হংকংয়ের সফল টেক উদ্যোক্তা জর্ডান ফুং চুং। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মিডিয়ার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পেডোসার প্রতিষ্ঠাতা। জর্ডান যখন পেডোসা প্রতিষ্ঠা করেন তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। তারও আগে ২০১২ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে চালু করেছিলেন ই-লার্নিং এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম। সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি এই তরুণ কিশোর-তরুণদের স্টার্ট-আপ বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনেকেরই ধারণা, কিশোর বয়সে উদ্যোক্তা হতে মা-বাবার প্রচুর অর্থ থাকতে হয়। কারণ নতুন একটি স্টার্ট-আপ কোনোভাবেই মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ ছাড়া সম্ভব নয়। তবে প্রচলিত এই ধারণা পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছিলেন জর্ডান ফুং চুং। প্রযুক্তির প্রতি কৌতূহল ও ভালোবাসাকেই জর্ডান কাজে লাগিয়েছিলেন বিনিয়োগের সম্বল হিসেবে। জর্ডানের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন প্রথম পরিবারের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার উপহার পান। তখন থেকেই কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে বুঝতে উন্মুখ হয়ে পড়েন তিনি। অনলাইনের সাহায্য নিয়ে শিখতে শুরু করেন বিভিন্ন প্রোগ্রামিং, কোডিং। প্রারম্ভিক শিক্ষার্থী হিসেবে বালক জর্ডানের জন্য অনলাইনে শিক্ষার উপাদান ছিল অপর্যাপ্ত। তিনি ভাবেন, তার মতো হয়তো এমন অনেক কিশোর-তরুণ নিশ্চয় অনলাইনে প্রোগ্রামিং, কোডিং শেখার প্রয়োজনীয় উপাদান খুঁজে পান না। এই ভাবনা থেকে ৯ বছর বয়স থেকে শুরু করেন প্রযুক্তিগত কাজে আগ্রহী নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার কাজ। ২০১২ সালে সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করেন প্রোগ্রামিং, কোডিংসহ অনলাইন দক্ষতা অর্জনের প্ল্যাটফর্ম ‘জিএলএমইটি’।
বয়সে ছোট হওয়ায় তার এই উদ্যোগ প্রথমে সাড়া পায়নি। তবে দমে যাননি জর্ডান। স্বেচ্ছাসেবক পেতে বিভিন্ন ডেভলপার ও সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শুরু করেন অনলাইন ক্যাম্পেইন। কিছুদিনের মধ্যেই সাড়া পড়ে যায় তার নতুন ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে। ১০০ স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় গড়ে তুলেন নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সফল ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম।
প্রথম সফলতার পর উৎসাহ ও স্বপ্ন আরও বেড়ে যায় জর্ডানের। এবার হাতে নেন কিশোর তরুণদের জন্য প্রযুক্তির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রকল্প। যেখান থেকে কিশোর ও তরুণ টেক উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিগত গবেষণা, নির্মাণ ও সহায়তা পাবে। জর্ডানের ১৪ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠিত টেক প্রতিষ্ঠান আজ আমেরিকা, হংকং , যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করে যাচ্ছে।
জর্ডান মনে করেন, কিশোর ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সামাজিক ট্যাবুই কাজের সবচেয়ে বড় বাধা। হংকংয়ে ১৮ বছর বয়সের আগে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া যায় না। কিন্তু জর্ডান নিজেই ১৪ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন টেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। কিশোর উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকের সহায়তা পেতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো তাকে। কিশোর ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জর্ডান স্বপ্ন দেখেন কিশোর ও তরুণেরা প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়। বরং নির্মাতা হিসেবেই বেশি পরিচিত হবে।