ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম
দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম
পাসিংপাড়া পরিচ্ছন্ন একটি গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দারা খুব সহজ-সরল এবং পরিশ্রমী। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৭০০ ফুট উঁচুতে মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ানো একটি গ্রাম। গ্রামটির নাম পাসিংপাড়া। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় কেওক্রাডং চূড়ার পাশেই এর অবস্থান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম। এর অবস্থান এত উঁচুতে যে, মেঘ এই গ্রামের নিচ দিয়ে নদীর মতো বয়ে চলে। আবার গ্রামের মধ্য দিয়ে মেঘের অবারিত যাওয়া-আসা। ঘরের ভেতরে মেঘ ঢুকে যায় যখন-তখন। দরজা খুলে হাত বাড়ালেই মেঘের স্পর্শ পাওয়া যায়। পুরো শরীরে শীতল আবেশ ছড়িয়ে দিয়ে যায় মেঘের দল। দেখলে মনে হবে যেন গ্রামটি মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়াচ্ছে। সারা বছরই মেঘের সঙ্গে নিবিড় সান্নিধ্য থাকে এই গ্রামের।

রুমা থেকে চাঁদের গাড়িতে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় কেওক্রাডংয়ে। সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। কেওক্রাডং থেকে মাত্র ১০০ ফুট নিচে নামলেই দেখা মিলবে এই অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামের। পাহাড়ের গ্রাম বা পাড়াগুলোয় একজন পাড়াপ্রধান অর্থাৎ কারবারি থাকেন। পাসিংপাড়ার কারবারির নাম পাসিং ম্রো। তার নামেই গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের স্মার্ট কারবারির মধ্যে তিনি অন্যতম। তার সুঠাম দেহ, সুদর্শন মুখাবয়ব জুড়ে যেন ঠিকড়ে পড়ে তার ব্যক্তিত্ব। এ গ্রামের বাসিন্দারা ম্রো এবং বম সম্প্রদায়ের। ৫০-৬০টি পরিবার বাস করে এখানে। যোগাযোগের সহজলভ্যতার দরুণ এ গ্রামে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, যা বেশির ভাগ পাহাড়ি গ্রামেই থাকে না।

পাসিংপাড়া খুব পরিচ্ছন্ন একটি গ্রাম। গ্রামে প্রবেশের জন্য বানানো আছে একটি ফটক। প্রবেশদ্বারটি কাঠ-বাঁশ ও বেড়া দিয়ে আটকানো। এ গ্রামের ঘরগুলো বাঁশ, কাঠ এবং টিনের তৈরি। সাধারণত বাঁশ বা কাঠ ব্যবহৃত হয় বেড়া হিসেবে। আর টিন ব্যবহার করা হয় চালা দেওয়ার জন্য। গ্রামটির অবস্থান বেশি ওপরে হওয়ার জন্য এখানে বাতাসের তাণ্ডবও থাকে বেশি। বাতাসের তোড়ে যেন টিনের চালা উড়ে না যায়, তাই ওপরে বাঁশ আড়াআড়ি করে বাঁধা হয়।

এ গ্রামের বাসিন্দারা খুব সহজ-সরল এবং পরিশ্রমী। জীবন ধারণের জন্য এখানকার বাসিন্দারা জুম পদ্ধতিতে চাষ করে থাকেন। এ ছাড়া কেউ কেউ শিকারও করে থাকেন। যখন জুম চাষের মৌসুম শেষ হয়ে যায়, তখন তাদের হাতে অনেক অবসর সময় থাকে। সেই সময় গ্রামের বৃদ্ধ মানুষ শিশু, কিশোর ও তরুণদের বিভিন্ন ধরনের গল্প শুনিয়ে থাকেন। সেসব গল্পে তাদের সমাজের রীতিনীতি ও সংস্কৃতির কথা মিশে থাকে।

উচ্চতা বেশি হওয়ার দরুণ এ গ্রামের বাসিন্দারা পানির সংকটে ভোগেন। পানির জন্য তাদের প্রায় দুই হাজার ফুট নিচে নামতে হয়। সেখানের ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে থাকেন তারা। আসলে পাহাড়ি জীবন প্রাকৃতিকভাবে যত সুন্দর, জীবন ধারণের জন্য তা ততটাই কঠিন।

এ গ্রামের মধ্য দিয়ে চলে গেছে একটি রাস্তা। তার দুই পাশ জুড়ে রয়েছে ঘরবাড়ি। পাড়ায় দুটি চার্চ আছে। একটি চার্চ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আরেকটি চার্চে প্রতি রবিবার ধর্মীয় সমাবেশ ও প্রতি সন্ধ্যায় প্রার্থনা হয়। পাড়ায় বোর্ডিংসহ একটি স্কুল আছে। স্কুলটির নাম ‘মডার্ন স্কুল’। স্কুলটিতে ১০০-এর বেশি শিশু পড়াশোনা করে। সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। দূরের পাহাড় থেকে শিশুরা এসে বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে।

স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য পাহাড়ি গ্রামের মতো তাদের ওখানেও কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থা নেই। চিকিৎসার প্রয়োজনে তাদের যেতে হয় রুমা বাজারে। এ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। তবে সব ঘরেই সোলার আছে। গ্রামের বাসিন্দারা বাংলা ভালো বোঝে, এমনকি বাংলা ভাষায় কথাও বলতে পারে। পাহাড়ের অনেক গ্রামেই পর্যটক বা বাঙালিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু পাসিংপাড়ায় যাওয়ার অনুমতি সহজেই রুমা গ্যারিসন থেকে পাওয়া যায়। তবে কখনো কখনো নিরাপত্তার কারণে সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

কলি

যেভাবে এসেছে বিশ্ব বাবা দিবস

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১৫ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:১৫ পিএম
যেভাবে এসেছে বিশ্ব বাবা দিবস

বাবার প্রতি ভালোবাসা জানাতে প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার পালন করা বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিটি মানুষের জীবনে তাদের বাবা-মাই সবচেয়ে আপনজন। তাদের ভালোবাসায় বেড়ে ওঠে সন্তানরা।

সাধারণত মায়ের সঙ্গেই সন্তানদের সম্পর্ক গভীর হয়। বাবার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব থাকে সন্তানদের। কিন্তু তাই বলে বাবার ভালোবাসা কম নয়। তিনি সারাটি জীবন ব্যয় করেন সন্তানদের এবং পরিবারের পেছনে। সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই পালিত হয় দিনটি প্রতি বছর বিশ্বের ১১১ দেশে পালিত হয় বাবা দিবস। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকেই দিবসটি পালন করা শুরু হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সেপ্টেম্বরের প্রথম রবিবার বাবা দিবস পালন করে থাকে।

বাবা দিবসের শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। অন্যরা বলেন, ওয়াশিংটনের ভ্যাংকুভারে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। তবে সাধারণ মত, বাবা দিবসের প্রবক্তা সোনার স্মার্ট ডোড। যখন তার বয়স ১৬, তখন তার মা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। পরিবারে সোনারই ছিলেন একমাত্র কন্যা। পূর্ব ওয়াশিংটনের এক গ্রামের ফার্মে এর পর থেকে ডোডের বাবা নবজাতকসহ পাঁচটি সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। সোনার বড় হওয়ার পর অনুভব করলেন, ছয়টি সন্তান একা একা মানুষ করতে কী ভীষণ পরিশ্রমই না তার বাবাকে করতে হয়েছে।

উইলিয়াম তার মেয়ের চোখে ছিলেন সাহসী, নিঃস্বার্থ একজন ভালো বাবা, যিনি সন্তানদের জন্য নিজের সব সুখ-শখ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সোনার স্মার্ট বিয়ে করেন জন ব্রোস ডোডকে। তাদের সন্তান জ্যাক ডোড জন্মের কিছুকাল পরে সোনারের স্বামীও মারা যান। এ অবস্থায় বাবা আর মেয়ে মিলেই পুরো জীবন পার করে দেন তারা।

বাবার প্রতি সম্মান জানাতে ‘বাবা দিবস’ ঘোষণার বিষয়টি সোনারের চিন্তায় আসে ১৯০৯ সালে। ‘মা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে সে বছর চার্চে যান সোনার ডোড। অনুষ্ঠানে এসেই তার মনে হয় মা দিবসের মতো বাবাদের জন্যও একটি দিবস করা প্রয়োজন, যেখানে মায়েদের মতো বাবাদেরও সম্মান জানানো হবে। প্রকাশ করা হবে ভালোবাসা। যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেন মন্ত্রিসভার কাছে তিনি তার বাবার জন্মদিন ৫ জুনকে বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠান।

তার প্রস্তাবের প্রশংসা করলেও মন্ত্রিসভা ৫ জুনকে বাবা দিবস ঘোষণা করতে রাজি হয়নি। তারা জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

কলি

১৫ মিনিট পানির নিচে ডুবে থাকেন বাজাউরা!

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
১৫ মিনিট পানির নিচে ডুবে থাকেন বাজাউরা!

প্রায় হাজার বছর আগের কথা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোহর রাজ্যের রাজার বিশাল নৌবহর চলেছিল সমুদ্র পথে। রাজকন্যা দায়াং আয়েশাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সুলু রাজ্যের রাজার সঙ্গে বিবাহ দেওয়ার জন্য। রাজকন্যাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বাজাউ নামে এক দুঃসাহসী উপজাতি। যারা এই এলাকার সমুদ্রকে নিজের হাতের তালুর মতোই চেনে।

ব্রুনেইয়ের তৎকালীন সুলতান চেয়েছিলেন আয়েশাকে বিয়ে করতে। কিন্তু জোহরের রাজা তার মেয়ের সঙ্গে ব্রুনেইয়ের সুলতানের বিয়ে দিতে রাজি হননি। এই অপমান ভুলতে পারেননি ব্রুনেইয়ের সুলতান। মেনে নিতে পারেননি সুলুর রাজার সঙ্গে রূপসী আয়েশার বিবাহের উদ্যোগ। তাই ব্রুনেইয়ের সুলতান অতর্কিত আক্রমণ করেছিলেন জোহর রাজ্যের নৌবহর। গভীর সমুদ্রের জল বাজাউদের রক্তে লাল করে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন জোহরের রাজকন্যাকে।

দেশে ফিরে আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান। বিপদে পড়েছিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতানের ভয়ংকর আক্রমণের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকশ বাজাউ যোদ্ধা ও তাদের পরিবার। জোহর রাজ্যে ফিরলে জোহরের রাজার তলোয়ারের নিচে পড়তে হবে, সেই ভয়ে তারা আর দেশে ফিরতে পারেনি। সেই দিন থেকে, স্থলের সঙ্গে বাজাউদের চিরকালের জন্য বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। সমুদ্রই হয়ে গিয়েছিল তাদের ঘর।

বাজাউদের রয়েছে জলের নিচে শ্বাস ধরে রাখার বিরল এক দক্ষতা ও যোগ্যতা। সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল বাজাউদের পুরো জীবন কাটে সমুদ্রে। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে বেশ কয়েকটি উপসাগর রয়েছে। যাদের নাম সুলু, সেলেবিস, বান্দা, মালুকু, জাভা, ফ্লোরেস এবং সাভু। এই উপসাগরগুলোর বিস্তৃত নীল জলে ঘুরে বেড়ান বাজাউ জাতিরা। তারা বিশেষ আকৃতির নৌকা লেপা-লেপায় চড়ে। নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই তাদের। তাই এদের বলা হয় ‘সি জিপসি’ 
বা ‘সি নোম্যাড’।

সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় তীর থেকে আধা কিলোমিটার সমুদ্রের ভেতরে বাজাউরা তৈরি করেন তাদের অস্থায়ী গ্রাম। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা বাড়িগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুলে ফেলা যায়। বাড়িগুলোর নিচ দিয়ে সমুদ্রের ঢেউ বয়ে চলে। ছোট ছোট ডিঙি মতো নৌকা করে চলে এ বাড়ি সে বাড়ি যাতায়াতও। তাদের তৈরি ঘরগুলো খুব মজবুত হয়ে থাকে। ২০০৪ সালে হওয়া সুনামিতে বাজাউদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি, এই উপজাতির অনেক মানুষ আছে যারা মাটিতে কোনোদিন পা রাখেনি। বাজাউরা নিজেদের বয়স বলতে পারে না। এই যুগেও সময় কিংবা তারিখ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তাছাড়া তারা জানে না বিদ্যুৎ কী ও কেন লাগে। সামুদ্রিক মাছের তেলের মশাল আজও তাদের রাতের অন্ধকারে আলো দেয়। সমুদ্র তীরবর্তী কিছু গ্রামের মানুষ এদের জ্বালানি কাঠ, পানি এবং জামাকাপড় দেয়। বিনিময়ে বাজাউরা গ্রামবাসীদের সামুদ্রিক মাছ দেয়।

সমুদ্রের ২৩০ ফুট নিচে তারা শিকার করতে যায়। অবিশ্বাস্যভাবে তারা পানির নিচে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট শ্বাস ধরে থাকতে পারে। তাদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন মাছ, স্টিং রে, স্কুইড এবং অক্টোপাস।

জীবজগতের ওপর করা গবেষণাপত্র প্রকাশ করে থাকে বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘সেল’। এই পত্রিকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক মেলিসা ইলার্ডো ও রাসমুস নিয়েলসেন বাজাউদের নিয়ে করা এক গবেষণাপত্রে দিয়েছেন বাজাউদের পানির নিচে শ্বাস ধরে রাখার রহস্যের উত্তর। গবেষকরা জানিয়েছেন, বাজাউদের জিনে থাকা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যই তাদের প্রাকৃতিক ডুবুরি করে তুলেছে। বাজাউরা যখন শ্বাস চেপে জলে ডুব দেয় তখন তাদের দেহে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দেয়। হৃৎপিণ্ড তার কাজ কমিয়ে দেয়। অক্সিজেনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। পালস রেট নেমে দাঁড়ায় প্রতি মিনিটে মাত্র ৩০ বার। শরীরের বাইরের দিকের কলাকোষ থেকে রক্তপ্রবাহের অভিমুখ ঘুরে যায় শরীরের ভেতরের দিকে। রক্ত যায় মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে।

তবে বাজাউ উপজাতিরা সবসময় সংশয়ে থাকে। কারণ বাজাউদের দেশ নেই। পরিচয়পত্র নেই। ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়ার তীর বরাবর সুলু সমুদ্রে যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। অসুস্থ হলেও তীর ছোঁয়ার উপায় নেই। নাগরিক না হওয়ায় ডাঙায় এলে হাসপাতালও চিকিৎসা করে না। বরং তাদের গ্রেপ্তারও হতে হয়। তাই জন্মের মতো বাজাউদের মৃত্যুও হয় সমুদ্রে। নৌকা করে দূর সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মরদেহ। সমুদ্রের পুত্র-কন্যারা সামুদ্রিক জীবের খাদ্য হতে হতে সমুদ্রগর্ভেই বিলীন হয়ে যান।

 কলি 

প্রেমে সেরা বাঙালি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
প্রেমে সেরা বাঙালি

প্রেম করতে হলে বাঙালিদের থেকে শেখা উচিত, এটা অনেক অবাঙালি বলেন। কারণ, ভালোবাসা ব্যাপারটাই বাঙালির কাছে বেশ অন্যরকম। পরিবার, পরিজন, সমাজ সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করতে পারে এই ভালোবাসার জন্য।

এই যেমন সৃষ্টি আর সৌম্যর ভালোবাসা। সেই শান্তিনিকেতনে দোলের সময় প্রথম দেখা হয় দুজনের। ঝগড়া দিয়ে শুরু হয় তাদের আলাপ।

সোনাঝুরির হাটে গিয়ে দুজনের একই কুর্তি পছন্দ হয়। সৌম্য কুর্তি কিনছিলেন তার দিদির জন্য আর সৃষ্টি নিজের জন্য। দুজনেই ওখানে ঝগড়া শুরু করে দেয়। তারপর দোকানের লোকটি এই বিরাট বড় সমস্যার সমাধান করে দেন। 

তিনি বলেন, একই ধরনের আরও একটা কুর্তি আছে। তাই চিন্তার কারণ নেই।

কুর্তি নিয়ে ফেরার সময় দুজনেই দুজনকে মুখ ভেংচি কেটে চলে যায়। তখনো তারা জানত না, আবার তাদের দেখা হবে। হঠাৎ একদিন শপিংমলে দেখা হয়ে গেল দুজনের। সেখানে সৃষ্টি তার এক বন্ধুর জন্মদিনের জন্য গিফট কিনতে গেছিল। কিন্তু তার জন্য রিস্টওয়াচ কিছুতেই পছন্দ করতে পারছে না। তখন তার দেখা হয় সৌম্যর সঙ্গে। নিজের চেনা কাউকে জিজ্ঞেস করা ভালো দেখে সে-ই এগিয়ে যায় তার দিকে। তারপর বলে, ‘কেমন আছো? এইখানে এসেছ শপিং করতে?’

সৌম্য- হ্যাঁ। কিন্তু তুমি এখানে কী করছ?

সৃষ্টি- বন্ধুর জন্য জন্মদিনের উপহার কিনতে এসেছি। একটু সহযোগিতা করতে পারবে?

সৌম্য- হ্যাঁ বলো।

সৃষ্টি- আসলে আমি একটা রিস্টওয়াচ কিনতে চাই, জেন্টস। কিন্তু পছন্দ করতে পারছি না।

সৌম্য- আচ্ছা এই ব্যাপার। চলো।

তারপর সৌম্য সৃষ্টিকে একটা রিস্টওয়াচ পছন্দ করে দেয়। বিল মিটিয়ে সৃষ্টি চলে যায়। সৌম্য খেয়াল করে, সৃষ্টি নিজের পার্স ফেলে চলে গেছে। সে তড়িঘড়ি মল থেকে বেরিয়ে দেখে, সৃষ্টি কোথাও নেই।

পার্সটা খুলে দেখে তার মধ্যে সৃষ্টির একটা কার্ড রয়েছে, তাতে ফোন নাম্বারও লেখা আছে। সেই নাম্বারে ডায়াল করে সৌম্য। কিন্তু কোনো রেসপন্স পায় না। তারপর পার্সটা নিজের কাছে রেখে সে তার অফিসে চলে যায়। কিন্তু মনটা খুঁতখুঁত করতে থাকে, মেয়েটা ঠিকমতো পৌঁছাতে পারল কি না।
বাড়ি ফিরে এসে সৌম্য আবার সেই নাম্বারে ডায়াল করে। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর কেউ একজন ফোন রিসিভ করে।

সৃষ্টি- হ্যালো। কে বলছেন?

সৌম্য- এটা কি সৃষ্টির ফোন নাম্বার?

সৃষ্টি- হ্যাঁ বলুন। আমি সৃষ্টিই বলছি।

সৌম্য- আমি সৌম্য। তুমি পার্স ফেলে রেখে চলে গেলে, আর আমি তোমায় খুঁজে মরছি। বাড়ি ফিরলে কী করে?

সৃষ্টি- ওহ, আমার পার্স তোমার কাছে! আমি তো খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরলাম গুগল পে করে। ফোনটা ভাগ্যিস জিন্সের পকেটে ছিল।

সৌম্য- তুমি তো বেশ আনমনা। নিজের পার্স ভুলে দিব্যি বেরিয়ে পড়লে। তুমি কি বরাবরই এইরকম?

সৃষ্টি- না, আসলে আজ একটু তাড়াহুড়ার মধ্যে ছিলাম।

সৌম্য- যার পার্স তাকে তো আবার ফেরত দিতে হবে। কিন্তু খালি হাতে আমি ফেরত দেব না। আমার ট্রিট চাই। আজকের ঘড়ি পছন্দ করা, পার্স সামলানো আর সেদিনের ঝগড়ার জন্য- সব মিলিয়ে কাল তুমি আমায় একটা দারুণ ট্রিট দিচ্ছ, কি তাই তো?

সৃষ্টি- হ্যাঁ সেটা তো দেবই। কিন্তু সেদিন আমি একা ঝগড়া করিনি, তুমিও করেছ। তাই তুমিও কাল ট্রিট দেবে।

সৌম্য- ওকে ডান।

পরের দিন নিজেদের কথামতো দুজনেই দুজনকে ট্রিট দেয়। তারপর তারা খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়।

পহেলা বৈশাখ, ২৫ বৈশাখ, বর্ষা, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, দোল- সবকিছু একসঙ্গে কাটানোর পর ওরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এরপর থেকে সব পূজায় ওরা একসঙ্গেই থাকবে। তাই এবার শুধু চার হাত এক করার পালা।

পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত 

কলি

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বৃক্ষ কোনটি?

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০১:০০ পিএম
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বৃক্ষ কোনটি?
স্যালিক্স হার্বেসিয়া বা বামন উইলো

যদি প্রশ্ন করি, বিশ্বের ক্ষুদ্রতম উদ্ভিদ কোনটি? তাহলে কম-বেশি সবারই দৃষ্টি যাবে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে। কারণ, সেখানকার শীতল অঞ্চলগুলোয় জন্ম নেওয়া উদ্ভিদগুলোকেই সবচেয়ে ক্ষুদ্র ভাবা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি নতুন একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্নচিত্র। স্যালিক্স হার্বেসিয়া বা বামন উইলো নামে একটি উদ্ভিদকেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র গাছের তকমা দিয়েছেন অনেকেই। সারা বিশ্বের বৃক্ষপ্রেমী নেটিজেনদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

যদিও অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্বের অনেক নামিদামি উদ্ভিদ গবেষক ও বিশেষজ্ঞ বামন উইলোকে সবচেয়ে ক্ষুদ্র উদ্ভিদ মানতে নারাজ। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দুটি ভাগে বিভক্ত হলেও স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য ও গঠনপ্রণালির কারণে বামন উইলোকে ক্ষুদ্রতম উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে মানতে সুর মিলিয়েছেন ঠিকই। বামন উইলো একটি কাঠবাদাম বিশেষ গাছ। এটি এতটাই ক্ষুদ্র যে, পায়ের নিচে অনায়াসেই মাড়াই হয়ে যায় গাছটি। কোনো ধরনের অনুভূতির জন্মও দেয় না তারা।

দূর্বাঘাসের সঙ্গে এদের তুলনা করলেও কোনোক্রমেই অত্যুক্তি হবে না। বামন উইলো সাধারণত ১ থেকে ৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় বৃদ্ধি পায়। এদের গোলাকার ও চকচকে সবুজ পাতা ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং প্রশস্ত হয়। স্যালিক্স গোত্রের অন্য সব উদ্ভিদের মতোই এদের প্রকারভেদ রয়েছে। পুরুষ উদ্ভিদগুলো হলুদ ফল দেয়, যেখানে স্ত্রী উদ্ভিদগুলো দেয় লাল বর্ণের।

বামন উইলো দেড় কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় বেঁচে থাকতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় বনসাই গাছ হিসেবে বেশ উপযোগী। কম জায়গা দখল করায় অনেকেই বাসা-বাড়িতে ঠাঁই দেয় বামন উইলোকে। উচ্চতা এবং প্রস্থ হিসেবে মাত্র ১০-১২ সেন্টিমিটার জায়গা হলেই উইলো গাছ লাগানো যাবে। এ ছাড়া ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবেও উইলোর ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

 কলি

বইমানুষ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
বইমানুষ
বই পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহী করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন জামাল হোসেন

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পাঠাগার গড়লেন জামাল হোসেন। বর্তমানে পাঠাগারে বই আছে ১০ হাজার। সেই পাঠাগারের নামে জামালের বাবা আব্দুল সাত্তার আলী লিখে দিয়েছেন ৫ শতাংশ জমি। জামাল নিজ জেলা লালমনিরহাটে করেছেন ৫০টি সেলুন পাঠাগার। তার পরামর্শ ও নির্দেশনায় সারা দেশে গড়ে উঠেছে আরও ১ হাজার ২৩৪টি সেলুন পাঠাগার।

একজন জামাল হোসেন
ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজে স্নাতকের ছাত্র জামাল। বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারীর সারপুকুরের টিপার বাজারে।

যেভাবে শুরু
একবার একটি বইয়ের প্রয়োজন পড়ল জামাল হোসেনের। অনেক খুঁজলেন, পেলেন না। এক স্যারকে ধরলেন। স্যার জানালেন, উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরি নেই। পরে জামাল পণ করলেন, নিজেই পাঠাগার করবেন। সে জন্য মাটির ব্যাংকে টিফিন ও নানা উপলক্ষে পাওয়া টাকা জমালেন। 
২০১৪ সালে লালমনিরহাটের সারপুকুরে পাঠাগার করলেন। নাম দেন ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’। কয়েকটি বই, মাটির ব্যাংকে জমানো সামান্য টাকা আর এক বুক সাহস নিয়েই তার পথচলা শুরু।

ভাঙা ঘরেই আলোর মশাল
বই রাখা এবং মানুষকে বই পড়ানোর জন্য ঘরের দরকার পড়ল জামালদের। তার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ছিল আরডিআরএসের একটি ভাঙা চালার পরিত্যক্ত ঘর। একটি বেড়াও ছিল না। জামাল আরডিআরএসের লোকদের ধরলেন। তার কাকুতিমিনতিতে কর্তৃপক্ষ সদয় হলো। জামালরা টিন ও বাঁশ সংগ্রহে নেমে পড়েন। কালেকশনের ফাঁকে উঠানে মাদুর বিছিয়ে বন্ধুরা মিলে বই পড়তেন। কবিতা আবৃত্তি করতেন।

একদিন বিআরডিবির পল্লী উন্নয়ন উপজেলা কর্মকর্তা নুরেলা আক্তার জামালদের বাসা পরিদর্শনে এলেন। উঠানে মাদুর বিছিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে তিনি জামাল ও তার বন্ধুদের ডাকলেন। পাঠাগার করার কথা শুনে খুশি হয়ে জামালের হাতে ১ হাজার ৫৬০ টাকা তুলে দেন। দু-একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকও দু-এক শ টাকা দিয়েছিলেন। একদিন পাঠাগার দাঁড়িয়ে গেল। মানুষ আসতে শুরু করল। 

১০ হাজার বইয়ের পাঠাগার
অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জামাল তার স্বপ্নের পাঠাগার ধীরে ধীরে গড়ে তুলেন। জামাল বইয়ের জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি গেলেন। স্যারদের কাছে হাত পাতলেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বড় ভাইদের বই দিতে বললেন। কোথাও রচনা প্রতিযোগিতা হলেই অংশ নিতেন। বিজয়ী হলে বই মেলে। বন্ধুদেরও প্রতিযোগিতায় টানতেন।

ভাষাসৈনিক শামসুল হক শুরুতে দিলেন ৩৫টি বই। এভাবে সে বছর বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার। পরে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র প্রতি বছর বই পাঠাল। কাজী ফার্ম দিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বই। জামালের পাঠাগারে এখন বই আছে ১০ হাজারের মতো।

সেলুনে বসে পড়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা 

সেলুন লাইব্রেরি
এই বই পড়ার আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন সেলুন লাইব্রেরি তৈরির পরিকল্পনা। ২০১৭ সালে গ্রামের নরসুন্দরের সঙ্গে দোকানে বই রাখার ব্যাপারে আলাপ করলেন। টিপার বাজারের এক সেলুনে বই রাখলেন। কিছুদিন পর বিভিন্ন সেলুন থেকে চাহিদা আসতে লাগল। জামাল খুশি মনে দিলেন। খবর নিয়ে দেখলেন, লোকজন বই পড়ছে। পরে টিপার বাজার ছাড়িয়ে জেলার অনেক দোকানে বই দিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে এর মধ্যে ১০০টি সেলুন লাইব্রেরি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জামাল বললেন, ‘নিজ জেলায় ৫০টি সেলুন লাইব্রেরি করেছি। এখন সারা দেশে আমার পরামর্শ ও নেতৃত্বে ১ হাজার ২৩৪টি সেলুন লাইব্রেরি আছে।’

বাবা দিলেন জমি
জামাল হোসেন বাবার কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি পাঠাগারের নামে লিখে নিয়েছেন। বাবা শুরুতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু ছেলের জেদের কাছে হার মানলেন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় তিনতলার ভিত্তিপ্রস্তর করেছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পাঠাগারের কাজ বর্তমানে বন্ধ হয়েছে। জামাল আশা করেন, সমাজের বিত্তবানরা এই বই পড়া আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তার সঙ্গে শামিল হবেন।

ঝুলিতে আছে দেশসেরা পুরস্কার
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এর মধ্যে বেশ পুরস্কার পেয়েছেন জামাল হোসেন। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার পুরস্কার। সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্বে চারজনকে ভিএসও গ্লোবাল ভলান্টিয়ারিং হেলথ ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড দেন প্রতি বছর।

বাংলাদেশে জামালই প্রথম এ পুরস্কার পেলেন। এ ছাড়া তিনি সেরাদের সেরা ইয়েস ফ্রেন্ডস অ্যাওয়ার্ড, কবি অসীম সাহা সম্মাননা, কবি জীবনানন্দ সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র নজরুল সাহিত্য পুরস্কার, ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন ব্র্যাক, রংপুর বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার, জাতীয় ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। জামাল বললেন, ‘দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবেসে আগামী দিনে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো বাধাই দাঁড়াতে পারে না।’

কলি