ছায়াপথ অনেক দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ছায়াপথ গঠনের বিদ্যমান মডেলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে গবেষক দল ছায়াপথের নিঃসরিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করলেও, জি জিয়ানের দল কোয়াসার শোষিত বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করছেন। নিউট্রাল কার্বন অ্যাবজর্বার শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার প্রথম দিকের ছায়াপথের বিবর্তন গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অধ্যাপক জি জিয়ান মহাকাশীয় তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার থেকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে দুর্লভ সংকেতগুলো আবিষ্কার করতে অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগোরিদম উন্নয়নের আরও জোর দিয়েছেন। দলটি তাদের পদ্ধতিটিকে ছবি শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা দুর্বল সংকেত শনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণের উন্নতির জন্য কৃত্রিম মাল্টি-স্ট্রাকচার চিত্র তৈরি করছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়েছে, দলটির এই গবেষণা মহাবিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। সূত্র: নোরিজ।

গত ৫০ বছরের সবচেয়ে বড় সৌরঝড়

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
গত ৫০ বছরের সবচেয়ে বড় সৌরঝড়
প্রবল ঝড়ে সৌরশিখা ছিটকে বেরিয়েছে সূর্যের বাইরে মহাকাশেও। ছবি: নাসা

সম্প্রতি শক্তিশালী সৌরঝড় সংঘটিত হয়েছে। এই সৌরঝড়কে গত ৫০ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রবল ঝড়ে সৌরশিখা ছিটকে বেরিয়েছে সূর্যের বাইরে মহাকাশেও। সৌরঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। এবার শক্তিশালী সৌরঝড়ের ফলে উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে উত্তর মেরুতে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের আকাশ। ইউএস ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সৌরঝড়ের কারণে বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক পাওয়ার গ্রিড, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও সংযোগ ও গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সৌরঝড়ের ছবি তুলেছে। সংস্থাটির একাধিক ক্যামেরায় সৌরঝড়ের মুহূর্ত ধরা পড়েছে। নাসা জানিয়েছে, ১৪ মে সূর্য থেকে শক্তিশালী সৌরশিখা নির্গত হয়েছে। এ সময় বিস্ফোরণের ঘনত্ব ছিল এক্স৮.৭। এর আগে চলতি মাসের ১১ ও ১৩ তারিখে  সূর্যে একই জায়গায় দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে। ১৪ তারিখ ওই একই জায়গা তৃতীয় বিস্ফোরণ হয়। সেই কারণেই তৃতীয় বিস্ফোরণের অভিঘাত তীব্র ছিল।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর ‘আদিত্য-এল১’ সৌরযানও তীব্র সৌরঝড়ের ছবি তুলেছে। ইসরো গত মঙ্গলবার আদিত্য-এল১ এর তোলা সৌরঝড়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করেছে। সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টে (এল ১ পয়েন্ট) রয়েছে আদিত্য-এল১। সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তে সে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করছে। চাঁদ থেকেও এই ঝড়ের ছবি তোলা হয়েছে। চাঁদের চারদিকে ঘুরছে চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার। সেই ক্যামেরাতেও সৌরঝড় ধরা পড়েছে।