‘নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য’ ও ‘বৃত্তের বাইরে’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাষাড়া শহিদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি রচিত এই বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্ব ও সাবেক সভাপতি ভবনি শংকর রায়ের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন গবেষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি-গবেষক-প্রকাশক মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সওকত আরা হোসেন ও লেখক রফিউর রাব্বি।
অনুষ্ঠানে ড. আনেয়ার বলেন, ‘মানুষের সামনে চ্যালেঞ্জ না থাকলে মানুষ কখনো সুমহান কৃতিত্বের অধিকারী হতে পারে না। রফিউর রাব্বি তার মেধাবী ছেলেকে হারিয়েছেন। তিনি পুত্রশোকে মুর্ছিত না হয়ে চেষ্টা করেছেন আরও সৃজনশীল এবং ক্রিয়াশীল হতে। তার প্রমাণ ‘নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য'। এটি একটি আকর গ্রন্থ। রফিউর রাব্বি তার শোককে শক্তিতে পরিণত করে এই বই লিখেছেন।’
মফিদুল হক বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের প্রাচীন জনপদ আর এ জনপদের সঙ্গে জড়িত ইতিহাসের সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠেছে রফিউর রাব্বির লেখায়। ভাবা যায় না, একজন মানুষ এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়া এমন একটি কাজ করতে পারেন। এই বইটি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
লেখক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘করোনার সময় বইটি নিয়ে কাজ করেছি গৃহবন্দি সময়টা কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে। তিন বছর সময়টা কতটা কাজে লেগেছে গ্রন্থটি পড়লে উপলব্ধি করতে পারবেন। আমি স্মরণ করি ছড়াকার মান্নান, হোসেন জামাল, করুণাময় গোস্বামী, আমজাদ যারা সম্মিলিতভাবে সুধীজন পাঠাগারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। যেটি এখনো নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস গত ৪০ বছর আকর হিসেবে ছিল। যদিও এর কিছু কিছু তথ্য উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যার উত্তর এ গ্রন্থে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
ইতিহাস মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে যৌক্তিক, দালিলিক প্রমাণ হাজির করা না যায়, সেটি টিকে না। যার ফলে আজকে যে দালিলিক প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের কাছে যে তথ্য উপাত্ত রয়েছে এটি আমাদের সত্য হিসেবে সামনে আছে। অনুদঘাটিত অনেক কিছু রয়েছে যা উদঘাটিত হলে নতুন আরও সত্যের কাছে আমরা যেতে পারবো। নারায়ণগঞ্জের গৌরবের বিশাল একটি অংশ রয়েছে। ঢাকার শতশত বছর আগে নারায়ণগঞ্জ গড়ে উঠেছিল। এখানে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, বাণিজ্য এসবের বিশাল অবস্থা এখানে ছিল। তারপরও আমাদের নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপথ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে বের হবার জন্য সত্যের মুখোমুখী বা সঠিক বিষয় জানার আমাদের, উত্তরসূরিদের প্রয়োজন রয়েছে।’
বিল্লাল/তাওফিক/