চট্টগ্রামের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েছে আদা-রসুনের ঝাঁজ। পেঁয়াজের দাম কমতে না কমতেই এবার বাড়তে শুরু করেছে মসলাজাতীয় এ দুটি পণ্যের দাম। মাসের ব্যবধানে কেজিতে রসুনের দাম বেড়েছে ৫৫ টাকা ও আদার কেজিতে ২০ টাকা।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছিল ১৪৫ টাকায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি কেজি রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৫৫ টাকায়। চলতি মাসের শুরুতে ১৭০ টাকায় রসুন বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। বিক্রি না হওয়ায় গত মাসে কিছু রসুন নষ্ট হওয়া ও ডলারের দাম বাড়ার কারণে বাড়তি দরে পণ্যগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান আড়তদাররা। অন্যদিকে গত মাসে প্রতি কেজি আদা ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স বাছামিয়া সওদাগর নামক আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও আদা-রসুনের দাম বেড়েছে। তবে বেশি বেড়েছে রসুনের দাম। গত মাসে বেচাবিক্রি কম থাকায় অনেক রসুন নষ্ট হয়েছে। তাই এখন বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
আড়তদাররা জানান, আজ (১৩ ডিসেম্বর) পাবনা ও মেহেরপুর থেকে ১৩ টনের ২০টি ট্রাক খাতুনগঞ্জে প্রবেশ করেছে। পুরোনো এলসির ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম গতকালের তুলনায় আরও কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে। তবে দাম কমলেও বিক্রি বাড়েনি বলে জানান তারা।
গতকাল চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বাজারে দেখা গেছে, পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। সারি সারি ট্রাক থেকে নামানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। আড়তদার-শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবারের তুলনায় পেঁয়াজের দাম আরও কমেছে। কেজিতে ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চীনা পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৯০ ও মেহেরপুরের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পেঁয়াজ না থাকায় আমাদের আড়তগুলো একেবারে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। এখন পেঁয়াজ নিয়ে ট্রাক আসছে। আড়তগুলোতে বেশির ভাগ মেহেরপুরের পেঁয়াজ ও পাবনার মুড়িকাটা পেঁয়াজ রয়েছে। তবে আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণে আদা-রসুন থাকলেও ডলার রেট বাড়ার কারণে দামটা বেড়েছে।’
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা একেকবার পেয়াঁজ, আলু, মসলা, স্যালাইন আবার ডাবের মতো পণ্য নিয়ে কারসাজি করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছেন। আবার আইন প্রয়োগে চেহারা ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে আইনের স্বাভাবিক গতি বারবার ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে বছরজুড়ে কোনো না কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির কারসাজি লেগেই থাকে। আর সংকট হলেই প্রশাসন সাঁড়াশি অভিযান হবে বলে হুংকার দিলেও শেষ পর্যন্ত খুচরা দোকানে লোক দেখানো কিছু অভিযান পরিচালনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছাকে কার্যত ব্যর্থ করে দিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার বাজার তদারকিতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশনা দিলেও সেগুলো কাগজে-কলমেই থেকে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তার কোনো সুফল আসছে না।’