ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড স্পেনের নীরব নায়ক ওইয়ারসাবাল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এমবাপ্পের এমবাপ্পে-বারকোলার গোলে ৪-০ থেকে ৪-৩, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পথে ফ্রান্স ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে ইংল্যান্ড সাকার গোল বাতিলের পরেও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের জালে ইংল্যান্ডের গোল ফ্রান্সের একাদশে ৭ পরিবর্তন, ইংল্যান্ডের বেঞ্চে বেলিংহাম-কেইনসহ ৭ জন মায়ামিতে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ পরিচালনায় ভেনেজুয়েলার রেফারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ট্রাম্পের সহায়তা চাইলেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতলেই ব্রোঞ্জ পদক, কত টাকা পাবে বিজয়ী দল? হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকট গুজরাটে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮ এবার চবি ছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা অধ্যাপক ভোলায় ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৩৪ বস্তা ভিজিএফের চাল উদ্ধার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ স্পোর্টস ভিলেজ গড়বে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিজয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের যাত্রী নিহত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের বংশালে পোশাক কারখানা থেকে কর্মীর মরদেহ উদ্ধার মাতামুহুরী নদী রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দশ প্রখ্যাত গ্রাফিক্স ডিজাইনারের শৈল্পিক স্বকীয়তা প্রকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতের হামলায় জেলে নিহত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আ.লীগ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের তৎপরতা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রবাসীদের জন্য আসছে ডেবিট সুবিধাসহ ‘প্রবাসী কার্ড’ ফের আর্চারির নেতৃত্বে চপল, এবার সভাপতির চেয়ারে পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা প্রথমবারের মতো বেসরকারি অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত পর্যটন কেন্দ্র ও পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেছেন সিলেটের নতুন ডিসি দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

রাবির নতুন রিকশা ভাড়া  তালিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
রাবির নতুন রিকশা ভাড়া  তালিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রিকশা ভাড়া নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাকসুর যৌথ উদ্যোগে নতুন একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পর তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রিকশা ভাড়ার এই নতুন তালিকা টানিয়ে দেয় প্রশাসন। একই সঙ্গে নির্ধারিত এই ভাড়া কার্যকর করতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিংও করা হয়েছে। এর আগে, ৫০ জন রিকশাওয়ালা নিয়ে গত ৪ জুলাই রিকশাচালক দের সঙ্গে প্রক্টর দপ্তরে মতবিনিময় করে রাকসু নেতারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দূরবর্তী গন্তব্যের তুলনায় কাছাকাছি দূরত্বের ক্ষেত্রে নতুন তালিকায় অস্বাভাবিক বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। কিন্তু নতুন এই তালিকা শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতিফলন না ঘটিয়ে উল্টো যাতায়াত খরচের বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে। যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কৌশিক কুন্ডু কাব্য থাকেন ক্যাম্পাস সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকায়। প্রতিনিয়ত যাতায়াতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 
কাব্য বলেন, আগে আমজাদের মোড় থেকে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনে আমরা দুজন রিকশায় আসলেও ২০ টাকা ভাড়া দিতাম। আর এখন বিনোদপুর গেট থেকেই ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকা দাবি করা হয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী এই ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত নন। রাকসুর উচিত ছিল সব হল থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া। এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা জানতেই পারলাম না কখন, কোন উপায়ে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো, এটি আসলেই হতাশাজনক।

রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত এবং রিকশাচালকদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা চান, শিক্ষার্থীরা পূর্বের যৌক্তিক ভাড়াই পরিশোধ করুক; কোনোভাবেই যেন এর চেয়ে কম বা বেশি ভাড়া নেওয়া না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩৬টি পয়েন্টে ভাড়া নির্ধারণ করা বেশ জটিল কাজ। যেসব পয়েন্টে ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, আমরা সেসব পয়েন্টের ভাড়া কমানোর জন্য পুনর্বিবেচনা করছি। খুব দ্রুতই নতুন একটি তালিকা দেওয়া হবে।

শাকিবুল হাসান/অন্তরা/

এবার চবি ছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা অধ্যাপক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ পিএম
এবার চবি ছাত্রীকে বিয়ে করলেন চীনা অধ্যাপক
ঝিহুয়া ঝাং ও সুমাইয়া আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

চীনা তরুণদের বাংলাদেশে এসে প্রেম কিংবা বিয়ের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে প্রতারণার অভিযোগও উঠে এসেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এরই মধ্যে ব্যতিক্রমী এক ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষার্থী ও হল সংসদের এজিএস সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করেছেন চীনা অধ্যাপক ঝিহুয়া ঝাং।

ঝিহুয়া ঝাং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং সুমাইয়া আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমাইয়া নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঝিহুয়া ঝাংও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের খবর প্রকাশ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনাড়ম্বর আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। 

সুমাইয়া আক্তার ক্যাম্পাসে পিঠা বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে একসময় আলোচনায় এসেছিলেন। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে নবাব ফয়জুন্নেসা হলের এজিএস নির্বাচিত হন।

অপরদিকে বর ঝিহুয়া ঝাং চীনের পূর্বাঞ্চলের শানদং প্রদেশের রাজধানী জিনানের বাসিন্দা। তিনি শানদং ইউনিভার্সিটির তাইশান ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর। ২০২৫ সালের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বেইজিং নরমাল ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণকালীন অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিয়ের ঘোষণা দিয়ে সুমাইয়া আক্তার জানান, বিয়ের আগে ঝিহুয়া ঝাং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

আল আরাফ/নাঈম

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
ছবি: খবরের কাগজ

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা থেকে বহিরাগত প্রবেশ ও যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে কার্যকর থাকবে পরদিন সোমবার ভোর পর্যন্ত। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষ্যে ১৯ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত অতিথিদের প্রবেশ এবং যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। 

বিজ্ঞাপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথসমূহ (শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেত) দিয়ে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন (অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড-শেয়ার, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং বাহন এবং অন্যান্য সরকারি যানবাহন) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।

অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কটি উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া গণপরিবহন ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ সর্বদা নিয়ন্ত্রিত থাকবে।’

উল্লেখ্য, আগামীকাল রবিবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। এতে মুখোমুখি হবে স্পেন এবং আর্জেন্টিনা।

আরিফ জাওয়াদ/এএফ

২৫ বছর পরও প্রাসঙ্গিক আহমদ ছফা, মূল্যায়নে প্রয়োজন গভীর পাঠ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
২৫ বছর পরও প্রাসঙ্গিক আহমদ ছফা, মূল্যায়নে প্রয়োজন গভীর পাঠ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী, প্রথাবিরোধী লেখক, চিন্তক ও ঔপন্যাসিক আহমদ ছফার মৃত্যুর ২৫ বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সৃষ্টিশীল এই মানুষটির স্মরণ সভাতে বাংলা সাহিত্যের সাহসী ও মৌলিক লেখক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাহিত্যানুরাগীরা।

ছফা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার প্রতিফলন তার রচনায় স্পষ্টভাবে উঠে। সময়ের পরিবর্তন হলেও তার চিন্তা ও কালজয়ী সাহিত্যকর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই আহমদ ছফাকে সত্যিকার অর্থে মূল্যায়ন করতে প্রয়োজন ছফা পাঠ।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আহমদ ছফার স্মৃতি না বিকৃতি’ শীর্ষক আহমদ ছফা স্মৃতিবক্তৃতায় অংশ নেয়া বক্তব্যদের বক্তব্যতে তা উঠে আসে।

আহমদ ছফাকে বিদগ্ধ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে দৈনিক যুগান্তরের যুগ্ম সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল বলেন, ‘ধরুন, কোন একদিন অন্যগ্রহ থেকে কিছু এলিয়েন এই ঢাকা ইউনিভার্সিটি, বাংলা একাডেমি এই এলাকায়। তারা ঘটনাচক্রে নেমে পড়ে, একে-অপরকে জিজ্ঞেস করছে, এটা আমরা কোথায় এলাম? তখন হয়ত একে-অন্যজনকে বলবে এখানে আহমদ ছফা বাস করতেন। ভারতের কল্লোল কুমার বলেছিলেন, সত্যিকারে বিদগ্ধ তিনিই; যার মাথাটি এরিস্টটলের মতো আর মুখটা শিশুর মতো। তো ছফা ভাইকে, যেমনটা দেখেছি; তার মুখটা শিশুর মতোই ছিল।’

নিজের জীবনে ছফার একটি প্রভাব ছিল, যার ফলে তার সংস্পর্শে এসে মার্ক্সবাদ থেকে বেরিয়ে জীবনের গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন মাহবুব কামাল। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাহবুব কামাল বলেন, ‘আহমদ ছফা আমাকে দার্শনিকভাবে উপকার করেছেন।

তিনি শিখিয়েছেন জীবনের গভীরতম প্রদেশে কিভাবে প্রবেশ করতে হয়। যখন তার সঙ্গে কথা হতো, কখনোই তিনি আমাকে পলিটিক্যাল লেসন দিতেন না। সম্ভবত তিনি মনে করতেন, রাজনৈতিক শিক্ষা মানুষের কল্পনা শক্তিকে কমিয়ে ফেলে, তখন আর সৃজনশীলতা থাকে না। একটা সময় ছিল, মার্কসবাদ চর্চা করতে করতে; মায়ের চুমুতেও দ্বন্দ্বতত্ত্ব খুঁজতাম। তার সংস্পর্শে এসে সেই তত্ত্ব থেকে বের করে জীবনের গভীরতম প্রদেশে প্রবেশ করি। তখন মার্কস-এঙ্গেল-লেলিন থেকে বের হই, প্রিয় লেখক হয়ে উঠল নীটশে-কাফকা-দস্তয়েভস্কি।’

বক্তব্য শেষাংশে মাহবুব কামাল বলেন, ‘আমরা ভলতেয়ার-রুশো-বারট্রান্ড রাসেল-জাঁ পল সাত্রে পাইনি কিন্তু আমরা ছফা ভাইকে পেয়েছি। এটি কিন্তু আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া।’

সময়ের সাহসী লেখক ছিলেন উল্লেখ করে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘আমাদের সময়ে আহমদ ছফা ছিল সাহসী ও আপসীন লেখক। তিনি কখনেই কাউকে কেয়ার করেননি। তাকে আমরা গুরু মানি। তার ভুল-ত্রুটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। যারা ছফার বিরুদ্ধে বলেন, লিখেন; হয়ত তারা কখনো আহমদ ছফার একটি বইও পড়েননি! আমি মনে করি তারা ছফা নিয়ে বলা ও লিখার যোগ্যতা রাখেন না।’

ছফা যেমন বাংলাদেশ ও মানবসভ্যতার স্বপ্ন দেখতেন তা তার সাহিত্য ধরা রয়েছে, প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘১৯৭৬ সালে তার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তখন ২-৩টি বই এক সঙ্গে লিখে ফেলেছেন। গো-হাকিম নামে কাহিনী কাব্য, বাচ্চাদের জন্য একটি লিখেছেন; এমন দুই একটি বই পাওয়া যাবে কি-না সন্দেহ আছে। অনেকে এই কবিতাগুলো সম্পর্কে কিছু বলেনই না। ১৯৭৭ সালে লিখা বইটি, অদ্ভুত বিষয়গুলো সেখানে রয়েছে। আহমদ ছফা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; তিনি মানবসভ্যতার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সময় তার হয়নি; আমাদেরও হয়নি। তারপরেও তার যে মহৎ কীর্তি তা তার সাহিত্যের মধ্যে ধরা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আহমদ ছফা এমন এক ইউনিক লেখক, বাংলা সাহিত্যের এমন লেখক পাওয়া যাবে না। তিনি এমন একটা যুগের মানুষ ছিল, যার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বাংলাদেশকে ঘিরে। সব লিখাতেই তিনি বাংলাদেশ-বাংলাদেশ করতেন। তিনি অনেক কবিতাও লিখেছেন; কবি হিসেবে বিখ্যাত না থাকলেও তার ছোট-ছোট কবিতার বইয়ে তিনি যুগের বেদনাকে তুলে ধরেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের উপরে বাংলা প্রকাশিত বই আহমদ ছফার উল্লেখ করে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের উপর বাংলায় প্রথম বই আহমদ ছফার। সেই বইয়ের নাম জাগ্রত জুলাই।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ওই স্মৃতি বক্তৃতায় ছফার বন্ধু ও ব্যবসায়ী আব্দুল হক, নূরুল আনোয়ার, জহিরুল ইসলাম কচি বক্তব্য রাখেন। এছাড়া উপস্থিত বিভিন্ন প্রকাশনীর সম্পাদক-প্রকাশকসহ সাহিত্যপ্রেমীরা।

উল্লেখ্য, সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন দীপ্তিময়ভাবে আহমদ ছফা। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনি মিলিয়ে তিরিশটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে। ৫৮ বছরে বয়সে দীপ্যমান এই মানুষটি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই পরপারে পাড়ি জামান।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

তরুণ গবেষকদের পদচারণায় উৎসবমুখর চুয়েট, তিন মিনিটে গবেষণার গল্প

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
তরুণ গবেষকদের পদচারণায় উৎসবমুখর চুয়েট, তিন মিনিটে গবেষণার গল্প
ছবি: খবরের কাগজ

ঘামের এক ফোঁটা থেকেই যদি জানা যায় শরীরে সোডিয়াম আয়নের মাত্রা, আগেভাগেই শনাক্ত করা যায় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি—তবে কেমন হয়?

এমনই একটি নন-ইনভেসিভ স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ধারণা নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মঞ্চে হাজির হন একদল তরুণ গবেষক।

শনিবার (১৮ জুলাই) চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাইব্লিটজ ২.০’-এর অন্যতম আকর্ষণ থ্রি মিনিট থিসিস (৩এমটি) প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক ৩এমটি ফরম্যাট অনুসরণে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে আইইইই চুয়েট স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ।

দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭টি দল এতে অংশ নেয়।

শুধু এটিই নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল তথ্যের সমাধান, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্মার্ট ইনসুলিন প্যাচ, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ নিয়োগে ব্লকচেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম কিংবা বন্যাকালে ড্রোনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ত্রাণ বিতরণ—এমন নানা উদ্ভাবনী গবেষণার ধারণায় মুখর হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাস।

তবে প্রতিটি গবেষণার মূল ভাবনা তুলে ধরতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল মাত্র তিন মিনিট। মাত্র তিন মিনিটে একটি গবেষণার মূল ধারণা, সমস্যা, সম্ভাব্য সমাধান এবং সমাজে এর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরাই ছিল প্রতিযোগিতার মূল চ্যালেঞ্জ।

একটি মাত্র স্থির স্লাইডের সহায়তায় অংশগ্রহণকারীদের গবেষণার প্রেক্ষাপট, পদ্ধতি, ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা উপস্থাপন করতে হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেও জটিল গবেষণাকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার দক্ষতার ভিত্তিতে বিচারকরা প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন।

প্রতিযোগিতার মঞ্চে স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত একটি গবেষণায় নন-ইনভেসিভ পদ্ধতিতে ঘাম থেকে সোডিয়াম আয়নের মাত্রা বিশ্লেষণের একটি প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

গবেষকদের মতে, শরীরে সোডিয়াম আয়নের পরিবর্তন পেশির কার্যক্রম, স্নায়বিক সংকেত পরিবহন এবং পানিশূন্যতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই ঘামের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে হিট স্ট্রোকের সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। 

তাদের দাবি, এ প্রযুক্তি খেলোয়াড়, শিল্পকারখানার কর্মী এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণা উপস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর একটি অভিনব ধারণাও তুলে ধরেন একদল প্রতিযোগী। 

তাদের গবেষণায় দেখানো হয়, ভুল বা অস্পষ্ট নির্দেশনার কারণে এআই অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য বা ‘হ্যালুসিনেশন’ তৈরি করে।

প্রায় ২৮ হাজার পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখান, আরও উন্নত এআই তৈরির চেয়ে কার্যকর প্রম্পট বা নির্দেশনা ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

কম্পিউটার আর্কিটেকচারভিত্তিক আরেকটি গবেষণায় মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্রসেসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়ানোর একটি পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়। পারসেপট্রনভিত্তিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রসেসরের ভুল ব্রাঞ্চ অনুমান কমিয়ে কর্মক্ষমতা ও গতি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন গবেষকেরা।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির আরেকটি উদ্ভাবনী প্রয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্মার্ট ইনসুলিন প্যাচ। মাইক্রোনিডল প্রযুক্তিনির্ভর এই প্যাচ স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনসুলিন সরবরাহ করতে পারে।

গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি রোগীদের বারবার ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন কমিয়ে চিকিৎসাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

দর্শকদের আগ্রহ কাড়ে স্ব-নিরাময়কারী বা সেলফ-হিলিং মেটেরিয়ালস বিষয়ক একটি গবেষণাও। এতে এমন উপাদানের ধারণা উপস্থাপন করা হয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিশেষ রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে নিজেই নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের উপাদান ভবিষ্যতে নির্মাণ, পরিবহন ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে পণ্যের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

প্রবাসী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ব্লকচেইনভিত্তিক ‘সেইফপাস’ নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও উপস্থাপন করা হয়। এতে নিরাপদ ডিজিটাল পরিচয়, স্মার্ট কন্ট্রাক্ট, রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং যাচাইকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দালালনির্ভরতা ও প্রতারণা কমানোর একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়।

গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণায় বন্যাকালে ড্রোনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার ধারণা তুলে ধরা হয়। ক্লাউডভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন নির্ধারিত স্থান থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে জিপিএসের সহায়তায় দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে। গবেষকদের দাবি, এই ব্যবস্থা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত, অধিক কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব।

আয়োজকেরা জানান, গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ, সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা গড়ে তুলতে ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডে ‘থ্রি মিনিট থিসিস (৩এমটি)’ প্রতিযোগিতার সূচনা হয়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয় এ প্রতিযোগিতায় একটি মাত্র স্থির স্লাইড ব্যবহার করে তিন মিনিটের মধ্যে গবেষণার মূল ধারণা, পদ্ধতি ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরতে হয়।

প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ স্পিকার সেশন। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট অবকাঠামো, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন আমরার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিসু পার্ক, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফায়াত আজিজ চৌধুরী, রবি আজিয়াটা পিএলসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (কোর অপারেশনস) মো. আব্দুস সবুর শান্ত, ট্রমা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রিভু রাজ চক্রবর্তী, সিমেন্স বাংলাদেশের ম্যানেজার মিঠু কুমার ভৌমিক, ই-সফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হাসান অপু এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রিন্সিপাল বিজনেস কনসালট্যান্ট ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার ওমর ফারহান খান।

ইবাদ হোসেন/এএফ

প্রতীকী ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে শিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন, ৩ দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
প্রতীকী ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে শিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন, ৩ দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

’২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার ঘটনাকে স্মরণ এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ম্যারাথান শীর্ষক ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনে হেলমেট পরিহিত প্রতীকী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেওয়া হয়। ম্যারাথনটি কার্জন হল হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, মুহসিন হল, সূর্যসেন হল হয়ে কলাভবনে এসে শেষ হয়। 

ম্যারাথন শেষে সকাল ৮ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী (১৭,১৮,১৯ জুলাই, ২০২৬) বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদীর সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। তাই জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

আরিফ জাওয়াদ/এসএন