আমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে মূল প্রেরণাটি এসেছে নিজের কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থেকে। বরাবরই নিজে কিছু করার চেষ্টা ছিল, চেয়েছি এমন কিছু করতে, যেখানে নিজের চিন্তা, সৃজনশীলতা আর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাগুলো কাজে লাগিয়ে সমাজের জন্য কিছু করতে পারি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তরের পর পরিবারের চাওয়া এবং বন্ধুদের অনেকের মতোই আমিও একটা ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করি। তখন মনে হতো আমি আমার পরিবারকে সময় দিতে পারছি না। কিন্তু সবসময় মনে হতো- আমি যা করতে চাই, তার জন্য আরও স্বাধীনতা দরকার, আরও মন খুলে কাজ করার সুযোগ দরকার। যেখানে কাজ এবং পরিবার দুই ক্ষেত্রেই আমি সময় দিতে পারব নিজের মতো করে। এই ভাবনা থেকেই আমার উদ্যোগের যাত্রা শুরু।
আমি কাজ করছি বিভিন্ন রকমের আচার, সস, ফ্রোজেন ফুড নিয়ে। আমার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো- নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। অর্থনৈতিক সাপোর্টের কথা বললে, শুরুটা একেবারেই সাদামাটা ছিল। নিজের সঞ্চয় দিয়েই শুরু করি। পরবর্তী সময়ে আমার পরিবার আমাকে সহায়তা করেছে। তবে এখনো বড় পরিসরে বিনিয়োগ বা অর্থায়নের ঘাটতি রয়ে গেছে।
আমার কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। শুরুতে ঝুঁকি নিতে অনেকেই ভয় পায়, সত্যি কথা বলতে আমিও ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। তারা শুধু মানসিকভাবে পাশে ছিল না, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবেও সাহস জুগিয়েছে। তাদের উৎসাহ আমাকে টিকে থাকতে, বারবার চেষ্টা করে যেতে শিখিয়েছে।
প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই নানা প্রতিবন্ধকতা আসে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- নিয়মিত অর্থের অভাব, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল পাওয়া, এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। অনেক সময় সঠিক বাজারে পৌঁছা আমাদের সেবা বা পণ্য ঠিকভাবে পরিচিত হচ্ছে না। এ ছাড়াও, সামাজিকভাবে কিছু নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও অনেক উদ্যোক্তাকে পিছিয়ে দিতে চায়।
শুধু অর্থ উপার্জনই নয়, নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেকোনো চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও সমাজে বড় ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে অনেকের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনও সম্ভব।
সরকারের কাছ থেকে আমরা চাই- বাস্তব সহায়তা। অনেক ভালো উদ্যোগ সরকারি নীতিতে থাকে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন সীমিত।
আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর ছাড়, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সহযোগিতা এবং স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে আমরা অনেক দূর এগোতে পারি।
উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজ নয়, কিন্তু সরকারের সঠিক নীতি সহায়তা পেলে প্রতিটি ছোট উদ্যোগই এক দিন বড় পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে বলেই আমি বিশ্বাস করি।