ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:৩৪ পিএম
বেনজীরের আরও ১১৯ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা আরও ১১৯টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আসসামছ জগলুল হোসেন এ নির্দেশ দেন। 

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৩ মে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পদ জব্দের নির্দেশ এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোও অবরুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

এর আগে, গত ২২ এপ্রিল বেনজীরের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাউদ্দিন রিগ্যান হাইকোর্টে রিট করেন।

সম্প্রতি ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক আইজিপি ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামে অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। আর তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি থাকার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। 

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ৩৪ বছর ৭ মাস চাকরি করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে অবসরে যান। অবসর গ্রহণের পর দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও কন্যাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যা তার আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক।

বেনজীর আহমেদ তার পদের অপব্যবহার করে আয়ের তুলনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, চিঠিতে জানান সুমন। 

এমন পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে এবং ছোট মেয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ সংগ্রহের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদককে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রিমিয়ার ব্যাংকের চার কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। কর্মকর্তারা হলেন ব্যাংকটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. শহিদ হাসান মল্লিক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নারায়ণগঞ্জ শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা মুশফিকুল আলম, ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ দীপক কুমার দেবনাথ ও ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান সরকার। তিন হাজার কোটি টাকার ভুয়া ঋণ মঞ্জুর করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানের মধ্যে এই নির্দেশ দিলেন আদালত।

রবিবার (২৩ জুন) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আস্সামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এই নির্দেশ দেন।

আদালত থেকে বের হওয়ার পর কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পিপি জানান, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান আবেদনে উল্লেখ করেন, ব্যাংকটির নারায়ণগঞ্জ ও প্রধান কার্যালয়ের কতিপয় বিভাগের কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধার আড়ালে জাল-জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৪৩টি সন্দেহভাজন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ মঞ্জুর করে আত্মসাৎসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সম্পৃক্ত ধারায় অপরাধ করার অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। জানা গেছে, অভিযোগসংশ্লিষ্টরা অর্থ পাচার ও দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। এ কারণে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা একান্ত প্রয়োজন। 

ছুটি কাটিয়ে চালু হলো বন্ধন এক্সপ্রেস

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
ছুটি কাটিয়ে চালু হলো বন্ধন এক্সপ্রেস
ছবি : খবরের কাগজ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

রবিবার (২৩ জুন) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বন্ধন ট্রেনটি কলকাতা থেকে বেনাপোল স্টেশনে পৌঁছায়। পরে বেনাপোল স্টেশন থেকে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে বাংলাদেশের খুলনা শহরের মধ্যে সপ্তাহে দুদিন চলাচল করে। ঈদুল আজহায় আন্তর্জাতিক রুটেরএই ট্রেনটি ১৬ ও ২০ জুন বন্ধ ছিল। প্রতিবছরই এ সময় ট্রেনটি চলাচল বন্ধ থাকে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুদিন বন্ধ ছিল। আজ থেকে আবার চালু হলো। যাত্রীরা যাতে দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারেন, সেজন্য পুলিশ সদস্যরা আন্তরিক হয়ে কাজ করছে। তবে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়কপথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, বন্ধন এক্সপ্রেস ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে গত ১৬ ও ২০ জুন এই দুই দিন বন্ধ ছিল। বন্ধের পর রবিবার আবার চালু হলো। সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন এ রুটে বন্ধন ট্রেনটি চলাচল করে।

নজরুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/

নারায়ণগঞ্জে যৌতুকের মামলায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কারাগারে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জে যৌতুকের মামলায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কারাগারে
মাকসুদ হোসেন

স্ত্রীর করা যৌতুকের মামলায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে সরাবন তহুরা এ আদেশ দেন। 

এর আগে মাকসুদ হোসেন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত। জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মাকসুদ হোসেন গত ৮ মে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ১১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবউদ্দিন আহমেদ জানান, গত ২৩ এপ্রিল মাকসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা বেগম যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলা রেকর্ড করে বিষয়টি তদন্তের জন্য বন্দর থানাকে নির্দেশ দেন। পরদিন বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রেকর্ড হয়।

আ.লীগ নেতা টিপু হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
আ.লীগ নেতা টিপু হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু

আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদারসহ ৩৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আলী হোসাইনের আদালতে নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। এ দিন তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৮ জুলাই দিন ধার্য করেন আদালত।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শোরুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। এ ছাড়া টিপুর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।

২০২৩ সালের ৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন শিকদার ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলে। তবে এক্সেল সোহেল নামে এক আসামির পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অব্যাহতির আবেদন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিচারের জন্য ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আলী হোসাইন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। খবর বাসসের।

আজিজ ও তার ভাইদের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় দুদক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪, ০৩:৪১ পিএম
আজিজ ও তার ভাইদের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্তের অপেক্ষায় দুদক
আজিজ আহমেদ

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে এখনো মাঠে কাজ করছে দুদকের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট। ঈদের পর তাদেরও প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করতে দুদককে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে অনুসন্ধান শুরু না হলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। 

তিনি শনিবার (১৫ জুন) খবরের কাগজকে বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ৯ জুন আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এরপর ১১ জুন আরেকটি আবেদন করা হয়েছে। যেখানে গণমাধ্যমে গত ৫ মে প্রকাশিত ‘জেনারেল আজিজের তেলেসমাতি’ শিরোনামে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করতে দুদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরও দুদক যদি অনুসন্ধান শুরু না করে, সে ক্ষেত্রে হাইকোর্টে রিট করা হবে। ঈদের ছুটি ও অবকাশ (ভ্যাকেশন) শেষে আগামী ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট খুলবে। ফলে ৩০ জুন কিংবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের যে কোনো দিন এই রিট করা হবে।’ 

দুদকের একটি সূত্র জানায়, আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো যাচাই করেছে অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটি (যাবাক)। যাবাকের সুপারিশে পাসপোর্ট ও এনআইডি জালিয়াতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী দুদক থেকে ইসি ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর তদন্তও শুরু করে দিয়েছে। সেসব তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ ও তার দুই ভাইয়ের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দুদক। এছাড়া, দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের প্রতিবেদনে আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ বা দুদকের তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর সেনাপ্রধান ছিলেন আজিজ আহমেদ। ২০১২ সাল থেকে চার বছর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেনাপ্রধান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আল-জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামে দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে অবসরের পর গত ২০ মে ‘তাৎপর্যপূর্ণ দুর্নীতিতে’ জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

আজিজ আহমেদের ভাই হারিছ দুটি এবং আরেক ভাই আনিস একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ তাদের সাজা মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন আরেক ভাই জোসেফ। এ মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পান।