‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ সম্পূর্ণ দায় তার প্রশাসনের বলে স্বীকার করে নিলেন আটক ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দুতার্তে বলেন, ‘অতীতে যা কিছু ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াব। আমি আগেও বলেছি, আমিই তোমাদের রক্ষা করব এবং আমি সবকিছুর জন্য দায়ী থাকব।’
আইসিসির বিমানে ওঠার পর এ বিষয়ে এটিই তার প্রথম প্রতিক্রিয়া।
এর আগে, মঙ্গলবার (১১ মার্চ) হংকং থেকে ফেরার পর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় গ্রেপ্তার করা হয় দুতার্তেকে। এরপর বুধবার তাকে আইসিসির হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নেদারল্যান্ডসের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি বন্দিশিবিরে আছেন।
‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ অভিযানে হাজারো সন্দেহভাজন হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুতার্তের এই ভিডিওবার্তাটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ কোটি বারের বেশি দেখা হয়েছে। এ সময় তিনি একটি সাধারণ সাদা শার্ট পরে ছিলেন। ভিডিওটি সম্ভবত বিমানের ভেতরে ধারণ করা হয়েছে, কারণ সে সময় বিমানের ইঞ্জিনের হালকা শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
দুতার্তে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় ডেথ স্কোয়াড গঠন, অর্থায়ন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। তিনি এশিয়ার কোনো দেশের প্রথম সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আইসিসির বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দুতার্তে তার ৬ বছরের শাসনামলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ২০০ সন্দেহভাজনকে হত্যা করেছে।
এদিকে দুতার্তের মেয়ে ও ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তে বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় দ্য হেগে পৌঁছেছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।
আইনজীবী ও গবেষকরা বলছেন, আইসিসির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কারণ এই আদালত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু এবং তাদের নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই যে তারা নিজেরাই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারবে। সূত্র: রয়টার্স
দিনা/