ঘোড়া নির্বোধ? আবার ভাবুন। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘোড়া আসলেই কৌশলগত চিন্তা করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে। এমন বৈশিষ্ট্য আগে ঘোড়ার সক্ষমতার বাইরে বলে মনে করা হতো।
নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ঘোড়া জটিল পুরস্কারভিত্তিক খেলায় দক্ষতা দেখাতে পারে। নতুন নিয়মের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। এবং সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন করতে পারে। নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির ঘোড়ার বিজ্ঞানের সিনিয়র প্রভাষক ডা. ক্যারি ইজুচি বলেন, ‘ঘোড়া স্বাভাবিক প্রতিভাবান নয়, তাদেরকে মাঝারি বলে মনে করা হয়। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঘোড়া সাধারণ নয় এবং আসলে আমরা যতটা মনে করি, তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।’
পরীক্ষায় ২০টি ঘোড়াকে তিন ধাপের একটি কাজ দেওয়া হয়েছিল। এর প্রথমটি ছিল, একটি পুরস্কার পেতে নাক দিয়ে একটি কার্ড স্পর্শ করা। এরপর এখানে লাইটের ব্যবহার করা হয়। যেখানে লাইট বন্ধ থাকলেই ঘোড়া কার্ড স্পর্শ করলে স্ন্যাক পেত। এই সময়ে ঘোড়াগুলো লাইট জ্বললে বা না জ্বললেও কার্ড স্পর্শ করে চলত এবং সঠিক প্রতিক্রিয়ায় স্পর্শ করলে পুরস্কার পেত।
তবে খেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি শাস্তির বিষয় যুক্ত করা হয়। যেখানে ‘স্টপ’ চিহ্নিত লাইট জ্বললে কার্ড স্পর্শ করলে ঘোড়াগুলোকে ১০ সেকেন্ডের জন্য খেলা থেকে বিরত থাকতে হয়। এতে কোনো পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এলোমেলোভাবে কার্ড স্পর্শ করার পরিবর্তে, ঘোড়াগুলো দ্রুত নিয়ম মেনে খেলার বিষয়টি আয়ত্ত করে। কেবল সঠিক সময়ে কার্ড স্পর্শ করে পুরস্কার পায়।
গবেষকরা বলেন, খেলার চূড়ান্ত পর্যায়ে আচরণের এই হঠাৎ পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয়, ঘোড়াগুলো সব সময় নিয়মগুলো বুঝতে পেরেছে তবে জয়লাভের জন্য এতে বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন, ঘোড়াগুলো দ্বিতীয় ধাপে নিয়মগুলো বুঝতে পারেনি, এমনটা নয়।
নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণী, গ্রামীণ ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি প্রার্থী লুইস ইভান্স বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম টাইমআউট চালু করার পর ঘোড়াদের পারফরম্যান্সের উন্নতি হবে, তবে উন্নতি কত দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্য হবে তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পশুদের সাধারণত নতুন জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো কাজ বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করতে হয়। তবে ঘোড়াগুলোর ভুলের জন্য পেনাল্টি চাপিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উন্নতি করেছে। এটি ইঙ্গিত করে ঘোড়াগুলো সব সময় বুঝতে পারেছে যে, খেলার নিয়ম কী?’
নতুন সমস্যার সমাধান
ঘোড়াগুলোর চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে একটি অভ্যন্তরীণ ধারণা তৈরি করার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও ভবিষ্যৎবাণী করার ক্ষমতা আছে, যাকে মডেলভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হতো যে মডেলভিত্তিক শিক্ষা, যা একটি নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা, ঘোড়াদের জন্য খুব জটিল, কারণ তাদের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অপরিণত, যা মস্তিষ্কের কৌশলগত চিন্তার সঙ্গে যুক্ত অংশ।
ডা. ইজুচি বলেন, এটি ইঙ্গিত করে যে ঘোড়াগুলো মস্তিষ্কের অন্য কোনো অংশ ব্যবহার করে একই ফলাফল অর্জন করছে।’ গবেষকরা বলেন, ঘোড়া কীভাবে শেখে তা সম্পর্কে আমাদের বোঝার উন্নতি করলে, ঘোড়াদের আরও মানবিক উপায়ে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণাটি অ্যাপ্লাইড অ্যানিমাল বিহেভিয়ার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।