সেরা ৪২ করদাতাকে সম্মাননা দিয়েছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল। এবার ২০২২-২০২৩ করবর্ষে নগর ও জেলা, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় চার ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতাকে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ করদাতাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।
এতে প্রত্যেক করদাতাকে একটি সম্মাননাপত্র, একটি ক্রেস্ট এবং একটি আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।
২০২২-২০২৩ করবর্ষের জন্য জেলাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় আয়কর প্রদানকারী করদাতাদের পুরস্কার প্রদান নীতিমালা, ২০০৮ এর বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা পর্যায়ে ৪২ জন সেরা করদাতা নির্বাচন করা হয়। ২০২২-২০২৩ করবছরে দীর্ঘমেয়াদে আয়কর প্রদানকারী করদাতা ১২ জন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী করদাতা ১৮ জন, সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী মহিলা করদাতা ৬ জন, ৪০ বছর বয়সের নিচে তরুণ পুরুষ সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী করদাতা ৬ জন। চার ক্যাটাগরিতে মোট ৪২ জনকে এ সম্মাননা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর অঞ্চল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী তদুল কান্তি বিশ্বাস ও আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হলেন- আলী হোসাইন আকবর আলী এসসিএ, আমীর আলী হোসেন ও মোহাম্মদ নাদের খান। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন বিলকীছ আলী হোসাইন। এ ছাড়া তরুণ পুরুষ (৪০ বছরের নিচে) সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী হলেন আকতার পারভেজ।
চট্টগ্রাম জেলা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন গোপাল চন্দ্র পাল ও আলহাজ সোনা মিয়া সওদাগর। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী তিনজন হলেন- মো. আবু সুফিয়ান মিয়া, মো. ইয়াকুব আলী ও ওমর ফারুক সিদ্দিকী। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন ফাহিমা ইসলাম এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন মো. আয়াছ উদ্দিন।
কক্সবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী হলেন- রফিক আহমদ ও মো. শাহারয়িার হুদা। সর্বোচ্চ করদাতা দেলোয়ার হোসেন, ওমর ফারুক ও মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা মোশতারী হাশেম এবং ৪০ বছর বয়সের নিচে তরুণ পুরুষ করদাতা হয়েছেন এম মোহাহেরুল হক।
রাঙামাটিতে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী হলেন মো. আলী আকবর ও মো. মুজিবুর রহমান। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী লোকমান হোসেন তালুকদার, মো. রফিকুল আলম লিটন ও সুলতান কামরুউদ্দিন। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী গীতা দে এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতা মো. শাখাওয়াত হোসেন সোহেল।
খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রদানকারী মো. সাহাব উদ্দিন ও উজ্জ্বল কুমার ধর। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী তিনজন হলেন- মো. নুর আলম, এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা ও মোসাম্মৎ ফরিদা আক্তার। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন বিউটি দেব এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটগরিতে মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদশা।
বান্দরবানে দীর্ঘ সময় কর প্রদানকারী মাহাবুবুর রহমান ও আব্দুল কাদের। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী কামাল হোসেন, প্রদীপ কান্তি দাশ ও হুরে জান্নাত হুরাইন। সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী নারী করদাতা হলেন পলি দাশ এবং তরুণ পুরুষ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতা ফরহাদ হোসেন।
আয়কর প্রদানকে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ও দেশব্যাপী জনগণের মাঝে কর সচেতনতা সৃষ্টি ও জনগণকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০০৮ হতে জেলাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময় আয়কর প্রদানকারী করদাতাদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। বিগত বছরের মতো এ বছরের জন্যও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. শিরীণ আকতার বলেন, কর দিতে পারা এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
তরুণ করদাতা আকতার পারভেজ বলেন, ‘তরুণরা ব্যবসা করবে কর দিবে এটা স্বাভাবিক। তবে এর সংখ্যাটা খুবই কম। এটাকে দ্বিগুণ তিনগুণ করতে পারলে কর পাওয়াও বৃদ্ধি পেত। তবে তরুণ করদাতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষার একটি বিষয় রয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। কর সম্পর্কে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে করদাতাও বাড়তো।