ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সন্তানের সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন রোনালদোর চেয়েও ছোট! পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে কে এই রহস্যময় রেফারি? ব্যাংককে আকিজ সিমেন্টের বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড বয়দের হামলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে

বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
বাজেট পাস: চূড়ান্ত বাজেটে কী বদলাল, কী বদলাল না?
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

জাতীয় সংসদে গত ৩০ জুন বাজেট অনুমোদন হয়েছে। আলোচনা, বিরোধী দলের আপত্তি এবং জনমতের প্রতিফলনে অর্থ বিলের বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। ফলে এবারের বাজেট একদিকে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতারও বার্তা দিয়েছে। ফলে এটি অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনীতির বার্তাও বহন করছে।

> বাজেটের আকার: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা (দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)

> বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬%)

> উল্লেখযোগ্য দিক: ব্যয়ের কাঠামোতে স্থিতিশীলতা, করনীতি ও প্রশাসনিক বিধানে নমনীয়তা

> টিআইএন বাধ্যতামূলক, অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ ও নামজারির বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার

> করদাতাদের স্বস্তি: করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৭৫ লাখ থেকে বেড়ে ৪ লাখ টাকা 

> সর্বোচ্চ বরাদ্দ: অর্থ বিভাগ, ইআরডি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা

> মূল চ্যালেঞ্জ: ৭.৫% মূল্যস্ফীতি অর্জন ও ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় 

কী বদলাল, কী বদলাল না

সংসদে বাজেট পাসের পর সাধারণভাবে ধারণা তৈরি হয় যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে কাটছাঁট হয়েছে। কিন্তু সরকারি নথি ও সংসদীয় কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারের বাজেটে সেই অর্থে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। প্রস্তাবিত বাজেটে যে মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য যে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা-ই বহাল রয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সংসদে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৪৩ জন সদস্য মোট ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করা হয়। ফলে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে কোনো সংশোধন আনার প্রয়োজন পড়েনি।

বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বাজেটে ব্যয় কাঠামোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে নীতিগত সংশোধন। অর্থাৎ, বাজেটের ব্যয় কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও পরিবর্তন এসেছে অর্থ বিলের বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক প্রস্তাবে। অর্থ বিল পাসের আগে ৬৪টি সংশোধনী সংসদে গ্রহণ করা হয়। 

জনমতের প্রতি সাড়া

সংসদে পাস হওয়া অর্থ বিলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, জমি বা সম্পদে অপ্রদর্শিত/কালো টাকা বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হওয়ায় জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রস্তাবটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংসদীয় আলোচনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা তুলে ধরা হলে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে।

তৃতীয়ত, জমির বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধানও বাতিল করা হয়েছে। একই যুক্তিতে এটিকেও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চতুর্থত, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংসদীয় আলোচনার পর গৃহীত এই সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা বহন করছে।

এসব পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট যে, সরকার করনীতি ও প্রশাসনিক বিধানে নমনীয়তা দেখালেও ব্যয় পরিকল্পনায় স্থিতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছে।

বহাল থাকল মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ

এবারের বাজেটে সরকার উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ের অনুপাত কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় বাজেট অনুমোদনের শেষ মুহূর্তে কোনো মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানো হলে পুরো ব্যয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মসূচি ও অর্থায়নের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ফলে সরকার ব্যয় কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই কেবল নীতিগত সংশোধনের পথ বেছে নিয়েছে।

যে খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

বাজেট বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থ বিভাগই সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এরপর রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। এ থেকে স্পষ্ট, সরকার আগামী অর্থবছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও কৃষিকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। 

বাজেটে কম গুরুত্বপূর্ণ খাত

তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিশেষ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বরাদ্দ অন্যান্য বড় মন্ত্রণালয়ের তুলনায় অনেক কম। যদিও শুধু বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা যায় না, তবুও বরাদ্দের আকার বিবেচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের তুলনায় জ্বালানি খাত অপেক্ষাকৃত সীমিত অবস্থানে রয়েছে।

ঘাটতি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ

বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারকে নির্ভর করতে হবে। অন্যদিকে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

একই সঙ্গে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে, যার মধ্যে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে ভ্যাট ও আয়কর থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর সরকারের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অন্যদিকে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছানো এবং মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য সহজ হবে না। ফলে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন–এই দুই ক্ষেত্রেই আগামী অর্থবছরে বিএনপি সরকারকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় মুখোমুখি হতে হবে।

এলিস/এএফ

‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন খণ্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি জানান, বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত গ্রন্থটিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

নাঈম/

৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ
চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল বাজেটকে কেন্দ্র করে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে গঠনমূলক সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। 

এ সময় চিফ হুইপ সংবিধান সংশোধন, ১০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ, হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত এবং সংসদে সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান চিফ হুইপ। 

তিনি জানান, বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাজেট আলোচনায় তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এমনকি সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবার বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ করেন, যা বাজেট নিয়ে পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।

সংসদে সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ‘মেসি-রোনালদোর ফ্রেন্ডলি গেম’ চলছে—এমন মন্তব্য সঠিক নয়। কারণ সংসদে কোনো খেলা চলছে না। সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। যৌক্তিক সমালোচনা গ্রহণ করা হবে, আবার দেশের স্বার্থে সহযোগিতাকেও স্বাগত জানানো হবে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার-সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনা সংসদের বাইরে সব দলের অংশগ্রহণে চলবে, আর সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সংসদের ভেতরে। নতুন সংবিধান নয়, বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, যে কোনো দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অতীতে টিকার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব মূলধারার গণমাধ্যমের।

এলিস/নাঈম

তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে, চীন সেভাবে কাজ এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চীন দুতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা থাকে, তাই সঠিক সমীক্ষা দরকার। দু-দেশের বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে যৌথ সমীক্ষা করবেন।

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা বাংলাদেশের প্রকল্প- তাই এক্ষেত্রে বাংলাদশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রবিউল/নাঈম

হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশু মারা গেছে। ১ দিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হাম ও উপসর্গ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশু মারা গেছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৩১ শিশুর।

হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭২৪ শিশু মারা গেছে।

এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৫ জন। এই সময়ে ৯০২ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জন, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮৬ হাজার ৪১১ রোগী, যাদের মধ্যে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

নাঈম/

এলপিজির দাম ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমল ৩৫৭ টাকা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
এলপিজির দাম ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমল ৩৫৭ টাকা
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুলাই মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। নতুন দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এলপিজির দাম নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়।

নতুন দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে।

এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।

এর আগে গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। 

ওইদিন অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অমিয়/