একবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বলিভিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দলের কাছে হেরে গেল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো দল। কীভাবে তা সম্ভব হলো? কারণ, সেবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলা হচ্ছিল বলিভিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী লাপাজে।
লাপাজ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত রাজধানী। ফলে সেখানে নিঃশ্বাস নেওয়াটা কষ্টকর। যারা সেই পরিবেশে থেকে অভ্যস্ত, তাদের জন্য ব্যপারটা অবশ্য ততটা কঠিন নয়। আর ঠিক সেই কারণেই সেবার বলিভিয়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে পেরেছিল! পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে লাপাজে বিশ্বকাপ খেলার বাছাইপর্বের আসর অনুষ্ঠিত হওয়াই বন্ধ করার ঘোষণা আসে। কিন্তু প্রতিবাদের কারণে তা বাতিল হয়।
সর্বশেষ গত বছর আর্জেন্টিনা অবশ্য লাপাজের স্টেডিয়ামে খেলেই বলিভিয়াকে হারিয়েছিল। পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে তারা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অক্সিজেন মাস্ক।
১৫৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ শহরের পুরো নাম ‘নয়েস্ত্রা সেনিওরা দ্য লা পাজ’; যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আওয়ার লেডি অব পিস’। চোকুইয়াপু নদীর উপত্যকায় অবস্থিত এই শহরেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিমানবন্দর অবস্থিত।
লাপাজ এত উঁচুতে অবস্থিত বিধায় সেখানে সচরাচর আগুন লাগে না, লাগলেও তা দ্রুত ছড়ায় না। ফলে সেখানকার ফায়ার সার্ভিস অফিসের লোকেরা নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাতে পারেন। এ নিয়ে অনেকে রসিকতাও করেন।
লাপাজে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতার মহানায়ক সিমন বলিভারের বিশাল ভাস্কর্য। তিনি অনেক দেশকে ঔপনিবেশিক পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা অর্জনে সহযোগিতা করেছিলেন।
লাপাজের দেয়ালে দেয়ালে চে আর্নেস্তো গ্যেভারার ছবি দেখে মুগ্ধ হবেন অনেকেই। বলিভিয়ার মানুষের জন্য তিনি যে আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই সম্মানেই তাকে এভাবে শহরজুড়ে ফুটিয়ে রাখা হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সে এই বলিভিয়াতেই শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হন চে। বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ শহরের লা হিগুয়েরাতে বনের মধ্যে একটা স্কুলঘরে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কয়েক দশক পর বলিভিয়ার বধ্যভূমি থেকে চে-র দেহাবশেষ উত্তোলন করে কিউবার সান্তা ক্লারা শহরে সমাহিত করা হয়। আজও চে-কে মনে রেখেছেন লাপাজ কিংবা বলিভিয়ার মানুষ।
তারেক
.jpg)