ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

ধর্ষণকে ঘৃণার চোখে দেখা হচ্ছে না

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩২ পিএম
ধর্ষণকে ঘৃণার চোখে দেখা হচ্ছে না
জেড আই খান পান্না

ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিও রয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি হলো সাত বছর কারাদণ্ড; কিন্তু সাত বছর তো কেউ সাজা খাটে না। এর আগেই বের হয়ে আসে। আবার সাক্ষ্য আইনে এখনো ভিকটিমকে তার চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটি আইনের বড় দুর্বলতা। 

সামাজিকভাবে ধর্ষণকে যতটা ঘৃণার চোখে দেখার কথা, সেভাবে দেখা হচ্ছে না। একরকম সামাজিক স্বীকৃতিও ধর্ষক লোকটি পেয়ে যায়। আমরা দেখছি, ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে; এমনকি আদালতও নির্দেশ দিচ্ছেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েকে জমি দিয়ে তাকে বিয়ে করতে হবে। এটি ধর্ষণে উদ্বুদ্ধ করে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, শিশু-কিশোরীদের মধ্যেই ধর্ষণ বেশি বাড়ছে। কারণ তারা বাধা দিতে পারে কম। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক ব্যবস্থা- এসবই ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্কুল আর আগের মতো নেই। 

সেখানে এখন নৈতিক শিক্ষার জায়গাগুলো অনেক ঠুনকো হয়ে গেছে। আমাদের ছোটকালে নবান্ন উৎসব হতো; পৌষসংক্রান্তি হতো। পৌষসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখে প্রতিটি গ্রামে মেলা হতো। এখন আর সেটি নেই। আগে পৌষ-মাঘে রাতে যাত্রাপালা হতো। যাত্রাতে বিনোদন ছিল; শিক্ষণীয় বিষয়ও ছিল। এখন অনেক জায়গায় ওয়াজ মাহফিলের নামে নারীবিদ্বেষী ও অশালীন সুড়সুড়ি দেওয়ার মতো বক্তব্য দেওয়া হয়। এটিও ধর্ষণকামী মানসিকতা গঠনের অন্যতম একটা কারণ।

চেয়ারপারসন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র

উদ্যোগ নিতে হবে সব সংস্থাকে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২১ পিএম
উদ্যোগ নিতে হবে সব সংস্থাকে
এ কে এম শহীদুল হক। ছবি : সংগৃহীত

সড়কে যারা অযথা হর্ন বাজায় বা হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। নিয়মিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। পাশাপাশি ওই গাড়ির কোনো কাগজ না থাকলে গাড়িটি ডাম্পিং করা হয়। এখন কথা হলো এই বিষয়টি শুধু পুলিশের ওপর এককভাবে দায় চাপালে হবে না। সড়কের সঙ্গে সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ থাকা লাগবে। সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএসহ অন্য সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। 

বিআরটিএ যখন গাড়ির চালকদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে তখন লাইসেন্সের পরীক্ষার সময় চালকদের প্রতি প্রশ্ন রাখতে হবে যে, কোন হর্ন তারা বাজাতে পারবেন আর কোন হর্ন বাজাতে পারবেন না। এ বিষয়ে তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তাহলে অযথা হর্ন বাজানোসহ সব ধরনের হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো বন্ধ হবে। নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। 

সাবেক আইজিপি 

ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে স্নায়ুর ওপর

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২০ পিএম
ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে স্নায়ুর ওপর
ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ছবি : সংগৃহীত

বেশি মাত্রার শব্দদূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় স্নায়ুর। সেখান থেকে শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। সেই সঙ্গে অনিদ্রা দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কোষে অস্বস্তিকর প্রভাবের ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মাথায় যন্ত্রণা হয়, খাওয়ার রুচি কমে যায়। ফলে ধারাবাহিকভাবে আরও অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। 

শব্দদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে, আইনের প্রয়োগ করতে হবে। উৎসগুলো ভালোভাবে চিহ্নিত করে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে
ড. মো. এহসান। ছবি : সংগৃহীত

আমাদের আইন আছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ না থাকায় পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। হর্ন বাজানো হয় বেপরোয়াভাবে, নির্মাণকাজেও যাচ্ছেতাই অবস্থা। অথচ এগুলো নিয়ন্ত্রণে এখন ভালো ও উন্নত কিছু প্রযুক্তি আছে। আইন মেনে যদি এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, যদি সীমিত শব্দের যন্ত্র ও হর্ন ব্যবহারে বাধ্য করা হয় তবে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি ঘটবে।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া দরকার। যারা বাড়িঘর নির্মাণ করেন তাদেরও সচেতন হতে হবে। যারা পরিবহনের মালিক বা ব্যবহার করেন তাদের দায় অনেক বেশি। সিটি করপোরেশনকেও ভূমিকা রাখা দরকার।

অধ্যাপক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বুয়েট

নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সবার বিপদ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১৭ পিএম
নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সবার বিপদ
ডা. মনিলাল আইচ। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের জীবনে শ্রবণশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। যারা কানে শুনতে পান না তাদের জীবন অন্য স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে অনেকাংশেই বিপদগ্রস্ত। তবে যারা জন্মগত এ সমস্যায় ভোগেন তাদের বিষয়টি না হয় আলাদা। কিন্তু বেপরোয়া শব্দদূষণের কারণে যেভাবে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগের ব্যাপার। 

আর শুধু শ্রবণশক্তিই নয়, সেই সঙ্গে স্নায়ু , মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অর্গানেরও ক্ষতি করছে অসহনীয় মাত্রার শব্দ। ফলে এটা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর করা না গেলে সবার বিপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নীতিমালা আছে। আমাদের দেশেও এ-সংক্রান্ত আইন আছে।

অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ 

ডায়াবেটিসের ওপর নজর দিন

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫০ এএম
ডায়াবেটিসের ওপর নজর দিন
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

বেশি দিন হয়নি বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে কোভিড-১৯ তথা করোনা স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক নানাবিধ সর্বনাশ সাধনের কারণ ছিল, এমনকি ডেঙ্গু এখনো আতঙ্কের পর্যায়ে রয়েছে। করোনা সংক্রামক রোগ। একে জয় করার প্রয়াস জোরেশোরে চলার পরও এখনো নানান পদ-পদবি নিয়ে বিশ্বের কোথাও না কোথাও আছে। ডেঙ্গু গিয়েও যাচ্ছে না। ধীরে ধীরে করোনা, ডেঙ্গু হয়তো চলে যাবে, কিন্তু ডায়াবেটিস নামের অসংক্রামক ব্যাধিটি হাজার হাজার বছর ধরে অনিরাময়যোগ্য থেকেই গেল। গত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ডায়াবেটিস মহামারি হিসেবে গজেন্দ্রগামী। বাংলাদেশে নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ-প্রয়াসে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১-৮৯) এবং তার হাতে গড়া বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এখনো প্রবাদতুল্য এবং মহীরুহ প্রতিষ্ঠান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৫৬ সাল অর্থাৎ ৬৮ বছর আগে জাতীয় অধ্যাপক ইব্রাহিমের স্বপ্ন-পরিকল্পনায় এর যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠা দিবসকে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। 

গ্রিক ক্রিয়াপদ ডায়াবাইনেইন থেকে ডায়াবেটিক শব্দের উৎপত্তি। মধ্য যুগের মুসলিম দার্শনিক চিকিৎসাবিদ ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭) ১০২৫ সালে সমাপ্ত তার ১৭ খণ্ডের চিকিৎসা বিশ্বকোষ ‘ক্যানন অব মেডিসিন’-এ সর্বপ্রথম ‘বহুমূত্র, অধিক ক্ষুধা এবং যৌনশক্তির ক্রমনাশক’ ডায়াবেটিক রোগের স্বভাব চরিত্র বর্ণনা করেন। ডায়াবেটিক গ্যাংগ্রিনের কথাও লিখেছেন তিনি। ইবনে সিনা লিউপিন বা নয়নতারা ফুল, ট্রিগোনেলা আর জেডোয়ারির বিজ সমন্বয়ে তৈরি ভেষজ ওষুধ দ্বারা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও নির্দেশ করেছিলেন, যা আধুনিক চিকিৎসা গবেষণায়ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।   

রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়ে বেশি দিন ধরে থাকলে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। সাধারণত ডায়াবেটিস বংশগত কারণে ও পরিবেশের প্রভাবে হয়। কখনো কখনো অন্যান্য রোগের ফলেও হয়ে থাকে। এ রোগ সব লোকেরই হতে পারে। ডায়াবেটিস একবার হলে আর সারে না। এটা সব সময়ের এবং আজীবনের রোগ। তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা গ্রহণ করে এ রোগকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত প্রস্রাব, অত্যধিক পিপাসা, বেশি ক্ষুধা, দুর্বল বোধ করা এবং কেটে-ছিঁড়ে গেলে ক্ষত তাড়াতাড়ি না শুকানো হচ্ছে এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।

যাদের বংশে রক্ত-সম্পর্কযুক্ত আত্মীয়স্বজনের ডায়াবেটিস আছে, যাদের ওজন খুব বেশি, যাদের বয়স ৪০-এর ওপর এবং যারা শরীর চর্চা করেন না, গাড়িতে চড়েন এবং বসে থেকে অফিসের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অত্যধিক চিন্তাভাবনা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, আঘাত, সংক্রামক রোগ, অস্ত্রোপচার, অসম খাবার, গর্ভাবস্থা এবং ওজন বেশি বেড়ে গেলে এ রোগ বাড়াতে সাহায্য করে। এগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখে প্রথম থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা যায়। ডায়াবেটিস প্রধানত দুই প্রকারের- (ক) ইনসুলিন নির্ভরশীল এবং (খ) ইনসুলিন নিরপেক্ষ। ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগীদের ইনসুলিনের অভাবের জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। ইনসুলিন নিরপেক্ষ রোগীদের দেহে কিছু পরিমাণ ইনসুলিন থাকে। তবে চাহিদার প্রয়োজনে তা যথেষ্ট নয় বা শরীর ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না। এসব রোগীর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে শর্করা কমানোর বড়ি সেবন করতে হয়। 

ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয়, এ ধারণা ঠিক নয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা এবং ওষুধ এ রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়। খাদ্যের গুণগত মানের দিকে নজর রেখে পরিমাণমতো খাদ্য নিয়মিতভাবে গ্রহণ, জীবনের সব ক্ষেত্রে নিয়মকানুন বা শৃঙ্খলা মেনে অর্থাৎ কাজে-কর্মে, আহারে-বিহারে, চলাফেরায়, এমনকি বিশ্রামে ও নিদ্রায়, শৃঙ্খলা মেনে চলা দরকার। নিয়ম-শৃঙ্খলাই ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি। ডায়াবেটিস রোগীকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শমতো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। রোগ সম্বন্ধে ব্যাপক শিক্ষা ছাড়া ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। তবে ডায়াবেটিস বিষয়ে শিক্ষা কেবল রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব এবং ডাক্তার ও নার্সদের শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। রোগী যদি চিকিৎসকের সঙ্গে সহযোগিতা করে তার উপদেশ ও নির্দেশ ভালোভাবে মেনে চলেন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করেন, তবে সুখী, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবন লাভ করতে পারেন। 

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসা আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রাণপুরুষ জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম ১৯৫৬ সালে সেগুনবাগিচায় নিজের বাসভবনের আঙিনায় ছোট টিনের ঘরে দেশের ডায়াবেটিক চিকিৎসার যে উদ্বোধন ঘটিয়েছিলেন, আজ তার সেই প্রতিষ্ঠান, জাতির গর্বের প্রতীক ‘বারডেম’। বারডেম এশীয় প্রশান্ত অঞ্চলে ডায়াবেটিস চিকিৎসার মডেল বা সেরা কেন্দ্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৮২ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের একান্ত সেরা সহযোগী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি, সম্মান ও সমীহ করে আসছে। অনেক মেজর রোগ থাকতে এ রকম একটা মাইনর রোগ নিয়ে তিনি আলাদা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করতে চান কেন- সে সময় প্রায়শ এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হলে ডা. ইব্রাহিম বলতেন, ‘রোগটা মোটেই মাইনর নয়। কারও যেদিন ডায়াবেটিস হবে সেদিনই বুঝতে হবে যে, ওই লোকটা অন্ধ হয়ে যাবে, কিংবা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে বা তার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। 

যদি যথারীতি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ভেতর একে রাখা যায়, তাহলে আজীবন সে সুস্থ থাকবে। রোগীর হয়তো ৩০-৪০ বছর বয়স- ১০ বছরের মধ্যেই তার সবকিছু অকেজো হয়ে যাবে, যথারীতি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করলে এবং নিয়ম মেনে চললে সে ৬০ বছর পর্যন্ত সুস্থ থাকবে এবং প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।’ এ প্রসঙ্গে উপমা দিয়ে তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমরা গাড়ি বিকল হলে তবে গ্যারেজে সারাতে আনি, এটা বোকামি, সময় থাকতে যদি নিয়মিত মেইনটেন বা চেকআপ করানো হতো তাহলে হয়তো গাড়ি গ্যারেজে আনার প্রয়োজনই পড়ত না।’ তিনি ব্রত গ্রহণ করেন ‘দেশের কোনো ডায়াবেটিস রোগীকে বিনা চিকিৎসায় কর্মহীন হয়ে অসহায়ভাবে করুণ পরিণতির দিকে যেতে দেওয়া যাবে না। চিকিৎসা ব্যয়বহনের ভার নিয়ে হলেও সবাইকে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকবে।’ তার এ মিশন ও ভিশন-এর পতাকা তারই গড়া বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) দৃঢ় প্রত্যয়ে অত্যন্ত সযত্নে বহন করে চলছে। 

বারডেমে নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এখন ৪ লাখের বেশি, প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি (এর মধ্যে ৭৫ থেকে ১০০ জন নতুন) রোগী চিকিৎসাসেবার জন্য এখানে আসে। দেশের প্রায় সব জেলায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অধিভুক্ত শাখা রয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন অগণিত ডায়াবেটিস রোগী। সরকারের জনস্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাডাস। বাংলাদেশে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রথম, প্রধান ও অন্যতম সফল নিদর্শন হলো বাডাসের উন্নয়ন কার্যক্রম। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকার সমিতির প্রধান অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন করেছে আর সমিতির নিজস্ব উদ্যোগে সেই অবকাঠামোয় তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যসেবার ডালি। বাডাস দাতা সংস্থার  সাহায্যনির্ভর না হয়ে আয়বর্ধক নানান কর্মসূচি গ্রহণ করে ‘ক্রস ফাইন্যান্সিং’-এর মাধ্যমে স্বয়ম্ভরতা অর্জনে প্রয়াসী, প্রত্যাশী। ডায়াবেটিসের মতো মহামারি নিয়ন্ত্রণে মহতী উদ্যোগের মেলবন্ধন সুস্থ দেশ ও জাতি নির্মাণের দ্বারা জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত হবে, সন্দেহ নেই।   

লেখক: সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য