মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে গৌরীপুর রক্তদান ফাউন্ডেশন চালু করেন আশিকুর রহমান রাজিব। প্রথম পর্যায়ে সংগঠনটির সঙ্গে থাকা চারজনকেই একরকম যোদ্ধা বলা যেতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি সব সময় তাদের একটিই চিন্তা ছিল রক্তদাতা তৈরি করা এবং মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করা।
স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করতে নানা বাধার সম্মুখীন হলেও তারা কখনো লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। সংগঠনটির শুরুতে যে পাঁচজন ছিলেন তারা হলেন আশিকুর রহমান রাজিব, রমজানুর আহমেদ নাজিম (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক), মৌসুমি আক্তার রিনি, সুস্মিতা আক্তার শৈলী এবং জাহিদ হাসান লিখন। হাল না ছাড়া এই স্বেচ্ছাসেবীদের কঠোর পরিশ্রমে গৌরীপুর রক্তদান ফাউন্ডেশন এখন গৌরীপুর উপজেলাসহ ময়মনসিংহ বিভাগে একটি পরিচিত নাম। অল্প কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটিতে এখন কাজ করছেন ২৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী। নিয়মিত এবং অনিয়মিত রক্তদাতা আছেন ৫৪০ জন। সংগঠনটি যখন আলোর মুখ দেখছে ঠিক তখন সংগঠনটি সুন্দরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্ত করা হয় একাধিক উপদেষ্টা। যাদের মধ্যে আছেন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজসেবামূলক কাজ পছন্দ করেন এমন ব্যক্তিবর্গ।

করোনা মহামারির সময় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা সচেতনতামূলক লিফলেট ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। একই সময়ে ভয়কে জয় করে রক্তদাতা হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০২২ সালে নেত্রকোনা অঞ্চলের বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হলে সংগঠনের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবীরা খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ, নারীদের জন্য ন্যাপকিন, শিশুদের জন্য দুধ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বন্যার্ত এলাকায় ছুটে যান।
রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ফ্রি ক্যাম্পেইন করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালান তারা। ধীরে ধীরে সংগঠনটির কার্যক্রম বেগবান হলে বাড়তে থাকে রক্তের প্রয়োজনে মানুষের চাহিদাও। নিজ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার মানুষরা ছুটে আসেন এই স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে। তবে গৌরীপুর রক্তদান ফাউন্ডেশন শুধু রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাতা, কলম ও অর্থ দিয়েও সহযোগিতা করে থাকে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু সচেতনতা এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিতরণ করে লিফলেট। সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হলেও ছুটে চলেন তারা।

প্রতি বছর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আসে নতুন গঠনতন্ত্র এবং পরিশ্রমী স্বেচ্ছাসেবীদের নাম। সেরা স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া হয় সম্মাননা। সংগঠনটিতে শুধু স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাই নয়; যুক্ত আছে বাংলাদেশ রোভার স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্টসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রইছ উদ্দিন রইছ। তিনি বলেন, এসব স্বেচ্ছাসেবীর কাজ আর ভালো লাগা থেকেই আমি শুরু থেকে সংগঠনটিতে আছি। যতদিন বেঁচে থাকব এই সংগঠনে যুক্ত থেকে মানুষের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেব।
সংগঠনটি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে, গৌরীপুর রক্তদান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আশিকুর রহমান রাজিব জানান, আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা পড়াশোনার বাইরে সার্বক্ষণিক চেষ্টা করে রক্তদাতা খুঁজে বের করতে এবং মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের উপকারে নিয়োজিত থাকা।
তারেক/
.jpg)