ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, স্পষ্ট করলেন ককরোচ নেতারা সেতুতে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিএটিবিসির আয় ও মুনাফা বেড়েছে সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল শক্তিশালী ‘আইইডি’ বোমা বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব ঘোচার আভাস গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ের মোজারেলা চিজ যাচ্ছে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে ভালো নেই দেশের অর্থনীতি সারা দিন গ্যাস নেই, ভোরে মেলে সামান্য যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয়শহরের বাসিন্দারা আজ-কালের মধ্যে বঙ্গভবন ছেড়ে নিজ বাসায় উঠবেন সাহাবুদ্দিন ২৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল খোকসায় বন্ধুজন এর বর্ষাবরণ ও ফল উৎসব আইসিইউতে নতুন আতঙ্ক: ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে: উপদেষ্টা তিতুমীর ঢাকার বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ, ৩২ রুটে সমঝোতা ইউরেনিয়ামকে নিরাপদ রাসায়নিক যৌগে রূপান্তর ব্যাকটেরিয়ার মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় পঞ্চগড়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে আব্দুল হাই ও সুলতান মাহমুদ

যেকোনো মুহূর্তে ভাঙতে পারে বাঁধ, শঙ্কায় সাতক্ষীরার মানুষ

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
যেকোনো মুহূর্তে ভাঙতে পারে বাঁধ, শঙ্কায় সাতক্ষীরার মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরা সদরের বিনেরপোতা শ্মশানঘাট সংলগ্ন কুলুটিয়া খালের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ।

২০২৪ সালের বিভীষিকাময় ভাঙনের স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরছে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। সে সময় কুলুটিয়া খালের বাঁধ ভেঙে এক রাতেই তলিয়ে গিয়েছিল নগরঘাটা, ধানদিয়া, সরুলিয়া, খলিষখালী ও লাবসা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চান না স্থানীয়রা।

শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানির প্রবল চাপ বাঁধটিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে-কোনো সময় বাঁধটি ভেঙে গেলে নগরঘাটা, ধানদিয়া, সরুলিয়া, খলিষখালী ও লাবসা ইউনিয়নের অসংখ্য বসতবাড়ি এবং শত শত কোটি টাকার মৎস্য ঘের আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে হয়তো বাঁধটি কিছুটা সময় টিকে থাকতে পারে। তবে বৃষ্টি বাড়লে এবং জোয়ারের পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

শহিদুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়বে। শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাব্বত আলী সরদার বলেন, বাঁধে ফাটল ধরার খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্থানীয়দের নিয়ে নিয়মিত তদারকি করছেন। বাঁধটি যাতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তবে এটি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। টেকসই সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লিয়াকত আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) আব্দুর রহমান তাযকিয়া বিষয়টি অবগত আছেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাঁধটি শক্তিশালী ও টেকসই করতে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে স্কেভেটর দিয়ে কাজ শুরু হবে।

এসএন/

শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু
ছবি: সংগৃহীত

শুধু নগরী নয়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। চলতি বছর নগরীর পাশাপাশি ১৫ উপজেলায়ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। একসময় শহরকেন্দ্রিক এই রোগ এখন গ্রামেও উদ্বেগ তৈরি করছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৬৭৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৪ জন এবং চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ২৭৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার বাইরে কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে এসে ১৩৭ জন রোগী চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯০ জন পুরুষ, ১৬৮ জন নারী ও ১১৬ জন শিশু। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নগরীর তুলনায় উপজেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কম নয়। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলী, রাউজান ও লোহাগাড়া উপজেলায়। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে ৬৮ জন, কর্ণফুলীতে ৩৩ জন, রাউজানে ২৫ জন এবং লোহাগাড়ায় ২৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া সাতকানিয়ায় ১৫ জন, বাঁশখালীতে ১৬ জন, আনোয়ারায় ১৪ জন, চন্দনাইশে ৭ জন, পটিয়ায় ১৯ জন, বোয়ালখালীতে ২ জন, ফটিকছড়িতে ৪ জন, হাটহাজারীতে ৯ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১১ জন, মিরসরাইয়ে ১৯ জন এবং সন্দ্বীপে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

নগরীর মধ্যে জালালাবাদ (২ নম্বর ওয়ার্ড), পাঁচলাইশ (৩ নম্বর ওয়ার্ড), উত্তর কাট্টলী (১০ নম্বর ওয়ার্ড), পশ্চিম বাকলিয়া (১৭ নম্বর ওয়ার্ড), দক্ষিণ বাকলিয়া (১৯ নম্বর ওয়ার্ড), পাথরঘাটা (৩৪ নম্বর ওয়ার্ড), দক্ষিণ হালিশহর (৩৯ নম্বর ওয়ার্ড) ও দক্ষিণ পতেঙ্গা (৪১ নম্বর ওয়ার্ড) ওয়ার্ডগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগ।

অতীতের চার বছরের রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, জুলাই মাস থেকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরও শহর এবং গ্রামে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৮ জন। আর শুধু জুলাই মাসেই এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৬ জন। এর মধ্যে নগরীর ১৪৯ জন, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ১৫৭ জন এবং অন্যান্য জেলা থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭০ জন। 

চসিক মেয়র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরীর পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাই সবাইকে এখনই সতর্ক থাকতে হবে। এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই বাসার ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র বা অন্য কোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু করেছে চসিক। অ্যাপটির মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন সমস্যার ছবি ও জিপিএস লোকেশন সংযুক্ত করে সরাসরি চসিককে জানাতে পারছেন। দ্রুত সমাধানও মিলছে।’

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও ফুলের টবে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশারি ব্যবহার করতে হবে। জ্বর হলে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। সরকার পরীক্ষাগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছে। 

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে এ মশা। ফলে এ সময় মশার বংশবিস্তারও বেড়ে যায়।

প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে এক শারীরিক ও আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এতিম নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এলে এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেন না। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে থাকতেন। মা মারা যাওয়ার পর জীবিকার জন্য বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করেন।

ওই নারীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তার ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে তার ছেলের কথা বললে তাকে মেরে ফেলা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেদী হাসান শেখের বাবা অহিদ শেখ বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক। আমার ছেলে জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা আমরা মেনে নেব।’

স্থানীয়দের দাবি, একই গ্রামের তারা শেখ ও সায়েম শেখের বিরুদ্ধেও ওই নারী এর আগে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে বর্তমানে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে অনাগত সন্তানের বাবা হিসেবে মেহেদী হাসানের নাম বলছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন অহিদ শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তার গর্ভধারণের বিষয়টি নজরে এলে কয়েকজন নারী তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শেখ মোবাইলে বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ওই নারী যাওয়া-আসা করত, এটা ঠিক। মূলত ভুক্তভোগীর সঙ্গে তারা শেখ, সায়েম শেখ অনৈতিক কাজ করছে, যা এলাকার অনেকেই জানে। ওই নারী একা একা তাদের বাড়িতেই থাকে। তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে আমার নাম বলানো হচ্ছে।’

অন্যদিকে তারা শেখ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’এ বিষয়ে শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করতে মেডিকেল পরীক্ষা করা উচিত। তদন্তে কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

বোয়ালমারী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তার পরও একজন অফিসার পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন
গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগ নিয়ে গবেষণা করছেন বাকৃবির অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান/ খবরের কাগজ

বাংলাদেশে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগ দুগ্ধ খাতের অর্থনীতিতে  আঘাত হানছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের দুই বছরের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভি সুস্থ গাভির তুলনায় দৈনিক গড়ে ১.০১ লিটার এবং কোনো বাহ্যিক লক্ষণ ছাড়াই সুপ্ত বা লুকিয়ে থাকা রোগে আক্রান্ত গাভি দৈনিক গড়ে শূন্য দশমিক ৫৩ লিটার কম দুধ দেয়। এর ফলে দেশের বড় ডেইরি খামারগুলোতে সব মিলিয়ে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, গাভির বাচ্চা প্রসবের  গর্ভফুল আটকে থাকা ‘রিটেইন্ড প্লাসেন্টা’ ব্রুসেলোসিসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। গবেষণাটির সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এর প্রধান গবেষক বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান।

তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আরও ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পিএইচডি শিক্ষার্থী শফিউল আলমসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া রোগ শনাক্তের আধুনিক গাণিতিক পদ্ধতি নিয়ে এই দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস। সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই গবেষণা মাঠপর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামার থেকে মোট ২ হাজার ৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভির তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষা এবং উন্নত গাণিতিক পদ্ধতি (বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন) ব্যবহার করে গাভিগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 

সাধারণত ব্রুসেলোসিস আক্রান্ত গরুকে কেবল ‘সুস্থ’ কিংবা ‘আক্রান্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘ব্রুসেলোসিস সব সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। অনেক গরুর শরীরে রোগটি লুকিয়ে বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ওই গরুর দুধ উৎপাদন কমছে এবং পরবর্তী সময়ে এই রোগ সক্রিয় হতে পারে।’

অন্যদিকে সক্রিয় রোগে আক্রান্ত গরুর ক্ষেত্রে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া এবং প্রজনন ব্যর্থতার মতো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। জীবাণুটি গাভির জরায়ু ও গর্ভফুলের ক্ষতি করার কারণে গাভি সময়মতো গরম হয় না এবং দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুধ উৎপাদনে। গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় ডেইরি খামারগুলোতে ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।

ড. আনিসুর রহমান বলেন, খামারিরা সাধারণত গাভির গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত রোগের কারণেও প্রতিদিন গাভিপ্রতি প্রায় আধা লিটার দুধ কমছে। সক্রিয় রোগ হলে ক্ষতি এক লিটার বা তারও বেশি। ফলে খামারিরা বুঝতে না পেরেই প্রতিদিন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভি গরম না হওয়া বা বারবার প্রজনন ব্যর্থতা দেখলে দেরি না করে ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক (প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় এমন) রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই গবেষণায় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার খরচ ও লাভের হিসাবও করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত গণটিকাদানই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিটি সরকারি ক্ষতিপূরণ না থাকলে সাধারণ খামারিদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভি দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি এবং প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি বড় খামারের মতো দেশের ছোট ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ এএম
রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল
খুলনার রূপসার রুহুল আমিন সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তোলা/ খবরের কাগজ

‘প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে শুনসান নীরবতা। এ যেন বহু বছরের পরিত্যক্ত জনপদ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে বড় গর্ত আর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও বিটুমিন, ইটের খোয়া উঠে এমন অবস্থা হয়েছে, সেখানে রাস্তার কোনো চিহ্ন নেই। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বাড়ছে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি। ফলে পারতপক্ষে স্থানীয়রা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটি এড়িয়ে চলেন। বিগত দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিলেও প্রায় দেড় যুগ ধরে ভোগান্তিতে রয়েছে রূপসাপাড়ের মানুষ।’

হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন খুলনার রূপসার বাগমারা গ্রামের স্কুলশিক্ষক মোহসিন আলী ফরাজী। তিনি বলেন, ‘এই সড়ক নিয়ে আমরা বছরের পর বছর খুবই দুর্ভোগে আছি। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সড়কের খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল, মোটরচালিত ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইক, পিকআপ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত সড়কটির প্রায় অধিকাংশ স্থানেই পিচ উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিতে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা যায়, সড়কটির পূর্ব রূপসা প্রান্তে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধিস্থল রয়েছে, তার নামেই সড়কটি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক নামকরণ করা হয়। এ ছাড়া দুই পাশে প্রায় ১৮টি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা, বহুসংখ্যক বরফকলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া নদীর তীরে বিশাল জায়গাজুড়ে বেশ কিছু বালুর স্তূপ রয়েছে। মূলত প্রতিদিন ভারী যানবাহনের চাপ ও রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সড়কের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি মেরামতের দাবি জানানো হলেও কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে যাতায়াতের ভোগান্তিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধস নেমেছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, ‘কষ্টের শেষ নাই আমাগে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে এ পথে যাতায়াত করার মতো উপায় নেই। সড়কটি দীর্ঘদিনে সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একসময় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করত। এখন রাত তো দূরের কথা, দিনের আলোতে মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারে না।’ 

নৈহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইলিয়াস হোসেন বলেন, সড়কের পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেন নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে গাড়ি চলাচলের ফলে রাস্তাটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান বলেন, বছরের পর বছর ধরে রূপসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে খানাখন্দে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয়রা। সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। কখনো এটিকে বেড়িবাঁধ সড়ক আবার কখনো উপজেলা পর্যায়ের গ্রামীণ সড়ক দাবি করে বড় অঙ্কের বাজেট পাওয়া যাবে না বলে সংস্কার করা হয়নি। 

নিরাপদ সড়ক চাই খুলনার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জানান, সড়কের কিছু কিছু স্থানে খানাখন্দে ইটের অস্তিত্ব পর্যন্ত নেই। বহু আগেই সড়কের বিটুমিন উঠে গেছে। স্থানীয়রা সড়ক সংস্কারের দাবিতে কয়েক দফা মানববন্ধনসহ স্মারকলিপি প্রদান করলেও রাস্তাটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে এ পথ দিয়ে যাতায়াত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

রূপসা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হুদা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্টিমেট তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা যাবে। যেসব জায়গায় সড়কে বেশি সমস্যা সেখানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে কাজ করা হবে।

মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ে মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি বিষয়ক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'এমডিটি ইনোভেশনস, এসডিএন বিএইচডি'-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। সভায় সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. শুকরিয়া পারভীন। 

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যেকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। মালয়েশিয়ার এই শীর্ষস্থানীয় তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পঞ্চগড় জেলাসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে বিনিয়োগের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন। 

এ সময় মালয়েশীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান 'এমডিটি ইনোভেশনস এসডিএন বিএইচডি'র প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা সিম হন ওয়াই এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বিজয় শঙ্কর তাদের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, আইওটি সলিউশন এবং আইসিটি খাতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পঞ্চগড়ে সোলার প্লান্ট নির্মাণে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিবৃন্দ, আমদানি ও রপ্তানি কারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সিএন্ডএফ প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

রনি/নাঈম