ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

শাওমির বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আসছে

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৫৯ এএম
শাওমির বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আসছে

সেডান মডেলের ‘শাওমি এসইউ ৭’ সিরিজের বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনছে জনপ্রিয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা শাওমি। বৈদ্যুতিক গাড়ি চাহিদার কথা মাথায় রেখে একের পর এক বড় বড় কোম্পানি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনছে। এবার সেই পথেই হাঁটল স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গাড়িটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬৫ কিলোমিটার বেগে চলবে। এই সিরিজে তিনটি মডেল এসইউ ৭, এসইউ ৭ প্রো ও এসইউ ৭ ম্যাক্স ভ্যারিয়েন্টে গাড়ি পাওয়া যাবে।

প্রথমবারের মতো চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করছে শাওমি। শাওমির নতুন অপারেটিং সিস্টেম হাইপার ওএস গাড়ির মডেলগুলোতে ব্যবহার করা হবে। ফলে গ্রাহকের ঘরের স্মার্ট ডিভাইস, ফোন ও গাড়ি একই সিস্টেমের আওতায় থাকতে পারবে।

এই গাড়িগুলো উৎপাদনের জন্য বেইজিং অটোমেটিভ ইন্ডাস্ট্রি হোল্ডিং কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে শাওমি। এসইউ ৭ ও এসইউ ৭ ম্যাক্স মডেল দুটির মধ্যে গতি ও ব্যাটারিতে পার্থক্য রয়েছে। এসইউ ৭ এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার ও এসইউ ৭ ম্যাক্সের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৬৫ কিলোমিটার। সম্প্রতি লিডার যুক্ত এবং লিডার ছাড়া দুটি ভার্সনের এই ইলেকট্রিক গাড়ির ডিজাইন প্রকাশ করেছে শাওমি। আরডব্লিউডি এবং এডব্লিউডি দুটি পাওয়ার ট্রেইন অপশন থাকছে গাড়িতে।

শাওমি এসইউ ৭ ইলেকট্রিক সেডানের আরডব্লিউডি ভার্সনের রিয়ার অ্যাক্সেলে একটি ইলেকট্রিক মোটর মাউন্ট করা রয়েছে। এই আরডব্লিউডি ভার্সনটি যেখানে ২৯৫ বিএইচপি তৈরি করতে পারে, ঠিক সেখানে অল-হুইল ড্রাইভটি (এডব্লিউডি) ৬৬৩ বিএইচপি তৈরি করতে সক্ষম। এডব্লিউডি তে রয়েছে একটি ২৯৫ বিএইচপি ইলেকট্রিক মোটর, যা ফ্রন্ট অ্যাক্সেলে মাউন্ট করা হয়েছে। আবার রিয়ার অ্যাক্সেলে রয়েছে ৩৬৮ বিএইচপি ইলেকট্রিক মোটর।

একটি লোয়ার ট্রিমও রয়েছে শাওমির এসইউ ৭ ইলেকট্রিক এসইউভিটির, যার ব্যাটারি প্যাকগুলোর সোর্স হলো বিওয়াইডি। এটি একটি এলএফপি ইউনিট হতে চলেছে। সেই জায়গায় হাইয়ার ট্রিমগুলোতে থাকছে সিএটিএলের এনএমসি ব্যাটারি প্যাক, যা বেশ বড়। এসইউ ৭ ও এসইউ ৭ ম্যাক্সের ওজন যথাক্রমে এক হাজার ৯৮০ কেজি ও দুই হাজার ২০৫ কেজি। আর এই ব্যাটারির ওজনের জন্য শাওমির ইলেকট্রিক গাড়িগুলো অনেকটাই ভারী হচ্ছে। শাওমির এসইউ ৭ মডেলটিকে আগে এমএস ১১ নাম দেওয়া হয়েছিল। টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ির অনেক চাহিদা রয়েছে চীনে। শাওমির এই গাড়িগুলো ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গাড়ির উৎপাদন ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। আগামী বছরে ফেব্রুয়ারি থেকে এই গাড়িগুলো বিক্রির জন্য বাজারে আসবে। ইতোমধ্যেই বেইজিংয়ের কারখানায় গাড়িটির ট্রায়াল প্রোডাকশন শুরু হয়েছে।

কোনো গাড়ি উৎপাদনের জন্য চীনের মিনিস্ট্রি অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির (এমআইআইটি) অনুমতি নিতে হয়। চীনে সরকারের সব নিয়ম মেনে এই গাড়ি উৎপাদন করবে শাওমি। এই সিরিজ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে এমআইআইটি। তবে, এসইউ ৭ প্রো নিয়ে বেশি তথ্য জানায়নি এমআইআইটি। এসইউ ৭ সেডান সিরিজের আরও ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আসতে পারে শাওমি। কয়েক সপ্তাহ আগে স্মার্টফোনের হাইপার ওএস অপারেটিং সিস্টেমটি লঞ্চ করেছে শাওমি। আপাতত গাড়িটি শুধু চীনের বাজারেই পাওয়া যাবে।

জাহ্নবী

আইসিসিবিতে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় ঢাকা মোটর ফেস্ট শুরু

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫০ পিএম
আইসিসিবিতে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় ঢাকা মোটর ফেস্ট শুরু

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢাকা মোটর ফেস্ট-২০২৪। উইজার্ড শোবিজের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই মোটর ফেস্টে প্রদর্শিত হচ্ছে মোটরগাড়ি, বাইক ও মোটর এক্সেসরিজের মতো অটোমোবাইলের জিনিসপত্র।

সকাল ১১টায় আইসিসিবির ৫ নম্বর হল ও এক্সপো জোনে এ আয়োজন শুরু হয়। নিত্যনতুন মোটরসাইকেল ও মোটরসাইকেলের সরঞ্জামাদিগুলো আরও নতুনভাবে তুলে ধরতে দ্বিতীয়বারের মতো এটি আয়োজিত হচ্ছে।

ফেস্টের প্রথমদিনে দর্শনার্থীদের জন্য দিনভর ছিল নানা আয়োজন। সন্ধ্যায় ছিল ড্রাইভিং মুভি দেখার ব্যবস্থা। ফেস্টে মডিফাইড কার কালেকশনসহ অনেক আকর্ষণীয় গাড়ি প্রদর্শিত হচ্ছে। এই আয়োজন বাইকার ও গাড়িপ্রেমীদের জন্য দেশে অন্যতম একটি ইভেন্ট। কার স্টান্ট শো’য়ে বিডিআরসির সভাপতি সার্জসহ অনেকেই মনোমুগ্ধকর কার স্টান্ট করেন।

বিডিআরসি মূলত একটি অলাভজনক কার ক্লাব। এর সহসভাপতি সৌমিক বলেন, আমাদের লক্ষ যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে বের করে ভালো কিছু করতে উৎসাহিত করা। গাড়ি ভালো শখের জায়গা, যা যুবসমাজকে আকৃষ্ট করে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারে।

এই মেলায় মূলত দেশি-বিদেশি লুব্রিক্যান্ট কোম্পানিসহ টায়ার, ফগলাইট ও হেলমেট কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণ করেছে। তারা মূলত নিজেদের নতুন পণ্যগুলো প্রদর্শন করছে। এসব পণ্যের মধ্যে থাকছে হেলমেট, বাইক ও  বাইক মেকআপের অন্যান্য জিনিসপত্র। মেলায় দেশি-বিদেশি ১৬টি কোম্পানির স্টল রয়েছে। এ ছাড়া মেলায় বাইক স্ট্যান্ডের জন্য ১০টি গ্রুপ ও কার স্ট্যান্ডের জন্য ১০টি গ্রুপ অংশগ্রহণ করছে।

আয়োজন সম্পর্কে উইজার্ড শোবিজের ম্যানেজিং পার্টনার সৌরভ আহমেদ বলেন, ঢাকায় আমরা দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন করছি। এই ফেস্টের মাধ্যমে অটোমোবাইল খাতের সব প্রতিষ্ঠানকে এক ছাদের নিচে আনার চেষ্টা করেছি। এখানে মূলত দেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বিদেশি ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ থাকছে।

ফেস্টে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন গাড়ির প্রদর্শনী ও স্ট্যান্ড শো-এর পাশাপাশি চলবে জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকাদের লাইভ কনসার্ট। আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে মোটরপ্রেমীদের মন মাতাতে আসছে জনপ্রিয় ব্যান্ড বে অব বেঙ্গল, আর্ক ও এ কে রাহুল। পাশাপাশি ফেস্টের শেষ দিনে মেলাকে রাঙিয়ে তুলতে আসছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ব্ল্যাক জ্যাং, আপেক্ষিক, সাবকন্সাস ও কার্নিভাল। কনসার্ট চলবে মেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

উইজার্ড শোবিজের আয়োজনে গতকাল থেকে প্রদর্শনীটি শুরু হলেও শেষ হবে আগামীকাল। মেলার ভেন্যু কাউন্টার থেকে জনপ্রতি মাত্র ২০০ টাকায় মোটরপ্রেমীরা পাচ্ছেন কনসার্ট উপভোগের সুযোগ। উইজার্ড শোবিজের আগে চট্টগ্রামে ছয়বার মোটর ফেস্ট আয়োজন করলেও ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করছে। চট্টগ্রামের ফেস্টে অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল, লুব্রিকেন্টসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এই ফেস্টে অংশ নিয়েছে। মেলার এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার বিডি কিটজ, বিডিআরসি ও অনলাইন পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাইক বিডি। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার সময় টেলিভিশন।

জাহ্নবী

অটোপাইলট প্রযুক্তির গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৪ পিএম
অটোপাইলট প্রযুক্তির গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

গাড়িতে চালকবিহীন বা অটোপাইলট প্রযুক্তি বেশ সাড়া ফেলেছে গাড়িপ্রেমীদের মাঝে। বড় বড় গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান চালকবিহীন গাড়ি নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে। এরই মাঝে কয়েকটি কোম্পানির চালকবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চালকবিহীন গাড়ির দুর্ঘটনা এ বিষয়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

চলতি মাসের ১০ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় ক্ষুব্ধ জনতা ওয়েমোর একটি চালকবিহীন গাড়ি ভাঙচুর করার পর আগুন দেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চালকবিহীন গাড়ি শহরটিতে কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন পথচারী আহতও হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চালকবিহীন গাড়ির বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অনেকে মনে করেন, চালকবিহীন গাড়ি মনুষ্যচালিত গাড়ি থেকে নিরাপদ। আবার অন্যরা চালকবিহীন গাড়ির প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।

মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় সান ফ্রান্সিসকোর ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, রাস্তার পাশে থাকা ওয়েমোর একটি চালকবিহীন গাড়ি ঘিরে প্রথমে একদল মানুষ ভিড় করে। এরপর তারা গাড়িটির গায়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকে ও জানালা ভেঙে ফেলে। এরপর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাড়িটিতে আগুন দেওয়ার কারণ সুনির্দিষ্টভাবে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকবিহীন গাড়ির কারণে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য লসঅ্যাঞ্জেলেস টাইমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন দেওয়ার সময় গাড়ির ভেতরে যাত্রী না থাকায়, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওয়েমোর মুখপাত্র স্যান্ডি কার্প জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে ওয়েমো।

গত ডিসেম্বরে অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ওয়েমো প্রতিষ্ঠানের দুটি চালকবিহীন গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহরে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একই ট্রাকের সঙ্গে পরপর সংঘর্ষ ঘটে। গাড়িগুলোর ভেতরে কোনো যাত্রী না থাকায় সে সময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে ওয়েমো। তবে দুর্ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কারণ জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি রাস্তায় নিয়মিত চলাচল করেছে ওয়েমোর চালকবিহীন গাড়িগুলো। এ অবস্থায় সান ফ্রান্সিসকোয় হঠাৎ করেই ক্ষুব্ধ জনতা ওয়েমোর চালকবিহীন গাড়িটি ভাঙচুর করে ও আগুন দেয়। এরপরই টনক নড়ে প্রতিষ্ঠানটির। গাড়িতে আগুন দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের তৈরি চালকবিহীন সব গাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে জেনারেল মোটরসের চালকবিহীন গাড়ি ‘ক্রুজ’ সান ফ্রান্সিসকোয় পথচারীকে আহত করেছে। এমন দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানিটির চালকবিহীন গাড়ি ক্রুজ নিয়ে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এর জেরে তাদের তৈরি ৯৫০টি চালকবিহীন গাড়ি ফিরিয়ে নেয় জেনারেল মোটরসের মালিকানাধীন ক্রুজ।

গত বছরের আগস্টে ওয়েমো ও ক্রুজ প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। এর আগে শুধু রাতে ট্যাক্সি সার্ভিস হিসেবে এ প্রতিষ্ঠান দুটির গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল। ওয়েমোর দাবি, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় মনুষ্যচালিত গাড়ি থেকেও ওয়েমোর চালকবিহীন গাড়ি অনেক নিরাপদ।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করা ২০ লাখের বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি ফেরত নিয়েছে। এসব ছিল অটোপাইলট প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ি। ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএইচটিএসএ) নির্দেশে এসব গাড়ি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টেসলা।

এনএইচটিএসএর তদন্তে দেখা গেছে, টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তিতে ত্রুটি রয়েছে। এ ত্রুটির কারণে গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেন পরিবর্তন করতে গিয়ে অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

২০২১ সালের আগস্ট মাস থেকে টেসলা গাড়িতে ব্যবহৃত অটোপাইলট প্রযুক্তির কার্যকারিতা তদন্ত করছিল প্রতিষ্ঠানটি। টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তি মূলত গাড়ির স্টিয়ারিং, অ্যাকসেলেরেশন এবং ব্রেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

টেসলা বলছে, তারা এসব গাড়িতে ত্রুটি সারিয়ে ফেলার জন্য কাজ করছে। ত্রুটি সারিয়ে ফেলার পর গাড়িগুলো আবার ক্রেতাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় টেসলার শেয়ারের দাম কমে যায়। এনএইচটিএসএর তদন্তে টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তিতে ত্রুটি ধরা পড়ার পর এটি টেসলার জন্য একটি বড় ধাক্কা। 

এ ঘটনায় চালকবিহীন বা অটোপাইলট প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিচালিত গাড়িগুলো উঠিয়ে নিচ্ছে, যা এই প্রযুক্তির বিকাশে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে চালকবিহীন বা অটোপাইলট প্রযুক্তির এসব গাড়িতে দুর্ঘটনা এড়ানো গেলে যাতায়াত ব্যবস্থা হবে আরও নিরপাদ।

জাহ্নবী

সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারেন সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০২ পিএম
সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারেন সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি

ভ্রমণের সঙ্গী যদি হয় নিজের গাড়ি, তাহলে ঘোরাঘুরিতে আর ঝক্কিঝামেলা থাকে না। বর্তমান বাজারে নতুন গাড়ির দাম একেবারে উচ্চবিত্ত ছাড়া বাকিদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেকেরই গাড়ি কেনার সাধ আছে সাধ্য নেই। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারে সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত গাড়ি।

যাদের একদম ঝা চকচকে ব্র্যান্ডেড নতুন গাড়ি কেনার সামর্থ্য বা সুযোগ নেই, তাদের জন্য সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি হতে পারে এক সুন্দর সুযোগ। সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি মানে পুরোনো বা ব্যবহৃত গাড়িকে বোঝানো হয়। সেকেন্ড হ্যান্ড মানেই সব সময় খারাপ বা নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ করে এমন নয়। সেকেন্ড হ্যান্ড মানেই নকল বা খারাপ মানের গাড়ি এমনটা না হয়ে ভালো কিছুও হতে পারে।

পুরোনো বা অল্প কিছু দিন ব্যবহৃত ভালো গাড়িগুলো পুনরায় বেচাকেনার জন্য দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা এসব গাড়ি এমন প্রতিষ্ঠান থেকে সাধ্যের মধ্যে কেনা যায়। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি ও অনলাইনে সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত গাড়ি বেচাকেনার প্রচার করে থাকে। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেকের কাছে ব্যবহৃত গাড়ির সংগ্রহ থাকতে পারে। আবার গাড়ির ওয়ার্কশপেও ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির খোঁজ মিলবে। এসব গাড়ি সারাইয়ের দোকানগুলোতেও অল্প বিস্তর সংগ্রহ থাকতে পারে।

নতুন গাড়ির থেকে প্রায় অর্ধেক বা তারও কম দামে এসব গাড়ি পাওয়া যায়। এতে করে কিছুটা কম খরচে গাড়ি কিনতে পাওয়া যায়। ব্যবহৃত এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, বিমা বা ভিতরের সাজসজ্জা নিয়েও ভাবতে হয় না। শুধু গাড়ি কেনার আগে ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে নিতে হবে। দেখেশুনে কিনতে পারলে পুরোনো গাড়ি হবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী।

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি যেহেতু আগে ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এই গাড়ি কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় বিক্রেতা বেশি পুরোনো, নষ্ট বা অকেজো গাড়ি বাইরে রং করে বেচতে চায়। তাই কষ্টের টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত গাড়ি কিনলেও যাচাইবাছাই করেই কিনতে হবে।

গাড়ির মডেল ও বার্তমান অবস্থা বিবেচনায় দর কষাকষি করবেন। বিক্রেতা যে দামে গাড়িটি বেচতে চায়, তাতেই কিনতে রাজি হবেন না। কারণ শুধু গাড়ি কিনলেই হবে না, সেই সঙ্গে গাড়ির পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ খরচও হিসাব করতে হবে। তাই প্রায় নতুন গাড়ির দামের কাছাকাছি মূল্যে ব্যবহৃত গাড়ি কেনা যাবে না। এসব গাড়ির বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিভিউ, পোস্ট, ভিডিও থেকে তথ্য ও ধারণা নিতে পারেন। যাতে আপনি অন্য সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন।

যদি নিজে গাড়ি চালাতে পারেন তাহলে পছন্দের গাড়িটি টেস্ট ড্রাইভ দিয়ে দেখবেন। আর নিজে ড্রাইভিং না জানলে, গাড়ি বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন কেউ গাড়ি চালাতে পারে তাকে দিয়ে টেস্ট ড্রাইভ দিতে পারেন। যারা গাড়ির সঠিক হালচাল বুঝতে পারবে। এতে গাড়ির কোনো ত্রুটি থাকলে তা সহজে বোঝা যাবে।

গাড়ির অতীত ইতিহাস জানতে হবে। যাতে বুঝতে পারবেন গাড়িটি চোরাই, দুর্ঘটনাকবলিত, পুলিশি কেসে জড়িত কি না। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও এক্সেসরিজ কিছুদিন পর পাল্টাতে হবে নাকি ঠিক আছে সেসব বিষয় খুঁটে খুঁটে দেখবেন।

যেসব গাড়ির যন্ত্রাংশ বাজারে পাওয়া যায় এমন গাড়ি কিনতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে গাড়িটি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। গাড়ির আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যাচাই করার মাধ্যমে গাড়ির সার্ভিস রেকর্ড ও ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট জানা যাবে। এ ছাড়া ওডোমিটারও যাচাই করে নিতে হবে।

এ.জে/জাহ্নবী

রিকন্ডিশনড গাড়ি কিনতে জানতে  হবে অকশন শিট

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৬ পিএম
কিনতে জানতে  হবে অকশন শিট

রিকন্ডিশনড বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি দেখতে একেবারে ঝা চকচকে নতুন গাড়ির হয় না। তবে দেখেশুনে কিনলে এই গাড়িগুলোও অনেক দিন ব্যবহার করা যায়। যা একদিকে বিলাসিতাও হবে, অপরদিকে পকেটকেও খানিকটা আরাম দেবে। বেশ কিছু সময় ব্যবহারের পর রিপেয়ার করে বাজারে  আসে রিকন্ডিশনড গাড়ি। এসব গাড়ি ১ থেকে ৫ বছরের পুরোনো হয়ে থাকে। আর এই রিকন্ডিশনড গাড়ি কিনতে যাচাই করে নিন অকশন শিট। জানাচ্ছেন আবরার জাহিন

অকশন শিট

জাপান থেকে বাংলাদেশে রিকন্ডিশনড গাড়ির সিংহভাগ আসে। আপসহীন মানের জন্য জাপানি গাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কয়েক বছর ব্যবহারের পর জাপানিরা গাড়ি পরিবর্তন করে নতুন গাড়ি কেনেন। এর ফলে দেশটিতে নির্দিষ্ট সময় পর অনেক গাড়ি জমে যায়। এসব গাড়িই জাপানে অকশন বা নিলামে তোলা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো রিকন্ডিশনড গাড়ি হিসেবে দেশে আসে।

খুঁটিনাটি তথ্য ও ছবিসহ রিকন্ডিশন গাড়ি অকশন হাউসে রাখা হয়। একটি কাগজেই গাড়ির সব তথ্য থাকে। যেন কাগজগুলো পড়ে যে কেউ গাড়ি সম্পর্কে চটজলদি স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন। গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় একটি গাড়ি দেখতে দু-তিন মিনিটের বেশি সময় পাওয়া যায় না। জাপানিদের তৈরি অকশন শিট দেখে যে কেউ গাড়ি কিনতে পারেন। কারণ অকশন শিটে হুবহু গাড়ির নির্ভুল বর্ণনা দেওয়া থাকে। বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই এসব গাড়ি হাজার হাজার মাইল চালানো যায়। জাপানি রিকন্ডিশনড গাড়ির মান ভালো হওয়ায় ইউরোপ বা আমেরিকার গাড়ির তুলনায় দাম বেশি থাকে।

অকশন শিট দেখলে আপনার রিকন্ডিশন গাড়ি চোখে দেখারও প্রয়োজন পড়বে না। অকশন শিটে একটি গাড়ির সবকিছুর বিশদ বর্ণনা দেওয়া থাকে। যা দেখে আপনি গাড়িটি কিনতে পারবেন। অকশন শিটে গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

যেমন- একটি গাড়ি যদি ১০ হাজার কিমি. চলে তাহলে সেটার দাম বেশি হবে আর ৫০ হাজার কিমি মাইলেজের গাড়ির দাম কম হবে। তবে বাংলাদেশে অকশন শিটগুলো দেখার সময় অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেবেন। তাহলে ঠকে যাওয়ার চিন্তা থাকবে না।

রিকন্ডিশন গাড়ি গ্রেডের ব্যাখ্যা

সাধারণত অকশন শিটে গাড়ির গ্রেডিং তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। প্রথমত, এক্সটেরিওর বা গাড়ির বাইরের বিষয়; দ্বিতীয়ত, ইন্টেরিওর বা ভেতরের বিষয় ও তৃতীয়ত, মাইলেজ বা গাড়িটি কত কিলোমিটার চলাচল করেছে।
এক্সটেরিওর গ্রেডিং

গাড়ির ডেন্ট, ঘষা খাওয়া বা অন্য কোনো সমস্যা ইংরেজি অক্ষর এ, বি, সি, ডি দিয়ে বোঝানো হয়। এ, বি, সি, ডি দিয়ে যথাক্রমে গাড়ির অল্প সমস্যা থেকে বেশি সমস্যা নির্দেশ করে।

গ্রেড এ- গাড়ির বাইরের একদম নতুনের মতো দেখতে হলে ‘এ’ দিয়ে বোঝানো হয়।
গ্রেড বি- একটু দাগ তবে খুব সহজেই তোলা যাবে এমন হলে ‘বি’ গ্রেড ব্যবহার করা হয়।
গ্রেড সি- যদি গাড়ির এক্সটেরিওরের অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকে, তবে অল্প কোনো পোড়া দাগ থাকে তাহলে এটি হবে ‘সি’ গ্রেড।
গ্রেড ডি- ‘ডি’ গ্রেড দিয়ে বোঝানো হয় গাড়ির বাইরের অবস্থা খুব খারাপ।=

ঝকঝকে নতুনে মতো গাড়ির জন্য গ্রেড ‘এস’ ব্যবহার করা হয়। এই গ্রেডের গাড়ি এতই নতুনের মতো যে, না বলে দিলে বুঝতেই পারবেন না এটি ব্র্যান্ড নিউ না। অকশন হাউস থেকে বলা হয় এই গাড়িটির মাইলেজ সর্বোচ্চ ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে এস গ্রেডের গাড়ি সাধারণত কয়েক শ কিলোমিটার মাইলেজের, এমনকি শুধু ডেলিভারি মাইলেজেরও হয়ে থাকে।

এই গ্রেডের গাড়ি বাংলাদেশে খুব কম আসে। বাংলাদেশে মূলত ‘এস’ গ্রেডের গাড়ি ব্র্যান্ড নিউ বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও কিছু অক্ষর দিয়ে গাড়ির বাইরের অবস্থা বর্ণনা করা হয়-

এ- গাড়ির ওপরের অংশে কোনো দাগ
ইউ- গাড়িতে কোনো প্রকার গর্ত থাকলে
বি- দাগের সঙ্গে কিছু গর্ত দেখা গেলে
ডব্লিউ- গাড়িতে হালকা কাজ করানো হয়েছে এমন
এস- জং ধরা (কমলা রং দেখা যায় এমন)
সি- জং বেড়ে ভেতরের ধাতুর অংশ দেখা যায় এমন
পি- রঙের দাগ
এইচ- রং উঠে যাওয়া
এক্সএক্স- প্যানেল প্রতিস্থাপন করা
এক্স- কোনো পার্টসের প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন
জি- গ্লাসে পাথর টুকরা
ওয়াই- ফাটা কোনো কিছু দেখা গেলে
ই- টোল খাওয়া

ইন্টেরিওর গ্রেডিং

গ্রেড এ- গাড়ির ভেতরে কোনো পার্টস খোয়া যায়নি এমন ক্ষেত্রে এই গ্রেডে ব্যবহার করা হয়। সব পার্টস মজুত রয়েছে।
গ্রেড বি- এই গ্রেডের গাড়িগুলো মোটামুটি ভালো থাকে। কোনো রং, ডেন্ট বা মেরামতের প্রয়োজন পড়বে না।
গ্রেড সি- অল্প কিছু মেরামতের প্রয়োজন পড়তে পারে। যেমন- সিগারেটের পোড়া দাগ, খাবারের দাগ, স্ক্রুর কোনো গর্ত ইত্যাদি থাকতে পারে।
গ্রেড ডি- এই গ্রেডের গাড়িগুলো মোটামুটি খারাপ হয়। দাগ, পোড়া দাগ অথবা অন্য দাগ লক্ষ্য করা যায়।
গ্রেড ই- খুবই খারাপ অবস্থার গাড়ি ‘ই’ গ্রেডের হয়ে থাকে। ড্যাশ বোর্ড ভাঙা, সিটগুলো জীর্ণ এবং অনেক মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে।

মাইলেজ গ্রেডিং

গ্রেড ৭, ৮, ৯ অথবা এস- গ্রেডের গাড়িগুলোর ডেলিভারি মাইলেজে খুব কম হয়ে থাকে। একদম নতুনের মতো গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়। তেমন একটা ব্যবহারই হয় না এসব গাড়ি। বলতে পারেন একদম টপ ক্লাস গাড়ি। এ ধরনের গাড়ি বাংলাদেশর রাস্তায় খুব কম দেখা যায়।
গ্রেড ৬- নতুন গাড়ির জন্য এই গ্রেড দেওয়া হয় তবে ডেলিভারি মাইলেজ আরেকটু বেশি হয়। মাইলেজ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। কোনো ধরনের দাগ থাকলে গ্রেড ৬ দেওয়া হয় না। অর্থাৎ খালি চোখে দেখে বোঝা যায় গাড়িটি পুরোনো না নতুন।
গ্রেড ৫- এমন গাড়ির মাইলেজ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার কিলোমিটার হয়। দু-একটা আঁচড়ের দাগ থাকতে পারে। 
গ্রেড ৪.৫- গাড়ির অবস্থা চমৎকার তবে মাইলেজ ১ লাখের ওপর হয়।
গ্রেড ৪- এই গ্রেডের গাড়িগুলোও খুবই নির্ভরযোগ্য ও ভালো হয়। দুই ধরনের গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমত, কম মাইলেজের ভালো

গাড়ি, তবে যার কিছুটা সামান্য রিপেয়ার (ছোট-খাট স্ক্র্যাচ/ডেন্ট কারেকশন/পেইন্টিং টাইপের) দরকার। অথবা যার অল্প কিছু রিপেয়ার হয়েছে।
গাড়িটি দেড় লাখ কিলোমিটার চলেছে তবে মাইলেজ জনিত স্বভাবিক ক্ষয় ছাড়া আর তেমন কোনো সমস্যা নেই। পাশাপাশি ফিল্ড টেস্টে অভিজ্ঞ পরিদর্শকের চোখে পাশ করা। অনেক সময় দেখা যায় ডেন্ট পেইন্টের কাজ টপ ক্লাস মানের হয়নি তখন এই গ্রেডে চলে আসে।

গ্রেড ৩.৫- অনেকটা গ্রেড-৪ এর মতো গাড়ির মতো তবে রং আর প্যানেলে কিছু কাজ করার দরকার পড়তে পারে।

গ্রেড ৩- জরুরি ভিত্তিতে রং আর প্যানেলের কাজ করাতে হবে। অথবা প্যানেল জরুরিভিত্তিতে পাল্টাতে হবে। এই গ্রেডের মাইলেজ অনেক বেশি থাকে।

গ্রেড ২- খারাপ অবস্থার গাড়িগুলো ২ নম্বর গ্রেডে ফেলা হয়। এই গ্রেডে গাড়ির শোচনীয় অবস্থা বোঝায়। গর্ত, ক্ষয় ইত্যাদি গুরুতর সমস্যা নির্দেশ করে এই গ্রেড।

গ্রেড ১- দুই ধরনের গাড়িকে এই গ্রেড দেওয়া হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের মডিফিকেশন বা অটো থেকে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন পরিবর্তন করা।

গ্রেড ০, এ, আর, আরএ- এই গাড়িগুলো আগে মেরামতের ইতিহাস থাকে। গাড়ির ভেতরের প্যানেল ঠিক করার কথা উল্লেখ থাকবে। এই মেরামত কম হতে পারে আবার বেশিও হতে পারে।

নজর দিতে হয় মাইলেজে

রিকন্ডিশনড গাড়ি বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার বিষয়ে সর্বপ্রথম মাইলেজের ওপরে বেশি জোর দিতে হবে। রিকন্ডিশনড গাড়ি কেনার জন্য প্রথমে গাড়ির মাইলেজ চেক করতে হবে। দেশে বেশির ভাগ রিকন্ডিশনড গাড়ি যেহেতু জাপান থেকে আসে, তাই সেখানে গাড়িটি কত মাইল চলেছে তা যাচাই করতে হবে। গাড়ি কত মাইল চলেছে সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ অকশন পেপারে থাকে।

 অকশন পেপারে লিখিত গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। রিকন্ডিশনড গাড়ির মাইলেজের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। মাইলেজ কম হলে বা কম সময় রাস্তায় চললে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। পাশাপাশি মাইলেজ যদি বেশি হয় বা বেশি সময় ধরে রাস্তায় চলে, তাহলে গাড়ির দাম কিছুটা কম হয়।

অকশন পেপার যাচাই

একজন ক্রেতা চাইলে অর্থ খরচ করে জাপানের আসল অকশন পেপার যাচাই করতে পারেন। এর মাধ্যমে জানা যায় গাড়িটি আসলেই অকশনে ছিল কি না। অকশন পেপার গাড়ির ডকুমেন্টের সঙ্গেই থাকে। আবার অনেক সময় ডকুমেন্টের সঙ্গে না থাকলে ইঞ্জিন চেসিস নম্বর নিয়ে ট্রু রিপোর্ট বের করতে পারবেন। ট্রু রিপোর্টে সব তথ্য পেয়ে যাবেন।

কলি

 

শখের গাড়ি সাজাতে যা যা লাগবে

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
শখের গাড়ি সাজাতে যা যা লাগবে

অনেক দিনের স্বপ্ন নিজের একটা গাড়ি হবে। একদিন স্বপ্নটা পূরণ হয়ে গেল। অনেক শখের গাড়িটি কিনে ফেললেন। এবার মনের মতো করে শখের গাড়িটি সাজানোর পালা। বর্তমান সময়ে যানজটে গাড়িতে অনেক সময় কাটাতে হয়। চলমান পথে এই ভ্রাম্যমাণ নীড়কে রুচিশীল উপায়ে সাজানো যায়। গাড়ির ভেতরে জায়গা কম থাকে, কথাটি মাথায় রেখে সাজসজ্জা করতে হবে। এই সীমিত জায়গার জন্য এমন সব জিনিস কিনতে হবে যা ভেতরের জায়গা কমাবে না, বরং গাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি কাজেও লাগবে। জানাচ্ছেন আবরার জাহিন

সিট কভার


নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারের জন্য সিট কভার লাগানো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। গাড়ির ভেতরের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে গাড়ির সিট কভারের ওপর। সিট কভার দেখতে নান্দনিক হলে গাড়ির ভেতরের পরিবেশ বহুগুণে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। সিট কভার পছন্দ করার সময় ময়লার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এমন রঙের সিট কভার বাছাই করতে হবে যা দ্রুত ময়লা হয় না। ময়লা হলেও চোখে পড়বে না। পছন্দের সঙ্গে মানানসই রং, ভালো মানের কাপড় দিয়ে সিট কভার বানান।রেডিমেড বা নিজের পছন্দমতো বানিয়ে নিতে পারেন।

ফ্লোর ম্যাট


গাড়ির যত্নে ফ্লোর ম্যাটের গুরুত্ব অনেক। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফ্লোর ম্যাট পাওয়া যায়। এর মধ্যে পছন্দমতো ফ্লোর ম্যাট বেছে নিন। এটি ব্যবহারে গাড়ির ভেতর সরাসরি কাদা, পানি ও ময়লা পড়ে না। বাজারে কার্পেট, রাবার, থ্রি-ডি, প্রিমিয়াম ফ্যাব্রিক ফ্লোর ম্যাটসহ নানা ধরনের ফ্লোর ম্যাট পাওয়া যায়।

স্টিয়ারিং কভার


গাড়ি চালোনায় স্বাচ্ছন্দ্য থাকা জরুরি। আর এই গাড়ি চালানোকে আরামদায়ক করতে পারে স্টিয়ারিং কভার। এই স্টিয়ারিং কভার গাড়ি চালানোয় স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। বাজারে চামড়ার বা সিনথেটিকের দেশি-বিদেশি নানা রকম স্টিয়ারিং কভার পাওয়া যায়। মান ও ডিজাইন ভেদে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। নিজের পছন্দ, আরাম ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্টিয়ারিং কভার কিনুন।

মোবাইল স্ট্যান্ড/হোল্ডার


গাড়ি চালানোর সময় কল বা মেসেজ আসে। এ সময় বারবার পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করা ঝামেলা মনে হয়। আর গাড়ি চালানোর সময় অন্য দিকে নজর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণও বটে। এতে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ড্যাশবোর্ড বা উইন্ডোতে সুন্দর একটি মোবাইল স্ট্যান্ড বা হোল্ডার যুক্ত করে এর সমাধান করা যায়। এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় জিপিএস বা গুগল ম্যাপ দেখার জন্য মোবাইল হোল্ডার বেশ কাজে দেয়। সহজে কল কেটে দেওয়া বা ড্রাইভ করার সময় জরুরি কথা বলতে গাড়িতে সুন্দর মোবাইল স্ট্যান্ড বা হোল্ডার প্রয়োজন। যদিও গাড়ি চালানোর সময় যথাসম্ভব মোবাইলে কথা বলা বাদ দেওয়া উচিত।

কি ফাইন্ডার
অনেক সময় চাবি খুঁজে পাওয়া যায় না। খুব সহজে চাবির রিং খুঁজে পাওয়ার জন্য রিংয়ের সঙ্গে কি ফাইন্ডার যুক্ত করুন।

সিট বেল্ট কভার


নিরাপত্তার জন্য সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হয়। তবে সিটবেল্ট বারবার ব্যবহারের নোংরা হয়ে যায়। এটি পরিষ্কার করা একটু কষ্টকর হয়। তাই সিটবেল্টে কভার ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ডিজাইনের সিটবেল্ট কভার পাওয়া যায়।

কার সান শেড


অনেক সময় গাড়িতে চলাফেরার সময় সূর্যের আলো চোখে পড়ে। তীব্র আলোয় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যায়। গাড়িতে বসে থাকতেও ভালো লাগে না। এ জন্য সান শেড ব্যবহার করতে পারেন। 

কার চার্জার


গাড়িতে চলাচলের সময় মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া অসুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গাড়িতে উঠে দেখলেন মোবাইলে চার্জ শেষ। অথচ মোবাইল চার্জ করার অন্য কোনো উপায়ও নেই। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সমাধান করবে কার চার্জার। এটি ইউএসবি পোর্ট আছে এমন যেকোনো গাড়িতেই ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে মোবাইল, ট্যাব, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করার জন্য ব্যবহার করা যায়। এটি ছোট আকারের ও হালকা ওজনের হয়ে থাকে। বাজারে বিভিন্ন দামের কার চার্জার পাওয়া যায়।

কার পারফিউম
গাড়ির ভেতরের পরিবেশকে সুগন্ধযুক্ত ও সতেজ রাখার জন্য গাড়িতে সুগন্ধির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে স্প্রে কর যায় এমন সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ড্যাশবোর্ডে, এসি ভেন্টে আটকে রাখলে সুগন্ধ ছড়ায় এমন কার পারফিউমও ব্যবহার করা যায়। এগুলো বিভিন্ন রং, ফুল, ফল, পশুপাখিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আকারের পাওয়া যায়। যা সুগন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি শোপিসের মতো শোভাও বাড়ায়। বিভিন্ন ধরনের কার পারফিউম পাওয়া যায়। স্প্রে বোতল ব্যবহার করা সহজ ও দ্রুত সুগন্ধ ছড়ায়। এছাড়া জেলও ব্যবহার করা যায়।ল দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে স্প্রের তুলনায় কম  সুগন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া ভেন্ট ক্লিপ এসি ভেন্টে আটকে রাখা যায়। দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধের জন্য জেল বা ডিফিউজার ব্যবহার করুন। পছন্দ অনুযায়ী তীব্র বা হালকা সুগন্ধের পারফিউম কিনুন। অ্যালকোহলমুক্ত পারফিউম ব্যবহার করুন। বিকল্প সুগন্ধি হিসেবে গাড়ির ভেতরে প্রাকৃতিক ফুল রাখুন। যা সুবাসের সঙ্গে গাড়ির ভেতরে শোভা বাড়াবে। 

নেক পিলো
দীর্ঘ যাত্রায় বসে থেকে অনেকের ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যার দারুণ সমাধান নেক পিলো। এটি ঘাড়ের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখে। এই বালিশ দেখতে ঘোড়ার খুরের আকৃতির হয়। বেশি নরম বা শক্ত না হয় এমন বেছে নিন। এটি ঘাড়ে জড়িয়ে ঘুমালে অপ্রস্তুত অবস্থায় ঘাড় বেঁকে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। বিভিন্ন দাম ও মানের নেক পিলো বাজারে পাওয়া যায়।

টিস্যু বক্স কভার
গাড়িতে টিস্যু বক্স থাকা অত্যাবশ্যক। তবে সাধারণ কাগজের টিস্যু বক্স গাড়ির ভেতরে নকশার সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। এ জন্য টিস্যু বক্স কভার ব্যবহার করুন। ফ্যাশনেবল টিস্যু বক্স কভার ভেতরের পরিবেশ আকর্ষণীয় করে তোলে। আবার ময়লা থেকে টিস্যুগুলোকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন রং, ডিজাইনে এটি পাওয়া যায়। গাড়িতে ভিতরের নকশার সঙ্গে মানানসই টিস্যু বক্স কভার রাখুন। চামড়া, কাপড়, কাঠসহ নানা ধরনের, নানা দামের টিস্যু বক্স কভার কিনতে পাওয়া যায়। 

ব্যাকপেইন রিলিফ কুশন
বেশি সময় গাড়ি চালালে পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। আর যাদের আগে থেকেই ব্যথার সমস্যা আছে, তাদের জন্যও দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়। এরকম সমস্যায় আরাম পেতে গাড়িতে রাখতে পারেন ব্যাকপেইন রিলিফ কুশন। এটি দেখতে জালিযুক্ত ও পিঠের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁকানো হয়। এটি রাবারের সাহায্যে গাড়ির সিটের সঙ্গে আটকে রাখা যায়।

মিরর হ্যাঙ্গিং
গাড়ির সামনের আয়না নানা ধরনের অনুষঙ্গ দিয়ে সাজানো যায়। কারে ঝুলানো যায় এমন জিনিসপত্রও বাজারে পাওয়া যায়। অনেকে আবার নিজের পছন্দের জিনিসও ঝুলিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। সুন্দর চাবির রিং, ছোট পুতুল, শোপিস, প্রিয়জনের ছবি, ধর্মীয় নাম, উক্তি কিংবা তসবিহ দিয়েও সাজানো যায় গাড়ির সামনের এই অংশ।

সফট টয়
ছোট প্রাইভেট কারের পেছনের ব্যাক উইন্ডোর সামনের ছোট্ট খালি অংশে অনেকে ছোট বালিশ, কুশন বা সফট টয় রাখতে পছন্দ করেন। এগুলো গাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। এগুলো মাথা বা পিঠের পেছনে রেখে আরাম করা যায়। গাড়ির আকার ও পেছনে জায়গার বিষয় মাথায় রেখে এসব কিনুন। 

সিটব্যাক স্টোরেজ
সাধারণত গাড়ির সামনের দুই সিটের পেছনেই একটি করে কোনো কিছু রাখার ব্যবস্থা থাকে। তবে মাত্র দুটি পকেট অনেকের কাছে কম মনে হতে পারে। আবার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখাও কষ্টকর হতে পারে। এক্ষেত্রে কিনে নিতে পারেন বেশি পকেটসহ সিটব্যাক স্টোরেজ।

নিজের গাড়ি মনের মতো সাজাতে পারলে যেমন বেশ ভালো লাগে, তেমনি উন্নত রুচির পরিচয় দেয়। রাজধানী ঢাকার বাংলামোটর, মগবাজার, মহাখালীর কার পার্টস মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এসব জিনিস পাবেন। চাইলে অনলাইন থেকেও এসব কিনতে পারবেন।

জাহ্নবী