ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১০:৪৩ এএম
অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।

এ সময় হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। 

পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

দিবসের পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে দুপুর ১২টায় হাইকমিশনের অডিটোরিয়ামে বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনাসভায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কানাডায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

এরপর হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এরপর দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা থেকে পাঠানো একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

হাইকমিশনার আলোচনাসভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে আহ্বান করেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান স্বাধীনতাকে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তাছাড়া বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

এ সময় তারা কানাডায় বসবাসরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ করার শপথ নেন। 

সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণ-আন্দোলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের বিষয়যটি বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ভাষণে সবাইকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। 

হাইকমিশনার মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণকারী তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে দেশ-বিদেশে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। 

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে কানাডার সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

কানাডা ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশ মানবাধিকার, উন্নয়ন, চরমপন্থা মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে হাইকমিশনার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাণিজ্যসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অমিয়/

কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ সিইওর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:১১ এএম
আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:১৩ এএম
কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ সিইওর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) বদর মোহাম্মদ আল মীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।

বুধবার (১৭ জুলাই) কাতার এয়ারওয়েজের প্রধান কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে সাধারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্বাভাবিক সৌজন্য বিনিময়ের পর রাষ্ট্রদূত গ্রুপ সিইওকে তার সফল নেতৃত্ব এবং কাতার এয়ারওয়েজ এ বছর বিশ্বসেরা এয়ারলাইনের খেতাব জেতায় অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি আমির শেখ তামিমের সাম্প্রতিক সফল সফরের কথা স্মরণ করেন। বিন হামাদ আল থানি গত এপ্রিলে বাংলাদেশে আসেন। এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরপর কাতার সফরের কথা উল্লেখ করেন।

তারা দুজনই অভিমত ব্যক্ত করেন, কাতারের আমির এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফরে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে। রাষ্ট্রদূত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকায় কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু করার জন্য গ্রুপ সিইওর প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাতার এয়ারওয়েজ চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের অন্যান্য বড় শহরে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। 

কাতার এয়ারওয়েজের গ্রুপ সিইও প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির উপস্থিতি ও অবদানের জন্য সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

বৈঠকে ডেপুটি চিফ অব মিশন ওয়ালিউর রহমান, ফার্স্ট সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল রাজী, সেকেন্ড সেক্রেটারি মো. নাসির উদ্দিন এবং কাতার এয়ারওয়েজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩০ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত
দুর্ঘটনায় নিহত মোশারফ হোসেন মিলন

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোশারফ হোসেন মিলন (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি ব্যববসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও দুই বাংলাদেশি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত মোশারফ হোসেন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের নুর মিয়া বলন্টিয়ার বাড়ির নুর ইসলামের ছেলে।

আহতরা হলেন, বাংলাদেশের আরিফ ও মামুন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত আরিফ জানায়, রাস্টেনবার্গে সফররত মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির ওয়াজ শুনে বাসায় ফেরার পথে ব্রিটস এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মিলন গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিক্ষক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভায়রা এমদাদ হোসেন জানান, ড. মিজানুর রহমান আজহারির তাফসিরুল কুরআন মাহফিল শেষে নিজ কর্মস্থল প্রিটোরিয়ায় যাওয়ার পথে তাদের গাড়িটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় মোশারফ হোসেন। তার সহযোগীরা মোশারফ হোসেনের মৃত্যুর সংবাদটি দেশে পরিবারকে জানান। 

মোশারফ হোসেন ২০১৭ সালে বিয়ে করেন। তার ৬ বছরের একটি মেয়ে ও দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহত মিলনের বাবা নুর ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মোশারফ হোসেন ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে তার নিজস্ব দুটি দোকান ও ব্যবসা রয়েছে। গত ৫-৬ মাস আগে সে দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে আফ্রিকায় যায়। তার মরদেহ সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আমার ছেলের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

ফেনীর জেলা প্রশাসক মোছাম্মৎ শাহিনা আক্তার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনাগাজীর যুবক মারা যাওয়ার খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে। জীবিকার তাগিদে বিদেশ গিয়ে কফিন হয়ে ফিরতে হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনতে প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

নিলয়/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসনে জোর দিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ।

বুধবার (১১ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৬তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার পরিষদের চলমান অধিবেশনে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মায়ানমারের অন্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি পেশ করা হয়।

নিবিড় ও সুদীর্ঘ আপস-আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

রেজুলেশন গৃহীত হওয়ার পর জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক বলেন, ‘অপ্রতুল সম্পদ ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভবপর নয়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রত্যাবসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা।

এ ছাড়া, প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা এবং এর নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি রাখাইনে দ্রুত সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন শুরু করার ওপর জোর দেন।

গৃহীত প্রস্তাবটিতে সম্প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের জোরপূর্বক বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রস্তাবটি মায়ানমারে যুদ্ধরত সব পক্ষকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

মায়ানমার সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাবটি মায়ানমারকে তার আন্তর্জাতিক সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।

গৃহীত প্রস্তাবে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য অপর্যাপ্ত ও সংকুচিত আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা দিতে আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়াও, প্রস্তাবটিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে মিয়ানমারবিষয়ক ‘নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশন’-এর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়।

রেজল্যুশন গৃহীত হওয়ার পর জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক বলেন, ‘অপ্রতুল সম্পদ ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভবপর নয়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা এবং এর নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি রাখাইনে দ্রুত সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের শুরু করার ওপর জোর দেন।

অমিয়/

লন্ডনে চট্টগ্রামবাসীর মিলনমেলা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
লন্ডনে চট্টগ্রামবাসীর মিলনমেলা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর প্রতিনিধিত্বকারী ও বাংলাদেশিদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ‘গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (জিসিএ)’ পঞ্চমবারের মতো মিলনমেলার আয়োজন করেছে। এই সংগঠনটি প্রথমবার প্রবাসে চট্টগ্রামের মেজবানকে ভিন্ন আমেজে পরিচিত করেছে। মেজবান এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়।

মিলনমেলায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। পরবাসে সাদা ভাত, ৭ গরুর মাংস আর ডালের ভোজ আয়োজন যে কতটা উৎসবমুখর হয়ে উঠতে পারে তার প্রমাণ মিলল ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনে। 

স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) পূর্ব লন্ডনের মেফেয়ার হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মেজবানি খাবারের পাশাপাশি ছিল মনমাতানো সাংস্কৃতিক আয়োজন।

পিঠা উৎসব, বৈশাখী মেলা কিংবা বাঙালির বিয়ের মতো জমজমাট আয়োজন এখন নিয়মিত দেখা যায় সেখানে। তিন হাজার মানুষ মেজবানে অংশ নেয়। এদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এই মিলনমেলা।

সংগঠনের ট্রেজারার মাসুদুর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন সংগঠনের বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডেন্ট আখতারুল আলম এবং সেক্রেটারি ওসমান মাহমুদ ফয়সাল।

বক্তব্য রাখেন সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, ১০৪ বছর বয়স্ক চ্যারিটি ফান্ড রেইজার দবিরুল ইসলাম চৌধুরী, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে ইসমাঈল হোসেন, সাবেক সভাপতি ইসহাক চৌধুরী, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনী প্রমুখ।

এ সময় মঞ্চে নানা পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ কায়সার, মাসুদুর রহমান, শহিদুল ইসলাম সাগর, নূরুন্নবী আলী, শহিদুল ইসলাম সাগর, ডা. মিফতাহুল জান্নাত। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মীর রাশেদ আহমেদ, শওকত মাহমুদ টিপু, আরশাদ মালেক, আলী রেজা, রাজ্জাকুল হায়দার বাপ্পী, হাসান আনোয়ার প্রমুখ।

আয়োজনটি চট্টগ্রামবাসীর হলেও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অন্য অঞ্চলের বাংলাদেশিরাও এতে অংশ নেয়। লন্ডনের আশপাশের শহরসহ স্কটল্যান্ড, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহামের মতো দূরের শহরগুলো থেকেও অনেক চট্টগ্রামবাসী আসেন ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনে যোগ দিতে। 

দিনব্যাপী মেজবানি খাবারের পাশাপাশি চলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাসী আঞ্চলিক গান, নাচ ও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন, হিমাংশু গোস্বামী, পাঞ্জাবিওয়ালা খ্যাত শিরিন জাওয়াত, আতিক হাসান, লাবণী বড়ুয়া, এম এ মোস্তফা, তাহমিনা শিপু, আই অন বাংলা স্কুল, পার্পল নাইট ব্যান্ডের জাওয়াদ, রুবেল, জয়, নাবিল, আয়ুস সাহাসহ স্থানীয় শিল্পীরা। কৌতুক পরিবেশন করেন মিরাক্কেল কমেডিয়ান আরমন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চট্টগ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্যই এই মেজবানের আয়োজন। চট্টগ্রামবাসীসহ অন্যান্য জেলার লোকদের মধ্যে এবারের মেজবান যে সাড়া ফেলেছে, তাতে ভিড় সামলাতে হয়তো ভবিষ্যতে খোলা কোনো মাঠে এই আয়োজন করতে হবে।’

কার্যকরী কমিটির সভাপতি আকতার আলম ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান ফয়সাল অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আবদুস সাত্তার/সালমান/

ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন রুশনারা আলী

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫০ এএম
ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন রুশনারা আলী

যুক্তরাজ্যের নতুন মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হয়েছেন। 

কির স্টারমারের সরকারে দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে যুক্ত হলো রুশনারার নাম।

এর আগে এই সরকারের ‘সিটি মিনিস্টার’ নিযুক্ত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মন্ত্রীদের নামের তালিকায় টিউলিপ সিদ্দিক ও রুশনারা আলীর নাম দেখা যায়।

গত ৪ জুলাই যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে রুশনারা আলী বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার বেথনালগ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এই আসনে ২০১০ সাল থেকে টানা এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।

আগে রুশনারা বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। 

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারর জন্ম সিলেটে। তার বয়স যখন সাত বছর, তখন যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় তার পরিবার। তিনি অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

অমিয়/