ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত ডাক্তারের চেম্বারে একদিন চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু: মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে ভক্তদের অলৌকিক প্রার্থনা ফিফার বাপ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত জামালপুরে স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড ও শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল
Nagad desktop

আজকের সেরা জোকস: খোদাইয়ের বিড়ম্বনা

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:০২ পিএম
আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০১:০৮ পিএম
আজকের সেরা জোকস: খোদাইয়ের বিড়ম্বনা
ছবি এআই

জুলুম খাঁ বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান। চারবার এসএসসি ফেল করার পর ঠিক করলেন, আর নয়। এবার বাবার ব্যবসা-বাণিজ্যে মন দেওয়া যাক। কিন্তু যা ভাবলেন তা হলো না। মন দিয়ে ফেললেন এক সুন্দরীকে। একই শহরে থাকেন তারা। রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে দেখা। তারপর ভাব। ভাব থেকে ভালোবাসা। সুন্দরীর নাম তিতলী বেগম।
গত মাসের কথা। জুলুম খাঁ আর তিতলী বেগমের প্রেম এক মাস পার হয়েছে। তিতলীর বান্ধবীদের কাছ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, সামনের ১১ তারিখ তিতলী বেগমের জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে জুলুম খাঁ চাইলেন তার প্রেমিকাকে একম কিছু উপহার দেওয়ার, যা দেখে সে চমকে উঠবে। কী করা যায়- ভেবে যখন কোনো কূলকিনারা পেলেন না, তখন জুলুম খাঁ তার বন্ধু মহলের শরণাপন্ন হলেন। প্রেমে অভিজ্ঞ বন্ধুবর হাসমত জানাল, ‘প্রেমিকার নাম খোদাই করে নিজের হাতে লিখতে হবে। তাহলে প্রেমিকা বিরাট খুশি হবে।’ 
পরামর্শটা জুলুম খাঁর পছন্দ হলো। ঠিক হলো, তিতলী বেগমের জন্মদিন উপলক্ষে ডান বাহুতে তার নাম খোদাই করে লিখবেন।
কাজটা কীভাবে করা হবে তা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো, এই সামান্য কাজের জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঘরে বসে নিজেরাই খোদাইয়ের কাজটা করে ফেলা যায়।
অগত্যা হাতের লেখা ভালো এক বন্ধুকে খোদাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো। খোদাইয়ের জন্য বাজার থেকে চাইনিজ ছুরি কেনা হলো। সেই সঙ্গে স্যাভলনের বোতল, তুলা আর ব্যান্ডেজও নেওয়া হয়। যথাসময়ে বাহুতে নাম খোদাই করা হলো। খোদাই করার সময় চুপচাপ থাকলেও কয়েক মিনিট পর জুলুম খাঁ কাঁদতে শুরু করলেন। তা দেখে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল, ‘কাঁদছিস কেন, ব্যথা করছে?’
জুলুম খাঁ রেগে বলল, ‘আরে না, বানান ভুল হইছে।’

ডাক্তারের চেম্বারে একদিন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ডাক্তারের চেম্বারে একদিন
ছবি এআই

বিনা দাওয়াতে জ্বর আমার বাড়িতে আণ্ডাবাচ্চা নিয়ে হাজির হয়েছে। কীভাবে তাদের আপ্যায়ন করব বুঝতে পারছি না। আমি জ্বরে কুঁ কুঁ করছি। 
এ অবস্থায় বউ বলছে একজন প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে যেতে। বাঙালির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সবকিছুতেই প্রাইভেট খোঁজা, শুধু চাকরিটা হতে হবে সরকারি।  
বউয়ের কথা অমান্য করে কার সাধ্য?
আগে যতই ভুজুংভাজুং করুক, পুরুষ মানুষ সাধারণত রিং পরার পর থেকেই বউয়ের আনুগত্য মেনে চলতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া তার আর উপায়ও থাকে না। সরি, আমি বিয়ের রিঙের কথা বলি নাই, হার্টের রিঙের কথা বলছি। 
হার্টের রিং পরার পর থেকেই আমি সিংহ থেকে বিড়াল হয়ে গেছি। বউয়ের আঁচলে আশ্রয় নিয়েছি। আগে বউ আমাকে ভয় পেত, এখন আমি বউকে ভয় পাই। 
রেডি হতে গিয়ে দেখি–মানিব্যাগে হাজার দশেক টাকা ছিল, এখন  সাত হাজার। বাকি তিন হাজার গেল কই?
আমি বউকে ডেকে বললাম, তুমি আমার মানিব্যাগ থেকে হাজার তিনেক টাকা নিয়েছ?
বউ বলল, হ্যাঁ, জরুরি দরকার ছিল নিয়েছি। অনলাইনে একটা ড্রেসের অর্ডার করেছি। এতে সমস্যা কী? 
আমি মিনমিনে গলায় বললাম, নিয়ে ভালো করেছ। আমাকে জিগ্যেস করে নিলে ভালো হতো...।
বউ চোখ গরম করে বলল, সব সময় তোমার ওপর নির্ভর করে থাকতে  হবে কেন? তুমি কি আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে দেবে না? 
এরপর আর কথা চলে না। 
তুমি বাসার নিচে গিয়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়াও, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে রেডি হয়ে আসছি। জাস্ট শাড়ি পাল্টাব। 
আমি বাসার নিচে চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। ভাবলাম বড় করে এককাপ চা খাই, ভালো লাগবে। এই দোকানের চায়ের কাপ ছোট। দিন দিন চায়ের কাপ এতটাই ছোট হচ্ছে যে মনে হচ্ছে অচিরেই চায়ের দোকানে ড্রপার সিস্টেম চলে আসবে। তিন ড্রপ পাঁচ টাকা, সাত ড্রপ দশ টাকা।  
চা খেয়ে ঝিম মেরে বসে রইলাম। দোকানের সামনে একজন ভিক্ষুক বসা। তার সামনে ছোট একটা সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে লেখা– নগদ / বিকাশে ভিক্ষা নেওয়া হয়। বিশ টাকা ভিক্ষা দিলে পাঁচ টাকা ক্যাশব্যাক!
আধুনিক যুগে আধুনিক ভিক্ষুক! 
বউ আমাকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেছিল, বের হলো এক ঘণ্টা পর। নায়িকাদের মতো সাজগোছ করা। চোখে আবার লেন্স লাগিয়েছে। এখনকার মেয়েরা সৌন্দর্য বৃদ্ধি  করার জন্য চোখে লেন্স লাগায়। আমাদের বাপ-দাদার সময় একটাই লেন্স ছিল, চোখে ছানি পড়া।
আমি বিরক্ত গলায় বললাম, তুমি জামাইকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছ না ফ্যাশন শো করতে যাচ্ছ?
বউ আমার চেয়েও বিরক্ত গলায় বলল, তুমি কি চাও আমি ফকিরের বউয়ের মতো বের হই? এতে তোমার মান থাকবে? এই রাস্তার মাঝখানে আমার সঙ্গে ঝগড়া করতে চাও?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, তিন ধরনের মানুষের সঙ্গে কখনোই ঝগড়া করি না আমি। এরা হচ্ছে নারী, মহিলা এবং বউ। এদেরকে ঝগড়ায় হারানো পুরুষের পক্ষে সম্ভব না। তোমার মতো মোটা মেয়ের সঙ্গে তো আরও না।
আমার ওজন মাত্র বায়ান্ন কেজি। আমি মোটা হলাম কীভাবে? 
আমি আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, আমি তোমার শরীর নিয়ে কথা বলি নাই, মাথার কথা বলছি।
ডাক্তারের ভিজিট দুই হাজার টাকা। 
ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকেছি। ডাক্তার সাহেব রোগের বর্ণনা শুনে বললেন, রাতে কী খেয়েছেন? 
বউ বলল, মাটন বিরিয়ানি, সালাদ, সঙ্গে বাদামের জুস।
ডাক্তার বললেন, এটা আপনার ফেসবুক না, ডাক্তারের চেম্বার। সত্যি করে বলেন আপনার হাজবেন্ড গতকাল রাতে কী খেয়েছেন। 
বউ মিনমিনে গলায় বলল, রুটি আর আলু ভাজি।
ডাক্তার সাহেব খসখস করে কতগুলো পরীক্ষা লিখে দিয়ে বললেন, এই টেস্টগুলো করে নিয়ে আসেন। তার পর ওষুধ দেব।
আমি কুঁ কুঁ করতে করতে বললাম, ডাক্তার সাহেব, এতগুলো টেস্ট যে দিলেন, এর বিল কে দেবে?
ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, কেন? আপনারা দেবেন।
আমরা দেব কেন? আমরা অগ্রিম ফি দিয়ে এসেছি, আপনি রোগ ধরতে না পেরে এতগুলো টেস্ট ধরিয়ে দিলেন। এটা তো আপনার ব্যর্থতা। আপনার ব্যর্থতার দায় আপনার। বিল আপনি দেবেন। 
ডাক্তার সাহেব কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ফিফার বাপ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ফিফার বাপ
এঁকেছেন মাসুম

নতুনপাড়া গ্রামের মানুষ ফুটবল নিয়ে এমন পাগল যে, বিশ্বকাপ এলেই গ্রামের গরু-ছাগল পর্যন্ত যেন দুই দলে ভাগ হয়ে যায়। কেউ ব্রাজিলের সমর্থক, কেউ আর্জেন্টিনার। বাজার, মাঠ, এমনকি চায়ের দোকানেও আলোচনা চলতে থাকে!
এই গ্রামের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশেষজ্ঞ ছিলেন কুদ্দুস মিয়া। যদিও তিনি জীবনে কোনো ফুটবল ম্যাচ মাঠে খেলেননি, তবু তার দাবি–‘বিশ্বকাপ সম্পর্কে আমি যা জানি, ফিফার লোকজনও তা জানে না!’
গ্রামের লোকজন তাই তাকে ডাকত–‘ফিফার বাপ’।
একদিন বিকেলে মান্নানের চায়ের দোকানে বসে কুদ্দুস মিয়া ঘোষণা দিলেন–‘এইবার বিশ্বকাপ কে জিতবে, আমি এখনই বলে দিতে পারি।’
সবাই চুপ করে তার দিকে তাকাল।
নাসের মিয়া বললেন–‘তা হলে বলেন শুনি কোন দল জিতবে?’
কুদ্দুস মিয়া গম্ভীর মুখে চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন–‘যে দল সবচেয়ে বেশি গোল দেবে, সেই দলই জিতবে।’
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর পুরো দোকান হাসিতে ফেটে পড়ল।
রহিম বলল–‘এইটা তো আমরা সবাই জানি!’
কুদ্দুস মিয়া মাথা নেড়ে বললেন–‘জানো ঠিকই, কিন্তু আমার মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারো কি?’
এর পর থেকে গ্রামের সবাই তাকে আরও বেশি ‘ফিফার বাপ’ বলতে শুরু করল।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে কুদ্দুস মিয়া ঘোষণা দিলেন যে, তিনি নিজের বাড়ির ছাদে গ্রামের সবচেয়ে বড় পতাকা উড়াবেন। সকালে দেখা গেল সত্যিই বিশাল এক কাপড় উড়ছে। কিন্তু কাছে গিয়ে সবাই হতবাক। ওটা কোনো দেশের পতাকা নয়, স্থানীয় স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যানার!
নাসের মিয়া বললেন–‘চাচা, এইটা কোন দেশের পতাকা?’
কুদ্দুস মিয়া একবার তাকিয়ে বললেন–‘তোমরা বুঝবা না। এইবার নতুন একটা দল খেলতে নামছে।’
–দলের নাম কী?
–নতুনপাড়া ইউনাইটেড।
কেউ কেউ মজা বুঝলেও গ্রামের কয়েকজন বৃদ্ধ সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করে ফেললেন।
একজন তো বলেই বসলেন–‘মনে হয় ইউরোপের কোনো দেশ হবে!’
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন কুদ্দুস মিয়া গ্রামের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করলেন। সবাই রাতে মাঠে হাজির।
কুদ্দুস মিয়া গর্ব করে বললেন–‘আজ তোমরা আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচার দেখবা।’
কিন্তু খেলা চালু করার বদলে তিনি ভুল করে নিজের নাতির অনলাইন ক্লাস চালু করে দিলেন। পর্দায় শিক্ষক বলছেন–‘বাচ্চারা, আজ আমরা ভগ্নাংশের যোগ-বিয়োগ শিখব।’
কুদ্দুস মিয়া হাততালি দিয়ে বললেন–‘দেখছ? ম্যাচের আগে কোচ কৌশল শিখাচ্ছে!’
পনেরো মিনিট পরও যখন ভগ্নাংশই চলতে থাকল, তখন সবাই বুঝল ব্যাপারটা।
রাগে একজন চিৎকার করল–‘এইটা তো ক্লাস!’
কুদ্দুস মিয়া বললেন–‘বড় টুর্নামেন্টে সবই হয়। একটু ধৈর্য ধরো।’
এর পর কোনোভাবে আসল খেলা চালু হলো। কিন্তু বিপদ এখানেই শেষ নয়। বিদ্যুৎ চলে গেল। সবাই হতাশ!
কুদ্দুস মিয়া সঙ্গে সঙ্গে বললেন–‘চিন্তা নাই। আমার কাছে বিশেষ ব্যবস্থা আছে।’
তিনি ঘর থেকে একটা পুরোনো রেডিও নিয়ে এলেন।
রেডিও চালু হতেই শোনা গেল–‘আজকের আবহাওয়ার খবর!’
লোকজন আবার হাসতে শুরু করল।
এক সপ্তাহ পর কুদ্দুস মিয়া নিজেকে ফুটবল বিশ্লেষক ঘোষণা করলেন। তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন ভবিষ্যদ্বাণী করতেন।
একদিন বললেন–‘যে দল কাল জিতবে, তাদের জার্সির রং হবে লাল, নীল, হলুদ অথবা সাদা।’
রহিম বলল–‘চাচা, তা হলে তো প্রায় সব দলই এর মধ্যে পড়ে!’
কুদ্দুস মিয়া উত্তর দিলেন–‘এই জন্যই তো আমি বিশেষজ্ঞ!’
ফাইনালের দিন পুরো নতুনপাড়া উত্তেজনায় ফেটে পড়ল।
কুদ্দুস মিয়া সকাল থেকেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
কারণ তিনি আগের দিন ঘোষণা দিয়েছেন–‘আমি নিশ্চিত, ফাইনালে যে দল জিতবে তারা হারবে না।’
এই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী শুনে সবাই বিভ্রান্ত। খেলা শেষে সত্যিই যে দল জিতল, তারা হারেনি। কুদ্দুস মিয়া আনন্দে লাফিয়ে উঠলেন।
–দেখলা? আমার ভবিষ্যদ্বাণী শতভাগ সঠিক!
নাসের মিয়া বললেন–‘এইটা তো স্বাভাবিক কথা!’
–‘স্বভাবিক হোক আর অসাধারণ হোক, ঠিক তো হয়েছে!’
পরদিন তিনি নিজের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করলেন।
বড় ব্যানার টাঙানো হলো–‘বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক ফিফার বাপ কুদ্দুস মিয়াকে গণসংবর্ধনা।’
কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাত্র চারজন। একজন এসেছেন খিচুড়ি খেতে, একজন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে। একজন ভুল করে ভেবেছেন এখানে নাকি সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। আরেকজন এসেছেন মাইকের শব্দ শুনে।
তবুও কুদ্দুস মিয়া মঞ্চে উঠে বললেন–‘আপনাদের ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত।’
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির ছাগল মঞ্চে উঠে ব্যানার খেতে শুরু করল।
আশপাশের লোকজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
কুদ্দুস মিয়া বললেন–‘দেখছ? পশুরাও আমার অনুষ্ঠান মিস করতে চায় না!’

লাল বাহাদুর

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
লাল বাহাদুর
এঁকেছেন মাসুম

নিকুরদহ গ্রামে কোরবানির ঈদ মানেই এক আলাদা উৎসব। গ্রামের রাস্তায় তখন শুধু গরু আর মানুষের ভিড়। কেউ গরুর দাঁত দেখে, কেউ লেজ ধরে টানে। আবার কেউ শুধু দাম শুনেই বলে–‘এই গরু নিশ্চিত বিদেশি জাতের!’
এই গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ ছিলেন মোক্তার চাচা। প্রতিবছর তিনি এমনভাবে গরুর গল্প করতেন যেন পুরো জেলার সেরা গরু শুধু তিনিই চিনতে পারেন। তার স্ত্রী রহিমা খালা অবশ্য এসব শুনে হেসেই উড়িয়ে দিতেন। কারণ গত বছর মোক্তার চাচা যে ছাগল কিনেছিলেন, সেটা এক রাতে তিন বাড়ির শাকখেত খেয়ে শেষ করে দিয়েছিল।
এবার মোক্তার চাচা হাট থেকে বিশাল এক লাল গরু কিনে আনলেন। গরুর নাম দিলেন ‘বাহাদুর’।
গরু দেখে গ্রামের ছেলে টিপু, রিপন আর বাবলু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
টিপু বলল–চাচা, এই গরু কি খুব শান্ত?
মোক্তার চাচা গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, এই গরু এত ভদ্র যে পাশে বইসা গান গাইলেও কিছু বলবে না!
কিন্তু কথাটা বলার পরই বিপদ শুরু হলো। বাহাদুর হঠাৎ এমন এক হাম্বা ডাক দিল যে পাশের বাড়ির হাঁসগুলো ভয় পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিল। তার পর গরু দিল এক ঝটকায় দড়ি ছিঁড়ে বাজারের দিকে দৌড়!
মোক্তার চাচা চিৎকার করতে করতে পেছনে ছুটলেন, ধরো! কেউ আমার গরুরে ধরো!
তার পেছনে টিপু, রিপন, বাবলু–আর তাদের পেছনে পুরো নিকুরদহ গ্রাম।
গরু গিয়ে প্রথমে ঢুকল কুদ্দুস মাস্টারের সবজি খেতে। সেখানে গিয়ে বাঁধাকপি খেতে শুরু করল এমনভাবে, যেন বহুদিন কিছু খায়নি।
কুদ্দুস মাস্টার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, এইটা গরু না, কৃষি বিভাগের দুর্যোগ!
তার পর গরু স্কুলমাঠে ঢুকে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দিল। ছেলেরা বল ফেলে দৌড়ে পালাল। শুধু বাবলু কাদায় পিছলে পড়ে গেল। তাকে দেখে গরুও কিছুক্ষণ থেমে তাকিয়ে রইল।
অনেক কষ্টে গরুকে ধরে বাড়িতে আনা হলো। কিন্তু তখন দেখা গেল মোক্তার চাচার নতুন পাঞ্জাবির হাতা ছিঁড়ে গেছে, আর রিপনের এক পাটি স্যান্ডেল হারিয়ে গেছে।
সন্ধ্যায় রহিমা খালা বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমার গরুরে দেখলে আমারই ভয় লাগে!
মোক্তার চাচা গম্ভীর হয়ে বললেন, আমি ছোটবেলায় মহিষ সামলাইছি!
ঠিক তখনই গরু এমনভাবে মাথা ঝাঁকাল যে মোক্তার চাচা সোজা পানির ড্রামের মধ্যে পড়ে গেলেন।
পরদিন সকালে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা হলো–কোরবানির চামড়ায় সবাই লবণ লাগাইবেন।
এই কথা শুনে মোক্তার চাচা এত ব্যস্ত হয়ে গেলেন যে ভুল করে গরুর খাবারের বদলে সামনে লবণের বস্তা খুলে রাখলেন।
বাহাদুর এক চাটা দিয়েই এমন মুখ বানাল, যেন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হয়েছে।
এর পর থেকে বাহাদুর মোক্তার চাচাকে দেখলেই রাগী চোখে তাকায়।
ঈদের দিন সকালে পুরো গ্রাম প্রস্তুত। কিন্তু মোক্তার চাচার বাড়িতে তখনো কসাই নেই। কারণ মুসা কসাই নাকি একসঙ্গে চার বাড়িতে বুকিং খেয়েছে।
অনেক অপেক্ষার পর মুসা কসাই সাইকেলে করে এলেন। এসে প্রথমেই বললেন–আগে এক কাপ চা খামু।
এই কথা শুনে রিপন ফিসফিস করে বলল, চা খাইতে খাইতে গরু আবার পালাইলে?
কথা শেষ হতেই বাহাদুর আবার দড়ি ছিঁড়ে দৌড়!
এইবার গরু সোজা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চেয়ারম্যান সাহেব গম্ভীর মুখে বললেন, এই গরুরে ভোটে দাঁড় করাইলে মনে হয় জিতব!
সবাই হেসে গড়াগড়ি। অনেক দৌড়াদৌড়ি আর হাসাহাসির পর শেষ পর্যন্ত সব কাজ শেষ হলো। সন্ধ্যায় মোক্তার চাচা হাঁপাতে হাঁপাতে উঠানে বসে ছিলেন। টিপু জিজ্ঞেস করল–চাচা, আগামী বছর আবার গরু কিনবেন?
মোক্তার চাচা চোখ বন্ধ করে বললেন–না রে বাবা… আগামী বছর কবুতর পালমু!
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির একটা মোরগ এসে তার লুঙ্গিতে ঠোকর দিল।
পুরো উঠান আবার হাসিতে ফেটে পড়ল!

চায়নিজ জামাই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
চায়নিজ জামাই
এঁকেছেন মাসুম

শেষ পর্যন্ত কিস্তিমাত করল কিসমত আলীর মেয়ে কুলসুম বেগম। কুলসুম বেগমের বিয়ে হচ্ছিল না বলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। প্রতিবেশীরা নানা কথা বলত। 
সেই কুলসুম বেগম প্রেমের ফাঁদে ফেলে সুদূর চীন থেকে এই অজপাঁড়াগায়ে নিয়ে এল এক যুবককে। যুবক দেখতে সুদর্শন, নাকটা যা চ্যাপ্টা। চীন-জাপানের মানুষের নাক তো চ্যাপ্টাই হবে। মাথার চুলগুলো খাড়া খাড়া। তবে খাড়া চুল কোনো সমস্যা না। 
কুলসুম বেগম তো আনন্দে ঝলমল করছে। পাড়ার ছেলে-বুড়ো সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কিসমত আলীর বাড়িতে। এর আগে তারা কখনো চাইনিজ দেখেনি। সেই চাইনিজ যুবক আজ তাদের গ্রামের জামাই হতে যাচ্ছে। বিয়ের পর কুলসুম বেগম চলে যাবে চীন দেশে। কপাল একেই বলে! 
কুলসুম বেগমের কপাল দেখে গ্রামের অন্যান্য বিয়ের যোগ্য মেয়েরা ফেসবুকে বিদেশি ছেলে খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। কালো, মুখে বসন্তে দাগওয়ালা আইবুড়ো কুলসুম যদি চীন দেশের ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে আটকাতে পারে তো অন্যরা পারবে না কেন? 
বিয়ের সব আয়োজন শেষ। সমস্যা দেখা দিল এক জায়গায়। ছেলে তো বাংলা বলতে পারে না, বাংলা বোঝেও না। বিয়ের কাজি যা বলছে ছেলে তা কিছুই বুঝছে না। হাঁ করে কাজির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কুলসুম বেগমের চাচা রহমত আলী বলল–কাজি সাহেব, বিশেষ কিছু বলানোর দরকার নাই। কোনোমতে ওর মুখ দিয়ে ‘কবুল’ শব্দটা বের করেন। তার পর আমাদের মেয়ে ওকে বাংলা শিখায়া নেবে। 
পাশ থেকে একজন বলল, বাংলা পারে না তো প্রেম করল কেমনে? 
রহমত আলী ধমকে উঠল, প্রেম করছে ইংরেজিতে। তুমি জানো না, আমাদের মেয়ে আইএ পাস? 
উপস্থিত মেয়েরা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। তারা বোঝাল, বিদেশি ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে হলে ইংরেজি শিখতে হবে। আরেকজন বলল, ইংরেজিতে কবুল বলানোর সিস্টেম আছে নাকি?
আরেকজন বলল, আরে নাহ! ইংরেজিতে বললে বিয়ে হবে না। 
ছেলে শুধু এর-ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে। বিয়ে করার ব্যাপারে তার ভেতর বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী বৃদ্ধ তমিজ মিয়া বলল, এভাবে সময় নষ্ট করে লাভ নাই। ইংরেজি জানে এমন কাউরে নিয়া আসো। সে এর সঙ্গে কথা বলে এর মুখ দিয়ে কবুল বের করতে পারবে। 
কয়েকজন ছুটে গেল ইংরেজি জানা লোক আনতে। পাড়ায় লেখাপড়া তো অনেকেই জানে, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলার মতো তেমন কেউ নাই। বেশির ভাগই অটোপাস যুগে এসএসসি, এইচএসসি পাস করেছে। 
একজন রফিক উল্লাহকে ধরে নিয়ে এল। রফিক উল্লাহ বিএ পাস করেছে। সে মোটামুটি ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। রফিক এসে চাইনিজ যুবককে একথা-সেকথা বলে, বিয়ের নিয়মকানুন সম্পর্কে বলে, কিন্তু চাইনিজ যুবক আগের মতোই তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলে না। 
রফিক বলল, সে তো ইংরেজিও জানে না। আসলে চাইনিজরা নিজেদের ভাষার বাইরে অন্য কোনো ভাষা শেখে না। তাদের মান্দারিন ভাষা খুবই সমৃদ্ধ। এমনকি চাইনিজরা জুকারবার্গের ফেসবুকও ব্যবহার করে না। তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে। 
এ কথা শুনে সবার চোখ কপালে। প্রেম তো জাকারবার্গের ফেসবুকেই হয়েছে। বৃদ্ধ তমিজ মিয়া বলল, তায়লে সে জাপানিজ। চাইনিজ আর জাপানিজদের দেখতে একই রকম লাগে। জাপানিজদের চোখ আরও একটু বেশি ফোলা, নাক আরও মোটা। দেখো তার চোখ কেমন ফোলা। 
রফিক বলল, চাইনিজ, জাপানিজ যাই হোক, তার মুখ থেকে তো কিছু বলাতে হবে। সে তার ভাষাই বলুক। সে তো কিছুই বলছে না। সে ফেসবুকে প্রেম করছে কোন ভাষায়?
এই প্রশ্নটা খুব কার্যকর। কুলসুমের সঙ্গে তার সে দীর্ঘ দেড় বছর চুটিয়ে প্রেম করেছে। তখন সে কোন ভাষায় লিখেছে? 
কুলসুমের চাচা রহমত আলী কুলসুমের দিকে তেড়ে গিয়ে ধমকে উঠল, এই কুলসুম, তুই ওর সঙ্গে কোন ভাষায় প্রেম করছোস?
–আমি তো বাংলা ভাষায়ই লিখছি। 
–আর সে?
–সেও বাংলা ভাষায় লিখছে।
–তার বাড়ি কোন দেশে বলছিল?
–চীন দেশে। 
উপস্থিত সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। কাজ-কর্ম ফেলে তারা এখানে বসে আছে। ছেলে প্রেম করেছে, প্রেমের টানে বিয়ে করতে এসেছে। এখন মুখে কোনো আওয়াজ বের করছে না। 
এক যুবক চোখ রাঙিয়ে বলল, এই মিয়া, তুমি বিদেশি লোক। তার ওপর আমাদের গ্রামের মেয়ে বিয়ে করতে এসেছো। তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু এভাবে চুপ করে থাকবে না। চীনের কোন শহরে তোমাদের বাড়ি? ঝটপট বলো। তোমার ভাষাতেই বলো। আমরা তোমার মুখের শব্দ শুনতে চাই। বলো, কোন শহরে তোমার বাড়ি?
–রাঙামাটি শহরে। 
রাঙামাটি! সবাই হাঁ হয়ে গেল। 
পাশ থেকে এক যুবক বলল, চীনে রাঙামাটি শহর আছে?
–আছে। বিরাট দেশ তো। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি সব আছে। 
–কী বলতেছো তুমি? 
–আমি একটু টয়লেটে যাব। খুব চাপ দিতেছে। 
–যাও, টয়লেটে যাও। যতদূর মনে হইতেছে তোমার কপালে আজ খারাপ কিছু আছে। তোমারে সারা রাত টয়লেটে বেঁধে রাখব। সকালে পুলিশ আসবে। তুমি চরম ধোঁকাবাজি করেছো বোঝা যাচ্ছে। 
চীনের রাঙামাটি শহরের যুবক টয়লেটে গেল তো গেল, আর বের হওয়ার নাম নেই। সবাই ডাকাডাকি করতে লাগল, টয়লেটের দরজা ধাক্কাতে লাগল কিন্তু চাইনিজ যুবক তো আর বের হয় না। 
শেষে একজন লক্ষ্য করে টয়লেটের পেছনের বেড়া ভাঙা। দেখে চাইনিজ যুবক টয়লেটের পেছনের বেড়া ভেঙে ধানখেতের ভেতর দিয়ে পালিয়ে গেছে। 
রাত নেমে এসেছে। চারদিক অন্ধকার। এর মধ্যে চাইনিজ যুবককে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে না। তবুও অনেকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করল। কিন্তু কোথাও পেল না। 
চাচা রহমত আলী কুলসুমকে বলল, এই তোর মোবাইল কই? 
কুলসুম মোবাইল তুলে দিল চাচার হাতে। রহমত আলী বলল–আজ থেকে তোর মোবাইল চালানো বন্ধ। চীনের রাঙামাটি শহরের যুবকের সঙ্গে প্রেম আর চলবে না।

সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড
ছবি জেমিনি এআই

শাকপালা গ্রামের মানুষজন এমনিতেই একটু রসিক প্রকৃতির। এখানে কারও হাঁস ডিম কম দিলেও সেটা নিয়ে তিন দিন আলোচনা চলে। আর কোরবানির ঈদ এলে তো পুরো গ্রামটাই যেন হাসি-আনন্দের মেলায় পরিণত হয়!
গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ সোনাই চাচা। গোলগাল চেহারা, মাথাভর্তি সাদা চুল আর বিশাল গোঁফ—দেখলেই মনে হয় তিনি গ্রামের চেয়ারম্যান না হলেও অন্তত হাসির মন্ত্রী। তবে নিজের বিষয়ে তার ধারণা আরও বড়। তিনি প্রায়ই বলেন,
–এই গ্রামে আমার মতো অভিজ্ঞ মানুষ আর দুইটা নাই!
এবার ঈদে সোনাই চাচা এক বিশাল বোম্বাই ষাঁড় কোরবানি দিলেন। গরুটা এত বড় ছিল যে, পাশের বাড়ির রফিক মিয়া বলল–চাচা, এই গরু তো দেখে মনে হয় হাইস্কুলের হেডমাস্টার!
কোরবানি শেষ হতে না হতেই শুরু হলো চামড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। সোনাই চাচা চামড়ার দিকে এমন নজরে তাকিয়ে আছেন, যেন ওটা সোনার খনি।
তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, চামড়া সাবধানে ধরো। গত বছর জব্বাররা ভাঁজ কইরা এমন অবস্থা করছে, মনে হইছিল পুরান বালিশের কভার!
পাশ থেকে রঞ্জু হেসে বলল–চাচা, চামড়া কি ইস্ত্রি কইরা রাখুম?
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
এদিকে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা এল—চামড়া এতিমখানায় দিলে ভালো হয়। তখনই গ্রামের সবাই হঠাৎ দানবীর হয়ে গেল।
জব্বার বলল, আমি আমার চামড়া মাদ্রাসায় দিমু।
রঞ্জু বলল, আমি এতিমখানায়।
সোনাই চাচা গোঁফে হাত বুলিয়ে বললেন, আমি দুই জায়গাতেই দিতে চাই, কিন্তু গরু তো একটা!
আবারও হাসির ঝড় উঠল উঠানে।
এদিকে গ্রামের তিন দুরন্ত ছেলে লিটু, মিঠু আর সেন্টু—চুপিচুপি অন্য ফন্দি আঁটছিল। তারা ঠিক করল, চামড়া দিয়ে একটা ভূত বানাবে। সন্ধ্যার পর মানুষকে ভয় দেখানো হবে।
রাত নামতেই তারা বাঁশঝাড়ের পাশে চামড়াটা খুঁটির সঙ্গে টাঙিয়ে দিল। দূর থেকে দেখে সত্যিই মনে হচ্ছিল, কোনো আজব প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক তখন সোনাই চাচা টর্চ হাতে সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ টর্চের আলো চামড়ার ওপর পড়তেই তিনি থমকে গেলেন। চামড়ার ভেতর থেকে সেন্টু চাপা গলায় বলল, আমি চামড়ার আত্মা!
সোনাই চাচার মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ইন্নালিল্লাহ… চামড়ারও আবার আত্মা আছে নাকি!
তার পর এমন দৌড় দিলেন যে, স্যান্ডেল একদিকে আর লুঙ্গির গিঁট অন্যদিকে চলে গেল।
পরদিন সকালে পুরো শাকপালা গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল—সোনাই চাচা নাকি চামড়ার ভেতর ভূত দেখেছেন!
চায়ের দোকানে সবাই মজা নিচ্ছে। 
রঞ্জু বলল–চাচা, ভূত কি চামড়ার দাম চাইছিল?
সোনাই চাচা এবারও গম্ভীর মুখে বললেন, ভূতটা খুব ভদ্র আছিল। আগে সালাম দিছে!
এই কথা শুনে দোকানের লোকজন এমন হেসে উঠল যে, এক লোকের হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল!
শেষ পর্যন্ত লিটু, মিঠু আর সেন্টুর দুষ্টুমি ধরা পড়ে গেল। সোনাই চাচা প্রথমে রাগ দেখালেও পরে নিজেই হেসে বললেন, ঠিক আছে, তোদের জন্যই গ্রামের মানুষ দুই দিন হাসছে। এই হাসিরও কম দাম না!
তার পর চামড়াটা দান করে তিনি বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন। পশ্চিম আকাশে তখন নরম লাল আলো। গ্রামের রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঈদের আনন্দ, আর মানুষের মুখে মুখে ভাসছে সেই বিখ্যাত কথা, চামড়ার ভেতরেও নাকি আত্মা আছে!