ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

আক্রমণাত্মক ব্যাটিং জেতাবে এবারের আইপিএল : পন্টিং

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং জেতাবে এবারের আইপিএল : পন্টিং
ছবি : সংগৃহীত

আইপিএলের এবারের আসরকে রান উৎসবের আসর তকমা দিলে মোটেও ভুল হবে না। সর্বোচ্চ ২৮৭ রানের দলীয় সংগ্রহ এসেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছ থেকে আসরের শুরুর দিকে দলটি ২৭৭ রান করে ভেঙেছিল ২০১৩ সালে আইপিএল ইতিহাসে পুনের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর করা ২৬৩ রানের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহটি।  

এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩১টি ম্যাচ। যেখানে ওভারপ্রতি রান উঠেছে ৯.৪৮ করে। এর আগে, ওভারপ্রতি সর্বোচ্চ ৮.৯৯ করে রান উঠেছিল ২০২৩ সালে। এত স্পষ্ট যে বোলাররা সুবিধা করতে পারছেন না ব্যাটারদের সামনে। গতকাল সুনীল নারাইনের সেঞ্চুরিতে কলকাতার ছুঁড়ে দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্য রাজস্থান রয়্যালস টপকে যায় ২ উইকেট হাতে রেখে। যা আইপিএলে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ও দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ রিকি পন্টিং মনে করেন, এবারের আইপিএল জয়ের মূল চাবিকাঠি হতে পারে এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।

আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দশটি দলীয় স্কোরের মধ্যে পাঁচটিই এসেছে এ বছর। এত রান কেন হচ্ছে এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিএলের ইমপ্যাক্ট-সাব বা ইমপ্যাক্ট-বদলির নিয়ম ভালোভাবে কাজে লাগানোর ফলেই এমন রানপ্রসবা মৌসুম দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে পন্টিংও তেমন কথাই বলেছেন। তিনি দাবি করেন, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবার শিরোপা এনে দিতে পারে। আর এই কৌশলে ব্যাটাররা খেলতে পারছেন ইমপ্যাক্ট–সাব নিয়মের কারণে।

পন্টিং বলেছেন, ‘দু-একটা বড় সংগ্রহের কারণ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কলকাতা আমাদের বিপক্ষে ২৬০ (২৭২/৭)–এর মতো করেছিল। আমার মনে হয়, দলগুলো যেভাবে ব্যাটিং করছে এর পেছনে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের বড় প্রভাব আছে। গতকাল (পরশু) দেখেছেন কীভাবে ট্রাভিস হেড ব্যাটিং করেছে। পরের ব্যাটারদের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে এভাবে ব্যাটিং করা যায় না।’

বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক ব্যাখ্যা করেন, ‘এবার নতুন নিয়মে যেভাবে আইপিএল এগোচ্ছে, মনে হচ্ছে যারা বোলারদের ওপর বেশি আক্রমণ করতে চায়, বড় সংগ্রহ তুলতে চায়, তারাই জিতবে। আমার মনে হয়, এবার রক্ষণাত্মক বোলিংয়ের চেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই আইপিএল জেতার সম্ভাবনা বেশি।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:২৪ এএম
অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফেবারিট কারা? দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ক্রিকেটবোদ্ধারা বাজি ধরে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে। এটা যেমন কিউইদের সৌভাগ্য, তেমনি দুর্ভাগ্য। আইসিসির সাদা বলের বিশ্বকাপে সেমির দল তারা। সেরা চারে উঠে ভক্তদের স্বপ্ন দেখায় শিরোপা জেতার। কিন্তু সেমি কিংবা ফাইনাল সেই স্বপ্ন রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের এমন মিশ্র আবেগে অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড।

ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছে কিন্তু শিরোপা নেই এমন একটি দলই রয়েছে। সেটা নিউজিল্যান্ড। সীমিত ওভারের বিশ্বকাপে সেমি খেলেছে ১০ বার এবং ফাইনাল হেরেছে ৩ বার। সাদা বলে তাদের মেজর টুর্নামেন্ট জয় বলতে কেবল ২০০০ আইসিসি ট্রফিতে। দ্বিতীয় আইসিসি শিরোপা এসেছে ২১ বছর পর। ২০২১ সালে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর মধ্য দিয়ে।

সীমিত ওভারে দুই বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে সেমিফাইনালে বাদ পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। একই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছে টুর্নামেন্টে দুটি সবশেষ সংস্করণে! সবশেষ ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় শান্তির দেশের ক্রিকেটাররা। এর আগে সেরা চার থেকে বিদায় নিয়েছিল ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ এবং ২০১১ সংস্করণে। টুর্নামেন্টে এমনকি ব্যাক-টু-ব্যাক ফাইনাল হারের কষ্টও রয়েছে কিউইদের।

বহু চেষ্টার পর, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড। শিরোপা লড়াইয়ে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। পরের সংস্করণে সুপার ওভার রোমাঞ্চে ফাইনাল হেরে যায় ইংল্যান্ডের কাছে। ফরম্যাট বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি নিউজিল্যান্ডের। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল কিউইরা। প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় অস্ট্রেলিয়াকে। ফল একই। আরেকটি ফাইনাল হারের গল্প। সবশেষ অস্ট্রেলিয়া পর্দা উঠা টুর্নামেন্টে তারা বিদায় নেয় সেমিফাইনাল থেকে।

সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ তিন আসরে সেমিফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। যারা এখনো প্রথম সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায়। তাই কিউই এবং ভক্তরা নতুন করে স্বপ্ন বুনেছেন। তার বাস্তব প্রতিফলন হয় কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

অভিজ্ঞতার কমতি নেই দলে

সবার আগে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি)। দুই শিশুকে দিয়ে দল ঘোষণায় তারা চমকে দিয়েছে সবাইকে। তবে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড সাজাতে কোনো ঝুঁকি নেয়নি এনজেডসি। সেরাদের রেখে বিশ্বমানের এক দল সাজিয়েছে কিউই নির্বাচকরা। তাদের সেই সাজানো দলে অভিজ্ঞতার কমনি নেই।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করা ১৫ কিউই ক্রিকেটারের ১৩ জনকে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ পরিকল্পনায়। যেহেতু বিশ্বকাপের সিংহভাগ খেলা হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে। নিউজিল্যান্ডকে প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট জেতানোর মিশনে নেতৃত্বে থাকবেন কেন উইলিয়ামসন। এটা হবে তার ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, টিম সাউদির সপ্তম এবং ট্রেন্ট বোল্টের পঞ্চম। পেস আক্রমণভাগে সাউদি-বোল্টের সঙ্গী লুকি ফার্গুসন এবং ম্যাট হেনরি।

বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পেয়েছেন ডেভন কনওয়ে, যিনি আঙুলের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। রাখা হয়েছে পার্ট টাইম কিপার ফিন অ্যালেনকে। পাকিস্তান সিরিজে নেতৃত্বে থাকা মাইকেল ব্রেসওয়েল টিকে গেছে দলে। নিউজিল্যান্ড শিবিরে আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম এবং ড্যারিল মিচেল। ব্যাটিং বিভাগে উইলিয়ামসন, কনওয়ে এবং অ্যালেন ছাড়াও আছেন গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র এবং মার্ক চাপম্যান। স্পিন বিভাগ সামলাবেন মিচেল সান্তনার এবং ইশ সোধি। হেনরি এবং রাচিন প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন।

হঠাৎ আড়াল উইলিয়ামসনরা

বিশ্বকাপের বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করেছে নিউজিল্যান্ড। ৩ সিরিজে খেলেছে ১৩টি ম্যাচ। জানুয়ারিতে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে ৫ ম্যাচের সিরিজে হারিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। সবশেষ এপ্রিলে পাকিস্তানে ফিরতি সফরে সিরিজ ড্র করে ২-২ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়)। এর মাঝে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের হোম সিরিজে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা পায়। তবে বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে আড়াল উইলিয়ামসনরা। ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের সূচিতে নেই তাদের কোনো খেলা।

অভিযান শুরু ৮ জুন

গ্রুপ পর্বে অচেনা প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। আগামী ৮ জুন আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের ভেন্যুর গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে মাত্র এক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। ‘সি’ গ্রুপে কিউইদের দ্বিতীয় ম্যাচ ১৩ জুন, ত্রিনিদাদে ব্রায়ান লারা একাডেমিতে। প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ১০টি এবং হার ৪টি। টাই হয়েছিল ৩ ম্যাচ। যার মধ্যে সুপার ওভারে ১টিতে জয় এসেছে, অপর ২টিতে ছিল হার। ফল হয়নি অবশিষ্ট ২ ম্যাচে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ উগান্ডা এবং পাপুয়া নিউগিনি। যাদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে কিউইরা।

প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সাক্ষী নিউজিল্যান্ড। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের ছোট এই সংস্করণের

ম্যাচ: ২১৬

জয়: ১০৯

হার: ৯০

পরাজয়: ১০

পরিত্যক্ত: ৭

র‌্যাঙ্কিং: ৫

গ্যারি স্টিড, প্রধান কোচ

আপনি যখন বিশ্বকাপে যান, দলে অভিজ্ঞতা চান এবং এমন খেলোয়াড় চান যারা জানে এখানে কেমন লড়াই হবে। আমাদের এমন বোলার আছে যারা আমাদের সত্যিই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ প্রদান করে। বোলিং লাইনআপে বাঁহাতি, ডানহাতি, স্পিনারদের মধ্যে ভারসাম্য থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ভালো এবং স্মার্ট ক্রিকেট খেলি, তবে আশা করি এটা এমন একটি টুর্নামেন্ট হবে যা আমরা জিততে পারব। 


দল : কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মিচেল সান্তনার, ট্রেন্ট বোল্ড, লুকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ইশ সোধি ও সাউদি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ রাজস্থানকে হারিয়ে ফাইনালে হায়দরাবাদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:৫২ এএম
রাজস্থানকে হারিয়ে ফাইনালে হায়দরাবাদ
ছবি : সংগৃহীত

আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আগামী রবিবার শিরোপার লড়াইয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হবে দলটি।

শুক্রবার (২৪ মে) চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রাজস্থানকে ৩৬ রানে হারিয়েছে হায়দরাবাদ। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করতে পারে রাজস্থান।

ব্যাটিং ব্যার্থতাতেই এই হার রাজস্থানের। ধ্রুব জুরেল ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে লড়াই করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি। যশস্বী জয়সাওয়াল ওপেন করতে নেমে ৪২ রান করেছিলেন। বাকি ব্যাটারেরা কেউ ২০ রানের গণ্ডি পার করতে পারেননি।

এর আগে হেনরিক ক্লাসেনের ৩৪ বলে ৫০ ও ট্রাভিস হেডের ২৮ বলে ৩৪ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি গড়েছিল টস হেরে ব্যাট করতে নামা হায়দরাবাদ।

হ্যাপি ‘লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৪৬ এএম
হ্যাপি ‘লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১ জুন (বাংলাদেশ সময় ২ জুন ভোর সাড়ে ৬টা) পর্দা উঠবে ২০২৪ মেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্টের নবম সংস্করণের যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছোট ফরম্যাটের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে সর্বোচ্চ ২০ দল। সরাসরি খেলবে ১২ দল। এ ছাড়া বাছাইয়ের বাধা টপকে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফ্রিকার নামিবিয়া, উগান্ডা; এশিয়ার নেপাল, ওমান; ইউরোপের আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড; আমেরিকার কানাডা এবং পূর্ব এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাপুয়া নিউগিনি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর বিশ্লেষণ নিয়ে খবরের কাগজের বিশেষ আয়োজন। আজকে থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। লিখেছেন অনিক দাস

লিপ ইয়ারের বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসেছে দুবার। ২০১২ এবং ২০১৬ সালে। উভয় আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার তৃতীয়বারের মতো লিপ ইয়ারের বছরে খুলতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। তাই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের স্বাগত জানানোই যায় এভাবে- হ্যাপি ‘‌লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ (যৌথভাবে) দুবারের চ্যাম্পিয়নরা কী পারবে হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করতে? ভবিষ্যদ্বাণী করা মুশকিল, কারণ এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় শক্তি ঝলক খুব বেশি দেখার সুযোগ পায়নি বিশ্ব। ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত এক সফরেই সীমাবদ্ধ ছিল ক্যারিবিয়ানরা। গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছিল পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। দুই দলের লড়াইয়ে দুই টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। এরপর ওয়ানডেতে ধবলধোলাই এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের (২-১) বিষাদ নিয়ে ফিরেছিল রুভম্যান পাওয়েলের নেতৃতাধীন দল।

ব্যর্থ সেই সফর শেষে লম্বা ঘুমে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) তাদের পরবর্তী সিরিজ শুরুর সূচি ছিল গতকাল। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। পূর্ব নির্ধারিত লড়াই দিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের আগে ঘুম ভেঙেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুই সিরিজের মাঝে লম্বা সময় থাকলেও ক্যারিবীয় বোর্ডের (সিডব্লিউআই) চেষ্টায় আয়োজন করা হয়নি বাড়তি কোনো সিরিজ। ঠিক কি কারণে এত দীর্ঘ বিরতি তার উত্তর বোর্ড কর্তা কিংবা খেলোয়াড়রাই দিতে পারবেন।

অতীত বলছে, এমনই সেখানাকার ক্রিকেট। যেখানকার ক্রিকেটাররা জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারপরও ক্যারিবীয় দানবরা ভয়ঙ্কর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে। কেননা, এ বছর আন্তর্জাতিক সূচি কম থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ম্যাচের কমতি ছিল না। প্রতিটি লিগে ছিল ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের মেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলে থাকা পাঁচ ক্রিকেটার ছিলেন ২০২৪ ডিপিএলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে আন্দ্রে রাসেল ও জনসন চার্লস, খুলনা টাইগার্সে শাই হোপ এবং রংপুর রাইডার্সে ব্র্যান্ডন কিং ও নিকোলাস পুরান।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগ, ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি, পাকিস্তান সুপার লিগ এবং সবশেষ (চলমান) আইপিএলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে বিশ্বকাপ মিশনে থাকা ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। বলা যায়, এটাই তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। এখন জন্মভূমির ঋণ শোধের পালা তাদের। যদিও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ রেকর্ড ভালো নয় ক্যারিবীয়দের। পূর্বে আইসিসির দুই বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এককভাবে আয়োজক ছিল। একটিতেও নকআউট পর্বে ছিল না স্বাগতিকরা। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাদ পড়েছিল সুপার এইটে।

এ যাত্রায় অবশ্য এককভাবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টের ৫৫ ম্যাচের ৩৯টি হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে। মার্কিন মুল্লুকে যে ম্যাচগুলো হবে সেগুলো সবই গ্রুপ পর্বের। আর স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিবীয়রা তাদের গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ খেলবে দেশের মাটিতে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারলে বাকি সব ম্যাচ হোম ভেন্যুতে খেলবে পাওয়েলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চিরচেনা ভেন্যুগুলো কাজে লাগিয়ে ‘লিপ ইয়ারে’ টুর্নামেন্টে কতটা দূর এগোতে পারে দানবীয় ক্রিকেটারের দল সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দম নিচ্ছেন ক্যারিবীয় দানবরা
মাঠে গড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিশ্বকাপের আগে মুহূর্তে প্রস্তুতির এই সুযোগটা গ্রহণ করেননি ক্যারিবিয়ান দ্বীপের তারকা ক্রিকেটাররা। রাজস্থান রয়্যালসে খেলা ক্যারিবীয় অধিনায়ক রুভম্যান পাওয়েল এবং শিমরন হেটমায়ার খেলছেন না হোম সিরিজটিতে। নেই আন্দ্রে রাসেল এবং আলজারি জোসেফ। যারা আইপিএল মাতিয়েছেন যথাক্রমে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলা নিকোলাস পুরান এবং শাই হোপও পেয়েছেন বিশ্রাম। এক কথায়- বিশ্বকাপের প্রাক্কালে দম নিচ্ছেন ক্যারিবীয় দানবরা।

সফল হবে রাসেলের ফেরা?
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছিলেন আন্দ্রে রাসেল। অবসরে গিয়েছিলেন ২০২১ সালে। তবে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ পেয়ে সেই অবসর ভেঙেছেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। আহ্বান জানিয়েছিলেন কোচ ড্যারেন সামি এবং বোর্ড কর্তারা। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় দলে ফিরেছেন রাসেল। গত বছরের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড সিরিজে এবং চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেছেন তিনি। এখন তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামবেন রাসেল, যিনি ২০১২ এবং ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গী ছিলেন।

অভিযান শুরু ২ জুন
শুরুতেই সহজ পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে আগামী ২ জুন পাপুয়া নিউগিনি ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে স্বাগতিকরা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অপর তিন প্রতিপক্ষ- উগান্ডা, নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তান। তাদের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের ম্যাচ যথাক্রমে ৯, ১৩ এবং ১৮ জুন।

দল
রুভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), শিমরন হেটমায়ার, ব্র্যান্ডন কিং, শের্ফানি রাদারফোর্ড, রস্তন চেজ, আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার, জনসন চার্লস, নিকোলাস পুরান, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, রোমারিও শেফার্ড, আকিল হোসেন এবং গুডাকেশ মোটি।

* র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী আজ পাকিস্তান দলের বিশ্লেষণ দেওয়া কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দল ঘোষণায় বিলম্ব করায় র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের আগে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হলো। 

বাবার কঠিন শর্ত মেনে ক্রিকেটে এসে সফল তানভীর

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:২৭ এএম
বাবার কঠিন শর্ত মেনে ক্রিকেটে এসে সফল তানভীর
তানভীর আহমেদ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের বিমানে ওঠেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর আহমেদ। ক্রিকেটে আসার উপায় না জানায় বেশ কাঠ-খড় পুড়িয়ে হয়েছেন পেশাদার ক্রিকেটার। এসএসসির পর বাবার অনিচ্ছা থাকার পরও ক্রিকেটে এসেছেন নানির চাওয়ায়। পেশাদার ক্রিকেটে উঠে আসার সেই গল্প বিসিবির ভিডিওতে তুলে ধরেছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর আহমেদ।

বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে নানির কাছে বেড়ে ওঠা তানভীরের। ছোট থেকে ক্রিকেট পাগল এই বাঁহাতির খেলায় ছিল না কোনো বাধা। মাস শেষে তার সঙ্গী হতো নতুন ব্যাট, বল আর স্ট্যাম্প। ক্রিকেটসামগ্রীর সুবাদে তার খেলা হতো বড়দের সঙ্গে। এমন কী তারাই পরামর্শ দেন একাডেমিতে ভর্তি হয়ে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার। সেখান থেকে বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন তানভীর। সেখানে লিখছেন সফলতার গল্প।

ক্রিকেটে আসার আগে তানভীরের বাবা তাকে দিয়েছিলেন চার শর্ত। যেখানে ছিল দুই বছরের মধ্যে ক্রিকেটে সফল না হলে ফিরে আসতে হবে সাধারণ জীবনে। এই বাঁহাতি স্পিনার সময় নিয়েছেন মাত্র চার মাস। ক্রিকেট শুরুর পর মাত্র চার মাসের মাথায় রায়েরবাজার প্রগতি সংঘের হয়ে খেলেন তৃতীয় বিভাগে। পরের দুই মৌসুমে খেলাঘরের সমাজকল্যাণ সমিতির হয়ে খেলেন প্রথম বিভাগ। যদিও তানভীরের খেলার কথা ছিল তৃতীয় বিভাগে। অনুশীলনে নজর কাড়ায় শেষ পর্যন্ত খেলাঘরের হয়ে তৃতীয় বিভাগ নয়, খেলেছিলেন প্রথম বিভাগে। সেখান থেকে নাফিস ইকবালের নজরে পড়ে বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের হয়ে অভিষেক তানভীরের। তখন থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ তানভীর এবার খেলবেন বিশ্বকাপে।

লজ্জার হারে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:১১ এএম
লজ্জার হারে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মন্থর উইকেটে অভ্যস্ত বাংলাদেশ পেয়েছে নিজেদের পরিচতি আঙিনা মিরপুরের মতো উইকেট। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রান পেতে বেগ পেতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে মার্কিনিদের ১৪৪ রানে আটকে দিয়েও জয় থাকল অধরা। ব্যাটারদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে শুধু ম্যাচ নয় স্বাগতিকদের সিরিজ উপহার দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারে ৬ রানে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নেমেই মার্কিনিরা পেল সিরিজ জয়ের স্বাদ।

মার্কিনিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ছিল ছোট। প্রতিপক্ষ রান যতই করুক না কেন টপ অর্ডার যেন ফিরিয়ে আনে পুরোনো গল্প। ইনিংসের প্রথম ওভারে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। সৌরভ নেত্রালকরের করা ফুলার লেন্থের ডেলিভারিতে স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড শটে বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। শুরুতে হোঁচট খাওয়া বাংলাদেশকে সামনের দিকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন ওপেনার তানজিদ তামিম ও অধিনায়ক শান্ত। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তানজিদ আউট বোল্ড হয়ে। ১৫ বলে ১৯ রান করা তানজিদ শিকার হন জাসদ্বীপ সিংয়ের লেন্থে থাকা বলে।

তাতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেটে ৪৩ রান। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে ওঠে অধিনায়ক শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের। দু’জন মিলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। ধীরগতিতে এগিয়ে থিতু হয়ে হাত খোলার সময়ই পাননি তারা দুজন। ১৪ রানের ব্যবধানে ফেরেন তারা দুজন। হৃদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন শান্ত। ফেরার আগে ৩৪ বলে করেন ৩৬ রান। ১৪ বল পর হৃদয় হন লেগ বিফোরের শিকার। ২১ বলে ২৫ করা হৃদয়কে ফেরান কোরি অ্যান্ডারসন। ৯২ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে জয়ের দিকে নেওয়ার সুযোগ ছিল দুই অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সামনে। দলীয় ১০৬ রানের মাথায় বড় শটের আশায় সামনে এগিয়ে এসে পেসার শ্যাডলি ফন স্কাইকয়কের বলে বোল্ড হন রিয়াদ (৩)। তার পথ ধরে পর পর দুই বলে ফেরেন সাকিব (৩০) ও জাকের আলী অনিক (৩)। তাদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জন্য হার হয়ে উঠেছিল সময়ের ব্যাপারমাত্র। শেষ পর্যন্ত তিন বল হাতে রেখে অলআউট হয় ১৩৮ রানে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আলী খান ২৫ রানে নেন তিন উইকেট।

এর আগে আঁটসাঁট বোলিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে দেওয়া বাংলাদেশ বোলিংয়ের শুরুতে সাফল্য পেয়েছে ইনিংসের ৭ম ওভারে। এর আগে প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসে ব্যাট চালানো যুক্তরাষ্ট্রের দুই ওপেনার স্কোরবোর্ডে তোলেন ৪৪ রান। পরপর দুই বলে ওপেনার স্টিভেন টেইলর ও তিনে নামা আন্দ্রিস হাউসকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান রিশাদ হোসেন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে মার্কিনিরা ভেঙে পড়েনি তাসের ঘরের মতো। অ্যারন জোন্স ও অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের ৬০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায়। ৩৪ বলে ৩৫ রান করা জোন্সকে ফেরান বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। পরে তার শিকার ছিলেন প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঝড় তোলা হারমিত সিংকে। তাতে মোস্তাফিজের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৩১ রানে দুই উইকেট। অন্যদিকে ৩৮ বলে ৪১ রান করা মোনাঙ্ককে ফেরান শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেওয়া অ্যান্ডারসনকেও ফেরান তিনি। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৪ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ, মোস্তাফিজ ও শরিফুল নেন দুইটি করে উইকেট।