হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, সে ছাড়া যাকে আমি খাবার দিয়েছি। কাজেই তোমরা আমার কাছে খাবার চাও। আমি তোমাদের খাবারের ব্যবস্থা করব। হে আমার বান্দারা, তোমরা সবাই পোশাকহীন, সে ছাড়া যাকে আমি পোশাক দান করেছি। কাজেই তোমরা আমার কাছে পোশাক চাও। আমি তোমাদের পোশাক দান করব।’
রিজিকের জন্য দোয়া করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোরআন-সুন্নাহর একাধিক দলিল আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো হজরত মুসা (আ.)-এর দোয়া। আল্লাহতায়ালা তাঁর ঘটনা কোরআনে বর্ণনা করেছেন। যখন তিনি মাদায়েনের একটি জলাশয়ের কাছে পৌঁছেছিলেন তখন একটি ছায়ায় গিয়ে তিনি আল্লাহতায়ালার কাছে এই বলে প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার ওপর যে কল্যাণই নাজিল করবেন আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস, ২৪)
এ কারণেই রাসুলুল্লাহর আনীত শরিয়তে নামাজে দুই সিজদার মাঝে বসে এই দোয়া পড়ার কথা আছে, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে বিপন্মুক্ত করো, আমাকে সুস্থতা দান করো, আমাকে রিজিক দান করো, আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করো।’
‘আমাকে রিজিক দান করো’ কথাটির অর্থ হলো, আমাকে ওইসব জিনিস দান করো যার মাধ্যমে আমার অন্তর পরিশুদ্ধ হবে এবং আমি সঠিক পথপ্রাপ্ত হব। যেমন- ইলম, হেদায়াত, মারেফত এবং এমন ঈমান, যা সব নেক আমল ও উত্তম চরিত্রকে উদ্বুদ্ধ করে।
ওই সব জিনিসও দান করো, যার মাধ্যমে আমার শরীর পরিপুষ্ট ও পরিশুদ্ধ হবে। অর্থাৎ হালাল ও তৃপ্তিদায়ক রিজিক, যাতে না কষ্ট আছে, না অশুভ পরিণতি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে জীবনোপকরণ কামনা করে এবং তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আনকাবুত, ১৭)
একমাত্র আল্লাহর কাছে চাও, অন্য কারও কাছে নয়। কারণ কেবল তিনিই রিজিকদানে সক্ষম। অন্য কেউ সামান্য রিজিকদানেরও ক্ষমতা রাখে না। কাজেই তোমরা তাঁর রিজিক হতে খাও এবং শুধু তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তাঁর শোকরিয়া করো।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক