আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে দেশের মধ্যে সহিংসতা, অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব সহিংসতা, অস্থিরতা বন্ধ করে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করতে হবে। না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনের পরেও সহিংসতা চলবে। এবারের নির্বাচন দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিতে গতি আনতে একটি নির্বাচিত সরকার জরুরি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার দুর্নীতিমুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারবে।
আগামীতে কেমন নির্বাচন চান, জানতে চাওয়া হলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজকে এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী।
খবরের কাগজ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এবারে কেমন নির্বাচন প্রত্যাশা করেন?
মোহাম্মদ হাতেম: বর্তমানে অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। দেশের রাজনীতির ওপর অর্থনীতি নির্ভরশীল। অর্থনীতিতে গতি আনতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। আশা করছি, সাধারণ মানুষ এবার উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন। দেশ ও এলাকার উন্নয়ন করার জন্য যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। ভয় ও চাপমুক্তভাবে স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচত করবেন। তবে এ জন্য সহিংসতা, নাশকতা বন্ধ করতে হবে। নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
খবরের কাগজ: অনেকে অভিযোগ করছেন, একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
মোহাম্মদ হাতেম: দেশের গণতান্ত্রিকব্যবস্থা গতিশীল রাখতে একটি ভালো নির্বাচন করতে হবে। অনেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণটা চাচ্ছে না। তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য সংহিসতা করছে। ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে। অস্থিরতার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশটা নষ্ট করতে চায়।
খবরের কাগজ: ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে, এ জন্য সরকারের করণীয় কী বলে মনে করছেন?
মোহাম্মদ হাতেম: সরকারকে কঠোরভাবে সহিংসতা দমনে ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সারা দেশে নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষভাবে সীমান্ত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। শিল্প এলাকাতে কেউ যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা করতে না পারে, এ জন্য লক্ষ্য রাখতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে হবে। আমার মনে হয়, যারা নির্বাচন চেয়েছেন তারা এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করবেন।
খবরের কাগজ: জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। অনেকে আশা করেছিলেন বিগত দিনের ধারাবাহিকতা থেকে দেশ বেরিয়ে আসবে। শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসবে। আপনি তো দেশের অন্যতম একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছেন। শুধু এবারে না, আপনি অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা এই সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা করেছিলেন তার কতটা পূরণ হয়েছে?
মোহাম্মদ হাতেম: বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে ধস নেমেছে। রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা চলছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনটির ফলে শিল্প খাতে সংকট বাড়বে। জ্বালানিসংকট কমেনি, বরং বেড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে। সরবরাহ সংকট বেড়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসায় খরচ বেড়েছে। বিনিয়োগ বাড়ছে না। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা কমেনি। সবকিছু মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি ভালো নেই। দেশের ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করেন, আগামী নির্বাচিত সরকার অর্থনীতিতে গতি আনতে পদক্ষেপ নেবে। এককথায় বলব যে, অর্থনীতি বাঁচাতে হলে একটি নির্বাচিত সরকার লাগবে।
খবরের কাগজ: ব্যবসায়ীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোয়ন ফরম কিনেছেন। আপনার কি মনে হয়, এসব প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের দাবি আদায় সহজ হবে?
মোহাম্মদ হাতেম: বিষয়টি আমি ভালোভাবে দেখছি। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি থাকলে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলবেন। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সহজে অর্থনীতির প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবেন। অর্থনীতির সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান হলে সমগ্র অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
খবরের কাগজ: জুলাই আন্দোলনের পর ব্যাপক আলোচিত শব্দ হচ্ছে, নতুন বন্দোবস্ত। নির্বাচনে নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি কেমন দেখছেন?
মোহাম্মদ হাতেম: জুলাই চার্টার হয়েছে। এটা কার্যকর করতে গণভোট হবে। কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তবে যতটা পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তা হয়নি। গণভোট নিয়ে আরও প্রচার প্রয়োজন।
খবরের কাগজ: আসন্ন নির্বাচনে এবারে অনেক তরুণ ভোটার ভোট দেবেন। এদের অনেকে আগামী নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেবেন? এসব ভোটার নির্বাচনের ফলাফল কতটা প্রভাবিত করবে?
মোহাম্মদ হাতেম: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ, বাধাবিপত্তি তো আছেই। তা সত্ত্বেও আগামী নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আমি মনে করি। তরুণরা মুক্ত মনে, চাপমুক্তভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। তরুণদের অংশগ্রহণে একটি ভালো নির্বাচন হবে। অনেক তরুণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।