‘মানবাধিকার’ শব্দটি শুনলেই ভেসে ওঠে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতিচ্ছবি। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ প্রণীত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের মূল লক্ষ্য ছিল প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু সাত দশক পরও প্রশ্ন রয়ে গেছে যে, এই আইন কি সত্যিই মানবতার রক্ষক, নাকি ক্ষমতার খেলায় এক মুখোশ?
বিশ্বজুড়ে চলমান অন্যায়, দমন ও গণহত্যা আজ সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে। ফিলিস্তিনে শিশুদের মৃত্যু, ইউক্রেনের ধ্বংসস্তূপ, ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবন কিংবা সাম্প্রতিক সুদানের গৃহযুদ্ধ- যেখানে হাজারো নিরীহ প্রাণ হারিয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, সবই প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক আইন আজ নীরব দর্শক। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালত শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বার্থে বন্দি; যেখানে ভেটো ক্ষমতা মানবতার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়। দুর্বল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কঠোরতা, আর ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে নীরবতা- এই দ্বিচারিতা মানবাধিকারকে করেছে নিছক কাগজের দলিল। মানবাধিকার আইন আজ ন্যায়ের নয়, রাজনীতির হাতিয়ার। যখন আইনের চোখ ক্ষমতাধরদের অপরাধ দেখতে পায় না, তখন সেটি অন্ধই বলা চলে। মানবতার ন্যায়বিচার তখন শুধুই বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকে। যতদিন আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রের স্বার্থ নয়, মানুষের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার না দেবে, ততদিন পৃথিবীজুড়ে মানবতা আইনের চোখে অন্ধই থেকে যাবে।
তাকবির জাহান
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]