ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার

ভারত-পাকিস্তান নীরবে সংলাপ শুরুর প্রস্তুতির গুঞ্জন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ভারত-পাকিস্তান নীরবে সংলাপ শুরুর প্রস্তুতির গুঞ্জন
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের স্থবির কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। ইতোমধ্যে সংলাপ শুরুর বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দুই প্রতিবেশী দেশ। সম্প্রতি উভয় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে কিছু মন্তব্য এবং সীমিত পর্যায়ের অনানুষ্ঠানিক বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফিরে যাওয়া এখনো কঠিন ও অনিশ্চিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেন, ‘আমাদের দরজা বন্ধ করা উচিত নয়। আলোচনায় বসতে সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত।’ তার এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান এই সংলাপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে।

ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে, কাশ্মীর ও ভারতের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। এ কারণে মোদি সরকার বহুবার বলেছে, ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।’ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহালগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হওয়ার জেরে ২০২৫ সালে চার দিনের যুদ্ধও হয়েছিল।

হোসাবালের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, সংলাপ শুরুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ‘আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া’ আসে কি না, তার অপেক্ষায় ইসলামাবাদ।

তবে এক সপ্তাহ পার হলেও মোদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর মধ্যেই ভারতের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সংলাপের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে। মুম্বাইয়ে এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব রাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।’

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘আমরা আশা করি ভারতে সুস্থ চিন্তার জয় হবে এবং যুদ্ধমুখী অবস্থান থেকে সরে এসে আরও এমন কণ্ঠস্বর সামনে আসবে।’

যদিও আরএসএস সরকার পরিচালনা করে না, তবে মোদিসহ বিজেপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত। ফলে হোসাবালের মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক ইরফান নূরউদ্দিন বলেন, পাকিস্তানবিরোধী অবস্থানের কারণে মোদি সরকার ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়েছে। তার মতে, সরকার সরাসরি সংলাপ শুরু করলে রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই আরএসএস বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আলোচনার পক্ষে মত আসা বিজেপির জন্য রাজনৈতিক সুরক্ষা তৈরি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংলাপের আহ্বান হঠাৎ করে আসেনি। সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক জওহর সালিম জানান, ২০২৫ সালের যুদ্ধের পর থেকে গত এক বছরে উভয় দেশের সাবেক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে অন্তত চারটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলো ওমানের রাজধানী মাস্কাট, কাতারের রাজধানী দোহা, থাইল্যান্ড ও লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকগুলো ট্র্যাক-১ দশমিক ৫ ও ট্র্যাক-২ কূটনৈতিক কাঠামোর আওতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্র্যাক-১ দশমিক ৫ ফরম্যাট বলতে এমন একটি সভাকে বোঝায়, যেখানে উভয়পক্ষ থেকে কর্মরত কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সামরিক কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত থাকেন। আর ট্র্যাক-২ বৈঠকে সাবেক কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের সমর্থনে অংশ নেন। সাধারণত আনুষ্ঠানিক কূটনীতির আগে পরিস্থিতি যাচাই করতে এসব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

সালিমের মতে, এসব অনানুষ্ঠানিক সংলাপ ভুল বোঝাবুঝি কমাতে এবং ভবিষ্যৎ আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করতে সহায়ক হয়েছে। তবে সাবেক পাকিস্তানি মেজর জেনারেল ও ব্রুনাইয়ে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক রশিদ খান সতর্ক করে বলেন, এসব সংলাপকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। তার ভাষায়, ‘ট্র্যাক-১ দশমিক ৫ ও ট্র্যাক-২ সংলাপ আনুষ্ঠানিক কূটনীতির বিকল্প নয়, বরং এটি একটি সুরক্ষা ভালভ।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান অনেক শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন।
অন্যদিকে বাণিজ্য শুল্ক ও অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের ওপর আগের মতো প্রভাব ধরে রাখা দিল্লির জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইরফান নূরউদ্দিন বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণে ভারত পাকিস্তানকে সহজেই উপেক্ষা করতে পারত, এখন আর সেটা সম্ভব নয়।’ তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা দেখাচ্ছে, উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। ১৬ মে নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, পাকিস্তান যদি ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া’ বন্ধ না করে, তাহলে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ‘ভূগোলের অংশ থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে।’

এর জবাবে পাকিস্তানের সামরিক গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর ভারতীয় বক্তব্যকে ‘অহংকারী, যুদ্ধবাদী ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির’ বলে আখ্যা দেয়। আইএসপিআর সতর্ক করে জানায়, পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি কৌশলগত সংকেত নয়, বরং ‘চিন্তাশক্তির দেউলিয়াত্বের’ পরিচয়।

এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে  শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ১৫ মে সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ভারতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে একটি রায় দেয়। পাকিস্তান সেই রায়কে স্বাগত জানালেও ভারত সেটিকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

২০২৫ সালে পাহালগাম হামলার পর ভারত সিন্ধুর পানিচুক্তি স্থগিত করে। সিন্ধু নদ দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল এবং অতীতে তিনটি যুদ্ধের মধ্যেও এই নদের পানি বণ্টন বহাল ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় কৌশলগত মহলে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ফেরার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছা এখনো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। সম্প্রতি এক ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে চলা ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও বাতিল করে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি বিবেককুমার সিং তার ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণী যদি প্রতিবারই নিজের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। 

আদালতের মতে, মামলার নথি ও প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

এই পরিস্থিতিতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার এবং সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করে আদালত।

কী ছিল মামলার ঘটনা?

২০১৯ সালে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে গেলে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তাকে থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা তুলতেন, তখন তাকে মারধর করা হতো। পাশাপাশি, একসঙ্গে থাকার সময় তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয় এবং ২০২১ সালে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত ওই মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় তরুণী আদালতকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত মন্তব্য করে, অভিযুক্তকে বিয়েতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে মারধরের অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাকে তখনই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যখন প্রমাণিত হবে যে অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালত জানিয়েছে। বরং পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের ভিত্তিতে আদালতের মত, এটি ছিল দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যা পরে ভেঙে যায়।

ফলে আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: এইসময়

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/