নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত আনিছ আহম্মেদ নীলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায়পূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আসামি পলাতক থাকায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ বা পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর থেকে তার সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ের আদেশে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মামলার বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর আগে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মামুন হোসেন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে আসামি আনিছ আহম্মেদ নীলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। ফেসবুকের পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী বাসা থেকে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে কোচিং শেষে বাসায় ফিরে না আসায় তার বাবা ও মামলার বাদী তাকে খুঁজতে আজিমপুর গিয়ে কোচিং শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ওই ছাত্রী কোচিংয়ে যায়নি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে জানান, ৩০ অক্টোবর দুপুর ২টা ৪ মিনিটে তার মেয়ে বাসা থেকে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার বড়গ্রাম চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ে পৌঁছালে আসামি আনিছ আহম্মেদ নীলসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন তার মেয়েকে গাড়িতে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
উজ্জ্বল/এসজি/