ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

শিশু আয়ানের মৃত্যু তদন্তে নতুন কমিটি গঠন হাইকোর্টের

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৬ পিএম
শিশু আয়ানের মৃত্যু তদন্তে নতুন কমিটি গঠন হাইকোর্টের
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়ানের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হাইকোর্ট জানিয়েছেন, আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মনঃপূত নয়। 

নতুন কমিটির সদস্যরা হলেন, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ বি এম মাকসুদুল আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক সুশঙ্কর কুমার মণ্ডল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক আমিনুর রশিদ এবং জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাথী দস্তিদার। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২০ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে রিট আবেদনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। 

গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নাতে খতনা করানো হয় শিশু আয়ানের। অপারেশনের পর তার আর জ্ঞান ফেরেনি। এরপর টানা ৭ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ৮ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে (রাত ১টায়) ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যায় শিশু আয়ান। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায় করে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে জনস্বার্থে গত ৯ জানুয়ারি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। এতে আয়ানের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে শিশু আয়ানের বাবা ওই রিটে পক্ষভুক্ত হন। নতুন করে রিটে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি এক আদেশে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের সরকার অনুমোদিত ও অনানুমোদিত সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা ১ মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। 

আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে ২৯ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ওই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদনটি ‘আইওয়াশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে করা সুপারিশগুলো ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেন আদালত। শুনানির একপর্যায়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে মেডিকেল সেক্টরে মাফিয়া চক্র কাজ করে। তারা ওষুধসহ মেডিকেল উপকরণ সরবরাহে রি-এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’ এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনটি মনঃপূত হয়নি বিবেচনা করে আজ নতুন কমিটি গঠন করলেন হাইকোর্ট।

গরমে অধস্তন আদালতে কালো কোট-গাউন পরতে হবে না

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম
গরমে অধস্তন আদালতে কালো কোট-গাউন পরতে হবে না
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

অধস্তন আদালতে গরমকালে মামলার শুনানির সময় আইনজীবী ও বিচারকদের কালো কোট-গাউন পরার বাধ্যবাধকতা নেই বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত হয়। 

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এই সিদ্ধান্ত হয় যে, অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত/ট্রাইব্যুনালসমূহের বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ এবং বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ মামলা শুনানিকালে পরিধেয় পোশাক সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের বিগত ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে ওই বছরের ৩০ মার্চ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্বহাল করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থায় দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত/ট্রাইব্যুনালসমূহের বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ এবং বিজ্ঞ আইনজীবীগণ ক্ষেত্রমত সাদা ফুলশার্ট বা সাদা শাড়ি/সালোয়ার কামিজ ও সাদা নেক ব্যান্ড/কালো টাই পরিধান করবেন। এ ক্ষেত্রে কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। 

অমিয়/

সাবেক এমপি কাদের খানের ৪ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪২ পিএম
সাবেক এমপি কাদের খানের ৪ বছরের কারাদণ্ড
আদালতে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের খান। ছবি : সংগৃহীত

গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খানকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারিক আদালত। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে এই দণ্ড পেয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এই সংসদ সদস্য। 

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৬১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯১ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পদের তথ্য গোপন করার অপর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারার অপরাধ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা কাদের খানকে রায় ঘোষণার জন্য এদিন আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খান। একই আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামকে (লিটন) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তিনি। এর কয়েক দিন পরেই কাদের খানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৯ সালের ২৬ মে সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আব্দুল কাদের খান দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৭০ টাকা গোপন করেছেন। 

 

শেকলে বেঁধে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামিরা আরেক দফা রিমান্ডে

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম
শেকলে বেঁধে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামিরা আরেক দফা রিমান্ডে
তরুণীকে শেকলে বেঁধে ধর্ষণ মামলার আসামিদের আবারও রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে সম্প্রতি এক তরুণীকে শেকলে বেঁধে ধর্ষণ মামলার আসামিদের আবারও রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) চার আসামিকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক ফারুকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।

আদালতে মোহাম্মদপুর থানার (নারী ও শিশু) সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক উত্তম কুমার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এই চার আসামির তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা এবং আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। সব পক্ষের শুনানি নিয়ে চার আসামি সান, হিমেল, রকি ও সালমা ওরফে ঝুমুরের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

শেকলে বাঁধা অবস্থায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় এক তরুণী ২৫ দিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ভুক্তভোগী তরুণী গত ৩১ মার্চ রাতে মোহাম্মদপুর থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন। ওই বাসায় তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।

এর আগে তরুণীর চিৎকারে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক ব্যক্তি ফোন করলে পুলিশ তরুণীকে শেকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। 

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ট্রান্সকমের শীর্ষ ৩ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৩ এএম
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ট্রান্সকমের শীর্ষ ৩ কর্মকর্তা
ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও হেড অব ট্রান্সফরমেশন যারিফ আয়াত হোসেন

হত্যাসহ পৃথক চারটি মামলায় জামিন পেয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও হেড অব ট্রান্সফরমেশন যারিফ আয়াত হোসেন।

বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে দেশে ফিরেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। দুপুরে শুনানি শেষে চারটি মামলাতেই তাদের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মাহবুব আহমেদ। জামিন আবেদনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ট্রান্সকম গ্রুপের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম।

ট্রান্সকম গ্রুপের মালিক লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে কোম্পানির সম্পত্তি ও শেয়ারসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের মেয়ে শাযরেহ হক বাদী হয়ে তার বড় বোন ও ট্রান্সকম গ্রুপের বর্তমান সিইও সিমিন রহমান, গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান ও তাদের মা শাহনাজ রহমান এবং সিমিন রহমানের ছেলে যারিফ আয়াত হোসেনসহ ট্রান্সকমের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় তিনটি মামলা করেন। এর একটিতে অর্থ আত্মসাৎ, আরেকটিতে শেয়ার জালিয়াতি এবং অপর মামলায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। তিন মামলাতেই বোন সিমিন রহমানকে আসামি করা হয়েছে। আর মা শাহনাজ রহমানকে আসামি করা হয়েছে দুটিতে। সিমিনের ছেলে যারিফ আয়াত হোসেনকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামি হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের আইন উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক ও কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক।

মামলা দায়েরের সময় ট্রান্সকম গ্রুপের এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তা বিদেশে ছিলেন। যাতে তারা কোনো ধরনের বাধা ছাড়া দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, সে জন্য তারা হাইকোর্টে পৃথকভাবে রিট করেছিলেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২০ মার্চ এই তিনজন যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া দেশে ফিরে নির্বিঘ্নে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতের আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে শাযরেহ হক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২১ মার্চ হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে তিনজনকে দেশে ফিরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরার সুযোগ দিতে এবং হয়রানি না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২২ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে ভাই হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন শাযরেহ হক। এ মামলায় আবারও সিমিন রহমানসহ তিনজনের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের পূর্বের নির্দেশনার আলোকে গত রবিবার আদেশে ওই তিনজনে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নির্দেশনা অনুসারে তারা গতকাল দেশে ফিরেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান।

বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৫ পিএম
বুয়েটছাত্র ফারদিন হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল
ফারদিন নূর পরশ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন পিছিয়ে আগামী ১৯ মে ধার্য করেছেন আদালত। 

বুধবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হায়দারের আদালত এই আদেশ দেন। রাজধানীর রামপুরা থানায় ওই মামলা করা হয়েছিল। 

আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এদিন মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দিন ধার্য করে আদেশ দেন আদালত।

এর আগে সিআইডিকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল এই আদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালত ডিবি পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি গ্রহণ করে ওই আদেশ দেন।

২০২২ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নৌ-পুলিশ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা মামলা করেন। এতে নিহতের কথিত বন্ধু বুশরাসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগ আনেন তিনি। প্রায় এক বছর পর গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে বুশরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে স্থায়ী জামিনে রয়েছেন বুশরা।