নজরকাড়া কক্ষের সাদা দেয়ালের ওপরে-নিচে ঝুলছে সারি সারি ছোট-বড় ফ্রেম। এসবের কোনোটিতে ফুটে উঠেছে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা, আবার কোনোটিতে দখল-দূষণ, কোনোটিতে আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জনজীবনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ও রোগজীবাণুর বংশবিস্তারের চিত্র। আবার কোনোটিতে হাঁটু সমান জলেও নিজ কর্তব্য থেকে সরে না যাওয়া ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের দায়িত্ববোধ, কোনো ফ্রেমে চোখে পড়ছে বন্যা কবলিত হয়েও জীবন বাঁচার লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীর প্রতি দেখানো মমত্ববোধ।
সামনের মঞ্চ ও পেছনের গ্যালারির দর্শকরা এসব চিত্রকর্ম মনোযোগ দিয়ে দেখছেন। সেই তালিকায় আছেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ব্রুনো লাক্রাম্প।
আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিকসহ অনেকে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল আর্ট এক্সিবিশন উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রাম ও প্ল্যান বি আয়োজিত আর্টস অ্যান্ড থটসের পরিবেশনায় দোয়েলের চিঠি শিরোনামে এক প্রদর্শনীতে এসব দৃশ্য চোখে পড়ে।
যেখানে ইতালির আলোকচিত্রী ক্রিস্টিনা জেমার তোলা আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে। তিনি এ আয়োজনের একজন উদ্যোক্তাও।
মূলত প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলকে রূপক হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো প্রাণ প্রকৃতিকে চিহ্নিত করে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রকৃতি রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ প্রদর্শনীতে পাঁচজন চিত্রশিল্পী ও আলোকচিত্রশিল্পীর কাজকে তুলে ধরা হয়েছে। তারা হলেন- মো. হাবিব উল্লাহ বাহার, জান্নাত হোসাইন, মো. সৌমেন চৌধুরী, সঞ্জয় সরকার এবং মো. আনোয়ারুল হক লিটু। আলোকচিত্রশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ইতালীয় ক্রিস্টিনা জেমা, আল নাসিম তালুকদার, সোহবাত হোসাইন, তানভীর সাদী, মো. রেজওয়ানুল আলম। এতে কিউরেটর হিসেবে ছিলেন স্থাপত্যশিল্পী মো. তৌহিদুল ইসলাম, সমন্বয় করেছেন মো. হাবিব উল্লাহ বাহার ও উপস্থাপনা করেছেন আঁখি মজুমদার।
এ সময় ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। পরিবেশ-প্রতিবেশের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। যা জনজীবনে ধেয়ে আসছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর ভুক্তভোগী। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সমাধানে কাজ করবে।’
এ সময় তিনি এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করে সবাইকে সচেতন করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে দেশ-বিদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনীর শিল্পীদের অভিনন্দন জানান। তিনি প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলোর সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত ও শিল্পীদের কর্মের প্রশংসা করেন এবং মুগ্ধ হয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
চিত্র প্রদর্শনীর সমন্বয়ক মো. হাবিব উল্লাহ বাহার বলেন, ‘দেশে দেশে নির্বিচারে গাছ কাটা চলছেই। এতে জলবায়ুতে ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ছে আবার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ তথা মনুষ্য সৃষ্ট কারণে প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে।’
এমকে মনির/ইসরাত/অমিয়/