স্বাধীনতা দিবস পালন দেশে দেশে । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

স্বাধীনতা দিবস পালন দেশে দেশে

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৪, ১১:৩০ এএম
স্বাধীনতা দিবস পালন দেশে দেশে
ফ্রান্স

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। দখলদার হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর। টানা নয় মাস পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সে কারণে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। যদিও পৃথিবীর সব জাতি একই রকমভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেনি। তবু পৃথিবীর অনেক জাতিরই রয়েছে স্বাধীনতা দিবস। একেক দেশ একেক রকমভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে। কয়েকটি দেশের স্বাধীনতা দিবস পালনের খবর জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ

ঘানা


ঘানার স্বাধীনতা দিবস মার্চের ৬ তারিখ। ১৯৫৭ সালে তারা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এ দিবসে আতশবাজি, কুচকাওয়াজসহ বেশ কিছু আয়োজন হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে স্ট্রিট পার্টি।

মেক্সিকো


দেশটির স্বাধীনতা দিবস ১৫ সেপ্টেম্বর। এ দিন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের জমায়েত ঘটে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে। ভিভা ভিভা আওয়াজে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলে জমায়েত হওয়া মানুষ। রাতের বেলা আকাশে শুরু হয় আতশবাজি।

পেরু
একদিনে সম্ভব নয় বলে দুদিন ধরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে পেরু। জুলাই মাসের ২৮ তারিখ পেরুর স্বাধীনতা দিবসের দিন তো উদযাপন করা হয়ই, পরদিন ২৯ তারিখও উদযাপিত হয়। রাজধানী লিমায় আর্চবিশপের নেতৃত্বে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় উৎসব পালন।

ফ্রান্স
ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস জুলাইয়ের ১৪ তারিখ। স্বাধীনতা দিবসে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ দেশটির ঐতিহ্য। পৃথিবীর অনেক দেশ এখন স্বাধীনতা দিবসে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজের আয়োজন করে থাকে। তবে এই কুচকাওয়াজের শুরুটা হয়েছিল ফ্রান্স থেকেই। দেশের জনগণ নেচেগেয়ে, খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে পার্টি করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে।

বাংলাদেশ
আমরাও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করি বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে। বীর শহিদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার আয়োজন হয়ে থাকে কোথাও কোথাও। পাশাপাশি দেশের নানান জায়গায় মেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টসহ নানান রকম আয়োজন থাকে।

জাহ্নবী

কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০৩:২১ পিএম
কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন
ছবি: সংগৃহীত


আর্থার কোনান ডয়েল। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র শার্লক হোমসের স্রষ্টা। জন্ম ১৮৫৯ সালের ২২ মে, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে। পুরো নাম আর্থার ইগনেসিয়াস কোনান ডয়েল। তার পরিচয়ের পাল্লাও বেশ ভারি। তিনি একাধারে ছিলেন আত্মিকবাদী, ইতিহাসবিদ, তিমি শিকারি, ক্রীড়াবিদ, যুদ্ধ-সাংবাদিক, ডাক্তার, কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার।

তার বাবা চার্লস আল্টামন্ট ডয়েল, মা মেরি।  পাঁচ বছর বয়সে তাদের পারিবারিক বন্ধন নড়বড়ে হয়ে যায়। যে কারণে এক বন্ধুর চাচি মেরি বার্টনের বাড়িতে বাস করতে শুরু করেন। পড়াশোনা করেন নিউইংটন অ্যাকাডেমিতে। তিন বছর পর পারিবারিক ঝামেলা মিটে গেলে আবার সবাই একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। নয় বছর বয়সে এক ধনী চাচার সহায়তায় ইংল্যান্ডে গিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন ডয়েল। প্রিপারেটরি স্কুল শেষ করে স্টোনিহার্সট কলেজে ভর্তি হন।

তিনি চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন এডিনবার্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই সময়ে এডিনবার্গের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে ব্যবহারিক উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়েও পড়াশোনা করেন। এই পড়াশোনার সময়ই ডয়েল ছোটগল্প লিখতে শুরু করেন। ব্ল্যাকউডস ম্যাগাজিনে গল্প পাঠালেও তা প্রকাশিত হয়নি। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চেম্বার্স এডিনবার্গ জার্নালে। দক্ষিণ আফ্রিকার পটভূমিতে লেখা সে গল্পের নাম ‘সাসা উপত্যকার রহস্য’। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় লেখা। ১৮৮০ সালে ‘হোপ অব পিটারহেড’ নামে গ্রিনল্যান্ডেরই এক জাহাজের চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডয়েল। ১৮৮১ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিনের ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং সার্জারিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এসএস মিয়াম্বা নামের জাহাজের সার্জন হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ভ্রমণ করেন ডয়েল। ১৮৮৫ সালে তিনি ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তবে ডাক্তার হিসেবে চরম ব্যর্থ ছিলেন ডয়েল।

এই ব্যর্থতা তাকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৮৮৬ সালে লিখলেন ‘আ স্টাডি ইন স্কারলেট’। এটা ছিল শার্লক হোমস ও ওয়াটসনকে নিয়ে লেখা তার প্রথম কাহিনি। কিন্তু এই কাহিনি প্রকাশ করার মতো প্রকাশক পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ড লক অ্যান্ড কো. নামের প্রতিষ্ঠান ১৮৮৬ সালের ২০ নভেম্বর মাত্র পঁচিশ পাউন্ডের বিনিময়ে পাণ্ডুলিপির সব স্বত্ব কিনে নেয়।