ঢাকা ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু কুমিরের হামলায় নিহত শিশু ফাতেমার মা  ফিরলেন পরিবারের কাছে নিখোঁজের ৪ দিন পর বিলে মিলল যুবদলকর্মীর মরদেহ, আটক ৫ দুর্নীতি ঠেকাতে বন্দরকে ডিজিটালাইজড করা হবে: অর্থমন্ত্রী চাঁদপুরে গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস রংপুরের জনজীবন থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল মোরেলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩, বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
Nagad desktop

এআই ক্যামেরা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল ব্যর্থ করে দিল পুলিশ

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
এআই ক্যামেরা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল ব্যর্থ করে দিল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচল করছিলেন লাবলু হক (৩৮) নামের সেই যুবককে ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই যুবকের মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের একটি ছবি ভাইরাল হয়। পরে ছড়িয়ে পড়া এআই ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহের তদন্ত শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। পরে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালায়।

পুলিশ জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ স্পষ্টভাভে দেখা যাচ্ছিল না। এর ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তদন্তে শনাক্ত হওয়া লাবলু হক পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হক ও মা আনোয়ারা বেগম। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপ-কমিশনার রাকিব হোসেন তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটি সপ্তাহখানেক আগে নজরে এলেও ভাইরাল হওয়া ছবিটি কোথাকার এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রাখা হয়েছিল, তাই সম্ভাব্য বিভিন্ন নম্বরের সমন্বয় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়।

তিনি বলেন, এর ফলে অনেকটা অনুমানের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় ছবিটি তোলা হয়েছিল।

রিফাত/

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জলবায়ু সংকট সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, দাবদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জৈববৈচিত্রের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে খুবই সামান্য অবদান রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ এর মধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।’

কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য “ক্লাইমেট অ্যাকশন” বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছে।’

বাণীতে তিনি সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসএন/

৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে এক দিনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এই নোটিশে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে- অর্থাৎ আগামী ৭ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে হাসপাতালটির মালিক চিকিৎসক শেখ মহিউদ্দিনকে সশরীরে অথবা লিখিতভাবে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে ১ জুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত চলাকালে কমিটি হাসপাতালের মহাপরিচালক, সহকারী পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধান, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) কর্মরত চিকিৎসক, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত সেবিকা, আয়া এবং রোগী ও রোগীর সহায়তাকারীসহ মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল পরিচালনায় ১৯৮২ সালের চিকিৎসা চর্চা এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও গবেষণাগার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। এই নিয়মের চরম অবহেলার কারণেই ওই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালটি ওই অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় ধারা মোতাবেক কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে শেষ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

জয়ন্ত/সালমান/

প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের বোঝা না ভেবে সঠিক সুযোগ ও পরিবেশের মাধ্যমে দেশের মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক’ এক অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান। ‘ইআরইডিএমসিএম’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার।

সভায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারকরণ এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের যৌথ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুক্তাগাছা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মকর্তা হাছিনা জামানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুল আমীন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিনিধিরা। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, ‘আমরাই পারি’ জোটের প্রতিনিধি, যুব নেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এতে অংশ নেন।

হাছিনা জামান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারাও দেশের মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। তাদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং যুব গ্রুপের সদস্যরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশলগত দিক তুলে ধরেন।

সভার শেষ পর্যায়ে ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের সমন্বয়কারী ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং অধিকার বাস্তবায়নে এই প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে এই ধরনের জনকল্যাণমুখী ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদের মর্যাদা কেবল তার সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল। একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনসম্পৃক্ত সংসদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই জনগণের সেই আস্থা অর্জন সম্ভব।’ ফলে জনগণের আস্থা অর্জন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সংসদীয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ পরিচালিত হয় সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অপরিহার্য।’ 

তিনি বলেন, ‘কার্যপ্রণালি-বিধি শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইন প্রণয়ন, নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা-সংসদের প্রধান তিনটি দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব সফলভাবে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ও দক্ষ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি দল ও বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর হয়ে ওঠে। সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব।’

সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিটিক্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসআইপিএস)’ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে স্পিকার বলেন, ‘এ উদ্যোগ সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘শেখার কোনো বয়স নেই, দোলনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের শেখার সুযোগ থাকে।’ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিকে তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। কার্যপ্রণালি-বিধি, সংবিধান এবং সংসদীয় রেওয়াজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সুশাসনভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সংসদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

দুই দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির দ্বিতীয় গ্রুপে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা অংশ নেন।

এলিস/সালমান/

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসি বন্ধ থাকা এবং চরম অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমার আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করে দেওয়া যায় না।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বরত নার্স ও স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ ও অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হাসপাতালটির যে পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ইতোমধ্যে সিলগালা করে দিয়েছি। তবে পুরো হাসপাতালে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং রোববারের মধ্যে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

হাসপাতালগুলোর লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সচিব, মহাপরিচালক (ডিজি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে যেভাবে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, তাতে ভবিষ্যতে কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এভাবে বদ্ধ ঘরে রোগী বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না বলে আমার বিশ্বাস।’

তিনি আরও জানান, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে কেবল পেশাগত অবহেলা নাকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা শিশুদের মরদেহ নিয়ে গেছেন, যা আসামিপক্ষ আইনি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি রাতের আঁধারে সংঘটিত কোনো গোপন ঘটনা নয়; এটি শতভাগ প্রমাণিত সত্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কোনো ছাড় দেবেন না।’

তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। ৯০০ বর্গফুট আয়তনের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভার্চুয়াল সভা (জুম মিটিং) করছি। আমাদের নির্দেশনা ও তদারকি দিন দিন আরও কঠোর হবে, যার বাস্তব প্রতিফলন আপনারা খুব শিগগিরই মাঠপর্যায়ে দেখতে পাবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অমিয়/