ঢাকা ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম পঞ্চাশ রাতের নীরবতা, তবু একটিও মিথ্যা নয় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস, সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু! পচা মরদেহ ভেবে পুলিশে ফোন দিলেন নারী শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার বগুড়ায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা আছে: মার্কো রুবিও বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি: পারেদেসের লাল কার্ড বাতিল করল ফিফা সাতক্ষীরা নৈতিকতায় প্রশ্নবিদ্ধ এমপিকাণ্ড সিলেটের কানাইঘাটে ২ কলেজ স্থাপন করতে জালিয়াতির অভিযোগ বাড়ি ফেরা হলো না ওমান প্রবাসী রশিদের কে এই ইজাবেলা গঞ্জালেস? ইরানি হামলায় নিহত ১৯ বছর বয়সী মার্কিন নারী সেনা ইরান যুদ্ধের এখন পর্যন্ত খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার: হেগসেথ পঞ্চগড় রেলস্টেশনে ৪০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ লক্ষ্মীপুরে ভেজাল ঘি উৎপাদনে কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা সৌদি-মার্কিন ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথে রিয়াদ! ঢাকার অ্যাপোলো ক্লিনিকে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলোর মেডিকেল এডুকেশন প্রোগ্রাম ২২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বেনজীরকে ফেরাতে চলছে  দ্বিতীয় ধাপের প্রক্রিয়া সিটি করপোরেশনে প্রশাসক পদে বহাল থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি আমানত ফেরতে রোডম্যাপের দাবিতে বিক্ষোভ মধুখালীতে ব্লেড দিয়ে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী ২২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে টিকে থাকার লড়াই সাতকানিয়া: সম্বল গেছে বানের জলে, মেলেনি আর্থিক সহায়তা দ. লেবাননে সেনা মোতায়েন ঘরে ফিরছেন বাস্তুচ্যুতরা নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প-মামদানির দ্বন্দ্ব নতুন দল গড়ছেন তুরস্কের বিরোধীদলীয় নেতা

নওগাঁয় আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লাখ টন

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
নওগাঁয় আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লাখ টন
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় মৌসুমে ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল ফুটেছে। এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে বাগান পরিচর্যার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় কৃষককে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

দেশে আম উৎপাদনকারী জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নওগাঁ। সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় সাপাহার ও পোরশা উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় বাগানের পরিধি প্রায় ২২ হাজার হেক্টর। এছাড়া পাশের পত্নীতলা, বদলগাছী, ধামইরহাট, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলায় আম্রপালি আমের জন্য প্রসিদ্ধ। অল্প দিনেই এখানকার মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলেছে। এঁটেল মাটির কারণে এখানকার আম স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয়। বাজারে চাহিদাও বেশি। তাই ক্রমেই আম বাগানের পরিধি বাড়ছে। 

এছাড়া বদলগাছী মহাদেবপুর ও ধামইরহাট উপজেলায় নাক ফজলি আম বেশি উৎপাদন হয়। এই আম নওগাঁ জেলার জিআই পণ্য। বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে আসে গুটি জাত গোপালভোগ, ক্ষিরসা, ঝিনুক, ল্যাংড়া ও হিমসাগর। পর্যায়ক্রমে নাবিজাত অর্থাৎ আম্রপালি, বারিফোর, গৌড়মতি ও অন্যান্য জাতের আম বাজারে আসে। চলতি মৌসুমে গাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। চাষিরা বাগান ও মুকুলের পরিচর্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন এবং বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছেন।

চাষিরা বলছেন, চলতি বছর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। বালাই নাশক, তরল খাদ্য প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা করছেন তারা। সাপাহার উপজেলার নোনাহার গ্রামের আম বাগানি শরিফ উদ্দীন বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় মুকুলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম। মুকুল থেকে ইতোমধ্যেই গুটিআম আসতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বাগান ও গাছের পরিচর্যায় অধিক ব্যয় চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে বালাইনাশকের চড়া দামে চাষিরা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকের মূলধনে টান পড়ছে। গত বছরের থেকে প্রতি বিঘায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ব্যয় হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। মূলধনের অভাবে অনেকে এখনই বাগান বিক্রি করছেন, আবার অনেক চাষি ঋণ নিয়ে আম উৎপাদন করছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, আবহাওয়ার অনুকূলে থাকায় আমগাছে মুকুল ফুটতে এ বছর সময়ের হেরফের হয়নি। সঠিক সময়ে গাছে মুকুল এসেছে। এখন মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে কার্যকর পদক্ষেপ ও সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২.৫৭ শতাংশ আম্রপালি। গোপালভোগ, ক্ষিরসা, ঝিনুক, ল্যাংড়া ও হিমসাগর মিলিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং নাবি জাতের গৌড়মতি, বারি-ফোর এবং অন্যান্য আম রয়েছে। বিদেশে আম রপ্তানির জন্য ৫০০ জন তরুণ উদ্যোক্তা ও চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ জেলার মোট কৃষি অর্থনীতির ১৯ ভাগ আসে আম থেকে। আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেলে এ বছর প্রায় পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করা হচ্ছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পাকা আম সংগ্রহের জন্য সরকারিভাবে আগেই জাতভেদে দিন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া আম রপ্তানি, আম থেকে বহুমুখী খাবার তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চাষি-উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ বছর আবারও আম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আম উৎপাদনে চাষিদের সহায়তা করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে কাজ করবে জেলা প্রশাসন।

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ এএম
দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সংগঠন।

বাজুস জানায়, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ দামই কার্যকর থাকবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, স্বর্ণালঙ্কারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণে গয়নার ডিজাইনভেদে মজুরি যুক্ত হবে। এ ছাড়া বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে না।

অন্তরা/

আমানত ফেরতে রোডম্যাপের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
আমানত ফেরতে রোডম্যাপের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে ব্যাংকটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে, অন্যদিকে আমানত ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের জমা টাকা ফেরতের দাবিতে তারা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
এরই ধারাবাহিকতায় আমানতের ওপর ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ব্যবস্থা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাতিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস, এমটিডিআরসহ সব ধরনের আমানত মুনাফাসহ ফেরতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়মুখী লংমার্চ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন। বিক্ষোভ শেষে আমানতকারীরা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

সঞ্চয়কারীরা অভিযোগ করেন, বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে জমা রেখেও আজ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ সঞ্চয়কারীদের। এ অবস্থায় আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন সরকারের ঘোষিত আমানত ‘হেয়ারকাট’ নীতির তীব্র বিরোধিতা করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির বক্তব্য, আমানতকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় থেকে কোনো ধরনের কর্তন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শতভাগ আমানত দ্রুত ফেরত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের একে একে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রশাসকদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানায়, পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমানতকারীদের জমা অর্থ প্রতিশ্রুত মুনাফাসহ ফেরত দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রশাসকদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে আরও অভিজ্ঞ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। 

ইতোমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, পুনর্গঠন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং আমানতকারীরা তাদের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে গতকাল আমানতকারীরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় হেয়ারকাট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আমানতের মুনাফা পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত প্রস্তাবও বাতিল করে অন্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমানতকারীরা দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে প্রভিশন করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করবেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন প্রায় ৭৬ লাখ গ্রাহক ও তাদের প্রায় তিন কোটি পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি হেয়ারকাট হিসেবে সংরক্ষিত অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেন। 

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে সূচকের সামান্য উত্থান

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে সূচকের সামান্য উত্থান
ছবি: সংগৃহীত

অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পরও ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারের ওপর ভর করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। গতকাল সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সূচক পতন থেকে রক্ষা পায় বাজার। তবে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কমেছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শুরু থেকেই দাম কমার প্রবণতা ছিল বেশি। তবে লেনদেনের শেষ দিকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র খাত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর ভর করে ডিএসইএক্স সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেন হওয়া ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতের ১৮টি ব্যাংকের শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে মাত্র ২টির। আর্থিক খাতের ১১টির দাম বাড়ার বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে। এ ছাড়া বস্ত্রখাতের ৩১টি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ২২টি প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি পায়। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে বিমা খাত, যেখানে ৫২টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে। সূচক সামান্য বাড়লেও ডিএসইতে মোট লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ১০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় ৯৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট এলায়েন্স পোর্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এসিআই ফর্মুলেশন, ফারইস্ট নিটিং, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং এবং লাফার্জাহোলসিম।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে সবচেয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ডের। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আগের কার্যদিবসের ৪ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এমএল ডাইং, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এসিআই ফর্মুলেশনসে, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও ইস্টার্ণ লুব্রিকেন্ট।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩ টাকা ৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো– স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সে, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, এআইবিএল ১ম ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, পুরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকা হলেও সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) ১০ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৯৭টির।

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: খরচ বাড়ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: খরচ বাড়ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক্স

রাজধানীর যানজট কমাতে এবং উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সহজে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেক সভায় ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ে কাজ হয়নি। সংশোধন করে খরচ বাড়িয়ে ধরা হয় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। সময়ও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। 

কিন্তু এ পর্যন্ত অবকাঠামোগত অগ্রগতি হয়েছে ৬৪ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে এবার সময় বাড়ানো হচ্ছে চার বছর। খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল থেকে এই খরচ বাড়ছে ১০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বা ৬০ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।  

আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিসহ মোট ৯টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত যে ১১টি প্রকল্পে এর আগে অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাও উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিস্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

খরচ বাড়ার ব্যাপারে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) যুগ্ম সচিব মো. শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির খরচ বাড়ছে। শুধু ডলারের দাম বাড়ার কারণেই খরচ বাড়ছে ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা, শুল্ক কর বাড়ছে ১ হাজার ৩০ কোটি, ভূমি অধিগ্রহণে ৭৪৭ কোটি, ইউটিলিটি সরাতে ৫১৫ কোটি টাকা, প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে খরচ বাড়ছে ১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাইপালে ইন্টারসেকশন, বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় এন্ট্রি ও এক্সিজ র‌্যাম্প তৈরি, রেললাইন ২ থেকে ৪ লাইন, পিলার ও সিগন্যাল বাড়ানো হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ছে। তাতে সবমিলে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের ঋণ ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা ও সরকার খরচ করবে ১৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) ২ বছরসহ মোট ৪ বছর সময় বাড়ানো হচ্ছে। আশা করি, ২০২৮ সালের জুনেই সব কাজ হয়ে যাবে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের। তখন জনগণ এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।’ 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে নতুনভাবে বাইপাইলে একটি ইন্টারসেকশন যুক্ত করা হবে। এটি হলে সেখানে এক মিনিটের জন্যও কোনো গাড়ির যানজটে দাঁড়াতে হবে না। এ ছাড়া বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ও নির্মিতব্য পাতাল মেট্রোরেল-১-এর সঙ্গে এটির সংযোগ তৈরির নতুন অঙ্গ যোগ করা হয়েছে।’ 

ভৌত অবকাঠামোর সদস্য ও সিনিয়র সদস্য ড. মো. নেয়ামত উল্যা ভূইয়া বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কাছে কাওলা হতে বাইপাইল-ঢাকা ইপিজেট থেকে সাভার উপজেলার শ্রীপুর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এই এক্সপ্রেসওয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সহজ, নিরাপদ ও খরচ কমানোর জন্য যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করবে। একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিধায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদনযোগ্য এবং একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।’ 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর-কামারপাড়া-ধউর-আশুলিয়া-জিরাবো-বাইপাইল-সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। পরে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী খরচ বাড়িয়ে করা হয় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এতে মূল খরচের তুলনায় বাড়ছে ৬০ শতাংশ। চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় খরচ হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫২ শতাংশ। 

প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে তা যাচাই-বাছাই করতে ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি ঢাকার যানজট কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও চলতে থাকায় এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে ঝুলে ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো, যানজট নিরসন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পরিবহন খরচ ও সময় বাঁচবে। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব বিবেচনায় সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী প্রস্তাবটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য স্বাক্ষর করেন। এরপরই দীর্ঘ ৫ মাস পর এটি একনেক সভায় আগামীকাল উপস্থাপন করা হচ্ছে।

একনেকে আরও ৮টি প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে

আগামীকাল একনেকে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলার সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ-সংস্কার ও উন্নয়ন, একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সিলেট বিভাগ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পটি উপস্থাপনা করা হবে। 

বিশ্বকাপ ঘিরে দেশ-বিদেশে রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
বিশ্বকাপ ঘিরে দেশ-বিদেশে রমরমা বাণিজ্য
ছবি: খবরের কাগজ
বিশ্বকাপ ফুটবল এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ব্যবসাগুলোর একটি। এর মাধ্যমে এবার টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব এবং বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপনের বাণিজ্য হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এবার ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ ঘিরে বড় অঙ্কের বাণিজ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।  
 
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল সারা বিশ্বের জন্য বড় বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে। সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা বিভিন্নভাবে এই বাণিজ্যের অংশ হয়েছেন। পোশাক, খাবার, টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্নভাবে বাণিজ্য হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে না। শুধু তাই না, আজকে (গতকাল) রাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নেওয়ার পরও আরও বাণিজ্য চলবে। বিশেষ করে পোস্টার, জার্সি বিক্রি আরও কিছুদিন চলতে থাকবে।
 
স্থানীয় বাজার ও প্রভাব
বাংলাদেশ সরাসরি অংশ না নিলেও বিশ্বকাপের উন্মাদনায় জার্সি, পতাকা এবং হকারদের ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন সূত্র জানায়, ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্য হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোশাক রপ্তানি খাতে ব্যাপক গতি আনে। দেশের ক্রীড়াসামগ্রীর মূল বাজার দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার হলেও বিশ্বকাপ মৌসুমে তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। 
 
বিক্রীত মোট জার্সির প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। পাশাপাশি ফ্রান্স ও জার্মানির জার্সিরও ব্যাপক চাহিদা ছিল। স্থানীয় কারখানার তৈরি জার্সিগুলো এখন চীনের পণ্যের বিকল্প হিসেবে ভালো বাজার দখল করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য দেশীয় কারখানায় ফ্যান ও প্লেয়ার জার্সিও তৈরি এবং রপ্তানি হয়। 
 
দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন সংগঠন সূত্র জানায়, এবারে বাংলাদেশে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন দলের জার্সি বিক্রি হয়েছে। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজকে বলেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশ-বিদেশে জার্সি বিক্রি বেড়েছে, যা এবারে দেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। 
 
ইলেকট্রনিক্স ও বড় পর্দায় খেলা দেখার উন্মাদনায় টেলিভিশন বিক্রিও বহুগুণ বেড়েছে। এই মৌসুমে শুধু টেলিভিশনের বাজার এক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে দেশের বাণিজ্য সংগঠনসূত্র দাবি করেছে। সাধারণ টিভির পাশাপাশি বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য প্রজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেম বিক্রিও বেশ জমে উঠেছে। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর সুবাদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোতে গ্রুপ বুকিং ও গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। গভীর রাতের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে অনলাইন ফুড ডেলিভারি ও ফাস্টফুডের ব্যবসাও এবার ভালো হয়েছে। 
 
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য
ফিফা ও বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বকাপ বৈশ্বিক জিডিপিতে শত শত কোটি বা বিলিয়ন ডলার যোগ করে। অ্যাডিডাস, কোকাকোলা ও ভিসার মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্পন্সরশিপ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের লাভ নিশ্চিত করে থাকে। আয়োজক দেশগুলোতে পর্যটক বৃদ্ধি পাওয়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসা খাতে বড় অঙ্কের আয় হয়। কাতার বিশ্বকাপে ২২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অবকাঠামোগত ব্যয় হলেও, বিশ্বকাপ-পরবর্তী আয়ের ক্ষেত্রে ওই দেশের অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
 
বিশ্বকাপ থেকে ফিফার ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় 
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটি ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, চূড়ান্ত আয় এর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।গত শনিবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। অতিরিক্ত আয়ের বড় অংশ এসেছে হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিট বিক্রি থেকে। 
 
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত অবশ্য ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়নি। শিগগিরই তারা এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে।
এদিকে সেকেন্ডারি টিকিট বাজারে উচ্চমূল্যের লেনদেন সংস্থাটির রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ফিফা। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, সেকেন্ডারি টিকিট বাজারে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকেও ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। ফলে পুনঃবিক্রয় হওয়া টিকিট থেকেও বড় অঙ্কের আয় হয়েছে সংস্থাটির। 
 
বিশ্বকাপ থেকে এই অতিরিক্ত আয়ের ফলে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও অর্থ বণ্টনের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অতিরিক্ত আয়ের সিংহভাগ এসেছে আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিটের বাজার থেকে। সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা–উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিয়েছে। ফলে টিকিটের দাম এবার যেভাবে বেড়েছে, সেখান থেকে ফিফার অতিরিক্ত আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে।
 
এই আর্থিক সাফল্য ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েকটি বিতর্কের মুখে পড়ে সংস্থাটি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
 
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। এবার আমরা এককভাবেই আয়োজন করব। কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।’
 
এদিকে জানা গেছে, ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। বিতর্ক সত্ত্বেও আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতির পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ২০০টির বেশি সদস্যসংস্থার সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত অতিরিক্ত রাজস্বের সুফল সদস্যসংস্থাগুলো পেলে তাদের সমর্থন আরও দৃঢ় হতে পারে।
 
এদিকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আরও বড় ফুটবল আসর আয়োজনের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
 
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরেও টিকিটের উচ্চমূল্য আলোচনায় রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিটিং পোর্টালে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের মূল্য ছিল জনপ্রতি ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা এবারের বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্যেরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।