একাত্তরের ১৮ মার্চ বাংলাদেশের জন্য খাদ্যশস্যবাহী ‘ইরনা এলিজাবেথ’ নামের একটি জাহাজের গতিপথ বদল করে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া শাসনতান্ত্রিক প্রশ্নে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তিনি (ভুট্টো) তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দৈনিক ইত্তেফাকসহ তৎকালীন পত্র-পত্রিকা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
একাত্তরের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে তারবার্তা পাঠিয়ে গণহত্যা ও যুদ্ধ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানকে নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানান।
এদিকে পরপর দুই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের কোনো সময় নির্ধারণ না হওয়ায় জনমনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সমবেত উৎকণ্ঠিত জনতাকে সামনে রেখে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বিদেশি বন্ধুরা (সাংবাদিক) দেখুন। আমার দেশের মানুষ প্রতিজ্ঞায় কী অটল! সংগ্রাম আর ত্যাগের মর্মে কত উজ্জীবিত, কার সাধ্য এদের রোখে? স্বাধীনতার জন্য জীবনদানের অগ্নিশপথে দীপ্ত জাগ্রত জনতার এ জীবন জোয়ারকে, প্রচণ্ড গণবিস্ফোরণকে স্তব্ধ করতে পারে- এমন শক্তি মেশিনগানেরও আজ আর নেই।’
জনগণের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোমরা চরম প্রস্তুতি নিয়ে ঘরে ঘরে সংগ্রামী দুর্গ গড়ে তোলো। যদি তোমাদের ওপর আঘাত আসে তা প্রতিহত করে শত্রুর ওপর পাল্টা আঘাত হানো।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিসংগ্রামের পতাকা আরও ওপরে তুলে ধরো। সাত কোটি শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির সার্বিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাও।’
পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে আরও সৈন্য আনা হচ্ছে–এ নিয়ে বিদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমার দেশের মাটিতে যা কিছু ঘটছে তার সব খবরই আমি রাখি।’
একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও ওয়ালী ন্যাপপ্রধান ওয়ালী খান এক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এদিন দিবাগত রাতে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, পরদিন বেলা ১১টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনা হবে।