লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জের একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে চুরি হওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু মালিহা ইসলাম ওহিকে চার দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার তোরাবগঞ্জ অগ্রণী রেসিডেনসিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান থেকে অজ্ঞাত এক নারী কোলে নেওয়ার সুযোগ নিয়ে চুরি করে নিয়ে যায় শিশু ওহিকে। এরপর থেকে শিশুকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুকে উদ্ধারের জন্য স্বজন ও কমল নগর থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান করতে পারেনি।
শিশু চুরির সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন শিশুর মাসহ স্বজনরা। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিক উল্যাহ বলেন, ‘শিশুটিকে তার মা একজন আত্মীয়ের কাছে রেখে যায়। বিষয়টি বিদ্যালয়ের কেউ জানত না। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি শোনামাত্রই আমরা পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে সিসি ক্যামেরা যাচাই করে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে। আমরাও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়।’
শিশু ওহি সদর উপজেলার তেওয়ারীঞ্জ ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামের আবুধাবি প্রবাসী মো. সেলিমের মেয়ে। তার মা মরিয়ম ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা।
পুলিশ ও ওহির মা মরিয়ম বেগম জানায়, চুরি হওয়া ওহির বড় বোন সাবিহা ইসলাম মিহি (৬) অগ্রণী রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে মিহি ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এতে ওহিকে নিয়ে তার মা মরিয়মও বিদ্যালয়ে যান। মিহিকে সাজানোর জন্য বিদ্যালয়ের পাশেই বাজারে যান মরিয়ম। এ সময় মরিয়মের ফুফাতো বোন, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মায়ার কাছে ওহিকে রেখে যান। এর মধ্যেই মায়ার কোল থেকে অচেনা এক নারী ওহিকে নিয়ে যান। বাজার থেকে ফিরে ওহির কথা জিজ্ঞেস করলে মায়া জানায়, সে (ওহি) অন্য একজনের কোলে রয়েছে। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কমল নগর থানার ওসি তহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল এসে বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখতে পায় মাথায় লাল হিজাব, মুখে মাস্ক ও কালো বোরকা পরা এক নারী শিশুটিকে কোলে নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ওসি জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে গত শনিবার দুপুরে শিশু ওহিকে উদ্ধারের দাবিতে ঘটনাস্থল তোরাবগঞ্জ অগ্রণী রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন করা হয়। এতে শিশু ওহির মা মরিয়মসহ আত্মীয়-স্বজন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিশুর মায়ের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মতিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিক উল্যাহ, কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান বিপ্লব, ওহির দাদা চৌধুরী মাঝি, মামা সোহাগ মিজি ও স্বজন বজলুর রহমান।