ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর একাকিত্ব

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৭ এএম
দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর একাকিত্ব
ছবি : সংগৃহীত

ইঁদুরদৌড়ের জীবনে একাকিত্ব হলো অন্যতম সঙ্গী। সারা দিন পাহাড়প্রমাণ কাজের ভিড়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও দিন শেষে একাকিত্ব গ্রাস করে অনেককেই। কেউ স্বেচ্ছায় একা, কেউ বাধ্য হয়ে। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাকিত্ব। একা থাকার এই অবসাদ যে শুধু মনের ওপর চাপ তৈরি করে, তা নয়। শরীরের ওপরেও প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণা জানাচ্ছে, দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর হলো একাকিত্ব। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘আওয়ার এপিডেমিক অব লোনলিনেস ও আইসোলেশন’ নামে একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ হয়েছে। জাতিসংঘের এই সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, কোভিডের পর থেকে একাকিত্ব যেন জাঁকিয়ে বসেছে মানুষের মাঝে। মহামারির সময় লকডাউন, কোভিড আক্রান্ত হয়ে নিভৃতবাস (কোয়ারেন্টিন), সামাজিক দূরত্ববিধি- সব মিলিয়ে একা থাকাটা যেন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছিল। তারপর গত দুই বছরে অনেকটাই কমে এসেছে কোভিডের প্রকোপ। কিন্তু রয়ে গিয়েছে একাকিত্ব। আর একা থাকার এই অবসাদ থেকেই বাড়ছে হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতার মতো রোগের ঝুঁকি।

যত দিন যাবে, এই সমস্যা ধীরে ধীরে অতিমারির আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকরা। তাই এখন থেকেই রাশ টানতে হবে। একাকিত্বকে কিছুতেই মনের ওপর চেপে বসতে দেওয়া যাবে না। তার জন্য নিজের যত্ন নেওয়ার কথা বারবার মনে করাচ্ছে জাতিসংঘের এই সংস্থা।

কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জটিলতা এবং অন্যের খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যান অনেকেই। একাকিত্বের জন্ম নেয় সেখান থেকেই। সঙ্গীহীন জীবনেও নিজেকে ভালো রাখার রাস্তা খুঁজে নিতে হবে। নিজেকে ভালো রাখার পাশাপাশি সামাজিক মেলামেশা বাড়াতে হবে বলে মত স্বাস্থ্য সংস্থার। 

কোভিড-কাঁটা এখন আর নেই। ফলে যতটা সম্ভব নিজেকে সুরক্ষিত রেখে জনসংযোগে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। একাকিত্ব কম বয়সে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সেই ঝুঁকি এড়াতে মনের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এমএ/

মন ভালো রাখার আহ্বানে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম
মন ভালো রাখার আহ্বানে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস উদযাপন
স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশের দূষণ যেমন সবাইকে কষ্ট দেয় তেমনি মনের দূষণও নিজের ও অন্যের কষ্টের কারণ হয়। ব্যক্তির মন যদি ভালো থাকে তাহলে পরিবার, সমাজসহ সারা বিশ্বই ভালো থাকে। যুগ যুগ ধরে মন ভালো রাখার সেই কাজটিই করছে মেডিটেশন। 

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এমন বার্তা নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব মেডিটেশন দিবস। বাংলাদেশে মেডিটেশন চর্চার পথিকৃৎ স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দিবসটি আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।    

অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৭টায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রেস ক্লাবে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো শান্তিপ্রিয় মানুষ। এসময় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্মিলিত কণ্ঠে সবাই মিলে ভালো থাকার প্রত্যয়নের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর উপস্থিত সবাই মেডিটেশনের মাধ্যমে নীরবে ডুব দেন নিজের ভেতর।

অনুষ্ঠানে এক অডিওবার্তায় সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মাদাম নাহার আল বোখারী। 

বৈজ্ঞানিক মেডিটেশন পদ্ধতি কোয়ান্টাম মেথড-এর উদ্ভাবক শহীদ আল বোখারী মহাজাতক অনুষ্ঠানে এক অডিওবার্তায় বলেন, কোয়ান্টাম তিন দশক ধরে বলে আসছে, মন ভালো তো সব ভালো। ২০২৪ সালে জাতিসংঘ ২১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে সারা পৃথিবীর মেডিটেশন চর্চাকারীদের মতো বাংলাদেশের মেডিটেশনপ্রেমীদের অন্তরেও বয়ে যায় এক আনন্দানুরণন। কোয়ান্টাম ২০২৫ সালকে ঘোষণা করে ‘দ্য ইয়ার অব মেডিটেশন’ হিসেবে। সমাজের সর্বস্তরে মেডিটেশন চর্চা নতুন গুরুত্ব লাভ করে।

আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান ডিজিটাল জীবনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা, ট্রমা, ভয়, অনিশ্চয়তা ও তা থেকে সৃষ্ট মনোদৈহিক রোগের কথা। জানানো হয়, এ থেকে মুক্তির পথ দেখায় মেডিটেশন। মেডিটেশনের বাণী তাই বিশ্বের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মেডিটেশন চর্চার অনুভূতি বর্ণনা করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এসডিএফ-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার বিজেসি-র সভাপতি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ রেজওয়ানুল হক রাজা, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন এবং স্কলাস্টিকা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. শাহিদা রহমান।

ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ নানা পেশার মানুষ। রাজধানী ছাড়াও দেশ-বিদেশের নানা স্থানে একযোগে উদ্‌যাপিত হয় দিবসটি। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেটসহ দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্য শতাধিক স্থানে একই সময়ে মেডিটেশনে আত্মনিমগ্ন হন শান্তিপ্রিয় শিশু-কিশোরসহ অসংখ্য মানুষ। যারা বিশ্বাস করেন, মন ভালো তো সব ভালো। বিশ্ব মেডিটেশন দিবসকে কেন্দ্র করে আরও আরও মানুষ যুক্ত হোক ভালো থাকার এই মিছিলে- এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সকলের।

মাহমুদুল আলম/এসএন

বিশ্ব মেডিটেশন দিবস বন্ধ চোখে দেখা

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম
আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম
বন্ধ চোখে দেখা
ছবি: সংগৃহীত

‘হবে। তবে চোখ বন্ধ করে ঝিমালে হবে না!’ বুজুর্গ বন্ধুবর যে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন একথা, তা একটু পরেই বলছি। বন্ধ চোখ নিয়ে আপনার ধারণা কী? কী ঘটে আপনার বেলায়, চোখ মুদলেই? চলে যান দূর নির্জনে, প্রিয় বন্ধুর সাথে পাহাড়ি ঝর্ণা দেখার মুহূর্তে? নাকি ব্ল্যাকবোর্ড থেকে মুখ ঘুরিয়ে স্যারের চোখ রাঙানিটা এখনো স্পষ্ট শাসায়? খাবি খাওয়া স্বপ্নগুলোর আজগুবি আস্ফালনে বাড়তে থাকে আপনার হার্টবিট? নাকি নাকের গরম নিঃশ্বাস পড়ে বসের কাঁপা গোঁফে বিরক্তির শব্দটা শুনতে পান আবারও! নাকি সমুদ্রের পানি এসে পা ভিজিয়ে দেয়ার সেই স্মৃতিটাই রোমন্থন করেন!

আচ্ছা, যা-ই ঘটুক, ভালো বা মন্দ! পড়া থামিয়ে খানিকক্ষণ চোখ বন্ধ করে একটুখানি দেখে নেয়া যেতে পারে! এরপর না হয় বাকি লেখায় চোখ রাখা যাক।

একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? বন্ধ চোখে এমন অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যায়, খোলা চোখে যা আদতে দেখা যায় না। বন্ধ চোখে দেখা এসব অনুভূতি, ছবি বা স্মৃতি কীসের ফলাফল? জ্বি, প্রতি মুহূর্তে পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে যে অগণিত তথ্য মস্তিষ্ক গ্রহণ করে, তারই বিশ্লেষণ। বিশ্লেষণ থেকেই এই ছবি বা ইমেজ তৈরি হয়। হ্যাঁ, যারা জানেন, তারা এআই জেনারেটেড ছবির ব্যাকরণের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।

আমাদের মস্তিষ্কের ভাষা হচ্ছে ছবি। এই ছবি তৈরি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ও দারুণ মনোযোগের দাবিদার! তথ্য বিশ্লেষণ করে ছবিটা কেমন হবে, এটি তথ্যের পাশাপাশি আপনার ওপর নির্ভর করে অনেকখানি। আপনি বলতে আপনার মুডের ওপর! মুডকে ভাব, দৃষ্টিভঙ্গি বা নিয়ত নানান শব্দেও প্রকাশ করা যেতে পারে। কী রকম? একটা ছোট্ট ঘটনা উল্লেখ করা যাক।

একটি বাচ্চা চিৎকার জুড়েছে, হাতির দাঁত খাবে! খাবে তো খাবেই! কোনোভাবেই কেউ তাকে বোঝাতে পারছে না। দুরন্ত শক্তিশালী নতুন জেনারেশনের বাচ্চা! চাচা-ফুফু, মা-বাবা রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। দাদি টিকে আছেন কোনোমতে। বুঝতেই পারছেন, ‘বাড়ি মাথায় তোলা’ বাগধারার সার্থক পরিস্থিতি বাড়িতে। অগত্যা বই বন্ধ করে উঠলেন দাদা। নাতির কাছে গিয়ে বললেন, চলো! হাতির দাঁত কিনে আনি। নাতি তো বেজায় খুশি! কিছুক্ষণ পর দাদা-নাতি বাইরে থেকে ঘুরে এসে বাসায় ঢুকলেন। নাতির হাতে হাতির দাঁতসদৃশ লম্বা এক গাজর! কিছুক্ষণ খাওয়ার চেষ্টা করে নাতিও ভুলে গেল হাতির দাঁতের কথা!

নাতিকে এখানে মস্তিষ্ক হিসেবে ভাবতে পারেন। তাকে কোন মুডে থেকে কেমন ছবি দিয়ে কীভাবে আপনার কাজ উদ্ধার করবেন, তা বাচ্চা লালনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার! 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কে অনেক তথ্য জমতে থাকে। ছবি তৈরির এই পুরো প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে আরো বৈচিত্র্যময়! যেমন- শিশুকে লাল গাজর দিয়ে সাদা হাতির দাঁত বোঝানো গেলেও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। আবার বয়স্ক মানুষের হাতির দাঁত খাওয়ার ইচ্ছা না হয়ে হাতির গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হওয়া সাধারণভাবে যুক্তিযুক্ত! বয়স্কদের আবার এই ইচ্ছা না হওয়াও যুক্তিযুক্ত!

আবার আমাদের কারো কারো ক্ষেত্রে দুঃখ বা বেদনার অনেক স্মৃতি আমরা ভুলতে পারি না। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার স্মৃতি হতে পারে, অন্যায় অপদস্থ হওয়ার স্মৃতি হতে পারে বা এমন স্মৃতি বা ছবি যা ভাসলেই শারীরবৃত্তীয় স্বাভাবিক ক্রিয়াগুলো অস্বাভাবিক হয়ে যায়। অনিচ্ছাসত্তেও বার বার অনাকাক্সিক্ষত ছবি মস্তিষ্কপটে আসতে থাকাটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে ট্রমা নামে পরিচিত। শুধু ট্রমাগ্রস্ত মানুষ নয়, সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্যেও স্মৃতি বা ছবির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিটি মুহূর্তেই অনেক কাজের। 

ধরা যাক, অফিসের বস বা শিক্ষকের রুমে ভাইভার জন্যে ঢুকবেন। সেই সময় যদি ভয়ানক অভিজ্ঞতা বা কল্পনার স্মৃতি তার সামনে ভাসতে থাকে, সম্ভাবনা আছে, তিনি যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছেন, ততটুকু দেখাতে পারবেন না!

স্মৃতি বা ছবির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে কাজের পারফরম্যান্স ভালো করাও সম্ভব। কতটা ভালো করা সম্ভব? এটা জানার আগে আমরা বোঝার চেষ্টা করি স্মৃতি বা মস্তিষ্কে ছবি তৈরির ওপর কীভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়া যায়। এই নিয়ন্ত্রণের জন্যে বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি ধ্যান বা মেডিটেশন। প্রাচ্যের আবিষ্কৃত এ পদ্ধতিটি নিয়ে পাশ্চাত্যের আগ্রহ তুঙ্গস্পর্শী! বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৩২ সালে মেডিটেশনের ইন্ডাস্ট্রি গিয়ে দাঁড়াবে ৩২ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা বর্তমান ডলার মূল্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান বাজেটের অর্ধেকমতো!) । এক আমেরিকাতেই ধ্যান বা মেডিটেশন চর্চাকারীর সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি ছাড়িয়েছে!

মেডিটেশনের এই উত্থানের পেছনে মূল কারণ এর কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মোজেজা বা কারামতি! কার্যকারিতা হচ্ছে, চর্চাকারীরা দ্রুতই ফল লাভ করেন। অর্থাৎ হতাশা, একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা, ক্রনিক পেইন ইত্যাদি মনোদৈহিক বা সাইকোসোমাটিক রোগগুলোর ক্ষেত্রে মেডিটেশন অব্যর্থ প্রায়! 

আর মোজেজা হচ্ছে ক্রনিক রোগের প্রচলিত ওষুধগুলোর মতো মেডিটেশনের কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। মেডিটেশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটিই, তা হলো মস্তিষ্কে সেরোটনিনের প্রবাহ বাড়বে, কর্টিসলের পরিমাণ কমবে। ফলে চর্চাকারীর স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুখ সুখ থাকার পরিমাণ বেড়ে যাবে। 

একারণে মেডিটেশন চর্চাকারীরা একবার মেডিটেশন বিষয়টা বুঝে ফেললে এটাকে জীবনযুদ্ধ জয় এবং আধ্যাত্মিক অনেক ক্ষেত্রেই কাজে লাগাতে পারেন। সেগুলো এ লেখার বিবেচ্য বিষয় নয়। এ লেখার বিবেচ্য বিষয়ের একটি হতে পারে মেডিটেশনের মাধ্যমে স্মৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কতটা ভালো করা সম্ভব? কী কী করা সম্ভব?

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধ্যানপদ্ধতি কোয়ান্টাম মেথডের প্রসঙ্গ আনা যেতে পারে। কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন চর্চা করে লক্ষাধিক মানুষ বিচিত্র রকমের উপকার পেয়েছেন। ব্যথা বেদনা ভালো হয়ে গেছে, ঘুমের সমস্যা দূর হয়েছে, লক্ষ্য স্থির করতে পেরেছেন, লক্ষ্যের পথে লেগে থাকতে পেরেছেন, ক্ষতিকর অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন ইত্যাদি নানান প্রসঙ্গ আনা যেতে পারে।

তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, পাশ্চাত্যের ভ্রান্ত অনুকরণে দমচর্চাকে মেডিটেশন ভেবে ধোঁকায় পরা যাবে না! যেমন- পাঁচ মিনিটের মেডিটেশন, তিন মিনিটের মেডিটেশন! এগুলো চটুল এবং বিজ্ঞাপনের জন্যে চলতেই পারে। কিছু সময় দমচর্চায় হয়তো শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়বে, কিছুটা ভালো লাগা তৈরি হবে। কিন্তু মেডিটেশনের উপকার পাওয়ার জন্যে মেডিটেটিভ লেভেলে যাওয়াটা কিন্তু জরুরি। সেই লেভেলে মনের ক্যানভাসে আঁকা ছবি বাস্তবতায় রূপ নেয়ার জন্যেই যেন সময়ের দরজায় কলিং বেল চেপে অপেক্ষা করছে। 

বিষয়টি একেবারেই সহজ। সাইকেল চালানোর মতো! সাইকেল চালানো শুরু করার সময় ব্যাকরণটা বুঝে ফেলতে হয়। এরপর চালাতে চালাতে চালকের দক্ষতাও বাড়ে, সাইকেল দিয়ে কারিশমাও দেখাতে পারে। মেডিটেশনও তাই। মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের দেহ-মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। তখন নিরাময়সহ বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের কাজেও মেডিটেশনকে প্রয়োগ করা সম্ভব।

শুরুতে আমরা চোখ বন্ধ করে কিছু ভাবার চেষ্টা করেছিলাম, এটাকে আরো ভালোভাবে করা যেতে পারে সামান্য সময় দমচর্চা দিয়ে শুরু করে। পুরো প্রক্রিয়া এখানে না লিখে একটা অডিও লিংক ( https://url-shortener.me/17NS ) শেয়ার করা যাক। আগ্রহীরা চেষ্টা করে দেখতে পারেন। উপকার ঘরে উঠবে নিশ্চিত। 

এই স্মৃতি বা ছবি তৈরির ওপর নিয়ন্ত্রণ আপনাকে দিতে পারে অনন্য স্বাধীনতা! পরিস্থিতি দ্বারা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত না হয়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অসাধারণ এক ক্ষমতা! তীব্র যানযটেও আপনি বিরক্ত না হয়ে ভাবতে পারবেন, এখন কোন পথ বা কোন বাহনটা বেছে নেয়া আপনার জন্যে সঠিক! চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আঁকতে পারবেন সমস্যা থেকে উত্তরণের বাস্তবসম্মত নকশা। উত্তেজনার নরকাগ্নি উত্তাপেও আপনি সুশীতল ঝর্ণাসম আচরণ উপহার দিয়ে ঘটনার প্রতিটি কানাচে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন নিজের নিয়ন্ত্রণ!

ব্যক্তিজীবনে শুধু নয়, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও দূরপ্রসারী ছবি আঁকা এবং সে দায়িত্বগুলো পালনে যারা অগ্রগামী, তাদের জন্যেও মেডিটেশন হতে পারে যুগসাধনায় পাওয়া ব্রহ্মাস্ত্র!

এ কারণেই শুরুতে বুজুর্গ বন্ধুবরের টক-মিষ্টি উত্তর দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম। প্রশ্ন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক আগ্রহী তরুণ, চোখ বুজে মেডিটেশন করলে কী ভাই দেশের উন্নতি হবে? বুজুর্গ বন্ধুবরের উত্তরের মর্মার্থ ছিল, মেডিটেশন আত্মউন্নয়নের জন্যে, দূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণে সুপরিকল্পিত হওয়ার জন্যে। মেডিটেশনের সময় দেহকে শিথিল রেখে সচেতনতার এক উচ্চতর মাত্রায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ চোখে তথ্য বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনায় সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ রাখা যায়! তাই মেডিটেশন দিয়ে অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু চোখ বন্ধ করে ঘুমালে বা ঝিমালে তা হবে না!

বুজুর্গ বন্ধুবরের শেষ কথা- ব্যক্তির উন্নয়নই রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের ভিত্তি। প্রতিটি ব্যক্তির উন্নয়নের মধ্যদিয়েই প্রস্ফুটিত হবে রাষ্ট্রীয় উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর স্বপ্ন। সকলকে মেডিটেশন দিবসের শুভেচ্ছা।

লেখক:  জান্নাতুল আদন, সমাজকর্মী

হজের গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম
হজের গুরুত্ব ও ফজিলত
হাজীদের কাবা ঘরে অবস্থানের ছবি। সংগৃহীত

হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য এক পবিত্রতম ইবাদত। প্রতি বছর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মক্কা ও মদিনার পানে ছুটে যান। এই যাত্রা শুধু আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি কিংবা অতীতের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাই নয়, বরং এটি মুমিনের ঈমান ও আনুগত্যের এক দৃঢ় বহিঃপ্রকাশ। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হজের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। 

আল্লাহর নির্দেশ ও ক্ষমা লাভের উত্তম পথ

১. আল্লাহর সুস্পষ্ট আদেশ: হজ পালন করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য আল্লাহতায়ালার এক সুস্পষ্ট নির্দেশ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য মক্কা-এলাকায় হজ আদায় করা তার জন্য বাধ্যতামূলক, আর আল্লাহর জন্য মানুষের ওপর হজ করা ফরজ, যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।’ (সুরা ইমরান, ৯৭) এই আয়াত দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে যে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলিমের জন্য হজ পালন করা ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য।

২. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পাপ মুক্তি: হজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং অতীতের সব পাপ থেকে মুক্তি লাভ করার সুযোগ পায়। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ পালন করবে, সে যেন অসামাজিক কাজ এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা বাকারা, ১৯৭) শুধু তাই নয়, হজ এমন এক মহান ইবাদত, যা মুমিনের জীবনের সব গুনাহকে ধুয়ে মুছে তাকে নিষ্পাপ করে তোলে।

৩. মুমিনের বিশেষ মর্যাদা: ইসলামে হজের মর্যাদা অতুলনীয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করবে এবং সেখানে কোনো অশ্লীলতা বা পাপ কাজ করবে না, সে তার জন্মের দিনটির মতো পবিত্র হয়ে ফিরে আসবে।’ (বুখারী, ১৫২১; মুসলিম, ১৩৫০) এই হাদিস হজের তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয় যে, এটি পাপ মোচনের ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সুযোগ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

দুই যুগে ৪ লক্ষাধিক থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে ‘কোয়ান্টাম’

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম
দুই যুগে ৪ লক্ষাধিক থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে ‘কোয়ান্টাম’
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

২০০০ সালে শুরুর পর থেকে চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহের মাধ্যমে ১৭ লাখের অধিক মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়াতে পেরেছে কোয়ান্টাম ল্যাব। এর মধ্যে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত দুই যুগে সংগৃহীত মোট রক্তের চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৪ লাখের অধিক ইউনিট রক্ত বা রক্ত উপাদান সরবরাহ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পাশে থাকতে পেরেছে কোয়ান্টাম।

মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান আলোচকরা। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ৩ বার রক্তদান করে লাইফ লং, ১০ বারের দানে সিলভার, ২৫ বারে গোল্ডেন এবং ৫০ বার রক্তদান করে প্লাটিনাম ক্লাবের সদস্য হয়েছেন- এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রধান অতিথি এসময় তাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, রক্তদানের মতো মহৎ এ সেবার প্রতিদান কোনো মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি একটি সদকায়ে জারিয়া। এর উত্তম প্রতিদান কেবল স্রষ্টাই দিতে পারেন।   

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক মোটিভেশন এম রেজাউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর ডা. মনিরুজ্জামান। এসময় কোয়ান্টাম মেথডের প্রবর্তক শহিদ আল বোখারী মহাজাতক এর পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষে রক্তদানের অনুভূতি বর্ণনা করেন ২৫ বারের গোল্ডেন রক্তদাতা শফিউর রহমান সাইফ ও লাইফ লং স্বেচ্ছা রক্তদাতা সামিয়া হক তৃষা। এসময় স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের দেওয়া রক্তপ্রাপ্তির অনুভূতির কথা তুলে ধরেন নিয়মিত রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত আসিফা আহসান। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দেশে রক্ত চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এ সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আলোচকরা। বিজ্ঞপ্তি

মেডিটেশন নিয়ে ধর্ম ও বিজ্ঞান কী বলে?

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম
মেডিটেশন নিয়ে ধর্ম ও বিজ্ঞান কী বলে?
দেহ-মনের প্রশান্তির খোঁজে মেডিটেশনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

পরমাত্মার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সাধনায় ধ্যানের মাধ্যমে যুগে যুগে মানুষ আত্মনিমগ্ন হয়ে পরিণত হয়েছেন মহামানবে। স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণের জন্য সুফিসাধকরা নিমগ্ন হয়েছেন মোরাকাবা-মোশাহেদায়। আত্ম উপলব্ধির জন্য কালে কালে সাধক মুনি-ঋষিরা বেছে নিয়েছেন ধ্যানকে। ধ্যান, মেডিটেশন, মোরাকাবা, তাফাক্কুর- শব্দগুলো ভিন্ন হলেও এর মূল নির্যাস একই। বিভিন্ন ধর্ম আর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এর প্রায়োগ ভিন্ন রূপ নিলেও পানির সার্বজনীনতার মতোই ধ্যানের নির্যাস সার্বজনীন। 

ধ্যান চর্চার প্রচলন হয়ে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। আধুনিক বিজ্ঞানের এ যুগে মেডিটেশন এক অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ মুক্তি, স্ট্রেস, রাগ নিয়ন্ত্রণ, হতাশা, নেতিবাচকতার শৃঙ্খল থেকে শুরু করে জীবনের সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে এবং নেতিবাচকতা ও মনোজাগতিক শৃঙ্খল থেকে নিজেনে স্বমহিমায়  ফিরে পেতে  মেডিটেশন বিজ্ঞানসম্মত কার্যকর মাধ্যম। মেডিটেশন হচ্ছে জীবন যাপনের বিজ্ঞান।

প্রাচ্যের হাজার বছরের ঐতিহ্য এই ধ্যান। মোরাকাবা বা মেডিটেশনই এখন পাশ্চাত্যে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রয়োগ হচ্ছে মূলত প্রশান্তি ও আত্মনিরাময় লাভের ক্ষেত্রে।

ধ্যানের কথা লেখা আছে পাঁচ হাজার বছর আগে

প্রাচীন মানুষ যে ধ্যান বা মেডিটেশন চর্চা করতেন তার লিখিত প্রমাণের বয়সই কমপক্ষে ৫ হাজার বছর। ৫ হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় তন্ত্রশাস্ত্রে ধ্যানের উল্লেখ আছে। এটি সতের শতকের একটি দুর্লভ উপনিষদ পান্ডুলিপির খণ্ডাংশ। এখানে ধ্যানের কথা বলা আছে।

মোজেস বা মুসা

ইহুদি ধর্মের প্রাণপুরুষ মোজেস বা মুসা সিনাই পাহাড়ে ৪০ দিন ধ্যানমগ্ন থেকে আল্লাহর বাণী লাভ করেন। তাওরাতে পিতা আইজ্যাকের সান্ধ্যকালীন প্রার্থনার জন্যে মাঠে যাওয়া প্রসঙ্গে হিব্রুতে যে ‘লাসাচ’ (Lasuach) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, এটা আসলে ধ্যানেরই একটি পরিভাষা।

মহেঞ্জোদারো সভ্যতা

ধ্যানচর্চার প্রাচীন ইতিহাসের আরও কিছু নিদর্শন মিলেছে মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে। আজ থেকে ৪ হাজার ৬০০ বছর আগে সিন্ধু অববাহিকা অঞ্চলে বিকশিত এ সভ্যতার একটি প্রাচীন সিলমোহরে দেখা যায় ধ্যানাসনে বসে একজন যোগী গভীর ধ্যানে মগ্ন।

মহামতি বুদ্ধ

মহামতি বুদ্ধ ধ্যানের পথে বোধি লাভ করেছেন। ধ্যানের মাধ্যমেই নির্বাণ লাভের পন্থা শিখিয়েছেন অনুসারীদের। তার ধ্যান পদ্ধতিকে ইউরোপ-আমেরিকায় এখন নানাভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক-মানসিক নিরাময়ের ক্ষেত্রে।

ইমাম গাজ্জালী

ইমাম গাজ্জালী। দীর্ঘ ১০ বছর নির্জনবাসের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেন আত্মশুদ্ধি এবং ধ্যানের পথেই মুক্তি। শরিয়তের সঙ্গে সাধনাকে সম্পৃক্ত করে তিনি ইসলামি জীবনদৃষ্টির পুনর্জাগরণ ঘটান। পরবর্তী হাজার বছরে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সাধক-দার্শনিকদের তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। শুধু তাই নয়, তার লেখা থেকেই পাওয়া যায় যে, হযরত ইমাম বোখারীও মেডিটেশন করতেন।

মধ্যযুগীয় সুফিধারা

সুফিধারায় ধ্যান বা মেডিটেশনের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। জিকর বা স্রষ্টার স্মরণ এবং ফিকর বা আত্মমগ্ন ভাবনার চর্চার ধারাই পরে পরিণত হয়েছে বিশেষ প্রক্রিয়ার ধ্যানে। ১৬৩০ সালের একটি ছবিতে একজন সুফিকে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখা যায়।

মহাঋষি মহেশ যোগী

মহাঋষি মহেশ যোগী ষাটের দশকে পাশ্চাত্যে বেদান্ত দর্শনকেন্দ্রিক টিএম-কে পরিচিত করান। পরবর্তীতে যা পাশ্চাত্যের মিডিয়া এবং জনজীবনে ধ্যানচর্চাকে জনপ্রিয় করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

দালাই লামা

তিববতের আধ্যাত্মিক নেতা চতুর্দশ দালাই লামা। বুদ্ধের ধ্যান পদ্ধতিকে পাশ্চাত্যের বুদ্ধিজীবী ও বিজ্ঞানী মহলে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

যিশু

যিশুখ্রিষ্টের জীবনে ধ্যান এবং প্রার্থনা হয়ে গিয়েছিল একাকার। যখনই সুযোগ পেতেন তিনি ধ্যান ও প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন। শিষ্যদেরও উৎসাহিত করতেন ধ্যানমগ্ন হতে।

হযরত মোহাম্মদ (স.)

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) বছরের পর বছর হেরা পর্বতের গুহায় কাটিয়েছেন ধ্যানমগ্ন অবস্থায়। ধ্যানের স্তরেই মহগ্রন্থ আল-কোরআনের বাণী নাযিল হয়েছে তাঁর ওপর।

পবিত্র কোরআনের ধ্যান সম্পর্কে যা বলা আছে

“নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানে (তাফাক্কুর) নিমগ্ন হয় এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি।” (সূরা আলে ইমরানের ১৯০-১৯১ আয়াত)।

কোরআনের আরও বেশ কটি আয়াতে তাফাক্কুর বা তাদাব্বুরের যে কথা বলা হয়েছে, তা আসলে সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানেরই তাগিদ।

কোরআন অনুধাবনের জন্য ধ্যান

মহান রাব্বুল আলামীন মানবজাতির জন্য যে পথনির্দেশিকা কোরআন নাজিল করেছেন, তাতেই আছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। কিন্তু এই জীবন বিধান অনুসরণের জন্য প্রয়োজন এ বাণীর অনুধাবন, উপলব্ধি। আর কোরআন নিজেই কোরআন অনুধাবনের জন্য বলেছে এই ধ্যানের কথা।

‘হে নবী ! আমি তোমার ওপর এই কল্যাণময় কিতাব নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এই কোরআনের বাণী নিয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়, সেই সঙ্গে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে এর শিক্ষা অনুসরণ করে।’ (সূরা সাদ, আয়াত ২৯)

‘এরপরও কি ওরা কোরআন নিয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে তা অন্তরে ধারণ করবে না? নাকি মনের দরজা বন্ধই করে রাখবে?’ (সূরা মুহাম্মদ আয়াত ২৪)

‘(হে নবী! ওদের) বলো, আমি তোমাদের একটিমাত্র পরামর্শ দিচ্ছি এককভাবে বা যৌথভাবে আল্লাহর সামনে সচেতন হয়ে দাঁড়াও। নিজের গভীরে ধ্যানে নিমগ্ন হও, (তাহলেই উপলব্ধি করতে পারবে) তোমাদের সঙ্গী আদৌ উন্মাদ নয়। আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সে একজন সতর্ককারী মাত্র’। (সূরা সাবা ৪৬ নম্বর আয়াত)

‘এরপরও কোরআনকে অনুধাবন করার জন্য ওরা কি গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হবে না (বা ওদের সহজাত বিচারবুদ্ধিও প্রয়োগ করবে না)? কোরআন যদি আল্লাহর কালাম ছাড়া অন্য কিছু হতো, তাহলে অবশ্যই এর মধ্যে অনেক অসঙ্গতি থাকত। (সূরা নিসা, ৮২)

হাদীসে ধ্যান সম্পর্কে যা বলা আছে

‘একঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।’ -আবু হুরায়রা (রা); জামে উস-সগীর, ইবনে হিব্বান।

‘রাতে একঘণ্টা জ্ঞানচর্চা বা ধ্যান সারারাত ইবাদতের চেয়ে উত্তম।’ -আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); মেশকাত।

‘আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য নিয়ে ধ্যান করো, তাঁর মহিমা আঁচ করতে পারবে। আল্লাহকে নিয়ে ধ্যান করতে যেও না। (কারণ তুমি কখনো তাঁর ক্ষমতার কূলকিনারা পাবে না।)’ -আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা); আবু নায়ীম, গাজ্জালী।

‘গভীর ধ্যানের তুল্য কোনো ইবাদত নেই।’ -আলী ইবনে আবু তালিব (রা); বায়হাকি।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। আজ থেকে হাজার বছর আগে বাংলার এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে উপমহাদেশ, তিববত ও চীনের সমাজ-জীবনের পঙ্কিলতা দূর করতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

নতুন যুগের সূচনা

১৯৬৯-১৯৭০ দশকে মেডিটেশন চর্চায় নতুন যুগের সূত্রপাত হয়। নতুন নতুন পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে। এর মধ্যে টিএম, বা ট্রান্সেনডেন্টাল মেডিটেশন, সহজ যোগ, ন্যাচারাল স্ট্রেস রিলিফ, ফাইভ রিদম, থিটা হিলিং, সিলভা মেথড, ডা. হার্বার্ট বেনসনের রিলাক্সেশন রেসপন্স, ডা. কাবাত জিনের মাইন্ডফুলনেস বা মনোনিবেশায়ন উল্লেখ্যযোগ্য।

ধর্মের আলোকে মেডিটেশন

ধর্মচর্চা ভিন্ন হলেও সব ধর্মের মূলবাণী একই। আর তা হলো অনৈতিকতা ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে আদর্শ জীবন গঠন। আত্মপর্যালোচনা এবং আত্মউপলব্ধির মাধ্যমে নিজের পরিবর্তন। আর এই উপলব্ধির প্রক্রিয়ায় ধ্যান বা মেডিটেশনকে পৃথিবীর সব ধর্মেই বিবেচনা করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে। 

সনাতন ধর্মে ধ্যান

মহাভারত, বেদ ও উপনিষদে বলা হয়েছে, ধ্যানে মগ্ন হলে একজন মানুষ আত্মার সন্ধান পেতে পারে নিজের মাঝেই। ভগবতগীতায় ধ্যানযোগের ওপর রয়েছে বিশেষ অধ্যায়। আর পতাঞ্জলির সময় থেকে যোগসাধনায় সংযুক্ত হয়েছে ধ্যান, যার পরিণতি সমাধির স্তরে।

বৈদিক হিন্দুধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র হলো গায়ত্রী মন্ত্র। এ মন্ত্রকে বলা হয় সমস্ত মন্ত্রের জননী। পন্ডিত সত্যকাম বিদ্যালংকারের অনুবাদ দি The Holy Vedas এ রয়েছে — O Supreme Lord
Thou art ever existent, ever conscious, ever blissful. We meditate on Thy most adorable glory. Mayest Thou guide and inspire our intellect on the path of highest divinity! May we be able to discriminate between truth and falsehood. (Rig.3.62.10)

সদাসর্বত্র বিরাজমান তন্দ্রা-নিদ্রাহীন সদা সজাগ প্রতিনিয়ত করুণা বর্ষণকারী সর্বশক্তিমান হে প্রভু! আমরা শুধু তোমারই মহিমার ধ্যান করি, প্রভু হে! তুমি আমাদের সর্বোত্তম আলোকিত পথে পরিচালিত করো। [ঋগ্বেদ : ৩.৬২.১০]

বৌদ্ধ ধর্মে ধ্যান

বৌদ্ধ ধর্মমতে ধ্যান বা মেডিটেশনই হলো নির্বাণপ্রাপ্তির উপায়। দুঃখসংক্রান্ত চতুরার্থ সত্য উপলব্ধির পর মহামতি বুদ্ধ এর প্রতিকারের জন্যে যে দুই ধর্মচক্রের কথা বলেন, তার প্রথম হলো মধ্যপন্থা অনুসরণ অর্থাৎ জীবনে অতি সুখ-বিলাস-ব্যসন যেমন পরিত্যাজ্য, তেমনি অতি সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনও অপ্রয়োজনীয়। আর দ্বিতীয় ধর্মচক্রে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গে তিনি আটটি সৎপথের কথা বলেন। আর তা হলো, সৎদৃষ্টি, সৎসংকল্প, সৎবাক্য, সৎকর্ম, সৎজীবিকা, সৎপ্রচেষ্টা, সৎস্মৃতি এবং সৎসমাধি। আর এর যথার্থ উপলব্ধির জন্যে একজন মানুষকে মেডিটেশন বা ধ্যানে আত্মমগ্ন হতে হবে।

বুদ্ধের মতে মেডিটেশনের প্রাপ্তি হলো দুটি–এক, সমাধি বা স্থিরতা যা মনকে কেন্দ্রীভূত করে; দুই, বিপাসন বা প্রজ্ঞা, যা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বাইরেও উপলব্ধির চেতনাকে জাগ্রত করে। ফলে একজন মানুষ তার স্থান-কালের সীমা অতিক্রম করে ত্রিকাল দর্শনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। অর্থাৎ মহামতি বুদ্ধ ধ্যানের পথে বোধি লাভ করেছেন। ধ্যানের মাধ্যমেই নির্বাণ লাভের পন্থা শিখিয়েছেন অনুসারীদের।

খ্রিষ্ট ধর্মে ধ্যান

যিশুখ্রিষ্টের জীবনে ধ্যান এবং প্রার্থনা হয়ে গিয়েছিল একাকার। যিশুর শক্তির উৎস ছিল তাঁর ধ্যান, তাঁর প্রার্থনা—যে ধ্যানে তিনি ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতেন। যে প্রার্থনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, প্রার্থনায় যা-কিছু তোমরা চাও, বিশ্বাস করবে তা পেয়েছ, তাহলে তা-ই পাবে। সারাদিন ধরে ভক্ত-শিষ্য-অভ্যাগতদের সাথে সময় কাটানোর পর সন্ধ্যাবেলা খানিকটা নির্জনে গিয়ে তিনি প্রার্থনায় নিমগ্ন হতেন, ভুলে যেতেন সমস্ত ক্ষুধা-ক্লান্তি-অবসাদ। অন্যদেরকেও তিনি বলতেন, অনেক কাজ করেছ, এখন ধ্যান করো। নিজেকে পর্যালোচনা করো, ভুলগুলো খুঁজে বের করো, মনের পর্দায় নিজেকে দাঁড় করাও, জীবন পরিবর্তন করো।

যিশুখ্রিষ্টের এ আদর্শের অনুসরণে যারা অনুপ্রাণিত, তারা চর্চা করেন খ্রিষ্টীয় মেডিটেশন। স্রষ্টার মহিমা ও বাণী নিয়ে বিশেষ প্রার্থনা। খ্রিষ্টীয় মেডিটেশনের একজন একনিষ্ঠ প্রবক্তা সেইন্ট পিয়েত্রিলসিনা। তিনি বলেন, বাইবেল পড়ে একজন মানুষ স্রষ্টাকে খোঁজে, আর মেডিটেশনের মধ্য দিয়ে সে স্রষ্টাকে পায়।

ইসলাম ধর্মে ধ্যান

ইসলামে ধ্যান বা মেডিটেশনকে একটি উচ্চস্তরের ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের বহু জায়গায় সরাসরি ধ্যান বা মেডিটেশনের কথা বলা হয়েছে। কোরআনে যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হচ্ছে তাফাক্কুর। এর অর্থ হচ্ছে কনটেমপ্লেশন, মেডিটেশন বা ধ্যান। 

আল কোরআনের সূরা আনআমে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! ওদের জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি কখনো সমান হতে পারে? তোমরা কি এরপরও (কোরআনের শিক্ষা অনুধাবনে) গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হবে না (বা তোমাদের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে না)?’ (আনআম: ৫০ )

সূরা সাদে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আমি তোমার ওপর এই কল্যাণময় কিতাব নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এই কোরআনের বাণী নিয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়! (সেইসঙ্গে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে) এর শিক্ষা অনুসরণ করে।’

একইভাবে সূরা মুহাম্মদের ২২, ২৩, ২৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন, (হে নবী! ওদের জিজ্ঞেস করো) তোমরা যদি (আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে পুরনো ধ্যানধারণায়) ফিরে যাও, তবে কি তোমরা দুনিয়ার বুকে পুনরায় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে? বন্ধন ছিন্ন করে পরস্পর বিবাদ-বিসংবাদে লিপ্ত হবে? এদেরকেই আল্লাহ তার রহমত থেকে বঞ্চিত করেন, (সত্যের ব্যাপারে) বধির ও অন্ধ করেন। এরপরও কি ওরা কোরআন নিয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে তা অন্তরে ধারণ করবে না? নাকি মনের দরজা বন্ধই করে রাখবে?

বিজ্ঞানের চোখে ধ্যান বা মেডিটেশন 

মেডিটেশন হচ্ছে বিজ্ঞান। এটা অলৌকিক কিছু নয় বা নয় কোনো আশ্রম, খানকা বা শ্রেণি সম্প্রদায়ের বিষয়। বরং মেডিটেশন হলো এক সার্বজনীন কল্যাণ প্রক্রিয়া। মেডিটেশন চর্চা করে নারী-পুরুষ, কিশোর-বৃদ্ধ, পাপী-পুণ্যাত্মা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ শারীরিক মানসিক সামাজিক ও আত্মিক কল্যাণ লাভ করতে পারেন। গত ৬০ বছরের অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্য দিয়ে এটা এখন এক প্রমাণিত সত্য।

‘এভরিবডি সে ওম’

নিউসায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনে ৮ জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যায় মেডিটেশনের ওপর একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘এভরিবডি সে ওম’ শিরোনামের এ প্রচ্ছদ নিবন্ধে মেডিটেশন নিয়ে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ব্যাপক গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। নিবন্ধে বলা হয় — মেডিটেশন শুধু সাধকদের জন্যে নয় বা এ থেকে উপকার লাভের জন্যে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। যে কেউ মেডিটেশন করে উপকৃত হতে পারে। মেডিটেশনে সময় ব্যয় করা হচ্ছে ফলপ্রসূ সময় ব্যয়।

আপনি যে-ই হোন বা যেখানেই থাকুন, মেডিটেশন থেকে উপকৃত হবেনই

এসব গবেষণার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সত্যটি বেরিয়ে এসেছে তা হলো, আপনি যে-ই হোন বা যেখানেই থাকুন, মেডিটেশন থেকে আপনি উপকৃত হবেনই। আপনাকে এজন্যে মেডিটেশনে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না, দিনে পাঁচ ঘণ্টা করে অনুশীলন করতে হবে না, ঘরবাড়ি ছেড়ে জঙ্গলেও যেতে হবে না।

মেডিটেশনের ব্যথানিরোধক ক্ষমতার ওপর মনোবিজ্ঞানী ফিদেল জাইদানের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২০ মিনিট করে মাত্র তিন দিন অনুশীলন করেই উপকার পেতে শুরু করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তার দ্বিতীয় গবেষণায়ও দেখা গেছে, অল্পসময়ের জন্যে একটুখানি মেডিটেশন করেই বেড়ে গেছে তাদের মনোযোগের ক্ষমতা, বেড়েছে বড় বড় সংখ্যা মনে রাখা ও বলতে পারার দক্ষতা। তার এই গবেষণালব্ধ তথ্য বেরিয়েছে কনশাসনেস এন্ড কগনিশন জার্নালে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হচ্ছে মেডিটেশন

মেডিটেশন বা আত্ম উন্নয়নমূলক ধ্যানের ব্যাপারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে এক কোটি মানুষ নিয়মিত মেডিটেশন করছেন যা নব্বই দশকের দ্বিগুণ। মেডিটেশন এখন তাদের স্মার্টনেসের একটি অংশ। মেডিটেশনে অবিশ্বাসীরা পরিণত হচ্ছেন সংখ্যালঘুতে।

ডাক্তাররা এখন মেডিটেশনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইদানীং প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে মেডিটেশন কাজ করে। আমেরিকার অধিকাংশ ডাক্তারই এখন রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা বা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্যে মেডিটেশনকে সহায়ক ভাবছেন। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা উপশম, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ, উচ্চরক্তচাপ কমিয়ে আনা, চর্মরোগ, ক্যান্সার কিংবা বন্ধ্যাত্ব মোকাবেলায় মেডিটেশনের সাহায্য নিচ্ছেন।

হতাশা, অমনোযোগ, অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ এসব মানসিক সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী ডাক্তারের কাছে আসেন। বিশেষজ্ঞরা তাদের সুস্থতার জন্যে এখন মেডিটেশনকেই সফল ওষুধ হিসেবে মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: কোয়ান্টামমেথড ডট ওআরজি ডট বিডি (quantummethod.org.bd)