ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ১০:২৪ এএম
অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফেবারিট কারা? দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে ক্রিকেটবোদ্ধারা বাজি ধরে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে। এটা যেমন কিউইদের সৌভাগ্য, তেমনি দুর্ভাগ্য। আইসিসির সাদা বলের বিশ্বকাপে সেমির দল তারা। সেরা চারে উঠে ভক্তদের স্বপ্ন দেখায় শিরোপা জেতার। কিন্তু সেমি কিংবা ফাইনাল সেই স্বপ্ন রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের এমন মিশ্র আবেগে অভাগার আরেক নাম নিউজিল্যান্ড।

ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, দুই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছে কিন্তু শিরোপা নেই এমন একটি দলই রয়েছে। সেটা নিউজিল্যান্ড। সীমিত ওভারের বিশ্বকাপে সেমি খেলেছে ১০ বার এবং ফাইনাল হেরেছে ৩ বার। সাদা বলে তাদের মেজর টুর্নামেন্ট জয় বলতে কেবল ২০০০ আইসিসি ট্রফিতে। দ্বিতীয় আইসিসি শিরোপা এসেছে ২১ বছর পর। ২০২১ সালে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারানোর মধ্য দিয়ে।

সীমিত ওভারে দুই বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে সেমিফাইনালে বাদ পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। একই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছে টুর্নামেন্টে দুটি সবশেষ সংস্করণে! সবশেষ ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে সপ্তমবারের মতো সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় শান্তির দেশের ক্রিকেটাররা। এর আগে সেরা চার থেকে বিদায় নিয়েছিল ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ এবং ২০১১ সংস্করণে। টুর্নামেন্টে এমনকি ব্যাক-টু-ব্যাক ফাইনাল হারের কষ্টও রয়েছে কিউইদের।

বহু চেষ্টার পর, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড। শিরোপা লড়াইয়ে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। পরের সংস্করণে সুপার ওভার রোমাঞ্চে ফাইনাল হেরে যায় ইংল্যান্ডের কাছে। ফরম্যাট বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি নিউজিল্যান্ডের। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল কিউইরা। প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় অস্ট্রেলিয়াকে। ফল একই। আরেকটি ফাইনাল হারের গল্প। সবশেষ অস্ট্রেলিয়া পর্দা উঠা টুর্নামেন্টে তারা বিদায় নেয় সেমিফাইনাল থেকে।

সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ তিন আসরে সেমিফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। যারা এখনো প্রথম সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায়। তাই কিউই এবং ভক্তরা নতুন করে স্বপ্ন বুনেছেন। তার বাস্তব প্রতিফলন হয় কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

অভিজ্ঞতার কমতি নেই দলে

সবার আগে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি)। দুই শিশুকে দিয়ে দল ঘোষণায় তারা চমকে দিয়েছে সবাইকে। তবে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড সাজাতে কোনো ঝুঁকি নেয়নি এনজেডসি। সেরাদের রেখে বিশ্বমানের এক দল সাজিয়েছে কিউই নির্বাচকরা। তাদের সেই সাজানো দলে অভিজ্ঞতার কমনি নেই।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করা ১৫ কিউই ক্রিকেটারের ১৩ জনকে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ পরিকল্পনায়। যেহেতু বিশ্বকাপের সিংহভাগ খেলা হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে। নিউজিল্যান্ডকে প্রথম আইসিসি টুর্নামেন্ট জেতানোর মিশনে নেতৃত্বে থাকবেন কেন উইলিয়ামসন। এটা হবে তার ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, টিম সাউদির সপ্তম এবং ট্রেন্ট বোল্টের পঞ্চম। পেস আক্রমণভাগে সাউদি-বোল্টের সঙ্গী লুকি ফার্গুসন এবং ম্যাট হেনরি।

বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পেয়েছেন ডেভন কনওয়ে, যিনি আঙুলের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। রাখা হয়েছে পার্ট টাইম কিপার ফিন অ্যালেনকে। পাকিস্তান সিরিজে নেতৃত্বে থাকা মাইকেল ব্রেসওয়েল টিকে গেছে দলে। নিউজিল্যান্ড শিবিরে আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার জিমি নিশাম এবং ড্যারিল মিচেল। ব্যাটিং বিভাগে উইলিয়ামসন, কনওয়ে এবং অ্যালেন ছাড়াও আছেন গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র এবং মার্ক চাপম্যান। স্পিন বিভাগ সামলাবেন মিচেল সান্তনার এবং ইশ সোধি। হেনরি এবং রাচিন প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন।

হঠাৎ আড়াল উইলিয়ামসনরা

বিশ্বকাপের বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করেছে নিউজিল্যান্ড। ৩ সিরিজে খেলেছে ১৩টি ম্যাচ। জানুয়ারিতে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে ৫ ম্যাচের সিরিজে হারিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। সবশেষ এপ্রিলে পাকিস্তানে ফিরতি সফরে সিরিজ ড্র করে ২-২ ব্যবধানে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়)। এর মাঝে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের হোম সিরিজে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা পায়। তবে বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে আড়াল উইলিয়ামসনরা। ওয়ার্ম-আপ ম্যাচের সূচিতে নেই তাদের কোনো খেলা।

অভিযান শুরু ৮ জুন

গ্রুপ পর্বে অচেনা প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। আগামী ৮ জুন আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের ভেন্যুর গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে মাত্র এক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। ‘সি’ গ্রুপে কিউইদের দ্বিতীয় ম্যাচ ১৩ জুন, ত্রিনিদাদে ব্রায়ান লারা একাডেমিতে। প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয় ১০টি এবং হার ৪টি। টাই হয়েছিল ৩ ম্যাচ। যার মধ্যে সুপার ওভারে ১টিতে জয় এসেছে, অপর ২টিতে ছিল হার। ফল হয়নি অবশিষ্ট ২ ম্যাচে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ উগান্ডা এবং পাপুয়া নিউগিনি। যাদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে কিউইরা।

প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সাক্ষী নিউজিল্যান্ড। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের ছোট এই সংস্করণের

ম্যাচ: ২১৬

জয়: ১০৯

হার: ৯০

পরাজয়: ১০

পরিত্যক্ত: ৭

র‌্যাঙ্কিং: ৫

গ্যারি স্টিড, প্রধান কোচ

আপনি যখন বিশ্বকাপে যান, দলে অভিজ্ঞতা চান এবং এমন খেলোয়াড় চান যারা জানে এখানে কেমন লড়াই হবে। আমাদের এমন বোলার আছে যারা আমাদের সত্যিই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ প্রদান করে। বোলিং লাইনআপে বাঁহাতি, ডানহাতি, স্পিনারদের মধ্যে ভারসাম্য থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ভালো এবং স্মার্ট ক্রিকেট খেলি, তবে আশা করি এটা এমন একটি টুর্নামেন্ট হবে যা আমরা জিততে পারব। 


দল : কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মিচেল সান্তনার, ট্রেন্ট বোল্ড, লুকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ইশ সোধি ও সাউদি।

মুকুট পুনরুদ্ধার মিশনে ব্রাজিল

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১০:২৮ পিএম
মুকুট পুনরুদ্ধার মিশনে ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

১৯৩০ সাল থেকে যাত্রা শুরু বিশ্বকাপ ফুটবলের। তবে অবাক করার মতো বিষয়, লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই কোপা আমেরিকা শুরু হয়েছিল ১৯১৬ সাল থেকেই। সেই থেকে এই টুর্নামেন্টে খেলে আসছে ফুটবল বিশ্বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের শিরোপা সর্বোচ্চ ৫টি হলেও কোপায় অনেকটাই পিছিয়ে সেলেকাওরা। আগের ৪৭ আসরের মধ্যে ব্রাজিল শিরোপা জিতেছে ৯টি। সেখানে ১৫টি শিরোপা নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। 

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২১ জুন থেকে শুরু হয়েছে কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসর। কানাডার বিপক্ষে সহজ জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা মিশন শুরু করেছে। বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখানো দল ব্রাজিল দশম শিরোপা মিশনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকাল ৭টায়। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে পেলের দেশ মোকাবিলা করবে উত্তর আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার। ডি গ্রুপের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ে। এই ম্যাচ শুরু হবে একই দিন সকাল ৬টায়। 

২০১৯ কোপা আমেরিকা ফুটবলে পেরুকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। তবে সর্বশেষ আসরে সেই শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। ২০২১ কোপার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জিতেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। তারপর কাতার বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা রয়েছে দুর্দমনীয় গতিতে। মুকুট পুনরুদ্ধার করতে গেলে বড় চ্যালেঞ্জের সামনেই পড়তে হবে ব্রাজিলকে, তা সহজেই অনুমেয়। তবে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র শুরুতেই ট্রফিতে চোখ রাখছেন না। তার প্রথম লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব ভালোমতো পার হওয়া। তারপর নকআউটের চিন্তা। 

হেড টু হেডে কোস্টারিকার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ব্রাজিল। ১১ বারের মোকাবিলায় ব্রাজিলের জয় সিংহভাগ, ১০টি। একটিতে জয় কোস্টারিকার। কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে দুই দল মোকাবিলা করেছে দুই ম্যাচে। দুটিতেই জিতেছে ব্রাজিল, ২০০৪ (৪-১) ও ১৯৯৭ সালে (৫-০)। ব্রাজিলের বিপক্ষে কোস্টারিকার একমাত্র জয় সেই ১৯৬০ সালে প্যানামেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে। যেখানে সেলেকাওদের ৩-০ গোলে হারিয়েছিল কোস্টারিকা। দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ গত ২০১৮ বিশ্বকাপ। যেখানে ব্রাজিল জিতেছিল ২-০ গোলে। 

ব্রাজিল সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পায়নি। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করেছিল প্রথমবারের মতো ড্র (১-১)। তবে সেই ড্র দলটিকে হতাশায় ডুবাচ্ছে না। বরং মূল লড়াইয়ে দলটি থাকবে তেজোদীপ্ত, তা সহজেই অনুমেয়। দলটিতে রয়েছে এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। কোচ হিসেবে আছেন দরিভাল জুনিয়র। যিনি ফ্ল্যামেঙ্গোকে ২০২২ কোপা লিবার্তাদোরেস মুকুটে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দরিভালের অধীনে প্রাথমিক ফলাফলগুলো তার পূর্বসূরি ফার্নান্দো দিনিজের বিপর্যয় থেকে সামান্য উন্নতি করেছে। 

শক্তি-সামর্থ্যে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও লড়াকু মানসিকতায় প্রস্তুত কোস্টারিকা শিবির। কোচ গুস্তাভো আলফারোর কোচিংয়ে শেষ ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে কোস্টারিকা জিতেছে চারটিতে। হার একটি, সেটিও আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে। শেষ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি দলটি। শুরুতে গোল দেওয়া মানেই কোস্টারিকার জন্য পয়মন্ত। এমন ম্যাচে কমই হেরেছে দলটি। 

কনকাকাপ গোল্ড কাপে কোস্টারিকার শিরোপা তিনটি থাকলেও কোপাতে সাফল্যের ভাণ্ডার শূন্য। যদিও কোস্টারিকার জন্য এই টুর্নামেন্ট নিয়মিত নয়। লাতিন আমেরিকা থেকে আমন্ত্রণ জানালেই খেলতে পারে কোস্টারিকা। সেই হিসেবে কোপাতে খেলেছেই তারা পাঁচ আসরে। সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল (২০০১ ও ২০০৪)। এবার নিজ মহাদেশের পরিচিত আবহে অতীতের সাফল্য ছাড়িয়ে নতুন দিগন্ত পা রাখতে মরিয়া লস টিকোস শিবির। 

ব্রাজিল (সম্ভাব্য একাদশ)

অ্যালিসন, দানিলো, মারকুইনহস, মিলিতাও, ওয়েনডেল, গুইমারেস, লুইজ, রাফিনহা, পাকুয়েতা, রদ্রিগো, ভিনিসিউস জুনিয়র

কোস্টারিকা (সম্ভাব্য একাদশ)

সেকুইয়েরা, কাসকান্তে, ভারগাস, কালভো, কুইরোস, গালো, অ্যাগুইলেরা, মোরা, ক্যাম্বেল, জামোরা, কোনত্রেরাস

ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৮:২২ পিএম
ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়া
ছবি : সংগৃহীত

বহু সমীকরণ মেলানোর ম্যাচে কিছুক্ষণ পর মাঠে নামবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। সে ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ।

সোমবার (২৪ জুন) সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। এই ম্যাচের দিকে নজর থাকবে বাংলাদেশ দলেরও। অস্ট্রেলিয়াকে ৫৫ রানে ভারত হারাতে পারলে আগামীকাল আফগানিস্তানকে ৩১ রানে হারাতে পারলে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে সেমিফাইনালে।

টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘আমরা আগে ফিল্ডিং করবো। উইকেট দেখে ভালো মনে হচ্ছে। এই ম্যাচকে কোয়ার্টার ফাইনাল বলা চলে, ভারতের বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছি। এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আগেও বহুবার হয়েছি আমরা। প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে। আমাদের গ্রুপটা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। স্টার্কের পরিবর্তে আজ একাদশে জায়গা পেয়েছে অ্যাস্টন আগার।’

অন্যদিকে টস হেরে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘আমরাও ফিল্ডিং করতে চেয়েছিলাম। পিচ কিছুটা আর্দ্র মনে হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য তাড়া করতে চেয়েছিলাম। নিজেদের কাজ সম্পর্কে আমরা সচেতন আছি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আশা করছি এই পিচ খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। ওভারহেড কন্ডিশন একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বিশ্বের এই প্রান্তে। আমরা ভালোই মানিয়ে নিয়েছি। আশা করছি এই ম্যাচেও আমরা নিজেদের সেরাটাই দিবো। এই টুর্নামেন্টে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। দলে কোনো পরিবর্তন নেই, আগের একাদশ নিয়ে মাঠে নামছি আমরা।’

শুভ জন্মদিন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
ছবি : সংগৃহীত

কেউ বলেন এলিয়েন, কেউবা ভিনগ্রহের ফুটবলার। বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্তুর লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিশেষণের শেষ নেই। ক্লাব থেকে শুরু করে জাতীয় দল আর্জেন্টিনা, সবখানেই মেসির আলোকময় উপস্থিতি। কাঁড়ি কাঁড়ি গোল আরও রেকর্ডে মোড়ানো বর্ণিল ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতা লিওনেল মেসিকে তাই অনেকে বলেন, GOAT, গ্রেটেস্ট অব অল টাইম। আর্জেন্টিনার খুদে এই ফুটবল জাদুকরের আজ জন্মদিন। ৩৭-এ পা রাখা লিওনেল মেসিকে নিয়ে খবরের কাগজের দুই পর্বের বিশেষ আয়োজন। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

‘মেসিকে নিয়ে কিছু লিখো না। তাকে বর্ণনা করার চেষ্টাও করো না। শুধু তার খেলা দেখ এবং উপভোগ করে যাও’ 
-পেপ গার্দিওলা 

বাঁ পায়ের জাদু। সেটা অপার্থিব নাকি মায়াবী বিভ্রম। কেউ বলে ঐশী দক্ষতা, কেউবা বলে অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা। সবুজ গালিচায় সর্পিল গতিতে তার আঁকাবাঁকা চলা মুগ্ধতার রেণু ছড়ায়। সঙ্গে ওলটপালট হয় রেকর্ড বুক। কত গোল, কত ট্রফি, কত কীর্তি, রোসারিও থেকে বার্সেলোনা, টিস্যু পেপারে সাইন করা থেকে ভুবন মাতানো এক ফুটবলার- লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে পর্যন্তও মেসির নামের পাশে ছিল নানা বিশেষণ। কিন্তু সবই ছিল অর্থহীন। সর্বকালের সেরার প্রশ্নে গুটিয়ে যেত তর্কে জড়ানো মেসি ভক্তরা। কারণ মেসির শোকেসে ছিল না আকাশি-নীল জার্সিতে একটি সোনালি ট্রফি। মেসির মনের উঠোনজুড়ে তাই ছিল বিশাল অঙ্কের আঁকিবুঁকি। হিসাবটা তাই তিনি মেলালেন মরুর বুকে কাতারের ঐতিহাসিক লুসাইল স্টেডিয়ামে। ভক্তদের মনে রোমাঞ্চের কাঁপন তুলে জিতলেন পরম আরাধ্যের বিশ্বকাপ। মেসির হাতে বিশ্বকাপ দিয়ে যেন দায়মুক্ত হলো ফুটবলও। 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতার পর লুসাইল স্টেডিয়ামে প্রিয় বন্ধু সার্জিও আগুয়েরোর কাঁধে লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত

একটি বিশ্বকাপের জন্য কত হাপিত্যেশ ছিল এই মেসির, তা সবারই জানা। ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৯০, মেসির কাঁধে চড়ে ২০১৪। দুই বিশ্বকাপের ফাইনালেই জার্মান মেশিনে বিকল হয়েছিল আর্জেন্টিনা।  ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর দুবার কোপা আমেরিকার খেতাব মিস। পেনাল্টি মিসে সূর্যাস্ত। অভিমান-দুঃখে অবসরও নিয়েছিলেন মেসি। তবে শেষ সেখানেই নয়। হেরে যাওয়ার মুহূর্ত থেকে যারা চ্যাম্পিয়নের সরণিতে ফিরে আসেন, তারাই প্রকৃত লিজেন্ড। মেসিও যেমন তাই। কাতার বিশ্বকাপ জিতে মেসি প্রমাণ করেছেন, তিনি ভিনগ্রহের ফুটবলার। আধুনিক ফুটবলের হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা।

অথচ কে জানত, ভাগ্য আরেকটু বিরূপ হলেই মেসি নামের কোনো ফুটবলারকেই হয়তো চিনত না বিশ্ব। দশ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যায় ধরা পড়া মেসি ছোট্ট দুটি পায়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাব। কিন্তু উচ্চতা না বাড়লে ফুটবল খেলতে পারবে না, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল ঢের। এই রোগের যে চিকিৎসা ব্যয়ভার তা মেটাতে পারেনি নিওয়েলস বয়েজ কিংবা আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব রিভারপ্লেটও। কারণ প্রতি মাসে মেসির চিকিৎসার জন্য দরকার হতো ৯০০ মার্কিন ডলার। একপর্যায়ে মেসিকে নিয়ে হালই ছেড়ে দিয়েছিল তার পরিবার। কিন্তু যার কপালে বিশ্বজয়ের রাজটিকা, তাকে রুখতে পারে কে! এগিয়ে আসে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। ২০০০ সালে ঐতিহাসিক ন্যাপকিন চুক্তিতে অসামান্য এই প্রতিভাকে নিজেদের করে নেয় বার্সা। সঙ্গে মেসির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব। বাকিটা ইতিহাস।

কিন্তু মেসির এই ঝলমলে ক্যারিয়ারের পথ-পরিক্রমা মোটেও সহজ ছিল না। এসেছে নানা বাধা-বিপত্তি। তবে লক্ষ্য অটুট থাকলে সবকিছুই সম্ভব। মেসি তা প্রমাণ করেছেন। যেখানে ভাগ্যটাও পাশে পেয়েছেন তিনি, সঙ্গে ছিল বাঁ পায়ের ঐশ্বরিক জাদু। আর হার না মানার মানসিকতা। শুনুন মেসির মুখেই, ‘আর্জেন্টিনা থেকে একটা স্বভাব আমি আমার সঙ্গে এনেছিলাম, সেটা হলো পরাজয়ের প্রতি ঘৃণা। পরাজয়; সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, আমি মানতে পারি না। এখন মনে হয়, ছোটবেলায় আমরা যখন রাস্তায় ফুটবল খেলতাম, তখন ভাই-কাজিনরা মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে হেরে যেত। তারা আমাকে জিতিয়ে দিত। কারণ জানত, আমি হেরে গেলে তাদের কপালে দুঃখ আছে। ১৩ বছর বয়সে যখন এখানে (ন্যু ক্যাম্প) খেলা শুরু করলাম, তখনো আমি হার মানতে চাইতাম না। সতীর্থরা যখন হেরে গিয়েও মেনে নিত, আমার কাছে খুব অবাক লাগত।’

মেসি নামের শব্দটি শুনলেই এখন সবার চোখে ভাসে আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর রোসারিও। শহরের দক্ষিণে ব্যারিও লাস হেরাস পাড়া। ছিমছাম সবুজেঘেরা একটি বাড়ি। কিন্তু ফুটবল খেলার জায়গার অভাব। দুই বেড়ার মাঝে খানিকটা ফাঁকা জায়গায় ফুটবল নিয়ে মেতে উঠত ছোট্ট এক ছেলে। কিন্তু সেখানে জমত না খেলা। শুকনো, কাঁচা রাস্তাই ছিল ভরসা। দুই পাশে গোলপোস্টের কোনো রকম চিহ্ন এঁকে চলত ফুটবল খেলা। 

শিশু মেসি। ছবি : সংগৃহীত

মেসির বয়স যখন তিন কিংবা চার বছর, জন্মদিনে উপহার পেয়েছিলেন একটি ফুটবল। যে ফুটবল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল ছোট্ট শিশুটির। জন্মদিন এলেই মেসি অপেক্ষা করতেন নতুন ফুটবলের জন্য। এ প্রসঙ্গে একবার মেসি বলেছিলেন, ‘খুব ছোটবেলায় আমি আমার প্রথম ফুটবলটা পেয়েছিলাম। তখন কতই-বা বয়স, তিন বা চার। কে যেন উপহার দিয়েছিল। সেদিন থেকে যেকোনো উপলক্ষে আমি একটা উপহারই চাইতাম- ফুটবল, হোক সেটা বড়দিন বা জন্মদিন। আমি ফুটবল জমাতাম। ঘরের বাইরে নিতাম না, যদি কেউ নষ্ট করে ফেলে, সেই ভয়ে।’

বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি কাজ করতেন স্টিল ফ্যাক্টরিতে। মা সেলিয়া মারিয়া পার্ট টাইম ক্লিনার। বড় দুই ভাই রদ্রিগো ও মাতিয়াস, ছোট বোন মারিয়া সল। পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্র্যান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন। মেসির কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে। এই ক্লাবের হয়ে মেসির পরিবারের অনেকেই খেলেছেন। স্মৃতি বেশ সতেজ মেসির, ‘আমার বাবা ছিলেন ক্লাবের কোচ। রবিবার সারা দিন কাটত গ্র্যান্দোলির সঙ্গে। পুরো পরিবার মিলে খেলতাম। হয়তো আমি খেলছি, বিপক্ষ দলে বড়দের মধ্যে আমার চাচাও আছেন। এভাবেই কেটে যেত সারা দিন।’ 

একেক দলে তখন খেলত সাতজন করে। মেসির প্রথম ম্যাচ খেলার ঘটনা সবার জানা। মেসির মুখেই শুনন তা, ‘প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম আমার দাদির কারণে। গ্র্যান্দোলির দলে আমার মতো ছোট্ট ছেলের জায়গা ছিল না। এক দিন বড় একজনকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে দাদি আমাকে এগিয়ে দিলেন। কোচ শুরুতে রাজি ছিলেন না, পরে আপত্তি করেননি।’ ছোট্ট মেসির ড্রিবলিং দেখে সেই কোচের চোখ ছানাবড়া। চোখের নিমিষেই মেসির অসাধারণ সব কারিকুরি নজর কেড়েছিল সবার।

২০০৪-২০২১ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছর খেলেছেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সিতে। ছবি : সংগৃহীত

কোনো ফুটবলার মেসির নায়ক ছিলেন না। তবে ভক্ত ছিলেন ম্যারাডোনার। ভবিষ্যতে কী হতে চাও, এমন প্রশ্নে ছোট্ট মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চাই, সব আর্জেন্টাইনের মতো আমিও ম্যারাডোনার ভক্ত ছিলাম। মুগ্ধ হয়ে তার খেলার ভিডিও দেখতাম, সেই স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। পাবলো আইমার যখন প্রথম এলেন, তার খেলাও খুব ভালো লাগত। কিন্তু তারা কেউ আমার আদর্শ ছিলেন না। ভাই আর কাজিনদের সঙ্গে রাস্তায় খেলে আমি বড় হয়েছি। তাদের দেখেই শিখেছি। আমার পরিবার আমাকে বাঁচার কৌশল শিখিয়েছে, কিন্তু ফুটবলের কৌশল আমি শিখেছি নিজে নিজে।’

গ্র্যান্দোলির সঙ্গে বছর দেড়েক থাকার পর নিওয়েলসের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন মেসি। সমস্যা বাধে সেখানেই। ১১ জনের দলে আর সবার চেয়ে মেসি ছিলেন অপেক্ষাকৃত ছোট। কিন্তু প্রসঙ্গ যখন ফুটবল, এই ঘাটতি কখনোই মেসিকে ভাবাত না। কিন্তু খেলা শুরুর আগে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা তাকিয়ে থাকতেন, তাতে অস্বস্তি বাড়ত তার। কিন্তু খেলা শুরু হলে মেসির পায়ে বল আসার পর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেত সবার।

ঠিক কী কারণে মেসির আকৃতি ছোট। নিওয়েলস তাই মেসিকে পাঠাল ক্লিনিকে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানালেন, মেসির শরীরে একটা অবর্ধনশীল হরমোন আছে। মেসি বেড়ে উঠছিলেন, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরগতিতে। ডাক্তার বললেন, চিকিৎসা নিলে মেসি অন্যান্য ছেলেমেয়ের মতো বেড়ে উঠতে পারবে। যখন চিকিৎসা শুরু হলো, মেসির বয়স বড়োজোর ১১ কি ১২। প্রায় এক বছর চিকিৎসার ব্যয় মেসির বাবা বহন করেন। মাসে ৯০০ মার্কিন ডলারের খরচ কুলিয়ে উঠতে পারেনি মেসির পরিবার। দুঃসময়ের মুখোমুখি তখন হোর্হে। তখনই এগিয়ে আসে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। ঐতিহাসিক ন্যাপকিন চুক্তিতে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেন মেসি। রোসারিও ছেড়ে মেসির পরিবারের নতুন ঠিকানা বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্প। 

চলবে....

নতুন সমীকরণ শুধুই সান্ত্বনার!

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:৪২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:৪২ পিএম
নতুন সমীকরণ
শুধুই সান্ত্বনার!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্ত্রীক বাংলাদেশের খেলা দেখতে অ্যান্টিগা গিয়েছেন কাজী আজিজ মামুন। দুটি খেলাতেই বাংলাদেশ বাজেভাবে হেরে আসর থেকে বিদায়ের পথে। কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ে আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেমিতে খেলার। কিন্তু সেখানে আছে যদি-কিন্তুর হিসাব। কাজী আজিজ মামুন তাই ভেবে পাচ্ছেন না বাংলাদেশের খেলা দেখতে সেন্ট ভিনসেন্ট যাবেন কি না? তার মাঝেও যদি-কিন্তুর হিসাব বিরাজ করছে?

বাংলাদেশের জন্য যদি আর কিন্তুর হিসাবটা কী? হিসাবটা কিন্তু সহজ নয়। আফগানিস্তানকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে আবার অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে ভারতের কাছে। যদি এই সমীকরণ মিলে যায়, তাহলে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তানের পয়েন্ট সমান ২ করে হয়ে যাবে। তখন বিবেচনায় আসবে নিট রাট রেট। এখানে কিন্তু বাংলাদেশ আবার বেশ পিছিয়ে। নিজ নিজ শেষ খেলায় নামার আগে নিট রান রেট বাংলাদেশের -২.৪৮৯, আফগানিস্তানের -০.৬৫০, অস্ট্রেলিয়ার ০.২২৩। কাজেই বাংলাদেশকে জিততে হবে বড় ব্যবধানেই!

এই জয়টা কাদের কাছে প্রত্যাশা করা হচ্ছে? এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে খেলা খেলছে, তা তাদের নিয়ে গেছে ২০ বছর আগের জমানায়। যখন হারকে মেনে নিয়েই খেলতে নামত। মাঝে মাঝে পাওয়া জয় ছিল আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। সুপার এইটে উঠতে পারাটাই যাদের কাছে সুখ নিবাস। যাদের কোনো লক্ষ্যই নেই সেমিতে খেলার, স্বয়ং কোচের কথায় কোনো কিছু পাওয়া বোনাস, এমন একটি দলের কাছে সেমিফাইনাল খেলার প্রত্যাশা করাটা কতটা যুক্তিসংগত?

যদি লক্ষ্য অটুট থাকে, তাহলে অর্জন সম্ভব। কিন্তু লক্ষ্যই যদি না থাকে, তাহলে যাবে কত দূর? কোচ জানিয়েছেন সুপার এইট নিয়ে তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। যা পাওয়া যাবে তাই বোনাস। তাওহীদ হৃদয় আবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর বলেছিলেন, এই দল নিয়ে তারা ফাইনাল পর্যন্ত খেলার প্রত্যাশা করেন।

নেপাল আর নেদারল্যান্ডস দলের বিপক্ষে জয়ে সাকিবের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটারের কণ্ঠ থেকে সুখের আওয়াজ বের হয়েছে। অধিনায়ক নাজমুল দেশ ছাড়ার আগে জানিয়ে এসেছেন তাদের কাছে কোনো কিছু প্রত্যাশা না করতে? তাহলে এমন একটি দল কি আফগানিস্তানকে হারিয়ে যদি আর কিন্তুর হিসাবে নিজেদের দাঁড় করাতে পারবে?
বাংলাদেশ কি আসলেই আফগানিস্তানকে হারানোর মতো পর্যায়ে আছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ঢের শক্তিশালী। এই বিশ্বকাপে তারা খেলছে দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে নেপাল-নেদারল্যান্ডসকে হারানোর মাঝে সুখ পাওয়া বাংলাদেশ দল সেমিতে যাওয়ার সমীকরণে শামিল হয়েছে সুপার এইটের কোনো ম্যাচ না জিতেই। 

আফগানিস্তান গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে সুপার এইটে আসার পর সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিতে যাওয়ার লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এমন আফগানিস্তানকে হারানো সম্ভব? বাজি ধরতে গেলে বাংলাদেশের পক্ষে লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে।

সুপার এইটে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচের কথাই ধরা যাক। ভারতের ৫ উইকেটে করা ১৯৬ রান তাড়া করে জেতার মনমানসিকতা কখনোই ছিল না বাংলাদেশ দলের মাঝে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান করে বল হাতে প্রতিটি ক্ষণেই ছিল আফগানদের জয়ের অদম্য স্পৃহা। এবারের আসরে তারাই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করেছে। আফগানদের লড়াকু খেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় অনেকেই তাদের নাম লিখে রেখে দিয়েছেন।

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে দুই দল যখন খেলতে নামবে, তখন ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়া জিতে গেলে বাংলাদেশের সামনে তখন আর কোনো সমীকরণ থাকবে না। শুধু আফগানদের সমীকরণ মেলাতে হবে। আর যদি অস্ট্রেলিয়া হেরে যায়, তখন বাংলাদেশও সমীকরণ মেলানোর সুযোগ পাবে। নতুন যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য আসলে এটা শুধুই একটা সমীকরণ। এর কোনো ফায়দাই তারা নিতে পারবে না বা নেওয়ার মতো দলও নয়। টেস্ট বা ওয়ানডে ক্রিকেটে আফগানদের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে থাকলেও টি-টোয়েন্টিতে বিপরীত। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ভগ্ন অবস্থা, আফগানরা লড়াকু। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়েও আফগানদের কাছে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ১১ বারের মোকাবিলায় আফগানদের জয় ৬টিতে, বাংলাদেশের জয় ৫টিতে।

বাংলাদেশ সুপার এইটে এসেছে বোলারদের একতরফা সাফল্যে। ব্যাটারদের ভয়াবহ ব্যর্থতায় নিজেদের নিংড়ে দিয়ে এক একটি জয় দলকে এনে দিয়েছেন বোলাররা। সুপার এইটে এসেও ব্যাটাররা নিজেদের ফিরে পাননি। কিন্তু বোলাররা আর নিজেদের গ্রুপ পর্বের মতো ধরে রাখতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের সে অবস্থা ফুটে উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়া ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জয়ী হলেও বাংলাদেশের ৮ উইকেটে করা ১৪০ রান বৃষ্টির আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১১.২ ওভারে ১০০ রান। অর্থাৎ ওভারপ্রতি রান ছিল ৯-এর কাছকাছি। আর ভারত আগে ব্যাট করে রান করেছিল ওভার দশের কাছাকাছি। বোলাররা যদি নিজেদের গ্রুপ পর্বের মতো ফিরে পান আর আফগান ব্যাটারদের অল্প রানে আটকে রাখতে পারেন, তখন হয়তো ব্যাটাররা একটা কিছু করার সুযোগ পাবেন? কিন্তু সেখানেও কথা আছে। বোলাররা কত রানের টার্গেট দিলে, ব্যাটারদের জন্য ভালো হবে? এরও কোনো সঠিক জবাব কিন্তু নেই। কারণ বাংলাদেশের ব্যাটারদের লিমিট যে ১২০-১৩০ থেকে ১৪০ পর্যন্ত। আবার আফগানদের পেস ও স্পিন মিলিয়ে যে দুর্ধর্ষ বোলিং আক্রমণ। এমন আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের নড়বড়ে ব্যাটিংলাইন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটাই বিরাট প্রশ্ন?
তাই বলা যায়, নতুন এই সমীকরণ বাংলাদেশ দলের জন্য শুধুই সান্ত্বনার!

বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ ব্যাটিং

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৫:০০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫১ পিএম
বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ ব্যাটিং
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘টাইমড আউট’-র ঘটনার পর দুই দেশের ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এর আগে তা ছিল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে শুরু। এরপর থেকে যখনই যেখানে হোক, দুই দল খেলতে নামার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তপ্ত হয়ে উঠত। যার রেশ খেলোয়াড়দের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ত বেশ। কিন্তু টাইমড আউটের ঘটনার পর বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের সেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়ে গেছে। সেটা এমনই যে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল জেতার মানসিকতাই ভুলে গেছে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থা এমনিতেই রুগ্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। এই অবনতি আবার সর্বজনীন নয়, শুধুই ব্যাটারদের ক্ষেত্রে। বর্তমান ব্যাটিং লাইন একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে তাদের সীমাদ্ধতা নিয়ে। তাদের কাছে বড় কোনো কিছু প্রত্যাশা না করতে। তাদের লিমিট ১২০-১৩০ থেকে ১৪০ পর্যন্ত। তা আগে-পরে যখনই ব্যাটিং করা হোক না কেন। পরে ব্যাট করে এর থেকে বেশি টার্গেট থাকলে তারা তাদের লিমিট ক্রস করবেন না। লিমিট মেনেই ব্যাটিং করবেন। সেখানে থাকবে না জয়ের কোনো মানসিকতা। বোলাররা যদি দয়াপরবশ হয়ে ১২০-১৩০ রানের টার্গেট দেন, সে ক্ষেত্রে তারা চেষ্টা করতে পারেন। যেমনটি তারা গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার ১২৪ রান কোনো রকমে পাড়ি দিয়েছেন। আবার দক্ষিণ আফ্রিকার ১১৩ রান পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশ্য তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না।

ব্যাটারদের সেই চেষ্টা আবার দেখা যায়নি ভারতের বিপক্ষে। সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫ উইকেট করেছিল ১৯৬ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান অতিক্রম করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে এই রান খুবই নিরাপদ। বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে আরও বেশি করে নিরাপদ, আরামদায়ক। বোলাররা আরামসে বোলিং করে যেতে পারেন। এভাবে শেষ হয়ে যাবে ২০ ওভার। পরে দেখা যাবে তাদের জয়ের ব্যবধান বেশ।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উইকেট আর বাংলাদেশ দলের সীমাবদ্ধ ব্যাটিং এই দুইয়ে মিলে ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই যেন ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায়। আর এই ধারণার বাস্তবায়ন হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বাংলাদেশ দল ব্যাটিং করতে নামার পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় রান তাড়ায় কোনো ইচ্ছেই নেই তাদের। বাংলাদেশ দলের মনমানসিকতা ছিল ২০ ওভার খেলে দলের রান বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হারের ব্যবধান যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৮ উইকেটে ১৪৬ রান করে হার মেনেছিল ৫০ রানে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫০ রানের হার কিন্তু অনেক বড় ব্যবধান।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং ছিল এক রকম। যেখানে ফুটে উঠেছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। আর ভারতের বিপক্ষে ফুটে উঠেছে সীমাবদ্ধতা। এত রান তাড়া করে জয়ের সক্ষমতা নেই এই দলের। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে কিন্তু মড়ক লাগেনি। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৫ রান। দলীয় শতরান আসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪ ওভারের মাঝে। কিন্তু কখনই কারও মাঝেই জয়ের অদম্য ইচ্ছে দেখা যায়নি। এ যেন পশ্চাৎপদ ব্যাটিং। এমন নেগেটিভ ব্যাটিং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কবে করেছে, তার জন্য পরিসংখ্যানে চোখ বুলাতে হবে। বোলাররা যখন নিজেদের মেলে ধরে সেরা দশে ঢুকে গেছেন। ১১টি করে উইকেট নিয়ে নাম আছে তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেনের, সেখানে ব্যাটারদের অবস্থান তলানির দিকে। ৬ ম্যাচ খেলে শতরানের ওপরে করেছেন মাত্র তিনজন নাজমুল (১০৭), তাওহীদ হৃদয় ( ১৩৯) সাকিব আল হাসান (১১১)।

এমন নেগেটিভ ব্যাটিং নিয়েই বাংলাদেশ দল সেমি ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ মেলাতে দুর্ধর্ষ আফগান বোলারদের সামনে নামবে। আফগানরা যদি আগে ব্যাট করে ১৫০ এর ওপরে রান করে, তাহলে বাংলাদেশের খেলা শেষ। আর বোলাররা যদি আফগানদের অল্প রানে আটকে রাখতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ব্যাটাররা একটু চেষ্টা করতে পারেন?