চট্টগ্রামে এক সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর ২ কোটি ২৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের ঘটনায় মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক ফজলুল বারী মামলাটি দায়ে করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের চট্টগ্রামের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা ও পরবর্তীতে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার নিজামুল হক ও তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ করছেন এবং ২৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন। এ অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) এর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা নিজামুল হক ও তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ২০২০ সালের জুনে তাদের সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেন। নিজামুলের দাখিল করা তথ্যে দেখা যায়, তিনি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫০ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৭ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২ কোটি ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৪৭ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ২২৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পাওয়া গেছে।
তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ৮৯ লাখ ৬২ হাজার ৩১৪ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৬১ লাখ ১২ হাজার ২১১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫ টাকার অর্জনের তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি একটি ৫তলা ভবনের মূল্য ২৬ লাখ ১৬ হাজার ৬৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। যা দুদক আইনে ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলে মোট ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পারিবারিক ও অন্যান্য মিলে তা ২ কোটি ৯৪ লাখের বেশিতে দাঁড়িয়েছে। অথচ তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৮০ লাখ ৬৭ হাজার। সে হিসাবে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।