প্রায় সাত কেজি সিসাসহ বার থেকে গ্রেপ্তার করার পর হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো বা অনলাইন জুয়ার মূলহোতা সেলিম প্রধান।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফৌজদারি বিবিধ (সিআরমিস) দরখাস্ত মূলে করা জামিন আবেদন শুনানি করা শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
তার আইনজীবী শহিদুল ইসলাম শিহাব জামিন আবেদনের শুনানি করেন। তিনি জানান, অন্য সব মামলায় জামিনে থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে গুলশানের বারিধারার ১২ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর বাড়িতে 'নেক্সাস ক্যাফে প্লেস' নামে একটি রেস্তোরাঁ থেকে সেলিম প্রধানসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। সেখান থেকে ৬ দশমিক ৭ কেজি সিসা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সাতটি সিসা স্ট্যান্ড এবং অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন রাকিবুল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম, রিফাত হাসান, রবিউল হাসান, মিনহাজুর রহমান, মেহেদী হাসান ও সাইমুম ইসলাম।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডগামী বিমান থেকে নামিয়ে এনে সেলিম প্রধানকে আটক করে র্যাব-১।
পরে তার গুলশান, বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালায়। সে সময় নগদ ২৯ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় হরিণের চামড়া।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো বা অনলাইন জুয়ার মূল হোতা সেলিম প্রধান। প্রচুর টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ইতোমধ্যে চার বছর সাজাও খেটেছেন।
তবে সে সময় বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের ঘটনায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন।
জলিল/মেহেদী/