ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
Nagad desktop

২ মরদেহ উত্তোলন-পুনঃদাফন ১১৪ জুলাই শহিদের পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
১১৪ জুলাই শহিদের পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম শুরু
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ অজ্ঞাতনামা ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তে মরদেহ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) প্রথম দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে দুজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে মরদেহ দুটি পুনঃদাফন করা হয়।

মরদেহ উত্তোলনের আগে সকাল ১০টার দিকে সংবাদ ব্রিফিং করেন সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিবগাত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যারা দেশের জন্য রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বুকের রক্ত দিয়েছে, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। এই কবরস্থানে যারা অজ্ঞাত হিসেবে শুয়ে আছেন, তাদের পরিচয় ওই সময় যাচাই-বাছাই করা হয়নি। এখন তাদের পরিচয় উদঘাটন করে জাতির কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। আজ সেই মহান কাজের সূচনা হবে।’ 

সিআইডি প্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ স্যাম্পলিংসহ প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হবে। আবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ১১৪টি কবর চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কম-বেশি হতে পারে। মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত, বোন স্যাম্পল/টিস্যু সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে আবার পুনঃদাফন করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুয়িস ফনডিব্রাইডার পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গত ৪০ বছরে ৬৫টি দেশে একই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করেছেন।’

গতকাল সকালে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দেখা গেছে, শহিদদের গণ-কবরের স্থানটি চারপাশ কাপড়ের বেষ্টনী এবং হলুদ রঙের ক্রাইমসিন ফিতা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ভেতরে রয়েছে মাটি খোঁড়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি ‘হ্যান্ড স্ট্রেচার’। এর বাইরে শহিদদের পরিবারের সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন। এদিকে লুইস ফনডিব্রাইডারসহ সিআইডির দলটি পুরো স্থানটি ঘুরে দেখেন। এরপর সিআইডির সদস্যরা মরদেহ উত্তোলনের জন্য মাটি খোঁড়া শুরু করে। কবরের পাশেই তাঁবুর তৈরি অস্থায়ী ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা ছিল। প্রথম দিনে দুটি কবর খুঁড়ে দুইজনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। তাদের ময়নাতদন্ত, ডিএনএ স্যাম্পলিং সংগ্রহ শেষে পুনঃদাফন করা হয়।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলন থেকে পোস্টমর্টেম, বোন বা টিস্যু সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি– প্রতিটি ধাপে সব স্টেকহোল্ডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই কাজে যুক্ত আছেন।’

এখন পর্যন্ত কতজনের মরদেহ উত্তোলনের আবেদন পেয়েছেন- জানতে চাইলে সিআইডিপ্রধান বলেন, এ পর্যন্ত ১০ জনের স্বজন আবেদন করেছেন। যদি আরও কেউ আবেদন করতে চায়, তবে সিআইডিতে যোগাযোগ করতে পারবেন। সিআইডি হটলাইনে যোগাযোগ করলে স্বজনদের ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হবে। পরিচয় শনাক্তের পর কেউ যদি মরদেহ নিতে চান, তবে নিতে পারবেন।’ 

এই কাজে কতদিন সময় লাগবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, কোন কবরে কে আছেন। এই কাজে সময় কত লাগবে, তা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলতে পারি, এ প্রক্রিয়ায় সব শহিদের পরিচয় আমরা বের করতে পারব।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিআইডিপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী মরদেহের কোনো ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কাজ। এই কাজে গণমাধ্যমের পূর্ণ সহযোগিতা চাই।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আর্জেন্টিনার ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্ট লুইস ফনডিব্রাইডার বলেন, ‘তিন মাস ধরে সিআইডির সঙ্গে কাজ করছি। আমি নিশ্চিত করছি, আন্তর্জাতিক ফরেন্সিক মানদণ্ড ও প্রটোকল মেনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালের দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরিদর্শনের সময় ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, 'কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে।'

প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

পরিচালককে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব, জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল ও টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন।

জুয়েল রানা/এসএন

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এ দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রাতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এ সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহিদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং তাদের নিজভূমি মায়ানমারে প্রত্যাবাসন অনেকাংশেই মায়ানমার সরকারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে দেশটি এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মায়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে বিশেষ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যা ১০৫টি দেশের সমর্থন পেয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়টিতে।

এলিস/এসএন

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে/ খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীর হাতে তুলে দেয়া হয় ফ্যামিলি কার্ড। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে শুরু হল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলার অন্য সব উপজেলার ইউনিয়নে দেয়া হবে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলিন জেরিন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসানসহ আরও অনেকেই।

এন কে/আমান

জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদসহ দেশের সব খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য বাজেট অধিবেশন থেকে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা এখন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে স্পিকার আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

অস্বচ্ছল নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গৃহিণীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ সময় ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহ বলেন, নারী অধিকার সুরক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ নবনিতা সিনহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলিস/নাঈম