ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
২৬ হাজার ৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেল পাসিংয়ের শিল্প ও প্রেসিংয়ের ঝড় শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র? ২ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আজ, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার মরুর যোদ্ধাদের সামনে সুইস দেয়াল টরন্টোয় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার আগুন লড়াই ২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্লিং নয়, ব্রাউট হালান্ড ’৯৮-এর বন্ধন ফিরেছে ’২৬-এ শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয়

শুল্ক-ভ্যাট বাড়ানোর প্রভাব বাজারে

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:০৪ এএম
শুল্ক-ভ্যাট বাড়ানোর প্রভাব বাজারে
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

বিশ্ব ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকার গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১০০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে। আগে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ভ্যাট ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ আরোপ করা হলেও তা ১৫ শতাংশে ঠেকেছে। সম্প্রতি শিল্পে গ্যাসের দাম ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা বাড়িয়ে দ্বিগুণের বেশি করার প্রস্তাব করেছে পেট্রোবাংলা। এর প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যেসব পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়নি বা ভ্যাট বাড়ানো হয়নি, তারপরও দাম বেড়ে গেছে। মুরগির কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সবজির দামও একটু চড়ে গেছে। চালও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘কয়েক দিন ধরে গোড়াতে দাম বাড়ছে। এ জন্য আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে দাম কমার আশা করা হলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি হয়েছে। গতকাল তা ৪০ টাকা হয়ে গেছে। পেঁয়াজের দামও ৫০ টাকা টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, ‘আড়তে বেড়েছে দাম। এ জন্য আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ লোকসান করে ব্যবসা করা যায় না।’ হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা একরাম হোসেনসহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, ‘আগের চেয়ে গত শুক্রবার থেকে আড়তেই বিভিন্ন পণ্যে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এ জন্য বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আলু ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি।’ কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সবুর হোসেন বলেন, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, ৩০ থেকে আলু ৪০ টাকা হয়েছে। তবে আগের মতোই দেশি আদার কেজি ১২০-১৩০ টাকা, আমদানি করাটা ২৪০-২৫০ টাকা ও রসুন ২২০-২৪০ টাকা। 

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা কালু ব্যাপারীসহ অন্য সবজি বিক্রেতারা বলেন, বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তবে বড় গোলটা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। ৩০ থেকে ৫০ টাকার শিমের দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচের দামও ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। 

খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই শসার ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপির পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টমেটোর কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, মুলা ২০ থেকে ২৫ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, লাউ, চালকুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। লালশাক, পালংশাক, কলমিশাকও ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হতে দেখা যায়। 

বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, আগের মতোই ছোলা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি, মুগ ডাল ১৮০ টাকা কেজি, মসুর ডাল ১১০ থেকে ১৩৫ টাকা, ২ কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০-১৩০ টাকা, খোলা আটা এক কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা, চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বেড়েছে মুরগির দাম
বৃহস্পতিবার সরকার শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানোর ঘোষণা এবং পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করায় মুরগির দামও বেড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ‘আমরা কিছু লাভ করে বিক্রি করি। দাম বাড়লে ভোক্তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এতে আমাদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু করার কিছু নেই।’ হাতিরপুল বাজারের সবুজ পোলট্রি ফার্মের আবুল বাসার অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে মুরগির দাম বেড়েছে। আর কমে না। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

ব্রয়লার ২১০ থেকে ২২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি। দেশি মুরগির দামও বেড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি হয়েছে।’ এ সময় কলিমুদ্দিন নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে দাম কমার আশা করা হলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। তা না হলে খাব কী?’ তবে আগের মতোই গরুর মংস ৭০০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ৫০-১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা কমেছে। বিভিন্ন বাজারে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

বাড়তি দামে চাল বিক্রি
খেত থেকে ধান উঠে গেলেও কমেনি চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, রাইস মিল থেকে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও কমছে না। আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতারা বলেন, ‘মিনিকেট ৭২-৮০ টাকা, আটাশ চাল ৬২-৬৪ টাকা ও মোটা চালের দাম ৫৪-৫৬ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

লোকোমোটিভ, ক্যারেজ সংকটে ভুগছে রেলওয়ে ২৬ হাজার ৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২৬ হাজার ৭৮১ কোটির মহাক্রয় প্রকল্প নিচ্ছে রেল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ট্রেন চলাচলের সূচি থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, তীব্র জনবলসংকট এবং যান্ত্রিক অচলাবস্থার কারণে পরিষেবাব্যবস্থা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ট্রেন ক্রু–চালক, সহকারী চালক ও গার্ডের অভাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০০ ট্রেন বাতিল বা আংশিক চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে কেবল যাত্রী ভোগান্তিই বাড়ছে না, রাজস্ব আয়েও পড়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ২৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের তথ্য বলছে, লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ (বগি) সংকটে প্রায়ই বিভিন্ন রুটের ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের অজুহাতে ধারাবাহিকভাবে ১৬টি মেইল ও কমিউটার এবং ছয়টি লোকাল ট্রেন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা সড়কপথে যাতায়াত করছেন। যার ফলে সড়কপথের ওপর চাপ বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকিও বহু গুণ বেড়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ট্রেন সংকটের কারণে আন্তনগর ট্রেনগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ট্রেন বন্ধের ফলে স্থানীয়দের আন্দোলন ও জনপ্রতিনিধিদের চাপে আন্তনগর ট্রেনগুলোকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে দীর্ঘপথের যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না এবং আন্তনগর ট্রেনের সেবার মান সাধারণ লোকাল ট্রেনের পর্যায়ে নেমে আসছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬২টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের মধ্যে ৬৯ শতাংশেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। ১ হাজার ২৬৭টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৪৩ শতাংশের অবস্থাও একই। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অদূরদর্শিতার কারণেই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেলের আধুনিকায়নে লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহে মহাপরিকল্পনা

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একযোগে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) মতো দাতা সংস্থার অর্থায়নে আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ সংগ্রহ এবং কারখানা আধুনিকায়নের মাধ্যমে রেলব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলের এসব রোলিং স্টক কেনাকাটায় ২৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্পও শুরু করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। 

চীনের অনুদানে রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। এ প্রকল্পে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ৪৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। চীনের সরাসরি অনুদানে এই লোকোমোটিভগুলো শিগগিরই এসে পৌঁছাবে। জানা গেছে, এই লোকোমোটিভগুলোর ক্ষমতা কেমন হবে তার ওপর নির্ভর করবে চীনা প্রকল্প থেকে আরও কোনো রোলিং স্টক কেনা হবে কি না। কারণ চীনা লোকো ও ক্যারেজের নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ফুরানোর আগে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর আগে চীনা লোকো ও ক্যারেজ নিয়ে অসন্তুষ্টি রয়েছে রেলের প্রকৌশল বিভাগে। তাই রেলওয়ে এবার সতর্ক। 

অন্য এক প্রকল্পের আওতায় ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, ২টি ব্রডগেজ ও ২টি মিটারগেজ রিলিফ ক্রেন, ৪টি আন্ডারফ্লোর হুইল লেদ কেনা হবে। আন্ডারফ্লোর হুইল লেদ হলো একটি বিশেষায়িত যন্ত্র, যা দিয়ে চাকাগুলোকে ট্রেন থেকে আলাদা না করেই নিখুঁত ও মসৃণ আকারে মেরামত করা যায়। এ কেনাকাটায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৪২ কোটি টাকা আসবে সরকারের তহবিল থেকে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এই প্রকল্পে ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেবে বলে জানা গেছে। 

আরেকটি প্রকল্পে ৩ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ফান্ড থেকে ঋণসহায়তা পাওয়া যাবে। 

এই প্রকল্পের আওতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪০টি ব্রডগেজ স্লিপার কার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৭০টি ব্রডগেজ চেয়ার কার, ১১০টি ব্রডগেজ শোভন চেয়ার কার, প্রার্থনা কক্ষ ও খাবার গাড়িসহ ২০টি ব্রডগেজ শোভন চেয়ার কার, লাগেজ ভ্যান ও গার্ড ব্রেকসহ ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্রডগেজ পাওয়ার কার কেনাকাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৭০ টাকা। এ প্রকল্পে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেবে। 

সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংযোজন সুবিধাসহ আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ করার আরও একটি প্রকল্প রয়েছে রেলওয়ের পাইপলাইনে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ঋণসহায়তা চাইবে রেল। এই প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিদ্যমান অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি ২৫টি ক্যারেজ অ্যাসেম্বলির সংস্থান, লোকোশেডের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। এ প্রকল্পেও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ঋণসহায়তা চাইবে রেলওয়ে। 

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা বা কেলোকায় জেনারেল ওভারহোলিং (জিওএইচ) স্টেশন স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পে ২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা ঋণসহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে ঋণসহায়তা পায়। 

এ বছর ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের। ৬৪০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৫১২ কোটি টাকা অনুদান দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

৩ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ প্রকল্পে চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ার ২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ঋণসহায়তা থেকে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। 

আরেকটি প্রকল্পে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ফান্ড থেকে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ঋণসহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস মিলেছে। ইডিসিএফ অর্থায়নে আরও ৩০০ মিটারগেজ ক্যারেজ আনার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। 

রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন জানান, এ বছর এডিবির অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এআইআইবির অর্থায়নে ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ কেনার পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসে ২০টি ক্যারেজ চলে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে রেল।

রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ের মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি। তাই ২০৫০ সালের আগে পুরো রেল নেটওয়ার্ক রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তাই মিটারগেজ ট্রেন সচল রাখতে নতুন লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ফকির মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রধান করিডরগুলোর অনেক অংশ এখনো মিটারগেজে রয়েছে। টঙ্গী থেকে আখাউড়াসহ বিভিন্ন রুটের ডুয়েল বা ব্রডগেজ রূপান্তর করতে আগামী অন্তত ১০ বছর সময় প্রয়োজন। সব মিলিয়ে ২০৫০ সালের আগে পুরোপুরি মিটারগেজ রূপান্তর সম্ভব নয়। তাই ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রয়োজন।’

রেলওয়ে বর্তমানে তীব্র লোকোমোটিভ সংকটে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন ১১০টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র ৭০টির মতো। এর মধ্যে অনেকটিই পুরোনো। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত লোকোমোটিভ সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছে।’
চীনের কাছ থেকে ২০টি লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে পাওয়ার বিষয়ে রেলওয়ের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চীনের কাছ থেকে এই অনুদান পাওয়া গেলে আমাদের লোকোমোটিভ সংকট দ্রুত কাটবে। তারা এটি বিনা পয়সায় দিয়ে যদি পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণ করে, তবে তা আমাদের জন্য সুবিধাজনক।’

ভবিষ্যতে লোকোমোটিভ কেনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর রেলওয়ে নির্ভরশীল নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যারা যোগ্য এবং সাশ্রয়ী হবে, তাদের কাছ থেকেই রোলিং স্টক বা ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।

বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এডিস মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান সমন্বয়ক করে এক বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সারা দেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে টাস্কফোর্স কমিটি’। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

 ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার সাংবাদিকদের জানান, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে ৪৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮, দক্ষিণ সিটিতে ১৭, খুলনায় ২৪, ময়মনসিংহে ১৪ এবং রাজশাহীতে ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে।

গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, এবার ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগেভাগে বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার আগেই এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। বৃষ্টির পানি জমে থাকা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি ও দুর্বলতা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অনেকেই প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে জটিলতা বাড়ছে। তারা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭৫টি ওয়ার্ডে ২ হাজার ২৫০টি বাড়িতে প্রাক-বর্ষা এডিস লার্ভা জরিপ পরিচালনা করছে। জরিপের প্রাথমিক ফলাফলই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনেরও অন্তত ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন পদে দীর্ঘদিন শূন্যতা থাকায় মশকনিধন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। তদারকির দুর্বলতার কারণে অনেক এলাকায় নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। নির্বাচনের পরও স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) না থাকায় অনেক ওয়ার্ডে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসেনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সরাসরি এসব কার্যক্রম তদারকি করছেন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ–নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার মতে, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু কাগজে-কলমে প্রস্তুতি নয়, মাঠপর্যায়ে লার্ভিসাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। 

 

শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশীদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ৫০০ কেজি আম পাঠালো বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমের চালানটি ভারতে পাঠানো হয়।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে এসব আম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম।

জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। 

এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জন্য ১০০ কেজি আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৪০০ কেজি আম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। 

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবু তালা জানান প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূখ্য মন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশের উন্নতমানের আম্রপালি এবং হাঁড়িভাঙ্গা জাতের ৫০০ কেজি আম উপহার স্বরূপ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের এই ‘ম্যাংগো ডিপ্লোম্যাসি’ দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 নজরুল ইসলাম/এসএন

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অধিকতর শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্যে বাস টার্মিনাল ও ডিপো স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে গত ১৫ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিদর্শন করা স্থানগুলো হলো পূর্বাচল ৩ নম্বর ও ১৯ নম্বর সেক্টর, দিয়াবাড়ি, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চুনকুটিয়া, তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ, কাঁচপুর ও ফুলবাড়িয়া এলাকা।

পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্য (পাবনা-৫) অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. আজাদ রহমান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এবং পরিবহন খাতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের বিদ্যমান অবকাঠামো, যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা, সংযোগ সড়ক ও ভূমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যৎ বাস টার্মিনাল বা ডিপো স্থাপনের বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিদর্শন শেষে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে ধাপে ধাপে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানো, আন্তঃজেলা বাস চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এএফ/

নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন, পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন, পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের ১২১তম বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

এছাড়া বৈঠকে তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দিয়েছে নিকার। নতুন উপজেলা তিনটি হলো চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। নতুন থানাটি হলো চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

নিকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে গঠন করা হয়েছে ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা। আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।

এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা’ থানা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/