ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

আ.লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে : রিজভী

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম
আ.লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে : রিজভী
নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতার নিরাপত্তা নেই।’ 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

‘বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতিকে সহ্য করতে পারে না’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তার বক্তব্য দূরভিসন্ধিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক। তিনি তলে তলে প্রভুদের খুশি করতে চাইছেন। আপনি কোন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন? বিএনপি এক হাজার ইফতার পার্টি করতেই পারে। গরিব-দুঃখীদের নিয়ে ইফতার করেছে। কিন্তু ভারত থেকে নায়ক-নায়িকা নিয়ে এসে পার্টি করেন, ওখানে টাকা খরচ হয় না?’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে বিএনপি জড়িত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র কিন্তু আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা কেউ ভালো নেই।’

সব জায়গায় আজ লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘চালের দাম কমানোর কথা বলে সরকার দাম আরও বাড়িয়েছে। সরকারের লোকজন সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সিন্ডিকেন্ডের কারণে ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। ব্যাংক একত্রীকরণের নামে লুট হওয়া ব্যাংকগুলোকে আরও দেউলিয়া করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’ 

রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার ঈদে কেনাকাটা অনেক কম হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদ সাধারণ মানুষদের আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়েছে।’

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ওমর ফারুক কায়সার প্রমুখ।

শফিকুল/সালমান/

সাত উপজেলার একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটের মাঠে চা-শ্রমিক সন্তান গীতার লড়াই

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:৫৪ এএম
ভোটের মাঠে চা-শ্রমিক সন্তান গীতার লড়াই
ছবি : খবরের কাগজ

দারিদ্র্যসহ নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পিছিয়ে থাকা চা জনগোষ্ঠীর সন্তান গীতা রানী কানু। আগামী ২৯ মে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী গীতা রানী কানু গত ১৩ মে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক পেয়ে এখন নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত। 

শুক্রবার (২৪ মে) কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী গীতা রানী কানু চা-বাগান এলাকা ও গ্রামগঞ্জে হাতে মাইক নিয়ে তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। নারী চা-শ্রমিকদের তিনি বলেছেন, ‘বিগত কয়েক বছর চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে তাদের পাশে ছিলেন। এখন চা-শ্রমিকরা ভোট দিয়ে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে উপজেলা পরিষদ থেকে চা-শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারবেন।’

জানা গেছে, তিনি গত চতুর্থ কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। তবে নির্বাচিত হতে পারেননি। তবে কমলগঞ্জে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। তারপর থেকেই চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে মাঠে থেকে গীতা ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। চা-শ্রমিকদের জন্য কিছু করার তাগিদ বোধ করেন। এখন তিনি বাংলাদেশ চা-শ্রমিক নারী ফোরামের আহ্বায়ক, চা জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন পরিষদের সদস্যসচিব এবং চা-শ্রমিক মহাসংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

গীতা জানান, তিনি দরিদ্র চা-শ্রমিককন্যা। তার সম্পদ ও টাকা পয়সা নেই। ভোটে প্রার্থী হওয়ার মতো সাহস অর্জন করতে অনেকটা কষ্টের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। উপজেলার চা-বাগান কুরমাতে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাড়ির কাছে ইসলামপুর পিএনপি হাইস্কুলে তিনি পড়ালেখা করেছেন। বাবার মুদি দোকান ছিল, পাশাপাশি ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক। মা ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।

তিনি আরও জানান, তাকে পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহায়তা করে মনোনয়ন ফি, প্রচারের লিফলেট, মাইকিং খরচ দিচ্ছেন। সঙ্গে নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে প্রচার চালানোর খরচ নেই তার। তাই একাই প্রার্থী একই প্রচার চালাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগান, গ্রামগঞ্জে মানুষের কাছে যান। কখনো হেঁটে, কখনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়ান।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন আমাদের জন্য ভোট উৎসব না। এক কঠিন পরিবর্তনের জন্য নীরব লড়াই। আমার কপাল অনেক ভালো যে, আমি কিছু মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছি।’

কমলগঞ্জ উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. রফিকুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের ছোট ভাই মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। কমলগঞ্জে মোট ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭ জন।

মোংলায় আ.লীগের বিরুদ্ধে আ.লীগ, তিন ভাগে বিভক্ত নেতা-কর্মীরা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:২১ এএম
মোংলায় আ.লীগের বিরুদ্ধে আ.লীগ, তিন ভাগে বিভক্ত নেতা-কর্মীরা
আবু তাহের, ইব্রাহীম হোসেন, ইকবাল হোসেন

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মোংলায় আওয়ামী লীগে কোন্দলের সৃষ্ট হয়। এ কোন্দল শেষ না হতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে ত্রিমুখী অবস্থানে রয়েছে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ। এতে করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ কর্মীরা যেমন বিভ্রান্তিতে পড়ছেন, সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তারা বিভক্ত হয়ে পড়ছেন তিন ভাগে। পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। নির্বাচনি প্রচার, জনসংযোগ, মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠকে তুমুল ব্যস্ত প্রার্থীরা। বিএনপি নির্বাচনে না আসায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরই নেতা-কর্মীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনজনই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় বিভেদ চরম আকার ধারণ করছে। 

নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ক্ষমতাসীন দলের তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। আর তাদের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর ফলে এ উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী ইজারাদার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব এখনো চলমান। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বর্তমান উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন।

সব মিলিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের এই বিভেদ থেকে বিরোধী দলগুলো ফায়দা নেবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (দোয়াত-কলম প্রতীক) ইব্রাহীম হোসেনের পক্ষে সরাসরি প্রচার চালাচ্ছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শেখ আ. রহমান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল হাওলাদারসহ অন্য নেতারা। এ ছাড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (আনারস প্রতীক) ইকবাল হোসেনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী ইজারাদার, পৌর যুবলীগের সভাপতি ও পৌর প্যানেল মেয়র কবির হোসেন, সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার, পৌর আটজন কাউন্সিলরসহ অনেকে।

তবে বর্তমান চেয়ারম্যান (চিংড়ি প্রতীক) আবু তাহের হাওলাদারের নির্বাচনি প্রচারে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য কাউকে দেখা না গেলেও অনেক নেতা-কর্মী তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের এক কর্মী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনজনই হ্যাভিওয়েট প্রার্থী। স্বাভাবিকভাবে একজনের পক্ষে গেলে আরেকজন ক্ষুব্ধ হবেন। এমন অবস্থায় আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। আমরা তৃণমূলের রাজনীতি করি পদ-পদবির আশায়। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতারা প্রার্থী হওয়ার কারণে তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নিলে আস্থাভাজন না হওয়ার অপরাধে ভবিষ্যতে পদ না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের মাঝেও বিভেদ তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে মোংলা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শেখ আ. রহমান বলেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়নি। অন্য দল নির্বাচনে না থাকায় আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার ও প্রচারণায় কাজ করছেন। এতে তাদের মধ্যে এক ধরনের বিভেদ তৈরি হয়েছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় কিছুটা বিরোধ তৈরি হয়েছে সত্যি। তবে নির্বাচনের পর তা আর থাকবে না বলে আশা করি।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, ‘এটি দলীয় নির্বাচন নয়, তাই দল কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। নির্বাচনি আচরণবিধিতে সংসদ সদস্যদের কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমিও কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিইনি। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই নির্বাচিত করবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রশ্নে নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্রনিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন তৃতীয় ধাপে আগামী ২৯ মে মোংলা উপজেলায় ব্যালটে ভোট হতে যাচ্ছে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যদি কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে।

প্রতিবাদের ভাষায় শৈল্পিক নৈপুণ্য দিয়ে গেছেন নজরুল: রিজভী

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৪৫ এএম
প্রতিবাদের ভাষায় শৈল্পিক নৈপুণ্য দিয়ে গেছেন নজরুল: রিজভী
ছবি : খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার প্রতিবাদের ভাষায় শৈল্পিক নৈপুণ্য দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, দেশ এখন স্বৈরতন্ত্রের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে আছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি ক্ষণ কবি নজরুলের লেখনী উদ্বুদ্ধ করছে প্রতিবাদের জন্য।

শনিবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন৷

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নজরুলের বিপ্লবের গান, বিদ্রোহর গান আমাদের প্রাণিত করেছে, আজও উদ্বুদ্ধ করে। আজও আমরা গণতন্ত্রহারা, অধিকারহারা এক ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্রের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এই পরিস্থিতির প্রতিটি ক্ষণ নজরুল আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে প্রতিবাদের জন্য। যে প্রতিবাদের ভাষায় তিনি শৈল্পিক নৈপুণ্য দিয়ে গেছেন। প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি ক্ষণে তার কবিতা, গান এবং তার সমস্ত সাহিত্য সৃষ্টি আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে শত নিপীড়ন নির্যাতন ভোগ করে আজকের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করতে, এগিয়ে যেতে।’ 

গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে বিএনপি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিবাদের ভাষা রপ্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী৷ 

তিনি বলেন, ‘সেই প্রতিবাদের ভাষা আমরা রপ্ত করে আমরা গণতন্ত্র ফেরানো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের যে লড়াই আমরা অব্যাহত রাখছি। আমরা যখন কারাগারে যাই, যখন আমাদের বিচার হয় তখন আমরা নজরুলকে স্মরণ করি। কারণ আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি বলেই আমাদের সাজা দিচ্ছে, কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

গণতন্ত্র, রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফেরাতে বিএনপিকে কবি নজরুলের লেখনী প্রেরণা যুগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নজরুল সবসময়ই প্রাসঙ্গিক, তিনি আজও আমাদের উদ্বুদ্ধ করছেন, অনুপ্রাণিত করছেন। আমরা আশা করব, আমরা তার পথ ধরেই এদেশে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ কথা বলার স্বাধীনতা সবকিছু নিশ্চিত করতে পারব। সেই জায়গায় প্রবল প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে নজরুল ইসলাম।’

জয়ন্ত সাহা/অমিয়/

রাইসির মৃত্যুতে শোক বইয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:৪৩ এএম
রাইসির মৃত্যুতে শোক বইয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষর
ছবি : সংগৃহীত

বিমান দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুতে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে শোক বইতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় ইরানি দূতাবাসে গিয়ে তিনি শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভোশি এর সঙ্গে কথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী। নিজের ও দলের পক্ষ থেকে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। 

সবুজ/এমএ/

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসতে হবে: জামায়াতে আমীর

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:১১ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসতে হবে: জামায়াতে আমীর
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রকৌশলী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে নীতি নির্ধারক হিসাবে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশের নৈতিক শিক্ষার চরম অভাবের কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার বাজেট পাস হলেও তা যথাযথভাবে বাস্তাবায়ন হচ্ছে না। উন্নয়ন বাজেটের অর্থ তারা লুটপাট করে বিদেশে বাড়ি গাড়ির মালিক হচ্ছে। আর এই আত্মসাতে সহযোগী হচ্ছে কতিপয় বিপথগামী প্রকৌশলী যারা নৈতিকভাবে অসৎ।

শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল ও জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে আমীর বলেন, দুর্নীতি দেশের মানুষের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। পদে পদে দুর্নীতি থাকায় দেশের মানুষ উন্নয়ের সুফল পাচ্ছে না। উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুর্নীতি। অবৈধ সম্পদের মোহই মানুষকে চরমমাত্রায় নৈতিকভাবে পতন ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন না মানার কারণে দেশে চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে গেছে দুর্নীতি। এই অবস্থায় প্রচলিত আইনের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অথিতির বক্তব্যে ফোরামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘুষ ছাড়া অফিস-আদালতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ইউনিয়ন পরিষদের দারোয়ান থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত দুর্নীতি চরমমাত্রায় পৌঁছেছে। কিছু ভোগবাদী লোক জনগণের চিন্তা না করে নিজেদের ভোগ-বিলাসী জীবনের কারণে দেশ শত শত বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের মুখরোচক গল্প মানুষকে শুনালেও অর্থনীতিতে অন্তসারশূন্য দেশ আজ। সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার, হলমার্ক দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি দেশকে আজ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। তিনি আলোকিত সমাজ গঠনে প্রকৌশলীদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান।

কাউন্সিল অধিবেশনে ২০২৪-২৬ কার্যকালের জন্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হন প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি গিয়াস উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জয়নুল আবেদীনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার শাহ, মির্জা মিজানুর রহমান, তৈয়বুর রহমান জাহাঙ্গীর, মোশাররফ হোসেন, সহ-সম্পাদক আব্দুল বাতেন, হোসাইন বিন মানসুর, আবুল হাসেম, আবু মেহেদী, মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সামাদ সরদারসহ দেশের শতাধিক দায়িত্বশীল প্রকৌশলীবৃন্দ।

শফিক/এমএ/