চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মচারীদের সংগঠন ‘দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ এর বিরুদ্ধে সরকারি সংস্থাটি জমি দখলের অভিযোগ বেশ পুরোনো। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও এসব লাগাম টানতে পারেনি ওয়াসার কর্মকর্তারা। অবশেষে এসব ঘটনার তদন্তে নেমেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি।
বুধবার ২২ (নভেম্বর) বেলা এগারোটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে ওয়াসার পাম্প হাউসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও জমির অবৈধ ব্যবহার, খালি জায়গায় ঘর দোকানসহ গড়ে তোলা নানা স্থাপনা দেখতে সরেজমিনে পরির্শন করেছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) অন্য এলাকাগুলোতে তারা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন একই বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব প্রত্যয় হাসান ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহমেদ। বুধবার পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, সিবিএর বাইরে দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতির দায়িত্বে আছেন রিজুয়ান হোসেন দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন মোহাম্মদ জাকারিয়া। সংগঠনের নামে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন কর্মচারী ওয়াসার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান তৈরিতে জড়িত। তার মধ্যে এই বছরের শুরুতে চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের খালাসী পুকুর পাড় এলাকায় ওয়াসার ১৬ নম্বর পাম্পহাউজের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ৭টি পাকা দোকান ঘর। নগরীর বায়েজিদ সড়কের নাছিরাবাদ এলাকার ওয়াসার স্টাফ কলোনির সামনে আরও তিনটি দোকান তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একই এলাকায় আরও ১৬টি দোকান নির্মাণ করে ভাড়া চলছে।
ওয়াসার সিবিএ নেতা ও বহিষ্কৃত কর্মচারী নুরুল ইসলাম এসব দোকানের দেখভাল করেন বলে জানা গেছে। এসব দোকান দখল নিলে দি ওয়াসা এমপ্লয়িজ কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আগের নেতৃত্বের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া নগরীর মনসুরাবাদ এলাকায় ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের পাশে ওয়াসার পাম্প হাউসের সামনেও ৫টি পাকা দোকান তৈরি করা হয়েছে। এগুলো থেকেও ভাড়া তোলে কিছু কর্মচারী।
এসব বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব শাহীদা ফাতেমাকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই নম্বরটি ব্যস্ত দেখিয়েছে। তবে ওয়াসার বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কাজী শাহিদুল ইসলাম তদন্ত কমিটির ওয়াসায় আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এ বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এআর