২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ রোধ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত হাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। এখন পর্যন্ত তা চালু না হওয়ায় বিপাকে আছেন হাটের ব্যবসায়ীরা। ঠিক কখন চালু হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না হাটসংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে যে বকেয়া পাওনা আছে, তাও আদায় করতে পারছেন না তারা। দেশের অন্য সীমান্ত হাটগুলো চালু হলেও কসবা সীমান্ত হাট না খোলায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের বাইরের এলাকার ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা হাটের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না। তাই হাটটি চালু করার ব্যাপারে খুব একটা মাথাব্যথা নেই হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির।
খবরের কাগজের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এবং অর্থায়নে সীমান্ত হাট চালু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তারাপুর সীমান্ত এবং ভারতের সিপাহীজলা জেলার কমলাসাগর সীমান্তে ২০১৫ সালের জুনে যাত্রা শুরু হয় সীমান্ত হাটের। বাংলাদেশ অংশে এটি কসবা সীমান্ত হাট নামে পরিচিত। হাটে বাংলাদেশ ও ভারতের ৫০টি করে মোট ১০০টি দোকান রয়েছে। হাটটি মূলত সীমান্তের বাসিন্দাদের জন্য হলেও বাইরের ক্রেতারাই এখানে বেশি আসতেন। তাদের অনেকেই ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতীয় পণ্য কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনা মহামারি দেখা দিলে ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে সীমান্ত হাটের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দুই দেশের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ২৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকার বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়েছিল। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার এবং ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশি পণ্য কেনাবেচা হয়েছে ২০ লাখ ৭৭ হাজার টাকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সময় ভারতীয় পণ্য দ্বিগুণেরও বেশি বেচাকেনা হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দোকানঘরের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি সেগুলো সংস্কার করে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি। ব্যবসায়ীরা হাটটি চালু না হওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। এ জন্য অনেকেই চরম অর্থকষ্টে রয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করে বলছেন, এ বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও হাট খুলে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ দেশের অন্য সীমান্ত হাটগুলো চালু করে দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। দীর্ঘদিন হাট বন্ধ থাকায় অনেক ব্যবসায়ী অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করতেও বাধ্য হয়েছেন। হাটটি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য হলেও সব সময়ই ভারতীয় দোকানগুলোতে বাইরের ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ফলে প্রায় পাঁচ বছর হাট চললেও এর সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারেননি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। হাটে দুই দেশের বাণিজ্যে সমতা না থাকার প্রধান কারণ হলো, সীমান্ত এলাকার বাইরের বাসিন্দাদের হাটে অবাধে প্রবেশ এবং প্রচুর ভারতীয় পণ্য কেনা।
সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি (বাংলাদেশ অংশ) জেসমিন সুলতানা খবরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘদিন হাট বন্ধ থাকায় অবকাঠামোগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেগুলোর সংস্কারকাজ এখনো চলছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর হাটটি খোলার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ হাটটি খুলে দেওয়া হবে, সেটি স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে সমতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবে। সীমান্তের বাইরের এলাকার ক্রেতাদের হাটে অবাধে প্রবেশের বিষয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। দুই দেশের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা নিরসন করে বাণিজ্যে সমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বন্ধ সীমান্ত হাট সচল হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন, সেই সঙ্গে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।