ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ফুটবল বিসিএলে চ্যাম্পিয়ন ফকিরেরপুল

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৩ পিএম
বিসিএলে চ্যাম্পিয়ন ফকিরেরপুল
ছবি : সংগৃহীত

পেশাদার ফুটবল লিগের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের (বিসিএল) শিরোপা নিশ্চিত করেছে ফকিরেরপুর ইয়ংমেন্স ক্লাব।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডি ফুটবল ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার শিরোপা নিশ্চিত করে ফকিরেরপুল। এতে করে আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত হলো দলটির।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ডালিম বর্মণ গোল করে এগিয়ে নেন ফকিরেরপুলকে। ৪৭তম মিনিটে জয়ন্ত লাল পিডব্লিউডিকে সমতা এনে দেন। পরে ৭৯তম মিনিটে ইরফান হোসেনের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফকিরেরপুল।

ইরফান গোল করার এক মিনিট পরই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। শেষ ১০ মিনিটের বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় ফকিরেরপুলকে। তবু পয়েন্ট আদায় করতে পারেনি পিডব্লিউডি।

ফকিরেরপুল এই ম্যাচ শুরু করেছিল শীর্ষে থেকে। তৃতীয় স্থানে থেকে মাঠে নেমেছিল পিডব্লিউডি। জিতলে পিডব্লিউডিরও প্রিমিয়ারে খেলা নিশ্চিত হতো। তবে এখনও পিডব্লিউডির সুযোগ আছে। এজন্য দলটিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আগামীকাল বুধবার ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও বাফুফে এলিট অ্যাকাডেমির ম্যাচের দিকে।

টেবিলের শীর্ষে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করা ফকিরেরপুলের পয়েন্ট ১৪ ম্যাচে ২৭। সমান ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পিডব্লিউডির। এক ম্যাচ কম খেলা ওয়ান্ডারার্সের পয়েন্টও ২৩। এখন বাফুফে এলিট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে পয়েন্ট পেলেই রানার্সআপ নিশ্চিত হয়ে যাবে ওয়ান্ডারার্সের। আর যদি দলটি হারে তাহলে সুযোগ তৈরি হতে পারে পিডব্লিউডির। তবে সেই সম্ভাবনাও আসলে খুব ক্ষীণ। ওয়ান্ডারার্সই এগিয়ে থাকবে রেসে।

ফকিরেরপুর ইয়ংমেন্স ক্লাব এর আগে ২০১৭ সালেও বিসিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ার লিগে উত্তির্ণ হয়েছিল। কিন্তু অর্থ সংকটের কথা উল্লেখ করে দেশের শীর্ষ ফুটবলে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে দলটি।

রাজস্থানকে হারিয়ে ফাইনালে হায়দরাবাদ

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:৫২ এএম
রাজস্থানকে হারিয়ে ফাইনালে হায়দরাবাদ
ছবি : সংগৃহীত

আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আগামী রবিবার শিরোপার লড়াইয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হবে দলটি।

শুক্রবার (২৪ মে) চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রাজস্থানকে ৩৬ রানে হারিয়েছে হায়দরাবাদ। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করতে পারে রাজস্থান।

ব্যাটিং ব্যার্থতাতেই এই হার রাজস্থানের। ধ্রুব জুরেল ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে লড়াই করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি। যশস্বী জয়সাওয়াল ওপেন করতে নেমে ৪২ রান করেছিলেন। বাকি ব্যাটারেরা কেউ ২০ রানের গণ্ডি পার করতে পারেননি।

এর আগে হেনরিক ক্লাসেনের ৩৪ বলে ৫০ ও ট্রাভিস হেডের ২৮ বলে ৩৪ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি গড়েছিল টস হেরে ব্যাট করতে নামা হায়দরাবাদ।

হ্যাপি ‘লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:৪৬ এএম
হ্যাপি ‘লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১ জুন (বাংলাদেশ সময় ২ জুন ভোর সাড়ে ৬টা) পর্দা উঠবে ২০২৪ মেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্টের নবম সংস্করণের যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছোট ফরম্যাটের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে সর্বোচ্চ ২০ দল। সরাসরি খেলবে ১২ দল। এ ছাড়া বাছাইয়ের বাধা টপকে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফ্রিকার নামিবিয়া, উগান্ডা; এশিয়ার নেপাল, ওমান; ইউরোপের আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড; আমেরিকার কানাডা এবং পূর্ব এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাপুয়া নিউগিনি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর বিশ্লেষণ নিয়ে খবরের কাগজের বিশেষ আয়োজন। আজকে থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। লিখেছেন অনিক দাস

লিপ ইয়ারের বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসেছে দুবার। ২০১২ এবং ২০১৬ সালে। উভয় আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার তৃতীয়বারের মতো লিপ ইয়ারের বছরে খুলতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। তাই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের স্বাগত জানানোই যায় এভাবে- হ্যাপি ‘‌লিপ ইয়ার’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ (যৌথভাবে) দুবারের চ্যাম্পিয়নরা কী পারবে হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করতে? ভবিষ্যদ্বাণী করা মুশকিল, কারণ এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় শক্তি ঝলক খুব বেশি দেখার সুযোগ পায়নি বিশ্ব। ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত এক সফরেই সীমাবদ্ধ ছিল ক্যারিবিয়ানরা। গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছিল পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। দুই দলের লড়াইয়ে দুই টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। এরপর ওয়ানডেতে ধবলধোলাই এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের (২-১) বিষাদ নিয়ে ফিরেছিল রুভম্যান পাওয়েলের নেতৃতাধীন দল।

ব্যর্থ সেই সফর শেষে লম্বা ঘুমে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) তাদের পরবর্তী সিরিজ শুরুর সূচি ছিল গতকাল। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। পূর্ব নির্ধারিত লড়াই দিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের আগে ঘুম ভেঙেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুই সিরিজের মাঝে লম্বা সময় থাকলেও ক্যারিবীয় বোর্ডের (সিডব্লিউআই) চেষ্টায় আয়োজন করা হয়নি বাড়তি কোনো সিরিজ। ঠিক কি কারণে এত দীর্ঘ বিরতি তার উত্তর বোর্ড কর্তা কিংবা খেলোয়াড়রাই দিতে পারবেন।

অতীত বলছে, এমনই সেখানাকার ক্রিকেট। যেখানকার ক্রিকেটাররা জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারপরও ক্যারিবীয় দানবরা ভয়ঙ্কর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে। কেননা, এ বছর আন্তর্জাতিক সূচি কম থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ম্যাচের কমতি ছিল না। প্রতিটি লিগে ছিল ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের মেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ দলে থাকা পাঁচ ক্রিকেটার ছিলেন ২০২৪ ডিপিএলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে আন্দ্রে রাসেল ও জনসন চার্লস, খুলনা টাইগার্সে শাই হোপ এবং রংপুর রাইডার্সে ব্র্যান্ডন কিং ও নিকোলাস পুরান।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগ, ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি, পাকিস্তান সুপার লিগ এবং সবশেষ (চলমান) আইপিএলে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে বিশ্বকাপ মিশনে থাকা ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। বলা যায়, এটাই তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। এখন জন্মভূমির ঋণ শোধের পালা তাদের। যদিও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ রেকর্ড ভালো নয় ক্যারিবীয়দের। পূর্বে আইসিসির দুই বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এককভাবে আয়োজক ছিল। একটিতেও নকআউট পর্বে ছিল না স্বাগতিকরা। ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাদ পড়েছিল সুপার এইটে।

এ যাত্রায় অবশ্য এককভাবে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টুর্নামেন্টের ৫৫ ম্যাচের ৩৯টি হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে। মার্কিন মুল্লুকে যে ম্যাচগুলো হবে সেগুলো সবই গ্রুপ পর্বের। আর স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিবীয়রা তাদের গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ খেলবে দেশের মাটিতে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারলে বাকি সব ম্যাচ হোম ভেন্যুতে খেলবে পাওয়েলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চিরচেনা ভেন্যুগুলো কাজে লাগিয়ে ‘লিপ ইয়ারে’ টুর্নামেন্টে কতটা দূর এগোতে পারে দানবীয় ক্রিকেটারের দল সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দম নিচ্ছেন ক্যারিবীয় দানবরা
মাঠে গড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিশ্বকাপের আগে মুহূর্তে প্রস্তুতির এই সুযোগটা গ্রহণ করেননি ক্যারিবিয়ান দ্বীপের তারকা ক্রিকেটাররা। রাজস্থান রয়্যালসে খেলা ক্যারিবীয় অধিনায়ক রুভম্যান পাওয়েল এবং শিমরন হেটমায়ার খেলছেন না হোম সিরিজটিতে। নেই আন্দ্রে রাসেল এবং আলজারি জোসেফ। যারা আইপিএল মাতিয়েছেন যথাক্রমে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলা নিকোলাস পুরান এবং শাই হোপও পেয়েছেন বিশ্রাম। এক কথায়- বিশ্বকাপের প্রাক্কালে দম নিচ্ছেন ক্যারিবীয় দানবরা।

সফল হবে রাসেলের ফেরা?
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছিলেন আন্দ্রে রাসেল। অবসরে গিয়েছিলেন ২০২১ সালে। তবে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ পেয়ে সেই অবসর ভেঙেছেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। আহ্বান জানিয়েছিলেন কোচ ড্যারেন সামি এবং বোর্ড কর্তারা। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় দলে ফিরেছেন রাসেল। গত বছরের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ড সিরিজে এবং চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেছেন তিনি। এখন তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামবেন রাসেল, যিনি ২০১২ এবং ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গী ছিলেন।

অভিযান শুরু ২ জুন
শুরুতেই সহজ পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে আগামী ২ জুন পাপুয়া নিউগিনি ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে স্বাগতিকরা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অপর তিন প্রতিপক্ষ- উগান্ডা, নিউজিল্যান্ড এবং আফগানিস্তান। তাদের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের ম্যাচ যথাক্রমে ৯, ১৩ এবং ১৮ জুন।

দল
রুভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), শিমরন হেটমায়ার, ব্র্যান্ডন কিং, শের্ফানি রাদারফোর্ড, রস্তন চেজ, আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার, জনসন চার্লস, নিকোলাস পুরান, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, রোমারিও শেফার্ড, আকিল হোসেন এবং গুডাকেশ মোটি।

* র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী আজ পাকিস্তান দলের বিশ্লেষণ দেওয়া কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দল ঘোষণায় বিলম্ব করায় র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের আগে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিয়ে লেখা প্রকাশ করা হলো। 

বাবার কঠিন শর্ত মেনে ক্রিকেটে এসে সফল তানভীর

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:২৭ এএম
বাবার কঠিন শর্ত মেনে ক্রিকেটে এসে সফল তানভীর
তানভীর আহমেদ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের বিমানে ওঠেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর আহমেদ। ক্রিকেটে আসার উপায় না জানায় বেশ কাঠ-খড় পুড়িয়ে হয়েছেন পেশাদার ক্রিকেটার। এসএসসির পর বাবার অনিচ্ছা থাকার পরও ক্রিকেটে এসেছেন নানির চাওয়ায়। পেশাদার ক্রিকেটে উঠে আসার সেই গল্প বিসিবির ভিডিওতে তুলে ধরেছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর আহমেদ।

বাবা-মায়ের চাকরির সুবাদে নানির কাছে বেড়ে ওঠা তানভীরের। ছোট থেকে ক্রিকেট পাগল এই বাঁহাতির খেলায় ছিল না কোনো বাধা। মাস শেষে তার সঙ্গী হতো নতুন ব্যাট, বল আর স্ট্যাম্প। ক্রিকেটসামগ্রীর সুবাদে তার খেলা হতো বড়দের সঙ্গে। এমন কী তারাই পরামর্শ দেন একাডেমিতে ভর্তি হয়ে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার। সেখান থেকে বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন তানভীর। সেখানে লিখছেন সফলতার গল্প।

ক্রিকেটে আসার আগে তানভীরের বাবা তাকে দিয়েছিলেন চার শর্ত। যেখানে ছিল দুই বছরের মধ্যে ক্রিকেটে সফল না হলে ফিরে আসতে হবে সাধারণ জীবনে। এই বাঁহাতি স্পিনার সময় নিয়েছেন মাত্র চার মাস। ক্রিকেট শুরুর পর মাত্র চার মাসের মাথায় রায়েরবাজার প্রগতি সংঘের হয়ে খেলেন তৃতীয় বিভাগে। পরের দুই মৌসুমে খেলাঘরের সমাজকল্যাণ সমিতির হয়ে খেলেন প্রথম বিভাগ। যদিও তানভীরের খেলার কথা ছিল তৃতীয় বিভাগে। অনুশীলনে নজর কাড়ায় শেষ পর্যন্ত খেলাঘরের হয়ে তৃতীয় বিভাগ নয়, খেলেছিলেন প্রথম বিভাগে। সেখান থেকে নাফিস ইকবালের নজরে পড়ে বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের হয়ে অভিষেক তানভীরের। তখন থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ তানভীর এবার খেলবেন বিশ্বকাপে।

লজ্জার হারে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:১১ এএম
লজ্জার হারে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মন্থর উইকেটে অভ্যস্ত বাংলাদেশ পেয়েছে নিজেদের পরিচতি আঙিনা মিরপুরের মতো উইকেট। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রান পেতে বেগ পেতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে মার্কিনিদের ১৪৪ রানে আটকে দিয়েও জয় থাকল অধরা। ব্যাটারদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে শুধু ম্যাচ নয় স্বাগতিকদের সিরিজ উপহার দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারে ৬ রানে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নেমেই মার্কিনিরা পেল সিরিজ জয়ের স্বাদ।

মার্কিনিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ছিল ছোট। প্রতিপক্ষ রান যতই করুক না কেন টপ অর্ডার যেন ফিরিয়ে আনে পুরোনো গল্প। ইনিংসের প্রথম ওভারে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। সৌরভ নেত্রালকরের করা ফুলার লেন্থের ডেলিভারিতে স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড শটে বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। শুরুতে হোঁচট খাওয়া বাংলাদেশকে সামনের দিকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন ওপেনার তানজিদ তামিম ও অধিনায়ক শান্ত। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তানজিদ আউট বোল্ড হয়ে। ১৫ বলে ১৯ রান করা তানজিদ শিকার হন জাসদ্বীপ সিংয়ের লেন্থে থাকা বলে।

তাতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেটে ৪৩ রান। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে ওঠে অধিনায়ক শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের। দু’জন মিলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। ধীরগতিতে এগিয়ে থিতু হয়ে হাত খোলার সময়ই পাননি তারা দুজন। ১৪ রানের ব্যবধানে ফেরেন তারা দুজন। হৃদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন শান্ত। ফেরার আগে ৩৪ বলে করেন ৩৬ রান। ১৪ বল পর হৃদয় হন লেগ বিফোরের শিকার। ২১ বলে ২৫ করা হৃদয়কে ফেরান কোরি অ্যান্ডারসন। ৯২ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে জয়ের দিকে নেওয়ার সুযোগ ছিল দুই অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সামনে। দলীয় ১০৬ রানের মাথায় বড় শটের আশায় সামনে এগিয়ে এসে পেসার শ্যাডলি ফন স্কাইকয়কের বলে বোল্ড হন রিয়াদ (৩)। তার পথ ধরে পর পর দুই বলে ফেরেন সাকিব (৩০) ও জাকের আলী অনিক (৩)। তাদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জন্য হার হয়ে উঠেছিল সময়ের ব্যাপারমাত্র। শেষ পর্যন্ত তিন বল হাতে রেখে অলআউট হয় ১৩৮ রানে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আলী খান ২৫ রানে নেন তিন উইকেট।

এর আগে আঁটসাঁট বোলিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে দেওয়া বাংলাদেশ বোলিংয়ের শুরুতে সাফল্য পেয়েছে ইনিংসের ৭ম ওভারে। এর আগে প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাসে ব্যাট চালানো যুক্তরাষ্ট্রের দুই ওপেনার স্কোরবোর্ডে তোলেন ৪৪ রান। পরপর দুই বলে ওপেনার স্টিভেন টেইলর ও তিনে নামা আন্দ্রিস হাউসকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান রিশাদ হোসেন। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে মার্কিনিরা ভেঙে পড়েনি তাসের ঘরের মতো। অ্যারন জোন্স ও অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের ৬০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায়। ৩৪ বলে ৩৫ রান করা জোন্সকে ফেরান বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। পরে তার শিকার ছিলেন প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঝড় তোলা হারমিত সিংকে। তাতে মোস্তাফিজের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৩১ রানে দুই উইকেট। অন্যদিকে ৩৮ বলে ৪১ রান করা মোনাঙ্ককে ফেরান শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেওয়া অ্যান্ডারসনকেও ফেরান তিনি। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৪ রানে থামে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ, মোস্তাফিজ ও শরিফুল নেন দুইটি করে উইকেট।

ফিফার শাস্তি জরিমানার কবলে সালাম মুর্শেদী

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১১:৩৯ পিএম
জরিমানার কবলে সালাম মুর্শেদী
বাফুফে'র সিনিয়র সহসভাপতি, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী। ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এবার ফিফার শাস্তির কবলে পড়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শেদী দীর্ঘদিন ধরে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি সংস্থার ফিন্যান্স কমিটিরও প্রধান। আর্থিক অসঙ্গতি ও ফিফার কমপ্ল্যায়ন্স সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ আর্থিক জরিমানা করেছে ফিফার নৈতিকতা কমিটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।

গত বছর বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা- ফিফা। এ নিয়ে তোলপাড়ও কম হয়নি। বছর না ঘুরতেই তার সে শাস্তির মেয়াদ ফিফা আরও  এক বছর বাড়িয়ে ৩ বছর করেছে। একই অভিযোগে ফিফার শাস্তির আওতায় এসেছেন এই দুজন ছাড়াও আরও দুজন। তারা হলেন বাফুফের সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন ও অপারেশন্স ম্যানেজার মিজানুর রহমান। 

সোহাগের ওপর  দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা  দিয়েছিল ফিফা। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিফার দেওয়া বিবৃতিতে সেই মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছর নিষিদ্ধ থাকবেন সোহাগ। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা  পাওয়া বাফুফের সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন ও অপারেশন্স ম্যানেজার মিজানুর রহমানকে সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সালাম মুর্শেদীর মতো এই দুজনকেও ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১৩ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। আর সতর্ক করা হয়েছে বাফুফের প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজার ইমরুল হাসান শরীফকে।

ফিফার প্রদত্ত অর্থে বাফুফের ক্রয় ও পরিশোধের প্রক্রিয়াগুলোতে মিথ্যা তথ্য, ত্রুটিপূর্ণ ক্রয়াদেশ এবং ভুয়া দলিল দস্তাবেজ পরিবেশনের দায়ে এই কর্মকর্তারা শাস্তি পেলেন। গত বছর ফিফা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরই বাফুফের চাকরি হারান সাধারণ সম্পাদক সোহাগ। চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় আবু হোসেন ও মিজানুর রহমানকেও। দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে গত বছর বাফুফের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটিও এই তিনজনের দায় খুঁজে পেয়েছিল। 

আবু নাঈম সোহাগ তার গত বছর পাওয়া শাস্তির ব্যাপারে ফিফায় আপিল করেন। কিন্তু এবার উল্টো তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়েছে। সঙ্গে তার আর্থিক জরিমানার পরিমাণও বেড়েছে। প্রথম শাস্তির ঘোষণায় তার জরিমানার অঙ্ক ছিল ১০ হাজার সুইস ফ্র্যাঁ। এখন যেটার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এদিকে তাকে আবার আজীবনের জন্য ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বাফুফে।

২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে ফিফার দেওয়া তহবিলের অর্থ খরচে জালিয়াতি ধরার পড়ায় তদন্ত চালিয়ে আসছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি। ফিফা বাফুফেতে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত করেছিল। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক থাকা কালে সোহাগসহ অভিযুক্তরা ফিফার সদর দপ্তরে গিয়ে শুনানিতেও অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর ফিফা সালাম মুর্শেদীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এবার নতুন করেই তার নাম যোগ হয়েছে। ফিফা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ভিন্ন ভিন্ন শুনানি এবং সবকিছু সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করে এথিকস কমিটি সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে।