ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব

শেরপুরে দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে খাল-বিল ও নদ-নদী

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫৩ এএম
শেরপুরে দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে খাল-বিল ও নদ-নদী
ভোগাই নদীর মধ্যেই ধানের চাষ করা হচ্ছে। এতে বালু জমে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

দখল-দূষণে নাব্য হারিয়ে শেরপুরের বেশির ভাগ খাল-বিল ও নদ-নদী এখন অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেকগুলো বিলীন হয়ে গেছে। আবার কিছু নদীর বুকে চলছে চাষাবাদ, নির্মাণ করা হয়েছে ঘর-বাড়িসহ নানা স্থাপনা। অথচ একসময় শেরপুর ছিল কৃষি ও বাণিজ্যসমৃদ্ধ জেলা। নান্দনিক নামের নদ-নদীর স্রোতের সঙ্গে বয়ে চলত মানুষের জীবন, চলমান থাকত ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, সোমেশ্বরী, মালিঝি, ভোগবতী, নেত্রবতী, মহারশি- এই নদীগুলো শেরপুরকে দিয়েছিল আলাদা গৌরব। অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক নদী মরে গেছে, বাকিগুলো আজ সংকুচিত, দূষিত অথবা নাব্যসংকটে ভুগছে।

ইতিহাস থেকে জানা গেছে, শত বছর আগে শেরপুরে ছিল ১৬টি প্রধান ও ৯টি ক্ষুদ্র নদী। এগুলোর মধ্যে ছিল ব্রহ্মপুত্র, মৃগী, সোমেশ্বরী, মালিঝি, নেত্রবতী, মহারশি, থলঙ্গ, ভোগবতী, খারুয়া, দর্শা, ভুরাঘাট, বলেশ্বরী, সুতী, মরাখড়িয়া, বৃদ্ধ ভোগবতী ও খড়িয়া। আজ এগুলোর অর্ধেকই বিলীন হয়ে গেছে। বাকি নদীগুলোও নানা সমস্যায় জর্জরিত। নদীর নামেও এসেছে পরিবর্তন। ভোগবতী হয়েছে ভোগাই, মহাঋষি হয়েছে মহারশি, থলঙ্গ হয়েছে চেল্লাখালি এবং নেত্রবতী নদী এখন নেতাই নামে পরিচিত। ৪৩ মাইল (পুরোনো হিসাব) দীর্ঘ এই নদীটি আজ একেবারেই হারিয়ে গেছে।

ব্রিটিশ আমলে সুতী নদীর ওপর নির্ভর করত চন্দ্রকোনা বন্দর। আজ সেই নদী প্রভাবশালীদের মৎস্য খামারে পরিণত হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি নদী; অথচ একসময় এই নদীতে ছিল অথৈ জল। অনেকে এখান থেকে মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু সেই নদী এখন প্রভাবশালীদের দখলে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রশাসন নদী রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।

ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত হয় শেরপুর-জামালপুর সীমান্তে। এই নদী ছিল চরাঞ্চলের আশীর্বাদ। কিন্তু এখন বর্ষাকালে এটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। নদীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা কমে গেছে। দখল চলছে নিয়মিত। বর্ষায় সংকুচিত নদী চরাঞ্চলকে বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে।

মেঘালয়ের কর্ণঝোড়া নদী থেকে উৎপন্ন মৃগী নদী ছিল শেরপুর শহরের প্রাণ। শহরের মানুষ এখানে গোসল করত। আজ সেই নদী এখন শহরের বর্জ্যের ভাগাড়। নদীতে নামলেই চর্মরোগ হয়। মৃগী নদীর প্রাচীন দৈর্ঘ্য ছিল ২৯ মাইল, প্রস্থ ৫০ মিটার, গভীরতা ৪০ হাত। এখন হাঁটলেও হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকে না। শহরের ড্রেনগুলো সরাসরি মৃগীতে মিশেছে। নদীর বুকে বাড়িঘর গড়ে উঠেছে, চাষাবাদ চলছে।

ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা কংস নদী শেরপুরে প্রবেশ করে হয়েছে ভোগাই নদী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহারশি, মালিঝি, চেল্লাখালি, সোমেশ্বরী। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বালি-পলিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। খননের অভাবে নদী সংকুচিত হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে দেখা দেয় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে থাকে পানিশূন্য।

জানা গেছে, ১৮৮৫, ১৮৯৭ ও ১৯১৮ সালের ভূমিকম্পে শেরপুরের অনেক নদীর খাত পরিবর্তন হয়। পরে বনভূমি ধ্বংস ও পাথর উত্তোলনের কারণে উজানের মাটি নদীতে এসে ভরাট করছে। শহরের বর্জ্য ও পলিথিন যোগ হয়ে সংকট আরও বেড়েছে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণে পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মো. কালাম বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বালি-পলি নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। নদী বাঁচানোর জন্য আমরা স্থানীয়দের সচেতন করে যাচ্ছি।’

সচেতন মহলের অভিযোগ, আইনকে উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদ-নদী ও জলাশয় ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। অন্যদিকে খনিজসম্পদ আহরণের নামে শ্যালোচালিত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে অনেক নদ-নদী গতিহীন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক হলেও সত্য- আমরা অনেক নিচে নেমে গেছি। 

আমাদের আশপাশের নদ-নদী, খাল-বিলগুলোর গতিপথ আমরাই বন্ধ করছি। সেখানে আবার মাছের চাষ করছি। অথচ একটু সচেতন হলেই নদীগুলো রক্ষা পায়। মানুষের অসচেতনতার কারণে নদী ও খালগুলোর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নদ-নদী ও খাল দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রশাসনের উচিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দখল হওয়া খাল-বিল উদ্ধারে অভিযান চালানো।’

তবে আশার বাণী শুনিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মৃগী ও মালিঝি নদীর পুনঃখনন কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গঠিত নদী-খাল দখলমুক্ত কমিটি দখলদারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। নির্দেশনা পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।’

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে, নকলা ও ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন প্রায় ২০০ একর বিলের জায়গা উদ্ধার করছে। জনস্বার্থে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার কানুরগাঁও, খাসের হাট, সূর্যমনি ও কাচিকাটা চ্যানেলে এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল উল আরেফিন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

জব্দ করা ড্রেজারগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর ইসলামের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার জন্য কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল উল আরেফিন জানিয়েছে, নদী ও চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রফিকুল/এএফ

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক
নিখোঁজ চিকিৎসক ডাক্তার সুব্রত সাহা বিকাশ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে গোসল করতে নেমে সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামে এক চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে সাদাপাথরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চার বন্ধু মিলে ঢাকা থেকে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে এসেছিলেন ডাক্তার সুব্রত সাহা বিকাশ ও তার বন্ধুরা।

বৃহস্পতিবার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে যান তারা। সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে বিজিবির ক্যাম্পের সামনে গোসল করতে নামেন তাদের মধ্যে তিনজন। নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতের মধ্যে চলে যান তারা। এ সময় অন্য দুজন সাঁতরে উঠতে পারলেও সুব্রত প্রবল স্রোতে পানির নিচে তলিয়ে যান। সুব্রত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধারে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিন মিয়া, ট্যুরিস্ট পলিশ, ও ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলরা।

এ ব্যাপারে ভোলাগঞ্জ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত কাজ করেছে। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আগামীকাল আবার তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

এএফ/

টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে কারখানার মালামাল নামাতে বাধা, সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া, অস্ত্র ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী নূরজ্জামান জামাল জানান, পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বাতিলকৃত কার্টুন, পলি, ড্রাম, পুরাতন লােহা-লক্কড় ও অন্যান্য মালামালের ব্যবসা করে আসছি। কিছুদিন যাবৎ যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ২৮ জুন আমার লোকজন কারখানা থেকে বাতিলকৃত মালামাল নামাতে গেলে ৭০-৮০জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কারখানার চারপাশে ঘেরাও করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ আরও কয়েকজন তাদের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা দিতে বলে। টাকা না দেওয়ায়, তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে ও গাড়িতে মালামাল লোড করতে বাধা দেয় এবং আমার লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। 

ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- মনোয়ার হোসেন (২৮), কাজী তৌহিদুল, সজীব (৩৫), রনি খাঁ (৩৯), রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), রাসেল ওরফে খাবরী (২৮), সাগর ওরফে নয়ন (২০)।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পলাশ/নাঈম

ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কাঁচামাটিয়া নদের সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজার সংলগ্ন কাঁচামাটিয়া  ব্রিজের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। মরদেহের মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং ঘাড়ে গভীর ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত ব্যক্তিকে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত।

ফয়সল/এএফ

সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত দখল এবং সড়কে অবৈধভাবে অটো ও সিএনজি পার্কিং করায় ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়। অভিযানে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, আনসার, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রশাসন জানায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফিডার রোড দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র অটো-সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের দায়ে ১৫ জন দোকানদার ও অটো-সিএনজি চালককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩ জনকে পাঁচ দিনের এবং একজনকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচশ টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন আইনে একজনকে তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, অবৈধ দখল ও সড়কে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে একাধিকবার মাইকিং ও সতর্ক করা হয়েছে। অটো-সিএনজির জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও চালকেরা নিয়ম মানছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সচেতন করার পরও তারা আইন অমান্য করেছেন। বুধবারও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযান সতর্কতামূলক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী সময়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তার দুই পাশে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। জনদুর্ভোগ কমাতে পরিচালিত অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেন। পরে সাজাপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইমরান/নাঈম