মুমিনের সারা জীবন তার রবের নেয়ামতে ভরপুর। এর মধ্যে একটি অন্যতম নেয়ামত হলো সুস্থতা। এই সুস্থতার মাধ্যমেই মুমিন তার রবের ইবাদত করে, সুখে-দুঃখে আল্লাহকে ডাকে, আলো-আঁধারে আপন রবের শরণাপন্ন হয়, কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সে উপলব্ধি করতে পারে—এই সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া কত বড় নেয়ামত ছিল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেন, পাঁচটি জিনিস আসার পূর্বেই পাঁচটি জিনিসকে কাজে লাগাও—বার্ধক্য আসার পূর্বেই যৌবনকালকে, অসুস্থতার পূর্বেই সুস্থতাকে, দারিদ্র্য আসার পূর্বেই সম্পদকে, ব্যস্ততা আসার পূর্বেই অবসরকে এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনের সময়কে। (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৮৪৬)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে— মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হতে হবে। অনেকেই ভাবেন, এইভাবেই চলতে থাকি, সময় হলে তাওবা করে নেব।’ কিন্তু মনে রাখতে হবে, যৌবনকালের ইবাদত মহান রবের নিকট সবচেয়ে প্রিয়। যেমনভাবে প্রখর রোদের কারণে জমিনে তৃষ্ণা নেমে আসে, পরে আল্লাহ রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করলে জমিন সজীবতায় ভরে ওঠে, তেমনি কোনো ব্যক্তি যদি যৌবনকালকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে, তবে তার জীবনও ভরে উঠবে সজীবতায়।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার ওপর আছি। যদি সে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে স্মরণ করি; যদি সে আমাকে কোনো উত্তম স্থানে স্মরণ করে, আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম এক স্থানে স্মরণ করি; আর যদি সে আমার দিকে এক বিঘৎ এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই; আর যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত প্রসারিত হয়ে এগিয়ে যাই; আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)
যে আল্লাহ আমাদের এত ভালোবাসেন, তাঁর নেয়ামতের অপব্যবহার করা যাবে না। সুস্থ থাকা অবস্থায় অসুস্থ হওয়ার পূর্বেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বেলা ফুরাবার আগেই সঠিক পাথেয় সংগ্রহ করে নীড়ে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহর পবিত্র ভালোবাসা ও নবীর সুন্নাত দ্বারা আমাদের হৃদয়কে টইটম্বুর করতে হবে। অন্ধকার রাতকে বিদায় জানিয়ে রাঙা সূর্যের উদয় ঘটাতে হবে। তবেই হবে জীবন রঙিন ও পুণ্যময়। আল্লাহ আমাদের জীবন, যৌবন ও সুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নৈকট্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: প্রাবন্ধিক