ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

প্রতিদিন সুরা নাস কেন পাঠ করবেন?

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
প্রতিদিন সুরা নাস কেন পাঠ করবেন?
ক্যালিগ্রাফিতে সুরা নাস। ছবি: ইন্টারনেট

সুরা নাস পবিত্র কোরআনের সর্বশেষ সুরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ৬, শব্দ সংখ্যা ২০ এবং মোট অক্ষর ৮০টি। এ সুরাটি মানুষের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য আল্লাহর বিশেষ দান। করুণাময় আল্লাহ এই সুরায় আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে তাঁর কাছে নিরাপত্তা চাইতে হয়। কীভাবে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। 

অমূল্য রক্ষাকবচ সুরা নাস
সুরা নাস মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অমূল্য রক্ষাকবচ। নিয়মিত এই সুরা পাঠের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর হেফাজতে থাকতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার পড়বে, সে বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮২)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত একসঙ্গে মিলাতেন। তার পর উভয় হাতে ফুঁক দিতেন এবং সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়তেন। তার পর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি তিনবার এমন করতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)। এ ছাড়া তিনি অসুস্থ হলে সুরা ফালাক ও নাস পড়তেন। (মুসলিম, হাদিস: ২১৮১)

আরও পড়ুন: যে তিন কাজে দেরি করতে নিষেধ করেছেন নবিজি (সা.)

জাদু ও কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তির সুরা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন আমি জাদু আক্রান্ত হয়েছিলাম, তখন আমি সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়তাম। এগুলো শয়তান এবং কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য সহায়ক।’ (মুসলিম, হাদিস: ২১৮১)
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ফরজ নামাজের পরে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়বে, আল্লাহ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১০১০)

উপরোক্ত হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সারা দিনের নিরাপত্তায় তিন সময়ে ‘তিন কুল’ পড়ার কথা হাদিসে এসেছে। তিন কুল হলো—

  • সুরা ইখলাস।
  • সুরা ফালাক।
  • সুরা নাস।

আর তিন সময় হলো—

  • ফজর ও মাগরিবের পর তিনবার করে।
  • জোহর, আসর ও ইশার পর একবার করে।
  • রাতে শোয়ার আগে বিছানায় তিন কুল তিনবার করে পাঠ করে হাতে ফুঁক দিয়ে হাত সারা শরীরে মুছবে। 

এ ছাড়াও অসুস্থ অবস্থায় বা বিপদের সময়ও এর আমল করা যেতে পারে। (বুখারি, হাদিস: ৫০১৭; আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৩, তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৫)। ভয়, উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করলে সুরা নাস পড়া উচিত। কেননা এটি মানুষের মনে শক্তি ও সাহস জোগায় এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা বাড়ায়। 

লেখক: খতিব, বাগবাড়ি জামে মসজিদ, গাবতলী  

যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন?

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন?
আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। ছবি: সংগৃহীত

যান্ত্রিক এই জীবনে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ক্যারিয়ার, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ, সবকিছু নিয়ে এক অদৃশ্য অস্থিরতা আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, ইসলামে এমন এক জাদুকরি দাওয়াই রয়েছে, যা নিমেষেই সব মানসিক চাপ দূর করে দিতে পারে? সেটি হলোতাওয়াক্কুলবা আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখা। এটি কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং মানসিক শান্তি সফলতার চাবিকাঠি। আল্লাহর ওপর খাঁটি মনে ভরসা রাখলে জীবনে যে ৬টি অভাবনীয় পরিবর্তন আসে, চলুন জেনে নেওয়া যাক:

যখন আপনি কোনো কাজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেবেন, তখন স্বয়ং আল্লাহ আপনার অভিভাবক হয়ে যান। পবিত্র কোরআনের সুরা তালাকের ঘোষণাই এটি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার সব সমস্যার সমাধানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তাওয়াক্কুল মানুষের মন থেকে সব ভয় দূর করে দেয়। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, শত্রুর বিশাল বাহিনীর সামনেও মুমিনরা বুক টান করে দাঁড়িয়েছেন কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করে। বিপদের মুখে যারা বলে ওঠেনহাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট), আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।

পরকালের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো বিনা হিসেবে জান্নাত লাভ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, উম্মতের মধ্যে এমন ৭০ হাজার সৌভাগ্যবান মানুষ থাকবেন, যারা কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে যাবেন। এই দলটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে, তারা জীবনের প্রতিটি মোড়ে কেবল তাদের রবের ওপরই ভরসা রাখতেন।

আমরা অনেকেই জীবিকা নিয়ে সারাক্ষণ উদ্বেগে থাকি। অথচ আল্লাহর ওপর সঠিক উপায়ে ভরসা করলে রিজিকের অভাব দূর হয় চমৎকারভাবে। প্রিয় রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা যদি পাখির মতো আল্লাহর ওপর ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদেরও ক্ষুধার্ত অবস্থায় সকালে বের করে ভরপেটে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরাতেন।

নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাওয়াক্কুল। যেমনটি হযরত ইয়াকুব (.) তাঁর সন্তানদের বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে সফরে পাঠিয়েছিলেন এবং তারা নিরাপদে ফিরে এসেছিল। মহান আল্লাহর জিম্মায় কোনো কিছু সঁপে দিলে তার চেয়ে নিরাপদ আর কিছু হতে পারে না।

শয়তান সবসময় মানুষকে হতাশ পথভ্রষ্ট করার ফন্দি আঁটে। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এমনকি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর নাম ভরসার দোয়া পড়লে শয়তান সেই মানুষটি থেকে দূরে সরে যায়।

তাওয়াক্কুল মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং নিজের সেরা চেষ্টাটুকু করার পর ফলাফলের জন্য আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। আজ থেকেই আমাদের চিন্তাভাবনা কর্মে এই মহৎ গুণটি নিয়ে আসি, দেখবেন জীবন কতটা সহজ আর শান্তিময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে ছায়াতেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল তৃপ্তি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
যে ছায়াতেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল তৃপ্তি
মায়ের দোয়াই হোক দুনিয়া ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সম্বল।ছবি: সংগৃহীত

বৃদ্ধা মায়ের লাশ ঘরে পড়ে আছে, পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অথচ বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকা সন্তানের কোনো খবর নেই—সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বুকে ঘটে যাওয়া এমন এক হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। যে মা নিজের রক্ত পানি করে সন্তানকে মানুষ করলেন, ক্যারিয়ার আর আধুনিকতার অন্ধ মোহে আজ সেই মা-ই অবহেলিত। অথচ ইসলাম বলে, মায়ের সেবার মধ্যেই লুকিয়ে আছে দুনিয়ার সম্মান ও আখেরাতের মুক্তি।

মা মহান আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত। ইসলামে মায়ের মর্যাদা এতটাই ঊর্ধ্বে যে, পবিত্র কুরআনে আল্লাহর ইবাদতের পরেই মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, বার্ধক্যে তারা যখন দুর্বল হয়ে পড়েন, তখন তাদের 'উফ' শব্দটুকুও বলা যাবে না, বরং তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক কথা বলতে হবে।

মায়ের কষ্টের গভীরতা বোঝাতে সূরা লুকমানে বলা হয়েছে, মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। এই ত্যাগের কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবির প্রশ্নের জবাবে পর পর তিনবার মায়ের প্রতি উত্তম আচরণের তাগিদ দিয়েছেন, আর চতুর্থবারে বাবার কথা বলেছেন (সহিহ বুখারি)।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাতৃসেবা মানুষকে কতটা সম্মানিত করতে পারে। আল্লাহর রাসুলের যুগে থেকেও শুধু পঙ্গু মায়ের সেবার কারণে মদিনায় আসতে পারেননি উওয়াইস আল-কারনি (রহ.)। কিন্তু এই একটি গুণের কারণে রাসুল (সা.) স্বয়ং ওমর (রা.)-এর মতো মহান সাহাবিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উওয়াইসের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিতে।

আরো পড়ুন: বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১০৪ বছর বয়সের যে নারী?

আজকের ব্যস্ত ও স্বার্থপর সমাজে আমরা সাফল্যের পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভুলে যাচ্ছি আসল সাফল্যের চাবিকাঠি, যা হলো মায়ের পদতলে জান্নাত। মাকে কষ্ট দেওয়া বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়, ইসলামে এটি কবিরা গুনাহ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বৃদ্ধ মা-বাবার একাকীত্ব ও অবহেলার যে চিত্র গণমাধ্যমে ভেসে আসছে, তা এক গভীর সামাজিক ব্যাধি।

মায়ের মুখে একটু হাসি ফোটানো, তার পাশে বসে দুটো সুখ-দুঃখের কথা বলা, অসুস্থতায় সেবা করা—এগুলো কোনো দয়া নয়, বরং সন্তানের ওপর ফরজ ইবাদত। যে সন্তান মায়ের মন জয় করতে পারে, আল্লাহ সমাজেও তার সম্মান বাড়িয়ে দেন এবং তার উপার্জনে বরকত দেন। আসুন, ব্যস্ততার অজুহাত দূরে ঠেলে জীবিত থাকতেই মায়ের সর্বোচ্চ খেদমত করি। মায়ের দোয়াই হোক আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সম্বল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

গোটা পৃথিবীই নামাজের জায়গা,তবে মসজিদ কেন প্রয়োজন?

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
গোটা পৃথিবীই নামাজের জায়গা,তবে মসজিদ কেন প্রয়োজন?
‘নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য।’ ছবি: সংগৃহীত

পুরো জমিনই তো উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নামাজের স্থানতাহলে এই আধুনিক যুগে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল অবকাঠামো বা মসজিদ নির্মাণের বাধ্যবাধকতা কতটুকু? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা কিংবা বিভিন্ন আইনি রাজনৈতিক বিতর্কে এই প্রশ্নটি বেশ জোরেসোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকের মনেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের জিজ্ঞাসা। কিন্তু আসলেই কি ইসলামে মসজিদের ভূমিকা শুধু নামাজ পড়ার একটি চার দেয়ালের মাঝেই সীমাবদ্ধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো সামাজিক সভ্যতার দর্শন?

আসুন আবেগ বাদ দিয়ে পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ এবং ইতিহাসের আয়নায় বিষয়টি সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি। সহিহ বুখারি শরিয়ের একটি বিখ্যাত হাদিস আছে, রাসূলুল্লাহ সা.বলেছেন আমার জন্য পুরো জমিনকে সেজদার জায়গা পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।।

অনেকেই এই হাদিসের খণ্ডিত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ভাবেন, যেহেতু যেকোনো পবিত্র জায়গায় নামাজ পড়া যায়, তাই প্রাতিষ্ঠানিক মসজিদের কোনো দরকার নেই। কিন্তু ইসলামের ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্য নির্দিষ্ট উপাসনালয় ছাড়া ইবাদত করার অনুমতি ছিল না। প্রিয় রাসুল (সা.) এই হাদিস দিয়ে উম্মতের জন্য সেই জটিলতা সহজ করে দিয়েছেন, যার অর্থপথচলতি অবস্থায় নামাজের সময় হলে আপনি মাঠ বা ঘাটে নামাজ পড়ে নিতে পারবেন। এর মানে এই নয় যে, স্থায়ী সমাজের জন্য মসজিদের গুরুত্ব ফুরিয়ে গেছে।

আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন, তাঁর প্রথম কাজটি কিন্তু কোনো রাজপ্রাসাদ বানানো ছিল না; তিনি তৈরি করেছিলেনমসজিদে নববি

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

ইসলামী সমাজ কাঠামোতে মসজিদ কেবল নামাজের জায়গা নয়। মদিনার সেই মসজিদটি একাধারে ছিল: রাষ্ট্রের সংসদ ভবন প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রধান আদালত, যেখানে বসে বিচারকার্য বিবাদ মীমাংসা করা হতো। জ্ঞানচর্চার প্রধান বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদি রূপ। আর সামাজিক ঐক্য বর্তমান সময়ের অপরিহার্যতা

আজকের যান্ত্রিক আত্মকেন্দ্রিক সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব বাড়ছে। এই বাস্তবতায় মসজিদ হলো এক অনন্য মিলনমেলা। দৈনিক পাঁচবার ধনী-দরিদ্র, শাসক-শোষিত সব ভেদাভেদ ভুলে যখন মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন যে সামাজিক সংহতি তৈরি হয়, তা অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা জিনের ১৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য।তাই যেখানেই মুসলিম জনবসতি থাকবে, সেখানে সম্মিলিত শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিক প্রশান্তি পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে মসজিদের কোনো বিকল্প নেই।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, মসজিদ কোনো ঐচ্ছিক বা বিলাসী স্থাপনা নয়, এটি ইসলামের রূহ বা প্রাণ। যারা ভাবছেন পুরো পৃথিবী নামাজের জায়গা বলে মসজিদের প্রয়োজন নেই, তারা আসলে ইসলামের সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমাজ কাঠামোতে মসজিদগুলো প্রাণবন্ত সক্রিয় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নৈতিকতা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি টিকে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০০ মিনিট

আসর

৪.৩৫ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৬ মিনিট

 

এশা

৮.১১ মিনিট

 

ফজর (২ জুন)

.৪৫ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ কোরআনে জানালেন বিশেষ ৩ গুণের কথা

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
আল্লাহ কোরআনে জানালেন বিশেষ ৩ গুণের কথা
ছবি: সংগৃহীত

সুরা ফাতিহার শেষে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম–আমাদের সরল পথ দেখাও। সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহতায়ালা সেই দোয়ার উত্তর দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে: এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।আয়াতের শুরুতে জালিকা (সেটি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দূরবর্তী বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অথচ কোরআন আমাদের সামনেই রয়েছে। এখানে দূরবর্তী ইশারা ব্যবহারের রহস্য হলো–এই কিতাবটি আমাদের সেই প্রার্থিত ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা। আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, তোমরা যে হেদায়েত চেয়েছিলে, এই সেই উজ্জ্বল সূর্যসম কিতাব; যার জ্ঞান ও গাম্ভীর্য সাধারণের নাগালের অনেক ঊর্ধ্বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই–এই ঘোষণাটি এক অকাট্য সত্য। কারও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে মনে সংশয় জাগতে পারে, কিন্তু কিতাবের সত্যতায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই।

পবিত্র কোরআন যদিও গোটা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, তবুও আয়াতে বলা হয়েছে এটি ‘মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত’। এর কারণ হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এক স্তর সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু পরকালীন মুক্তি ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের যে উচ্চতর স্তর, তা কেবল তারাই পায় যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। হেদায়েত কেবল তথ্যের নাম নয়, বরং তা আমলের বিষয়। তাই যারা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে (মুত্তাকি), কোরআন তাদের জীবনকেই আমূল বদলে দেয়।

আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের বিশেষ তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের মূল ভিত্তি:

১. অদৃশ্যে বিশ্বাস : আল্লাহ, ফেরেশতা, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম–যা আমরা চর্মচক্ষে দেখি না, কিন্তু আল্লাহর বাণীর ওপর ভিত্তি করে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এটিই ঈমানের আসল পরীক্ষা।

২. নামাজ আদায় করা: কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের নিয়মকানুন ও একাগ্রতা বজায় রেখে তা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।

৩. সৎপথে ব্যয় করা: আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। এটি মানুষের মনে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

যাদের মধ্যে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা হলো: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। অর্থাৎ প্রকৃত সফলতা কেবল জাগতিক অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া পথে অবিচল থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার মধ্যেই নিহিত।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোরআন কেবল পাঠ করার জন্য নয়, বরং এটি একটি জীবনদর্শন। আমরা যদি সুরা ফাতিহার সেই ‘সরল পথ’ খুঁজে পেতে চাই, তবে মুত্তাকিদের এই গুণগুলো নিজেদের চরিত্রে ধারণ করতে হবে। তবেই ইহকাল ও পরকালে আমাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী কামিয়াবি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক