জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর, চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার পূর্ব দিকে উত্তরে ওখোৎস্ক সাগর থেকে দক্ষিণ পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান পর্যন্ত প্রসারিত।
ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার দ্বীপ নিয়ে জাপান গঠিত। যে কাঞ্জি অনুসারে জাপানের নামটি এসেছে, সেটির অর্থ ‘সূর্য উৎস’। জাপানকে ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ বলে অভিহিত করা হয়।
নারুহিতো জাপানের বর্তমান সম্রাট। তিনি ১৯৬০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সাবেক সম্রাট আকিহিতো স্বাস্থ্যগত কারণে সিংহাসন ত্যাগ করার পর ২০১৯ সালের ১ মে তিনি সম্রাট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। সে বছরই ২২ অক্টোবর এক জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাপানের সিংহাসনে তার আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়।
জাপানের সম্রাটের অতি প্রাচীন তিনটি রাজকীয় সম্পদ আছে, যা রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক। এ তিন সম্পদ কাউকে দেখতে দেওয়া হয় না। এগুলো হচ্ছে একটি আয়না, একটি তলোয়ার এবং একটি মূল্যবান পাথর।
রহস্য ও গোপনীয়তা
এই তিনটি বস্তু কীভাবে জাপানের সম্রাটের রাজকীয় ঐশ্বর্যের মর্যাদা পেল- সে ইতিহাস কঠোর গোপনীয়তায় ঘেরা।
শিন্টো ধর্মমতে, অতীত এবং মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী অশরীরী আত্মার সঙ্গে সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি রাজকীয় সম্পদ এরই একটা অংশ।
মনে করা হয়, জাপানের সম্রাটরা ঈশ্বরের বংশধর এবং দেবতারাই এগুলো তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছেন। এগুলো এতই পবিত্র যে, জাপানের বিভিন্ন মন্দিরে সর্বদা লোকচক্ষুর অন্তরালে এসব রাখা হয়। এমনকি জাপানের সম্রাটও কখনো এগুলো দেখেননি।

ইয়াতা নো কাগামি: পবিত্র আয়না
মনে করা হয়, এই আয়না ১ হাজার বছরেরও বেশি পুরানো এবং এটি রাখা হয়েছে ইসে জিঙ্গু মন্দিরে। সম্রাটের রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই সবচেয়ে মূল্যবান।
জাপানি উপকথায় বলা হয়, আয়নার স্বর্গীয় ক্ষমতা আছে এবং তা সত্য প্রকাশ করতে পারে।
জাপানের প্রাচীন ইতিহাস অনুযায়ী ইয়াতা নো কাগামি নামের এই আয়না তৈরি করেছিলেন দেবতা ইশিকোরিদোম। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সূর্যের দেবী আমাতেরাসুর নাম।
কুসানাগি নোৎসুরুগি: পবিত্র তলোয়ার
এর অর্থ হচ্ছে ‘ঘাস কাটা তলোয়ার’ এবং সম্ভবত এটা রাখা আছে নাগোইয়ার আৎসুতা মন্দিরে। একে ঘিরে কাহিনি রয়েছে যে, আটটি মাথাওয়ালা এক মানুষখেকো সাপের লেজে এই তলোয়ার ছিল।
সমুদ্র ও ঝড়ের দেবতা সুসানু ওই সাপকে কৌশলে মদ্যপান করিয়ে মাতাল করে তাকে হত্যা করেন এবং তার লেজ কেটে ভেতর থেকে ওই তরবারি বের করেন। গুজব রয়েছে—আসল তলোয়ারটি দ্বাদশ শতাব্দীতে এক যুদ্ধের সময় সমুদ্রে পড়ে হারিয়ে গেছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, এখন যেটি আছে তা নকল। তারও একটি নকল রাজার অভিষেকে ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৯ সালে সম্রাট আকিহিতোকে একটি বাক্সে করে এই তলোয়ার দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, কিন্তু তা কখনো খোলা হয়নি।
ইয়াসাকানি নো মাগাতামা: পবিত্র রত্ন
মাগাতামা হচ্ছে এক রকম খোদাইয়ের কাজ করা ছিদ্রবিশিষ্ট পাথর- যা দিয়ে মালা বানানো যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১০০ সাল থেকে জাপানে এরকম পাথর তৈরি হতো। বলা হয়, ইয়াসাকানি নো মাগাতামা হচ্ছে এমন একটি নেকলেসের অংশ যা দেবী আমে-নো-উজুমের জন্য বানিয়েছিলেন তামানুয়া-নো-মিকোতো।
বলা হয়, এটি সবুজ জেড পাথরের তৈরি এবং রাজকীয় ধনরত্নের মধ্যে এটিই একমাত্র- যার আসলটিই এখনো টিকে আছে। এটি রাখা আছে টোকিওর রাজকীয় প্রাসাদে।
জাপানের সম্রাটরা আমাতেরাসুর বংশধর বলে মানা হলেও, তারা এখন নিজেদের দেবতা বলে দাবি করেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপানের সম্রাট হিরোহিতো তার দেবতার মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন।
তারেক


.jpg)