ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদের মর্যাদা কেবল তার সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল। একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনসম্পৃক্ত সংসদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই জনগণের সেই আস্থা অর্জন সম্ভব।’ ফলে জনগণের আস্থা অর্জন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সংসদীয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, ‘সংসদ পরিচালিত হয় সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘কার্যপ্রণালি-বিধি শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইন প্রণয়ন, নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা-সংসদের প্রধান তিনটি দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব সফলভাবে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ও দক্ষ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং সরকারি দল ও বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর হয়ে ওঠে। সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব।’
সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিটিক্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসআইপিএস)’ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে স্পিকার বলেন, ‘এ উদ্যোগ সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘শেখার কোনো বয়স নেই, দোলনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের শেখার সুযোগ থাকে।’ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিকে তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। কার্যপ্রণালি-বিধি, সংবিধান এবং সংসদীয় রেওয়াজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সুশাসনভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সংসদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
দুই দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির দ্বিতীয় গ্রুপে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা অংশ নেন।
এলিস/সালমান/