ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

এমপি আনারের দেহাংশের খোঁজে দিনরাত তল্লাশি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
এমপি আনারের দেহাংশের খোঁজে দিনরাত তল্লাশি
এমপি আনারের দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কিছু নেতার নাম আসছে। হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিদের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে শুক্রবার (২৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

এদিকে খুন করার পর যে ‘কসাই’ তার দেহ টুকরো করেছিল বলে অভিযোগ, তাকে কলকাতায় গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। শুক্রবার জিহাদ হাওলাদার নামের ওই আসামির ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন কলকাতার বারাসাতের আদালত। তার বাড়ি খুলনায়। রিমান্ড মঞ্জুরের পর শুক্রবার দুপুর থেকে জিহাদ হাওলাদারকে নিয়ে পুলিশ নিহত এমপির দেহাংশের খোঁজে কলকাতার পোলেরহাট থানার জিরানগাছা এলাকার বিভিন্ন স্পটে তল্লাশি চালায়। শনিবার (২৫ মে) সকালে তা আবার শুরু হবে। এ ছাড়া কলকাতার অন্যান্য এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তল্লাশিতে ড্রোনও ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ বলছে, তিনি একটি পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে খুন হয়েছেন। খুন হওয়ার আগে ২০০ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। তার কিছু তথ্য ভারতের পুলিশ ও দেশি পুলিশ পেয়েছে। সূত্র বলছে, এই চক্রের সঙ্গে মোট আটজন জড়িত বলে ধারণা করছেন তারা। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় কিলার জড়িত। তাকে খুনের জন্য দুই দেশের কিলারদের ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। ৫ কোটি কিলারদের পরিশোধ করা হয়।

এ ছাড়া হত্যার পর কলকাতার ওই ফ্ল্যাটেই রাতভর পার্টির আয়োজন করে আসামিরা আনন্দফুর্তি করে বলে জানান কসাই জিহাদ।

খুনের ছক নিখুঁত করতে গোটা কলকাতা চষে বেড়ায় ঘাতকরা 
এমপি আনারকে হত্যার দিনে খুনিদের গতিবিধির হদিস প্রকাশ্যে এনেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। খুন হয়েছেন কলকাতার পূর্ব প্রান্তে নিউ টাউন অঞ্চলে। কিন্তু খুনের আগে ও পরে আততায়ীরা একাধিকবার মধ্য কলকাতা চষে বেড়িয়েছে।

গত ১৩ মে খুনের দিনে সংসদ সদস্যকে খুনের পর সন্ধ্যায় সদর স্ট্রিটের হোটেলে ফিরে আসে খুনিরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে চেক আউট করে সংসদ সদস্যের দেহাংশভর্তি ট্রলি নিয়ে তারা চলে যায় বনগাঁ সীমান্তে। ১৭ মে ফের শহরে ফিরে নিউ মার্কেটেরই একটি শপিংমল থেকে নতুন ট্রলি কেনে দুই খুনি। ১৯ মে তারা ফিরে যায় বাংলাদেশে। চিকিৎসা করানোর নাম করে কলকাতায় আসার কারণে রীতিমতো একটি হুইলচেয়ারও কেনে তারা। পুলিশের ধারণা, প্রথমে খুনের পর দেহটি হুইলচেয়ারে বসিয়ে পাচার করার ছক করেছিল তারা। পরে ছক পাল্টে দেহ টুকরো টুকরো করে পাচার করে। দুই খুনির সিসিটিভি ফুটেজ সিআইডি সংগ্রহ করেছে।

সিআইডির মতে, গত ৩০ এপ্রিল এই খুনের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহিন কলকাতায় আসেন। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী শিলাস্তি রহমান। তারা ছিলেন ভিআইপি রোডের কাছে একটি হোটেলে।

গত ১৩ মে খুনের দিন সকালে হোটেলের এক কর্মীকে বলেন গাড়ি বুক করতে। সিআইডি জেনেছে, ওই গাড়ি নিয়ে ফয়সল বরাকনগরে গোপাল বিশ্বাসের বাড়ির কাছে যান। গোপালবাবুর বাড়ি থেকে বেলা ১টা ৪০ নাগাদ এমপি আনার বের হন। তাকে নিয়ে ফয়সল নিউ টাউনে একটি মলের সামনে যান। সেখানে বাংলাদেশের কিলার আমানুল্লাহ একটি গাড়ি নিয়ে আসেন। সেই গাড়ি করেই আমানুল্লাহ, ফয়সল ও শিলাস্তি এমপি আনারকে নিয়ে নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে যান। আগেই ফ্ল্যাটে ছিলেন মোস্তাফিজুররা। খুনের পর সন্ধ্যায় ফয়সল ফের সদর স্ট্রিটের হোটেলে ফিরে আসেন।

১২ দিনের সিআইডি হেফাজতে জিহাদ, শিগগিরই জট খুলবে, আশা তদন্তকারীদের 
কসাই জিহাদ হাওলাদারকে ১২ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বারাসত আদালত। গতকাল মুখ ঢাকা অবস্থায় সিআইডির গোয়েন্দারা তাকে পেশ করেন বারাসত আদালতে। বৃহস্পতিবার রাতেই সীমান্ত এলাকার বনগাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তবে খুনের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো কথাই বলেননি যুবক। 

ক্লোরোফর্ম দিয়ে সংজ্ঞাহীন করে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে খুন, মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত
এবার সামনে এল আরও শিউরে ওঠার মতো তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির দাবি, দেহ লোপাটের আগে দেহ থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এরপর মাংস, হাড় ছোট ছোট টুকরো করে তিনটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে সম্ভবত ভাঙড়ের পোলেরহাট এলাকায় গিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এই কাজে মুম্বাই থেকে জিহাদ নামে এক কসাইকে প্রায় দুই মাস আগে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। ঘটনার দিন আগে থেকেই ওই ফ্ল্যাটে লুকিয়ে ছিল আততায়ীরা। এমপি আনার ফ্ল্যাটে ঢুকে বাথরুম থেকে বের হওয়ার পরই প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাকে বেহুঁশ করা হয়। এর পরই বালিশ চাপা দিয়ে তাকে খুন করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তারা। তারপর রান্নাঘরে নিয়ে শুরু হয় দেহ লোপাটের প্রস্তুতি।

তদন্তকারীদের দাবি, এ ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে অবৈধভাবে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা পেশায় কসাই জিহাদকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। চিনার পার্কের কাছে একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয় তাকে। এমপি আনার খুনের পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। এরপর চামড়া ছাড়িয়ে মাংস, হাড় টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরা হয়। রাস্তায় দেহাংশ কোনোভাবে পড়ে গেলে যাতে কারও সন্দেহ না হয় তাই মাংসে হলুদও মাখানো হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ট্রলি ব্যাগে ভরে সংসদ সদস্যের দেহাংশ নিয়ে আবাসন ছেড়ে বেরিয়ে যায় আততায়ীরা। সেই ছবি সিসিটিভি ফুটেজে ধরাও পড়েছে।

সিআইডির তদন্তকারীরা মনে করছেন, জিহাদকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে অনেক মিসিং তথ্য মিলতে পারে। তাতে তদন্তের অগ্রগতি হতে পারে বলেই ধারণা গোয়েন্দাদের। 

এরপর ভবানী ভবনে ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক জিহাদ হাওলাদারকে রাতভর জেরা করা হয়। সিআইডির দাবি, জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন যে ঘটনার দিন তিনিসহ চারজন বাংলাদেশি নাগরিক নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেনসের বি-ইউ ব্লকের চারতলার ৫৬ নম্বর ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আগে থেকেই খুনের সবকিছু পরিকল্পনা তৈরি ছিল। এমপি আনার সেখানে পৌঁছাতেই তাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করার পর শ্বাসরোধে খুন করা হয়। খুনের পর তার নিথর দেহ ফ্ল্যাটেই টুকরো টুকরো করে কেটে তা সরিয়ে দেওয়া হয় অন্যত্র। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ট্রলি এবং প্লাস্টিকের ব্যাগও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

তবে সিআইডি সেই দেহাংশের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত দেহের কোনো টুকরোই উদ্ধার করতে পারেনি। যার ফলে তদন্ত করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সিআইডিকে।

নিউ টাউনের যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজীমকে খুন করা হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে, সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ট্রলি ব্যাগ নিয়ে বেরোচ্ছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে ঢাকায় ধরা পড়েছে। কলকাতা পুলিশ মনে করছে, ওই ট্রলিতে ভরে এমপির দেহ সরানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে সেই ফুটেজ।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, আজীম হত্যার ঘটনায় দরকার হলে খুব শিগগির তদন্তের জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল যাবে। 

সূত্র বলছে, আজীম খুনের পরিকল্পনায় সাবেক কয়েকজন এমপি ও কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী জড়িত। আজীমের জন্য কেউ স্বর্ণ ব্যবসায় স্থির হতে পারতেন না। তিনি কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে এটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। যে কারণে অন্য ব্যবসায়ীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। আজীম নিজেই স্বর্ণ চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ করতেন, কাউকে ভাগ দিতেন না।

পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন। যদিও শাহীনের সঙ্গে ওই বৈঠকে বৃহত্তর যশোরের সাবেক এমপি ও দুজন বড় ব্যবসায়ীও ছিলেন। ২০১৪ সালে আজীম এমপি হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ একাই নিয়ে নেন। বেশ কিছুদিন আজীম একাই পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ভাগ দিতেন না কাউকে। শত শত কোটি টাকার এই চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বন্ধু আজীমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আক্তারুজ্জামান শাহীন। ভারতের যে ফ্ল্যাটে আজীমকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও আক্তারুজ্জামানের ভাড়া করা।

আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে এমপি আজীমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের রোমহর্ষক বর্ণনাও দিয়েছে খুনিরা। 

আসামি আমানুল্লাহ পুলিশকে বলেছেন, আজীমকে খুন করতে চুক্তি করা হয়। পরে আমানুল্লাহই ভাড়া করেন খুলনার দুই কিলারকে। পরে এদের দুজনের মাধ্যমে জিহাদ ও সিয়াম নামের আরও দুজন যুক্ত হন। এদের মধ্যে সিয়ামের দায়িত্ব ছিল লাশ গুম করা। আর আজীমকে ওই ফ্ল্যাটে আনতে ব্যবহার করা হয় নারী শিলাস্তি রহমানকে। 

এদিকে শিলাস্তি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে। তার বাবা থাকেন পুরান ঢাকায়। বাবার নাম আরিফুর রহমান। মায়ের নাম রোমানা রহমান। শিলাস্তি একাই উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতেন। সেখানে শাহীনসহ অনেকেরই যাতায়াত ছিল। শিলাস্তি পুলিশকে জানান, খুনের সময় সে ওই ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন। দোতলার ফ্ল্যাটে আজীম খুন হয়েছেন। খুনিরা আগেই সেখানে অবস্থান করছিল বলে পুলিশকে জানান। শিলাস্তির ভাষ্যমতে, আজীম ফ্ল্যাটে ঢোকামাত্রই খুনিরা তার ওপর আক্রমণ করে। 

সূত্র জানায়, যে ফ্ল্যাটে আজীমকে হত্যা করা হয়েছে সেখানে ৩০ এপ্রিল শাহীনের সঙ্গে উঠেছিলেন আমানুল্লাহ ও শিলাস্তি। ঘটনার ছক কষে আক্তারুজ্জামান ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন। অন্যরা ফ্ল্যাটে থেকে যান। খুনের পর ১৫ মে শিলাস্তি ও আমানুল্লাহ আকাশপথে ঢাকায় চলে আসেন। ১৭ মে ঢাকায় আসেন মোস্তাফিজুর, পরদিন ফেরেন ফয়সাল। 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবিপ্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘এমপি আজীমের হত্যাকাণ্ডটি পারিবারিক, আর্থিক নাকি অন্য কোনো কারণে, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ডিবি নিবিড়ভাবে ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ভারতের দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আমরা সবকিছু মাথায় রেখে তদন্ত করছি।’

পুলিশ জানায়, কোটচাঁদপুরের একটি রিসোর্টের ভেতর সুইমিং পুল, চা-বাগান, গরু-ছাগলের ফার্ম, জার্মান শেফার্ড কুকুর, গলফ কোর্স ও বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। আছে কঠোর নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামরাসহ তারকাঁটা বেষ্টনী। শাহীন দেশে অবস্থানকালে এই রিসোর্টে সুন্দরী নারীদের আনাগোনা দেখা যায়। এ সময় রিসোর্টে ভিআইপিরা সময় কাটাতে আসেন। এই রিসোর্টে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে শাহীনসহ আরও কয়েকজনকে এই বাড়িতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই রিসোর্টে বসেই হত্যার ছক কষে থাকতে পারে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা। বিমানবন্দর থেকে সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচার করার সঙ্গে কাস্টমস, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা সেখানে যাতায়াত করতেন। তাদের জন্য সেখানে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা থাকত। কারা কারা সেখানে যাতায়াত করতেন এবং স্বর্ণ চোরাচালানের নেপথ্যে কারা জড়িত তাদের শনাক্তকরণে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। 

সূত্র জানায়, এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ‘ক্লু’ এরই মধ্যে সামনে এনেছে দুই দেশের তদন্তকারী সংস্থা। জড়িত সন্দেহে উঠে এসেছে বেশ কয়েকজনের নাম। তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখালেও পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে খুনের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনসহ দেশের ১০ থেকে ১২ জন কিলারের সম্পর্কে জানা গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেটা নিয়ে কাজ করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

আনারকে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের বিরোধ ছিল
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আজীমকে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। এমপির সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানের ব্যবসা করতেন আক্তারুজ্জামান শাহীন। শাহীন এই অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। আর এমপি আজীম সেই অর্থ দিয়ে দুবাই থেকে বিশেষ কৌশলে ও অবৈধভাবে স্বর্ণের বার এনে ভারতে পাচার করতেন। পুলিশ বলছে, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আনোয়ারুল আজীমের পারিবারিক বন্ধু গোপাল বিশ্বাস সেসব স্বর্ণের বার কিনে নিতেন। গোয়েন্দারা এসব তথ্য জানতে পেরেছেন। সেগুলো নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

ওয়ারী বিভাগ ও একাধিক গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনায় জানানোর মতো কিছু হয়নি। মূল আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ স্পষ্ট হবে। এখন পর্যন্ত এমপি আজীম ও শাহীনের বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এটি নিয়ে ঢাকার (ডিবি) গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কলকাতায় গিয়ে এমপি আনারের বন্ধু গোপাল বিশ্বাসকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, আজীমকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন আগের। কয়েকবার ব্যর্থ হয় অপরাধীরা।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এমপি আজীমের খুনের বিষয়টি পরিকল্পিত, সেটা নিশ্চিত। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

তিন আসামি রিমান্ডে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (আদালতে দায়িত্বরত) এসআই জালাল উদ্দিন জানান, রিমান্ড শুনানিতে কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, এই ঘটনাটি নৃশংস। কাউকে এভাবে হত্যা করা যায় ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবশ্যই এ মামলায় রিমান্ড পাওয়া উচিত। আর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শিলাস্তি রহমান আদালতের কাছে দাবি করেন, এসব ঘটনার কিছুই তিনি জানেন না।

পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ সাইদ, তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমান।

গরুর ব্যাপারীদের জিম্মি করে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১০

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
গরুর ব্যাপারীদের জিম্মি করে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১০
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে গরুর ব্যাপারীদের বাসে তুলে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানায়, চক্রটি ডাকাতির টাকায় কোরবানি দিত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে চক্রটি। এবারের ঈদুল আজহায় তারা অন্তত সাতটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

রবিবার (২৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গত ১৬ জুন জামালপুরগামী গরুর ব্যাপারীর একটি দল বিমানবন্দর থেকে বাসে ওঠে। পরে তারা আব্দুল্লাহপুর গিয়ে ডাকাত দলের কবলে পড়ে। তারা বিষয়টি বুঝতে পারেনি, কারণ সেই ডাকাত দলের সদস্যদের একজন ছিল বাসের হেলপার। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের নাবিস্কো এলাকা ও ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চরপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ফয়সাল আহাম্মেদ রিগান (৩০), মো. তারেক মিয়া (৩৫), তানভীর আহম্মেদ অন্তর (২৬), মো. মিলন (২২), মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৭), মো. রতন মিয়া (৩৮), মো. সেলিম মিয়া (৩০), মো. রুবেল মিয়া (৩৪) ও মো. সুমন মিয়া (৩৫)।

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটির সদস্যদের প্রতি হাটে লোক থাকে। তারাই মূলত খবর দেয় কোন এলাকার গরুর ব্যাপারীরা কোন সড়কে বাসে উঠবেন। চক্রটির সদস্যরা সেই অনুযায়ী বাস রেডি করে কেউ হেলপার ও কেউ যাত্রীবেশে ওঠেন। পরে তারা পথে গরুর ব্যাপারীদের তুলে একপর্যায়ে জিম্মি করে ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘লুট করা টাকার মধ্যে থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের অন্যতম নেতা মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল এবার ঈদে গরু কোরবানি দিয়েছেন। লুটের টাকার মধ্যে থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের আরেক নেতা মো. তারেক মিয়া একটি গরু কোরবানি দেন।’

পাবনায় যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:৪৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৪, ০৯:২২ এএম
পাবনায় যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

পাবনার সুজানগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের রানীনগর ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আল-আমিন মিয়া (৩৮) রানীনগর ইউনিয়নের মৃত শহিদুর রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যুবলীগ নেতা আল-আমিন আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রানীনগর ক্লাবের সামনে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আল-আমিনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। 

সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ বলেন, আল-আমিন রানীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। 

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মাসুদ আলম বলেন, ‘সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ঘিরে আগে থেকে ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সূত্র ধরে শুক্রবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তির মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা গেছেন। আমরা ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

প্রথম ধাপে গত ৯ মে সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব ও সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে রানীনগরে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে কয়েকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আল-আমিন নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পার্থ হাসান/এমএ/ 

মতিউরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৫ পিএম
মতিউরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
ড. মো. মতিউর রহমান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ড. মো. মতিউর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ, আয় ও ব্যয়ের তথ্য খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খোদ এনবিআরও তার আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়। 

মূলত মতিউর রহমান কাস্টমস কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।   

যত অভিযোগ: সাধারণ একজন চাকরিজীবী হয়েও এ পর্যন্ত শতকোটি টাকা সাদা করেছেন। বসুন্ধরায় দুই কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং  ধানমন্ডিতে ৫ কাঠায় আলিশান ৭ তলা বাড়ির মালিক। যার মূল্য ৪০ কোটি টাকা। ভালুকার সিডস্টোর এলাকার পাশেই প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গ্লোবাল জুতার ফ্যাক্টরি। এ ছাড়া রয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। জেসিক্স নামে একটি যৌথ ডেভেলপার কোম্পানি রয়েছে। বসুন্ধরার ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন আছে। গাজীপুর সদরে ৮টি খতিয়ানে ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তার স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে সাভার থানার বিলামালিয়া মৌজায় ১৪.০৩ শতাংশ, গাজীপুর থানার খিলগাঁও মৌজায় ৬২.১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে ১৪.৫০ শতাংশ জমি আছে গাজীপুরে। যার মূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে আছে একাধিক দামি গাড়ি। তার নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার বেশি এফডিআর করা আছে। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন নারীর সঙ্গেও তার অবৈধ সম্পর্ক আছে। 

মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলা জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সম্প্রতি সাদিক অ্যাগ্রোর ১৫ লাখ টাকার ছাগলকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় আসেন মতিউর রহমান। ১৫ লাখ টাকার ছাগল ১২ লাখে কিনে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টিকারী ইফাতের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাজন নানাভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ কেউ ট্রল করেন। ইফাতের জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবা হিসেবে মতিউর রহমানের নাম পাওয়া যায়।  

এ পরিস্থিতিতে ইফাতের বিষয়ে মুখ খোলেন  ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুশফিকুর রহমান ইফাত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানেরই ছেলে। ইফাত আমার মামাতো বোনের সন্তান। মতিউর রহমানই তার বাবা।’

নিজাম উদ্দিন হাজারী আরও বলেন, ইফাত এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে। ধারণা করছি, রাগ করে মতিউর রহমান ইফাতের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। মতিউর রহমান নিয়মিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অন্যদিকে ইফাত তাকে বাবা বলে পরিচয় দিলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। মতিউর ইফাতকে ছেলে বলে স্বীকার করেননি এবং এ ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেছেন। 

এর আগে গণমাধ্যমে মতিউর রহমান বলেন, ছাগলকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া ওই ছেলেকে আমি চিনি না। সে আমার সন্তান নয়। আমার নাম জড়ানোয় আমি এবং আমার পরিবার অনেক বিব্রত। ওই ছেলে আমার আত্মীয় বা পরিচিতও নয়। আমার এক ছেলে, নাম তৌফিকুর রহমান। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অপ্রচারের প্রতিবাদ করব।

সূত্র জানায়, ঢাকার আশপাশে এ বছর সাতটি খামার থেকে ৭০ লাখ টাকার গরু কিনেছেন ইফাত। তবে ফেসবুকে বিতর্কের মুখে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে কেনা ওই ছাগল তিনি আর বাসায় নেননি। অন্য খামার ও হাট থেকে কেনা পশু তিনি ডেলিভারি নিয়েছেন।

ইফাত দামি গাড়ি আর দামি ঘড়ি কিনতেও পছন্দ করেন। ফেসবুকে লাখ টাকার ঘড়ি আর দামি গাড়ির অসংখ্য ভিডিও আপলোড করেছেন তিনি। ঢাকার রাস্তায় দামি গাড়ির রেসিংয়ের ভিডিও আপলোড করেছেন। চলতি বছরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন ইফাত। তখন সাধারণ মানুষ তাকে পিটুনি দেয়। রাজধানীর ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের ইমপেরিয়াল সুলতানা ভবনের পঞ্চম তলায় থাকেন ইফাত।

ড. মতিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে সম্মান ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রিস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভ্যাট এবং কাস্টমস বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

ঢামেকে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩১ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩১ এএম
ঢামেকে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিপা আক্তার (২০) নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসককে আটক করেছে হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগ থেকে তাকে আটক করা হয়। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. মো. খালেকুজ্জামান খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

অভিযুক্ত রিপা আক্তার পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বউলতলী গ্রামের মৃত কাজির সিকদারের মেয়ে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকেন। 

ডা. মো. খালেকুজ্জামান খান বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই নারী হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে সন্দেহজনকভাবে অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এক নারী আনসার সদস্য তাকে আটক করে প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ওই নারী স্বীকার করেন তিনি ভুয়া চিকিৎসক। পরে আমরা ওই নারীকে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের আনসার সদস্যের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে পুরাতন ভবনের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে অভিযুক্ত ওই নারী অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। প্রথমে তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না তিনি চিকিৎসক না অন্য কেউ। পরে বিষয়টি আমাদের নারী আনসার সদস্য লুৎফা বেগম চ্যালেঞ্জ করলে ওই নারী একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি কোনো চিকিৎসক নন।’

আনসার পিসি  আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী ফাইজার নামে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। এক আত্মীয়কে দেখার জন্য ঢাকা মেডিকেল এসেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু সেই আত্মীয় বা রোগীর নাম তিনি নিজেই জানেন না। একপর্যায় তিনি স্বীকার করেছেন রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে এই অ্যাপ্রোন তিনি কিনেছিলেন। পরে অভিযুক্ত ওই নারীকে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করেছি। 

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ভুয়া নারী চিকিৎসককে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আল-আমিন/এমএ/

যাত্রাবাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পিএম
যাত্রাবাড়ীতে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
যাত্রাবাড়ী থানা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্বামী ও স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ জুন) গভীর রাতে যাত্রাবাড়ীর মোমেনবাগে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শফিকুর রহমান (৬০) ও  ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)। 

তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান খবরের কাগজকে জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমরা এসেছি। স্বামী ও স্ত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম কাজ করছে।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/