কখনো কারও এমন হয় যে, সাহরির সময় ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। সুবহে সাকিদের পর মনে হলে দ্বিধায় পড়ে যান এই ভেবে যে, রোজা রাখবেন কি না। সাহরি না খেয়ে রোজা রাখলে আল্লাহতায়ালার কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না সংশয়ে পড়ে যান। সাহরি না খেলে রোজা হবে কি না, চলুন সঠিক মাসয়ালাটি জেনে নিই—
রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে পানাহার করাকে সাহরি বলা হয়। সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হবে। এটি সুন্নত হলেও প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।‘ (বুখারি, হাদিস: ১৮০১)
আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা আর আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া আর না খাওয়া।’ (মুসলিম, হাদিস: ১০৯৬)
সাহরিতে আছে বরকত। যারা সাহরি খায়, তাদের প্রতি আল্লাহতায়ালা রহমত নাজিল করেন। ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘সাহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি করো। কারণ যারা সাহরি খায়, আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৩৪৭৬)
সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সকল নবিকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সাহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, ২/৫২৬)
রোজার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। সাহরি খাওয়া রোজার জন্য শর্ত নয়। তাই সাহরি না খেলেও রোজা হয়ে যাবে।
লেখক: শাইখুল হাদিস, সিরাজনগর মাদরাসা নরসিংদী; সদস্য, তানযীম ফতোয়া বোর্ড নরসিংদী