আমদানির ঘোষণার পর থেকেই ডিমের দাম কমতে থাকে চট্টগ্রামের আড়তে। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী আড়তে প্রতিপিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকায়। চট্টগ্রামে পাইকারিতে ডিমের দরপতনে হতাশ ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পাইকারি আড়তে কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর থেকে ডিম আসে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পাইকারিতে প্রতি পিস ডিম ৮ টাকা বিক্রি হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকায়। পাইকারী থেকে ক্রয় করে নিয়ে প্রতি পিসে তিন টাকা বেশী বিক্রি হচ্ছে খচরা বাজারে। তবে, খচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি আড়ত থেকে কিনতে পারেন না। মধ্যে ‘দ্বিতীয় পার্টি’ থেকে কিনতে হচ্ছে ডিম। নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ী বাজার, ষোলশহর কর্ণফুলী মার্কেট এসব বাজার থেকে মধ্যসত্ত্বভোগী পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করে ছোট ব্যবসায়িরা ডিম বিক্রি করছেন। এ ক্ষেত্রে ভোক্তারা কম দামে বিক্রির সুবিধাটা পাচ্ছেন না। তারা তিন টাকা বেশী দিয়ে ডিম ক্রয় করতে হচ্ছে।
আড়তদাররা জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ডিম ক্রয় করে আনা হয় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ পিস ডিম বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম নগর ছাড়াও জেলা উপজেলায় সাপ্লাই হয় পাহাড়তলী থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের পাহাড়তলী এলাকায় ভেলোয়ার দির্ঘীর পূর্ব পাড়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে ডিমের ট্রাক। ভোররাতে ট্রাকভর্তি ডিম এসে পৌঁছেছে আড়তগুলোতে। পাহাড়তলী রেল স্টেশনের পাশেই ডিম আড়তে অন্তত ৩০টি ট্রাক চোখে পড়ে। কিশোরগঞ্জ , টাঙ্গাইল, ফিরোজপুরের খামার থেকে আসা বড় একটি ট্রাকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার পিস ডিম রয়েছে। একদিনে চট্টগ্রামে কমপক্ষে ৩০ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ পিস ডিম বিক্রি হয়। এ এলাকায় রয়েছে ১৫টি আড়তদার। যারা চট্টগ্রাম শহরসহ জেলা উপজেলায় ডিম পৌঁছে দেয়। সকালেই বেশ কিছু ছোট মিনি ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যান গাড়িতে ডিম লোড আনলোড করে পাঠানো হচ্ছে নগরের বিভিন্ন বাজারে।
পাহাড়তলীর আড়তদার ‘বিসমিল্লাহ ডিমের আড়তের‘ মালিক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ডিমের বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। বতর্মানে ৮ টাকা পিস বিক্রি করছি।
সোমাইয়া স্টোরের মালিক এনাম সওদাগর বলেন, আসলে ডিম আমদানির ঘোষণার সাথে সাথে দাম কমতে শুরু করেছে। এখন এমনভাবে কমেছে যে, আমদানিকারকদের মাথায় হাত দিতে হবে। কারণ আমদানি করা ডিম বাজারে আসতে আসতে খরচ পড়বে কমপক্ষে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস। সে ডিম কিভাবে বিক্রি করবে। এখন আমরা সাদা ডিম ৮ টাকা ও লাল ডিম ৮ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছি।
পাহাড়তলী সিয়াম ট্রেডার্সের মালিক মঈনুল হোসেন বলেন, এভাবে ডিমের দরপতনে খামারিরা পথে বসবে। খামারিরা যাতে ভাল দাম পায় সেদিকে খেয়াল রেখেই ডিমের দর হওয়া উচিত।
সিন্ডিকেটবাজির কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমের বাজার স্থিতিশীল করতে ডিম আমদানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়’ বাজারে ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ এর শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে পাঁচটি কোম্পানিকে এক কোটি করে মোট পাঁচ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
এ ঘোষণার পর থেকে ডিমের বাজারে প্রভাব পড়তে থাকে। কমতে থাকে ডিমের দাম। কিন্তু খুচরায় তেমন কমেনি।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি মোহাম্মদ নাজের হোসেন বলেন, তদারতির অভাবে পাইকারিতে কম দাম হলেও খুরচায় কমছে না। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি করলে তার সুফল ভোক্তারা পেত। দাম বৃদ্ধির জন্য এরা একে অপরকে দায়ি করে। কিন্তু সঠিক তদারকি না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এআর